মমতা সিপিএমের বাধ্য ছাত্রী
সংবিদা লাহিড়ী
হে সঙ্গবিহীন দেব, তুমি বসি একা (সকাল ন'টা থেকে দশটা)
লেকরোডের তিন তলার যে ফ্ল্যাটটিতে উনি থাকেন, সে বাড়িরই দোতলায় আর একটি ফ্ল্যাট৷ দলের হোলটাইমার অশোক দাসের কথায়, 'এটাও দাদার ফ্ল্যাট, এখন নির্বাচনী কার্যালয় হয়ে রয়েছে৷' এই ফ্ল্যাটটিরই একটি এসি ঘরে টেবিল, চেয়ার আর বইয়ে ঠাসা শেল্ফ নিয়ে বসে নিজের পড়াশোনা, কর্মসূচি নির্ধারণ অথবা দলীয় কর্মীরা কে কী করল, তা দেখাশোনা করেন তথাগত রায়৷ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলেন না৷ প্রচারে, সভায় লোকে যেচে কথা বলতে না এলে নিঃশব্দে গাড়িতে উঠে পড়েন৷ বর্ক্তৃতার আগে ও পরে গল্প করার জন্য তেমন সময় বরাদ্দ নেই৷ আর পাঁচ জন প্রার্থীর থেকে এখানেই তিনি আলাদা৷ বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, তীক্ষ্ণ বাচনভঙ্গি আর তথ্যনির্ভর আলোচনাই তাঁর ইউএসপি৷ সভায় গিয়ে সমর্থক দেখে হাত নাড়ান কখনওসখনও৷
আগে চারটে ছিল, এখন ছ'টা (সকাল দশটা থেকে সকাল এগারোটা)
প্রচার না থাকলে, সকালে এক কাপ চা, দু'টো টোস্ট আর ছ'টি সংবাদপত্র৷ তথাগত রায়ের কথায়, 'এমনিতে আমি চারটে কাগজ রোজই পড়ি৷ এখন ভোটের সময় বলে দু'টো বাড়িয়েছি৷ ছ'টা খুঁটিয়ে পড়ে তবে অফিসে আসি৷' প্রার্থী বললেন, 'এখানে আমি রোজ বসে পেপার ওয়ার্ক করি৷ পড়াশোনার একটা গুরুত্ব রয়েছে জীবনে৷' তা অবশ্য এমনিতেই ঘর জুড়ে একের পর এক বইয়ের তাক দেখে মালুম হয়৷ এ ছাড়া রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর ছবি, পদ্মফুল আঁকা ব্যাজ আর 'অব কি বার /মোদী সরকার৷
অবিরত ফোনাফোনি... ল্যাপটপে চোস্ত (সকাল এগারোটা- সাড়ে বারোটা)
দু'টো মোবাইল আর ল্যাপটপ৷ নোট লেখা থেকে কর্মসূচির খুঁটিনাটি, সবই লিখে রাখেন তাতে৷ আর অবিরত ফোন তো আছেই৷ এমনকি প্রচার সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময়ও ফোনের হাত থেকে রেহাই নেই তাঁর৷ বক্তব্য রাখতে রাখতেই এক ফাঁকে দেখে নেন, কার ফোন৷ মাঝখানে দুপুর বেলায় খাওয়াদাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম৷ তার পরেই ফের কার্যালয়ে এসে পেপার ওয়ার্কে মন দেওয়া৷ সর্বক্ষণের সঙ্গী অশোকবাবু থেকে থেকেই এগিয়ে দিচ্ছেন চা-জল আর বিস্কুট৷
শ্রোতা বুঝে বক্তব্য পেশ (সন্ধে সাড়ে ছ'টা- রাত সাড়ে আটটা)
ভোটারের পাল্স বোঝেন তিনি৷ তাই কোথায় কী বলবেন, নিজের মতো করেই গুছিয়ে নেন৷ যেমন জোকার ১৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোহারপোলে বললেন, 'মমতাদিদি মুসলমান তোষণ করে সাম্প্রদায়িকতার জন্ম দিচ্ছেন৷ তারই বিরোধিতা করছি৷' মুখোমুখি কথা বলার সময়ও একই কথা৷ তাঁর প্রশ্ন, '২০১০ সালে সেপ্টেম্বরে যখন দেগঙ্গায় একটা দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তখন কোনও সংবাদপত্র