Saturday, May 10, 2014

সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে চাই সামাজিক প্রতিরোধ

সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে চাই সামাজিক প্রতিরোধ

ইত্তেফাক রিপোর্ট
সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বিষয়ে এক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেছেন, দেশের সকল সংখ্যালঘু হামলার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা জড়িত। যখনই তাদের উপর হামলা করা হয়, তখনই রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুরু হয়। বর্তমান সরকার ও তাদের আগের সব সরকারও তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেশ-বিদেশে গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। এটা বন্ধ করতে সমাজের সর্বস্তরের লোকদের এগিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ হবে না। এ নির্যাতন বন্ধে সমাজের ভিতর থেকে প্রতিরোধী শক্তি জেগে উঠতে হবে। 

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সেমিনার কক্ষে 'বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন' বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। 

ইংরেজি ভাষায় রচিত এই বইটিতে ২০১৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এক বছরে সারা দেশের সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। 

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, মহাজোট সরকার সংখ্যালঘুদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে চেষ্টার ত্রুটি ছিল না। মহাজোটের ছায়াতলে কতিপয় কুলাঙ্গার সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত হচ্ছে। গণতন্ত্রের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এটা ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। তাদের মোকাবেলা করতে হবে। অসম্প্রদায়িক সমাজ বিনির্মাণে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় ইন্ধন যোগাচ্ছে বিএনপি-জামায়াত। এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। এতে জামায়াত গণতন্ত্রের টুপি ফেলে জঙ্গিবাদের দিকে যাচ্ছে। আর হেফাজত তাদের জুব্বার তলে জঙ্গিবাদের ঠিকাদারি করছে। যতদিন পর্যন্ত না বেগম খালেদা জিয়া এই জঙ্গিদের সাথে ঘাঁপটি মেরে থাকবে ততদিন সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বন্ধ হবে না। তাই জঙ্গি দমনের সাথে সাথে এদেরও বিচার করতে হবে। 

সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, সব হামলার ব্যাপারে শুধু বিএনপি-জামায়াতকে দায়ী করলে চলবে না। আসল দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, যখনই সংখ্যালঘুদের উপর হামলা করা হয়, তখনই তাদের বাড়ি-ঘর, জমি-জমা লুট করা হচ্ছে। অন্যদিকে পুলিশ ও প্রশাসন এতে ফায়দা লুটছে। তারা মামলার নামে টাকা বাণিজ্য করছে। সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে প্রত্যেক এলাকায় সমপ্রীতির কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নিতে হবে। 

জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ করতে না পারা সব সরকারের জন্যই ব্যর্থতা। এটা বন্ধ করতে সমাজের সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে ও সরকারকে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। 

অর্থনীতিবিদ ড. রেহমান সোবহান বলেন, সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে সরকারের প্রকৃত শক্তিশালী উদ্যোগ থাকতে হবে। লোক দেখানো তদন্ত এ ধরনের ঘটনাকে উত্সাহিত করে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, গত এক বছর নিয়মিতভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে তাদের বাড়ি-ঘর দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। এতে প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারেনি। অন্যদিকে নাগরিক সমাজ নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাই সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু সরকার নয়, নাগরিক সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য উষাতন তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে 'বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন' বইয়ের সম্পাদক মন্ডলীর পক্ষে মূল বক্তব্য পাঠ করেন দৈনিক সমকালের সহযোগী সম্পাদক অজয় দাস গুপ্ত । দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ উল আলম লেনিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ।

No comments:

Post a Comment