Wednesday, May 14, 2014

বাম শিবিরে আশার আলো দেখাচ্ছে বুথ ফেরত সমীক্ষা

বাম শিবিরে আশার আলো দেখাচ্ছে বুথ ফেরত সমীক্ষা
http://eisamay.indiatimes.com/election-news/Left-optimistic-about-Exit-Poll-results/articleshow/35076390.cms
cpm
বিশ্বজিত্‍ বসু 

গত বিধানসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে এ বারের বুথ-ফেরত সমীক্ষা যদি তৃণমূলের পক্ষে হতাশার হয়, তা হলে বামেদের জন্য তা খানিকটা আশার আলো বয়ে আনছে৷ ২০০৯-এ লোকসভা ভোটে বামেরা ১৫টি আসন পেলেও ২০১১-এর বিধানসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে তারা মাত্র ৭টি লোকসভা কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল৷ পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাদের ভোটে আরও ধস নামে৷ কিন্ত্ত এ বার লোকসভা ভোটের বুথ-ফেরত সমীক্ষা তাদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে৷ কারণ কোনও সংস্থার সমীক্ষাতেই ২০১১-র চেয়ে বামেদের আসন কমছে না৷

তবে এই সব সমীক্ষাকে প্রকৃত ফলাফল বলে মানতে নারাজ সিপিএম৷ তারা এই ধরনের সমীক্ষার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে৷ তাদের বক্তব্য, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি থাকলে সমীক্ষাগুলির ফলাফলের মধ্যে এত ফারাক থাকত না৷ দলের রাজ্য সম্পাদক বিমান বসু মঙ্গলবার হাওড়ায় বলেন, 'আমি এই সব সমীক্ষায় বিশ্বাস করি না৷' সিপিএম নেতাদের বরং বক্তব্য, নির্বাচনে যে ভাবে সন্ত্রাস হয়েছে, তার পর কোনও নির্দিষ্ট হিসেব কষা যাচ্ছে না৷ সে কারণে জেলা-স্তর থেকে রাজ্য-স্তরে এখনও কোনও সার্বিক রিপোর্টও আসেনি বামেদের৷ তবে জেলা কমিটির স্তরে প্রাথমিক পর্যালোচনার পরে প্রাপ্ত হিসাব, 'সন্ত্রাস এবং রিগিং' হওয়ায় গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা না থাকলেও, তিন বছর আগের বিধানসভা ভোটের নিরিখে এগিয়ে থাকা ৭টি লোকসভা আসনের তুলনায় এ বার অন্তত ৫টি আসন বাড়তে পারে৷ সিপিএম একক ভাবে ৮-৯টি কেন্দ্রে জিততে পারে৷ সিপিআই, আরএসপি এবং ফরওয়ার্ড ব্লক একটি করে আসন পেতে পারে৷ জেলাওয়াড়ি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত অবশ্য চূড়ান্ত অঙ্ক কষতে নারাজ বাম নেতৃত্ব৷

প্রাথমিক হিসাবে বামেদের আশা, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, মুর্শিদাবাদ, মালদা (দক্ষিণ), জঙ্গিপুর, বর্ধমান-দুর্গাপুর, হাওড়া, বারাসত, পুরুলিয়া, বসিরহাট, বাঁকুড়া ও কলকাতার একটি আসনে জেতার সম্ভাবনা রয়েছে৷ 'সন্ত্রাসের' কারণে শ্রীরামপুর, আসানসোল, ঝাড়গ্রাম, ব্যারাকপুর, বনগাঁ, যাদবপুর, জয়নগর, মথুরাপুরে জয়ের ব্যাপারে বাম শিবির নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না৷

এক সিপিএম নেতার বক্তব্য, শেষ তিন দফা ভোটে বামেদের কার্যত ময়দান থেকে উধাও করে দেওয়া হয়৷ বহু বুথে বামেরা এজেন্ট দিতে পারেনি৷ রাস্তায় ক্যাম্প অফিস বা কর্মীদেরও তেমন নজরে পড়েনি৷ এর জন্য শাসকদলের 'সন্ত্রাস'ই দায়ী৷ পাশাপাশি অবশ্য বহু জায়গায় সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে না পারার কথাও স্বীকার করছেন ওই নেতা৷ তার পরেও 'অপেক্ষাকৃত' ভালো ফলের আশা কী করে করছে বামেরা? এক বাম নেতার কথায়, 'বুথে কোন দলের এজেন্ট আছে, ক্যাম্প অফিস আছে বা ফেস্টুন আছে তা দেখে মানুষ ভোট দেয় না৷ তা হলে বাম জমানার নির্বাচনে তৃণমূল বা কংগ্রেস ভোটই পেত না৷ কমিটেড ভোটাররা তাঁদের প্রতীক ঠিকই বেছে নেন৷'

সিপিআই-এর রাজ্য সম্পাদক মঞ্জুকুমার মজুমদারের বক্তব্য, 'বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না৷ বহু সময় এর সঙ্গে বাস্তবের মিল থাকে না৷ রাজ্যের বহু জায়গায় সন্ত্রাস-হিংসার মধ্যে ভোট হয়েছে৷ ফলে সেখানে যাঁরা ভোট দিয়েছেন তাঁরা কে কাকে ভোট দিয়েছেন তা এই সমীক্ষকদের তাঁরা বলবেন বলে মনে হয় না৷' ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জয়ন্ত রায়েরও বক্তব্য, 'নমুনা সমীক্ষা বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত, তা আমরা অস্বীকার করছি না৷ কিন্ত্ত এ রাজ্যে তিন-চারটি জেলার খবর জানি যেখানে এমন সমীক্ষা হয়েছে বলে আমরা কোনও রিপোর্টই পাইনি৷' কিছুটা ভিন্ন মত আরএসপি-র কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অবনী রায়৷ অবনীবাবুর বক্তব্য, 'আমার ধারণা, সারা দেশে বামেরা ২৫ থেকে ২৭ টি আসন পাবে৷ ফলে বুথ ফেরত সমীক্ষার ফলের সঙ্গে আমাদের অনুমানের কিছুটা মিল তো রয়েইছে৷'

No comments:

Post a Comment