তা নিয়ে একলাইনও লেখেনি৷ দেখেছি, কোথাও দাঙ্গা বাধলে বা দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হলে মিডিয়া তা চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে৷ কেন বলুন তো?' এই নিয়ে টিভি শো-এ এক সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর তর্কও হয়েছে৷ মুসলিম তোষণনীতি আর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে তাঁর সাফ কথা, 'আমরা বাংলাদেশ থেকে যাঁরা অনুপ্রবেশ করছেন, তাঁদের জায়গা দেব না৷ কারণ ওরা আমাদের পেটেই ভাগ বসাবে৷
কিন্ত্ত বাংলাদেশি শরাণার্থীদের আমরা স্বাগত জানাব৷ কারণ ওরা অত্যাচারিত হয়ে সম্মান বাঁচানোর তাগিদে এদেশে আশ্রয় নিতে এসেছেন৷ ওদের নাগরিকত্বও দেওয়া হবে৷' আবার বড়িশায় গিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বাংলাদেশিদের নিয়ে বললেন না৷ সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেট্রো প্রকল্প কতটা যন্ত্রণা দিচ্ছে পথচারীদের, সেটাই মুখ্য বিষয়৷ চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন মেট্রো রেলের ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন তিনি৷ তাই তাঁর আশ্বাস, 'আমি নির্বাচিত হলে বেহালার মেট্রো প্রকল্পের কাজ যথাযথ করার চেষ্টা করব৷' বেহালার ষষ্ঠী পুকুরে আবার তরুণদের ভিড়৷ সেই মতে তুলে ধরলেন গুজরাটের শিল্পোন্নয়ন৷ বললেন, 'মমতা সিপিএমের বাধ্য ছাত্রী হয়ে রাজ্যে শিল্পায়নের আশা নির্মূল করতে চাইছেন৷ এতে তরুণরাই সমস্যায় পড়ছেন৷' সরশুনাতে এল সারদা ও টেট প্রসঙ্গ৷
সভার মাঝে...
জলই তাঁকে সব থেকে বেশি চাঙ্গা রাখে৷ প্রচুর জল খান গরম আর ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে৷ সন্ধের দিকে সভার শেষে সময় থাকলে একটু চা খান৷ দিনের বেলা হলে একটা কোল্ডড্রিঙ্ক৷ পরনে সুতির রঙিন ফতুয়া, সাদা পাজামা এবং চপ্পল৷
দাদা একটু দেখবেন (রাত সাড়ে আটটা-রাত সাড়ে ন'টা )
বড়িশার জনসভা থেকে নেমে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন৷ শ্রোতাদের মধ্যে থেকে কিছু লোক এসে ঘিরে ধরলেন তাঁকে৷ অরুণ মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি এসে বললেন, 'আমি তৃণমূলের অন্ধ সাপোর্টার ছিলাম৷ কিন্তু এ বার মোদীকে চাই৷ তাই আপনাকেই ভোট দেব৷' তাতেও কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই তাঁর৷ মুখে একটা আলগা হাসি দিয়ে ধীর পায়ে গাড়িতে উঠে যান৷
বাড়িতে সময় দেওয়া (রাত এগারোটা)
পরপর পাঁচটি সভা সেরে বাড়ি ফেরা রাত এগারোটায়৷ অল্প কিছু খেয়েই তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়া৷ দুই মেয়েই বিয়ের পর আমেরিকায়৷ বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে গল্পগুজব বা কথাবার্তার তেমন সময় মেলে না৷ নিজের পড়াশোনা, প্রচার আর সাংগঠনিক কাজ - এই নিয়েই দিন কেটে যায় বিজেপি নেতার৷
