কংগ্রেসের হামলায় ইন্দ্রনীলের হাত ভাঙার অভিযোগ ওড়াল প্রশাসনই
এই সময়, বহরমপুর ও কৃষ্ণনগর: এ রাজ্যে শেষ দফা ভোটের আগের দিন তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক জমে উঠল বহরমপুরে৷ কংগ্রেস কর্মীদের হাতে মার খেয়ে তাঁর হাত ভেঙেছে বলে রবিবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে অভিযোগ করেন গায়ক ইন্দ্রনীল৷ কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীদের হাতেই মার খেয়েছেন তিনি৷ ভোটের দিন বুথে খরচের জন্য প্রতিশ্রুতি মতো টাকা না পাওয়ায় সালারের দলীয় দপ্তরেই তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে মারধর করেন৷ কংগ্রেসের হামলায় তৃণমূল প্রার্থীর মার খাওয়ার অভিযোগ ঠিক নয় বলে জানিয়েছে জেলা নির্বাচন দপ্তর ও প্রশাসনও৷ অন্যদিকে, এ দিনই সকালে তৃণমূল কর্মীদের পথ অবরোধে রামনগর-বহরমপুর রাজ্য সড়কে আটকে পড়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী৷ তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে উত্তেজনা বাড়ে কংগ্রেস শিবিরে৷ দু'ঘণ্টা পর নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক কুমার ইন্দ্রভূষণের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে৷
ইন্দ্রনীলবাবু সালারে গিয়েছিলেন রবিবার৷ উপলক্ষ ছিল, দলীয় কর্মীদের মধ্যে ভোটের দিন বুথে খরচ করার জন্য টাকা বিলি৷ কান্দির কংগ্রেস নেতা দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূলের সূত্রেই আমরা খবর পেয়েছি, বুথপিছু ৬,০০০ টাকা করে দেবেন বলে আগাম কথা দিয়েছিলেন ওদের বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী৷ কিন্ত্ত সালারের দলীয় দপ্তরে বিলি করার সময় তিনি প্রতি বুথের জন্য ১,২০০ টাকা করে দিতে শুরু করেন৷ এতেই খেপে যান ওই দপ্তরে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরা৷ তাঁরাই দপ্তরের মধ্যে ইন্দ্রনীলবাবুকে ধরে বেধড়ক পেটান৷ কোন রকমে দপ্তর ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি৷'
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূল প্রার্থীর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পেলেও টেলিভিশনে সম্প্রচারিত খবর দেখে তাঁরা খোঁজখবর শুরু করেন৷ তদন্তে তৃণমূল প্রার্থীর উপর হামলার কোন প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন কান্দির মহকুমা শাসক প্রদীপ বিশ্বাস৷ তিনি বলেন, 'তৃণমূল প্রার্থীর উপর হামলা হয়েছে বলে সংবাদ চ্যানেল থেকে জানতে পেরে আমি সালার ও ভরতপুর থানার ওসিদের এ ব্যাপারে খোঁজ করে রিপোর্ট দিতে বলি৷ তাঁরা খবর নিয়ে জানান, ইন্দ্রনীলবাবুর উপর হামলার কোন ঘটনাই ঘটেনি৷ আমার কাছেও তৃণমূল প্রার্থী বা তাঁর দল এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ জানায়নি৷'
ঘটনাটির পর কিছুক্ষণ ধরে ইন্দ্রনীলের কোনও হদিসও পাওয়া যাচ্ছিল না৷ গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি বহরমপুরের কোন নার্সিং হোমে ভর্তি হয়েছেন৷ কিন্ত্ত বহরমপুরের সমস্ত নার্সিং হোম ঘুরেও তাঁর খোঁজ মেলেনি৷ বিকেলের দিকে তিনি নিজেই বহরমপুরের দলীয় দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন৷ দেখা যায়, তাঁর ব্যান্ডেজ করা বাঁ-হাত গলায় ঝোলানো রয়েছে৷ সেখানে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, 'ভরতপুরের রাস্তা দিয়ে আসার সময় কয়েকজন কংগ্রেস-আশ্রিত যুবক আমার গাড়ি আটকায়৷ তারপর গাড়িতে চড়াও হয়ে আমাকে মারধর করে৷ তাতে আমার বাঁ-হাত ভেঙে গিয়েছে৷'
তিনি পুলিশকে অভিযোগ জানাননি কেন, প্রশ্ন করলে ইন্দ্রনীল জানান, পরে অভিযোগ করা হবে৷ মুর্শিদাবাদের নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, তারাও এ ব্যাপারে সালার ১ ও ২ নম্বর ব্লকের বিডিওদের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল৷ দু'জন বিডিওই জানিয়েছেন, এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷ পুলিশ সুপার ওয়াকার রেজাও বলেন, 'পুলিশের কাছে তৃণমূল প্রার্থীর উপর হামলার কোন অভিযোগ আসেনি এখনও৷'
