Tuesday, May 13, 2014

অপরাধীদের অভয়ারণ্য খুলনার জিরো পয়েন্ট

অপরাধীদের অভয়ারণ্য খুলনার জিরো পয়েন্ট
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা অফিস ॥ খুলনা শহরতলির জিরো পয়েন্ট এলাকা অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এই এলাকাকে ঘিরে ভূমিদস্যু, মাদক ব্যবসায়ী, চোরাচালানিদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও অসৎ পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় অপরাধী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জমি দখল পাল্টাদখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এলাকার নিরীহ জমির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হলেও প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেই। খুলনা মহানগরীর গল্লামরী ব্রিজ থেকে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের এক কিলোমিটার দূরে জিরো পয়েন্ট এলাকা। এই জিরো পয়েন্টের পাশেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এই মোড়টি রূপসা সেতু সংযোগ ও বাইপাস সড়ক, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কসহ অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটের সঙ্গে য্্ুক্ত। জিরো পয়েন্ট হয়ে প্রতিদিন বাস, ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে থাকে। জানা যায়, ২০০১ সালের ৩০ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপসা সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পর থেকেই জিরো পয়েন্ট ও তৎসংলগ্ন এলাকা অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর আগে এলাকাটি বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের বিলান কৃষি জমি হিসেবে বিবেচিত হতো। ২০০৫ সালে নির্মাণ কাজ শেষে রূপসা সেতু ও সংযোগসড়ক উন্মুক্ত করে দেয়ার পর এলাকার দৃশ্যপট রাতারাতি বদলে যেতে থাকে। বহু মানুষ ওই এলাকায় জমি কেনা শুরু করেন। জমির দামও অস্বাভাবিক বাড়তে থাকে। সূত্রগুলো জানায়, রূপসা সেতু ও বাইপাস সড়ক নির্মাণের শুরু থেকেই রূপসা সেতু, হরিণটানা, চক্রাখালী, জিলের ডাঙ্গা, কৈয়াবাজার, রায়েরমহল প্রভৃতি এলাকায় জমির ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠে। ২৫-৩০ হাজার টাকা মূল্যের জমির দাম হয়ে যায় ৫-৬ লাখ টাকা বা তারও বেশি। আর এই জমি কেনা-বেচাকে কেন্দ্র করে দালাল ও ভূমিদস্যু গ্রুপের সৃষ্টি হয়। মূলত যেসব জমির মালিকরা ওই স্থানে থাকেন না তাদের জমি দখল করতে শুরু করে প্রভাবশালী ভূমিদস্যুরা। জাল দলিল তৈরি করে নিরীহ মালিকদের পথে বসিয়ে তাদের জমি দখল করে নেয়া হয়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা গত বছর ওই এলাকায় ২৩ জনকে ভূমিদস্যু হিসেবে চিহ্নিত করে।
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=14&dd=2014-05-14&ni=172801

No comments:

Post a Comment