Tuesday, May 13, 2014

পড়ুয়া ভর্তি নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব শিবপুর আইআইইএসটিতে

পড়ুয়া ভর্তি নিয়ে তীব্র দ্বন্দ্ব শিবপুর আইআইইএসটিতে

স্নেহাশিস নিয়োগী

শিবপুরের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইআইইএসটি, পূর্বতন 'বেসু') আসন্ন শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া ভর্তির পদ্ধতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে৷ আইআইইএসটি-র ভারপ্রাপ্ত কর্তারা চাইছেন, রাজ্য জয়েন্টে উত্তীর্ণ পড়ুয়ারা ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষেই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাঁচ বছরের সুসংহত পাঠ্যক্রমে ভর্তি হোন৷ টিউশন ফি-তে ওয়েভারও (টিএফডব্লু) তুলে দেওয়া হোক৷ ল্যাটারাল এন্ট্রির মাধ্যমে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি প্রক্রিয়াও উঠে যাক৷ কিন্ত্ত উচ্চশিক্ষা দপ্তর ও জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড এ ব্যাপারে প্রবল আপত্তি জানিয়েছে৷ তাদের আশঙ্কা, তড়িঘড়ি এই সব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এ রাজ্যের পড়ুয়াদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে৷

বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় (বেসু) থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইআইইএসটি-তে উন্নীত হওয়া এই সংস্থার তদারকি অধিকর্তা অজয় রায় সম্প্রতি উচ্চশিক্ষা সচিব বিবেক কুমারকে চিঠি দিয়ে ভর্তির পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পক্ষে সওয়াল করেন৷ চিঠির প্রতিলিপি পাঠানো হয় উচ্চশিক্ষার কারিগরি অধিকর্তা সজল দাশগুপ্ত ও রাজ্য জয়েন্ট বোর্ডকেও৷ বোর্ডের এক কর্তার অবশ্য বক্তব্য, 'আমরা যখন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলাম, তাতে কোথাও জয়েন্ট উত্তীর্ণদের বেসুতে পাঁচ বছরের বি টেক-এম টেক কোর্সের কথা বলা ছিল না৷ জয়েন্টে সফল পড়ুয়াদের অধিকাংশই চার বছরের ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মেয়াদ শেষে চাকরি করতে চান৷ এ ক্ষেত্রে ভিন্ন ব্যবস্থা হলে সমস্যা হবে৷'

আইআইইএসটি কর্তৃপক্ষ এখন ডুয়েল ডিগ্রি চালু করতে চাওয়ায় ভবিষ্যতে নানা প্রতিবন্ধকতাও তৈরি হতে পারে বলে কোনও কোনও মহলের আশঙ্কা৷ এমনকী আইনি জটিলতা দেখা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা৷ এই কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানে আপাতত ১০টি বিভাগে প্রায় ৫০০ আসন রয়েছে৷ উচ্চশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিকের কথায়, 'আইআইইএসটি-র নামে ওঁরা পড়ুয়াদের সেমেস্টার প্রতি ফি ৭ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ হাজার করতে চাইছেন৷ কিন্ত্ত চলতি বছরের ২৬ মার্চ বেসু-র এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে স্থির হয়েছিল, আইআইইএসটি-তে উন্নীত হলেও এ বারও জয়েন্টের মাধ্যমেই পড়ুয়া ভর্তি হবে৷ ফি-ও আগের কাঠামোয় থাকবে৷ ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের নির্দেশিকা কার্যকরী করা হবে৷ এখন অন্য কথা ভাবা হলে বিপদ৷'

এরই মধ্যে আইআইইএসটি-তে আসন্ন শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়া ভর্তির পদ্ধতি নিয়ে মঙ্গলবার একটি বৈঠক হয়৷ তাতে অজয়বাবু, সজলবাবু ছাড়াও জয়েন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান ভাস্কর গুপ্ত এবং সদস্য সচিব কুমারদেব বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন৷ কিন্ত্ত সেই বৈঠকেও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি৷ বুধবার ফের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের মধ্যস্থতায় দু'পক্ষের মুখোমুখি আলোচনায় সমস্যা সমাধানের কথা ছিল৷ অজ্ঞাতকারণে তা বাতিল হয়ে যায়৷ আজ, বৃহস্পতিবার ফের ওই বৈঠক হওয়ার কথা৷

ইতিমধ্যে বেসু-র শিক্ষক সংগঠন 'বেসুটা'ও কর্তৃপক্ষের নয়া প্রস্তাবের বিরোধিতা করে জয়েন্ট বোর্ডকে চিঠি দিয়েছে৷ তাদের দাবি, অধিকর্তার সুপারিশ মানা হলে বাংলার ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে না৷ শুধু তাই নয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের থেকেও পড়ার খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে৷ ভালো পড়ুয়া পাওয়াও সমস্যা হবে৷ কেন্দ্রের কোনও চিঠি এখনও আসেনি বলেও উল্লেখ করছে বেসুটা৷
http://eisamay.indiatimes.com/city/howrah/conflict-raised-in-shibpur-iiest-due-to-admission/articleshow/34813317.cms?

No comments:

Post a Comment