এদিকে, বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র এলাকার শক্তিপুরে দলীয় কর্মীরা তৃণমূলের হাতে মার খেয়েছেন খবর পেয়ে এ দিন সকালে সেখানে রওনা হন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী৷ রামনগর-বহরমপুর রাজ্য সড়কের মানিক্যহারে হুমায়ুন কবীরের বাড়ির সামনে তখন আচমকা পথ অবরোধ শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা৷ অধীরবাবুর গাড়ি ওই অবরোধে আটকে পড়লে হুমায়ুনের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন৷
শক্তিপুর থানা থেকে পুলিশ গেলেও তৃণমূল কর্মীরা তাদের আমলই দেননি৷ বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্র চক্রবর্তী আধা-সামরিক বাহিনী নিয়ে সেখানে পৌঁছেও অবরোধ সরাতে পারেননি৷ উল্টে, পুলিশকর্তারা অধীরবাবুকেই ফিরে যেতে অনুরোধ করেন৷ কিন্ত্ত তাতে বেঁকে বসেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি৷ তিনি বলেন, 'আমি এই কেন্দ্রের প্রার্থী৷ আমার এখানকার সব জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে৷ ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না৷'
প্রার্থীর অবরোধে পড়ার খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়েই কংগ্রেস কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন৷ অধীরবাবু অবশ্য দলীয় কর্মীদের ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করে ফোনে নির্দেশ দেন৷ কিন্ত্ত কংগ্রেস কর্মীরা বহরমপুরে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে অবস্থান শুরু করে দেন৷ পরে পুলিশ পর্যবেক্ষক কুমার ইন্দ্রভূষণ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ প্রয়োজনে জোর করে তুলে দিতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে৷ এর পর পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সরে যান তৃণমূল কর্মীরা৷
অন্য দিকে, নদিয়ার চাকদহ বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী সমরলাল সিংহকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ সমরবাবু জানান, 'তৃণমূলের হাতে প্রহূত দলীয় কর্মীদের দেখতে আমি গোরাচাঁদতলায় গেলে তৃণমূলের ২০-২৫ জন তেড়ে এসে আমাকে কিল, চড়,ঘুঁষি মারে৷ আমি নির্বাচন কমিশন ও পুলিশকে জানিয়েছি৷ কিন্ত্ত পুলিশ শাসকদলের পক্ষপাতিত্ব করছে৷ ওরা উল্টে আমাকেই ফাঁসাতে চাইছে৷' চাকদহের তৃণমূল প্রার্থী রত্না ঘোষ অবশ্য বলেন, 'ভোটের আগের দিন বিধিভঙ্গ করে প্রচারে গিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী৷ তাই একজন সাধারণ ভোটার তাঁকে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন মাত্র৷ তাঁকে মারধরের অভিযোগ একেবারেই ঠিক নয়৷'
ইন্দ্রনীলবাবু সালারে গিয়েছিলেন রবিবার৷ উপলক্ষ ছিল, দলীয় কর্মীদের মধ্যে ভোটের দিন বুথে খরচ করার জন্য টাকা বিলি৷ কান্দির কংগ্রেস নেতা দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূলের সূত্রেই আমরা খবর পেয়েছি, বুথপিছু ৬,০০০ টাকা করে দেবেন বলে আগাম কথা দিয়েছিলেন ওদের বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী৷ কিন্ত্ত সালারের দলীয় দপ্তরে বিলি করার সময় তিনি প্রতি বুথের জন্য ১,২০০ টাকা করে দিতে শুরু করেন৷ এতেই খেপে যান ওই দপ্তরে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরা৷ তাঁরাই দপ্তরের মধ্যে ইন্দ্রনীলবাবুকে ধরে বেধড়ক পেটান৷ কোন রকমে দপ্তর ছেড়ে পালিয়ে যান তিনি৷'
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তৃণমূল প্রার্থীর কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না পেলেও টেলিভিশনে সম্প্রচারিত খবর দেখে তাঁরা খোঁজখবর শুরু করেন৷ তদন্তে তৃণমূল প্রার্থীর উপর হামলার কোন প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন কান্দির মহকুমা শাসক প্রদীপ বিশ্বাস৷ তিনি বলেন, 'তৃণমূল প্রার্থীর উপর হামলা হয়েছে বলে সংবাদ চ্যানেল থেকে জানতে পেরে আমি সালার ও ভরতপুর থানার ওসিদের এ ব্যাপারে খোঁজ করে রিপোর্ট দিতে বলি৷ তাঁরা খবর নিয়ে জানান, ইন্দ্রনীলবাবুর উপর হামলার কোন ঘটনাই ঘটেনি৷ আমার কাছেও তৃণমূল প্রার্থী বা তাঁর দল এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ জানায়নি৷'