হে সঙ্গবিহীন দেব, তুমি বসি একা (সকাল ন'টা থেকে দশটা)
লেকরোডের তিন তলার যে ফ্ল্যাটটিতে উনি থাকেন, সে বাড়িরই দোতলায় আর একটি ফ্ল্যাট৷ দলের হোলটাইমার অশোক দাসের কথায়, 'এটাও দাদার ফ্ল্যাট, এখন নির্বাচনী কার্যালয় হয়ে রয়েছে৷' এই ফ্ল্যাটটিরই একটি এসি ঘরে টেবিল, চেয়ার আর বইয়ে ঠাসা শেল্ফ নিয়ে বসে নিজের পড়াশোনা, কর্মসূচি নির্ধারণ অথবা দলীয় কর্মীরা কে কী করল, তা দেখাশোনা করেন তথাগত রায়৷ প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলেন না৷ প্রচারে, সভায় লোকে যেচে কথা বলতে না এলে নিঃশব্দে গাড়িতে উঠে পড়েন৷ বর্ক্তৃতার আগে ও পরে গল্প করার জন্য তেমন সময় বরাদ্দ নেই৷ আর পাঁচ জন প্রার্থীর থেকে এখানেই তিনি আলাদা৷ বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, তীক্ষ্ণ বাচনভঙ্গি আর তথ্যনির্ভর আলোচনাই তাঁর ইউএসপি৷ সভায় গিয়ে সমর্থক দেখে হাত নাড়ান কখনওসখনও৷
আগে চারটে ছিল, এখন ছ'টা (সকাল দশটা থেকে সকাল এগারোটা)
প্রচার না থাকলে, সকালে এক কাপ চা, দু'টো টোস্ট আর ছ'টি সংবাদপত্র৷ তথাগত রায়ের কথায়, 'এমনিতে আমি চারটে কাগজ রোজই পড়ি৷ এখন ভোটের সময় বলে দু'টো বাড়িয়েছি৷ ছ'টা খুঁটিয়ে পড়ে তবে অফিসে আসি৷' প্রার্থী বললেন, 'এখানে আমি রোজ বসে পেপার ওয়ার্ক করি৷ পড়াশোনার একটা গুরুত্ব রয়েছে জীবনে৷' তা অবশ্য এমনিতেই ঘর জুড়ে একের পর এক বইয়ের তাক দেখে মালুম হয়৷ এ ছাড়া রয়েছে নরেন্দ্র মোদীর ছবি, পদ্মফুল আঁকা ব্যাজ আর 'অব কি বার /মোদী সরকার৷
অবিরত ফোনাফোনি... ল্যাপটপে চোস্ত (সকাল এগারোটা- সাড়ে বারোটা)
দু'টো মোবাইল আর ল্যাপটপ৷ নোট লেখা থেকে কর্মসূচির খুঁটিনাটি, সবই লিখে রাখেন তাতে৷ আর অবিরত ফোন তো আছেই৷ এমনকি প্রচার সভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময়ও ফোনের হাত থেকে রেহাই নেই তাঁর৷ বক্তব্য রাখতে রাখতেই এক ফাঁকে দেখে নেন, কার ফোন৷ মাঝখানে দুপুর বেলায় খাওয়াদাওয়া সেরে একটু বিশ্রাম৷ তার পরেই ফের কার্যালয়ে এসে পেপার ওয়ার্কে মন দেওয়া৷ সর্বক্ষণের সঙ্গী অশোকবাবু থেকে থেকেই এগিয়ে দিচ্ছেন চা-জল আর বিস্কুট৷
শ্রোতা বুঝে বক্তব্য পেশ (সন্ধে সাড়ে ছ'টা- রাত সাড়ে আটটা)
ভোটারের পাল্স বোঝেন তিনি৷ তাই কোথায় কী বলবেন, নিজের মতো করেই গুছিয়ে নেন৷ যেমন জোকার ১৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের লোহারপোলে বললেন, 'মমতাদিদি মুসলমান তোষণ করে সাম্প্রদায়িকতার জন্ম দিচ্ছেন৷ তারই বিরোধিতা করছি৷' মুখোমুখি কথা বলার সময়ও একই কথা৷ তাঁর প্রশ্ন, '২০১০ সালে সেপ্টেম্বরে যখন দেগঙ্গায় একটা দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তখন কোনও সংবাদপত্র তা নিয়ে একলাইনও লেখেনি৷ দেখেছি, কোথাও দাঙ্গা