আজকালের প্রতিবেদন: বুথে বুথে শাসকদলের চোখ রাঙানি থাকবে, এজেন্টরা কিছুতেই বুথ ছাড়বেন না৷ আর যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, বামপম্হী কর্মী, সমর্থক ও ভোটার, তাঁরা শেষ দফার ভোটে শেষ মুহূর্ত পর্যম্ত জান লড়িয়ে কাজ করুন৷ ভোট দিতে না পারলে প্রিসাইডিং অফিসারকে জানান৷ অভিযোগ না নিলে বুথের নির্দিষ্ট দূরত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্হান, পথ অবরোধ শুরু করে দিন৷ ষোড়শ লোকসভা ভোটের শেষ দফা নির্বাচনের আগে দলীয় কর্মী, এজেন্ট ও সমর্থকদের এভাবেই নির্দেশ পাঠালেন সি পি এম রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু৷ শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন৷ বিকেলে বেলেঘাটায় উত্তর কলকাতা লোকসভা কেন্দ্রে সি পি এম প্রার্থী রূপা বাগচীর সমর্থনে চড়কডাঙা মোড়ে জনসভায় একই কথা বলেন বিমান বসু৷ বলেন, ১২ মে ১৭ কেন্দ্রের নির্বাচন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ৷ শাসক দলের কর্মীরা ইতিমধ্যেই আমাদের কর্মীদের, এজেন্টদের হুমকি মারধর করা শুরু করে দিয়েছে৷ তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জি তো বলছেন ৪২ আসনেই তাঁরা জিতবেন৷ তা হলে মারধর করার দরকার হচ্ছে কেন? নির্বাচন কমিশন বলছে নির্ভয়ে ভোট দিন৷ এদিকে গণতন্ত্র আক্রাম্ত৷ অধিকার প্রয়োগে নজিরবিহীন বাধা হচ্ছে৷ কমিশনকেই এটা দেখতে হবে৷ তিনি বলেন, আমাদের কর্মী-সমর্থকদেরও সাহস করে অধিকার রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে৷ ঝুঁকি থাকলেও শৈথিল্য দেখাবেন না কেউ৷ তিনি বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে রিপোর্ট আসছে আমাদের কর্মীদের মারধর হচ্ছে, ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে৷ কাঁথিতে আমাদের প্রার্থী তাপস সিন্হাকে বাচ্চা ছেলে বলে ব্যঙ্গ করেছিল তৃণমূল৷ তা জিতবেনই যখন এই বাচ্চা ছেলেকে মারধর করতে হচ্ছে কেন? নান্টু প্রধান-সহ ৩৭ জনের নামে এফ আই আর করা হয়েছে৷ তিনি বলেন, তৃণমূল ও বি জে পি-র বাকযুদ্ধ আসলে বোঝাপড়া, সবাই বুঝে গেছে৷ নাগরিকত্ব নিয়ে মোদি ও মমতা যে-সব কথা বলছেন সে-সব কথা বলার অধিকারই নেই ওঁদের৷ কারণ ২০০৩ সালে যখন আইন হয় তখন মমতা দপ্তরহীন মন্ত্রী৷ কী বলেছিলেন? ২০০৫ সালে এই বাঙাল খেদাওয়ের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন সংসদে৷ এখন উদ্বাস্তু নিয়ে কুমিরের কান্নায় কী লাভ? মানুষ সব বোঝে৷ এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরে এক সভায় বিরোধী দলনেতা ডাঃ সূর্যকাম্ত মিশ্র বলেন, কংগ্রেস শুয়ে পড়েছে, দেশের সামনে ভয়ঙ্কর শক্তি বি জে পি৷ ক্ষমতায় এলে সর্বনাশ হবে৷ ওদের সঙ্গে তৃণমূলের বোঝাপড়া হয়েছে৷ সি পি এমের এই শীর্ষ নেতার কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের ওপর বিশ্বাস কমে গেছে৷ আগে লোক মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনতে আসতেন৷ এখন আসেন না৷ তাই স্টার, সুপারস্টার, হেলিকপ্টার ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী সভা করেন না৷ তৃণমূল পার্টিতে প্রার্থী হওয়ার লোক নেই, তাই টলিউড বলিউড থেকে আমদানি করতে হচ্ছে৷ মা প্রার্থী হয়েছেন৷ দুই মেয়েকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরে প্রচার করছেন৷ তাঁরা নমস্য ব্যক্তি৷ তবু ওদের জন্য দুঃখ হয়৷ প্রযোজকদের হাত করে তারকাদের প্রার্থী হতে বাধ্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তারকারা কেউ তৃণমূলের প্রার্থী নন৷ তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর প্রার্থী৷ কেশপুরে বাম কর্মী-সমর্থকদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে৷ লাল ঝান্ডা মাথা নত করবে না৷ প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করবে৷ বৃহস্পতিবার রাতে পরমেশ্বরপোতা গ্রামে তৃণমূল কর্মীরা সি পি এম কর্মী শ্যামসুন্দর সাঁতরাকে গুলি করে৷ তাঁকে কলকাতার পি জি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ টাঙির কোপে আহত হয়েছেন সুকুমার সিং ও সদানন্দ ভুঁইয়া নামে দুই সি পি এম কর্মী৷ সূর্যকাম্ত মিশ্র তৃণমূলের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এর আগেও অত্যাচার সন্ত্রাস চালিয়েছিলেন৷ পাঁশকুড়া লাইনের পর কি হয়েছিল ভুলে গেছেন? কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ওরা ভয় পেয়ে গেছে তাই আক্রমণ করছে৷ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ভয় পেয়ে গেছেন৷ সমস্ত শক্তি দিয়ে বামপম্হার অধিকার রক্ষা করতে হবে৷ ঘাটাল আসনে কোনওভাবেই হারা চলবে না৷ উপস্হিত ছিলেন সি পি এম নেতা তরুণ রায়, আহমেদ আলি, তন্ময় ঘোষ, এম্তাজ আলি, বিধায়ক রামেশ্বর দোলই৷
|
No comments:
Post a Comment