ঘটনাটির পর কিছুক্ষণ ধরে ইন্দ্রনীলের কোনও হদিসও পাওয়া যাচ্ছিল না৷ গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি বহরমপুরের কোন নার্সিং হোমে ভর্তি হয়েছেন৷ কিন্ত্ত বহরমপুরের সমস্ত নার্সিং হোম ঘুরেও তাঁর খোঁজ মেলেনি৷ বিকেলের দিকে তিনি নিজেই বহরমপুরের দলীয় দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন৷ দেখা যায়, তাঁর ব্যান্ডেজ করা বাঁ-হাত গলায় ঝোলানো রয়েছে৷ সেখানে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, 'ভরতপুরের রাস্তা দিয়ে আসার সময় কয়েকজন কংগ্রেস-আশ্রিত যুবক আমার গাড়ি আটকায়৷ তারপর গাড়িতে চড়াও হয়ে আমাকে মারধর করে৷ তাতে আমার বাঁ-হাত ভেঙে গিয়েছে৷'
তিনি পুলিশকে অভিযোগ জানাননি কেন, প্রশ্ন করলে ইন্দ্রনীল জানান, পরে অভিযোগ করা হবে৷ মুর্শিদাবাদের নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে, তারাও এ ব্যাপারে সালার ১ ও ২ নম্বর ব্লকের বিডিওদের কাছে রিপোর্ট চেয়েছিল৷ দু'জন বিডিওই জানিয়েছেন, এমন ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷ পুলিশ সুপার ওয়াকার রেজাও বলেন, 'পুলিশের কাছে তৃণমূল প্রার্থীর উপর হামলার কোন অভিযোগ আসেনি এখনও৷'
এদিকে, বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র এলাকার শক্তিপুরে দলীয় কর্মীরা তৃণমূলের হাতে মার খেয়েছেন খবর পেয়ে এ দিন সকালে সেখানে রওনা হন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী৷ রামনগর-বহরমপুর রাজ্য সড়কের মানিক্যহারে হুমায়ুন কবীরের বাড়ির সামনে তখন আচমকা পথ অবরোধ শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা৷ অধীরবাবুর গাড়ি ওই অবরোধে আটকে পড়লে হুমায়ুনের নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন৷
শক্তিপুর থানা থেকে পুলিশ গেলেও তৃণমূল কর্মীরা তাদের আমলই দেননি৷ বহরমপুর থেকে মুর্শিদাবাদের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্র চক্রবর্তী আধা-সামরিক বাহিনী নিয়ে সেখানে পৌঁছেও অবরোধ সরাতে পারেননি৷ উল্টে, পুলিশকর্তারা অধীরবাবুকেই ফিরে যেতে অনুরোধ করেন৷ কিন্ত্ত তাতে বেঁকে বসেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি৷ তিনি বলেন, 'আমি এই কেন্দ্রের প্রার্থী৷ আমার এখানকার সব জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে৷ ফিরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না৷'
প্রার্থীর অবরোধে পড়ার খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়েই কংগ্রেস কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন৷ অধীরবাবু অবশ্য দলীয় কর্মীদের ঘটনাস্থলে যেতে নিষেধ করে ফোনে নির্দেশ দেন৷ কিন্ত্ত কংগ্রেস কর্মীরা বহরমপুরে জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে অবস্থান শুরু করে দেন৷ পরে পুলিশ পর্যবেক্ষক কুমার ইন্দ্রভূষণ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধ প্রয়োজনে জোর করে তুলে দিতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে৷ এর পর পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে সরে যান তৃণমূল কর্মীরা৷
অন্য দিকে, নদিয়ার চাকদহ বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী সমরলাল সিংহকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে৷ সমরবাবু জানান, 'তৃণমূলের হাতে প্রহূত দলীয় কর্মীদের দেখতে আমি গোরাচাঁদতলায় গেলে তৃণমূলের ২০-২৫ জন তেড়ে এসে আমাকে কিল, চড়,ঘুঁষি মারে৷ আমি নির্বাচন কমিশন ও পুলিশকে জানিয়েছি৷ কিন্ত্ত পুলিশ শাসকদলের পক্ষপাতিত্ব করছে৷ ওরা উল্টে আমাকেই ফাঁসাতে চাইছে৷' চাকদহের তৃণমূল প্রার্থী রত্না ঘোষ অবশ্য বলেন, 'ভোটের আগের দিন বিধিভঙ্গ করে প্রচারে গিয়েছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী৷ তাই একজন সাধারণ ভোটার তাঁকে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন মাত্র৷ তাঁকে মারধরের অভিযোগ একেবারেই ঠিক নয়৷'
No comments:
Post a Comment