বাধলে বা দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হলে মিডিয়া তা চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে৷ কেন বলুন তো?' এই নিয়ে টিভি শো-এ এক সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁর তর্কও হয়েছে৷ মুসলিম তোষণনীতি আর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে তাঁর সাফ কথা, 'আমরা বাংলাদেশ থেকে যাঁরা অনুপ্রবেশ করছেন, তাঁদের জায়গা দেব না৷ কারণ ওরা আমাদের পেটেই ভাগ বসাবে৷
কিন্ত্ত বাংলাদেশি শরাণার্থীদের আমরা স্বাগত জানাব৷ কারণ ওরা অত্যাচারিত হয়ে সম্মান বাঁচানোর তাগিদে এদেশে আশ্রয় নিতে এসেছেন৷ ওদের নাগরিকত্বও দেওয়া হবে৷' আবার বড়িশায় গিয়ে বক্তব্য রাখার সময় বাংলাদেশিদের নিয়ে বললেন না৷ সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেট্রো প্রকল্প কতটা যন্ত্রণা দিচ্ছে পথচারীদের, সেটাই মুখ্য বিষয়৷ চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন মেট্রো রেলের ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন তিনি৷ তাই তাঁর আশ্বাস, 'আমি নির্বাচিত হলে বেহালার মেট্রো প্রকল্পের কাজ যথাযথ করার চেষ্টা করব৷' বেহালার ষষ্ঠী পুকুরে আবার তরুণদের ভিড়৷ সেই মতে তুলে ধরলেন গুজরাটের শিল্পোন্নয়ন৷ বললেন, 'মমতা সিপিএমের বাধ্য ছাত্রী হয়ে রাজ্যে শিল্পায়নের আশা নির্মূল করতে চাইছেন৷ এতে তরুণরাই সমস্যায় পড়ছেন৷' সরশুনাতে এল সারদা ও টেট প্রসঙ্গ৷
সভার মাঝে...
জলই তাঁকে সব থেকে বেশি চাঙ্গা রাখে৷ প্রচুর জল খান গরম আর ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে৷ সন্ধের দিকে সভার শেষে সময় থাকলে একটু চা খান৷ দিনের বেলা হলে একটা কোল্ডড্রিঙ্ক৷ পরনে সুতির রঙিন ফতুয়া, সাদা পাজামা এবং চপ্পল৷
দাদা একটু দেখবেন (রাত সাড়ে আটটা-রাত সাড়ে ন'টা )
বড়িশার জনসভা থেকে নেমে গাড়িতে উঠতে যাচ্ছিলেন৷ শ্রোতাদের মধ্যে থেকে কিছু লোক এসে ঘিরে ধরলেন তাঁকে৷ অরুণ মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি এসে বললেন, 'আমি তৃণমূলের অন্ধ সাপোর্টার ছিলাম৷ কিন্তু এ বার মোদীকে চাই৷ তাই আপনাকেই ভোট দেব৷' তাতেও কোনও বাড়তি উচ্ছ্বাস নেই তাঁর৷ মুখে একটা আলগা হাসি দিয়ে ধীর পায়ে গাড়িতে উঠে যান৷
বাড়িতে সময় দেওয়া (রাত এগারোটা)
পরপর পাঁচটি সভা সেরে বাড়ি ফেরা রাত এগারোটায়৷ অল্প কিছু খেয়েই তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়া৷ দুই মেয়েই বিয়ের পর আমেরিকায়৷ বাড়িতে স্ত্রীর সঙ্গে গল্পগুজব বা কথাবার্তার তেমন সময় মেলে না৷ নিজের পড়াশোনা, প্রচার আর সাংগঠনিক কাজ - এই নিয়েই দিন কেটে যায় বিজেপি নেতার৷
http://eisamay.indiatimes.com/election-news/tathagata-ray-unplugged/articleshow/34766678.cms
No comments:
Post a Comment