Wednesday, May 14, 2014

স্বাধীন দেশে মানুষ হচ্ছে না কেউ মুনতাসীর মামুন

স্বাধীন দেশে মানুষ হচ্ছে না কেউ
মুনতাসীর মামুন
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
র‌্যাব গঠনের পর এ বাহিনী নিয়ে বিভিন্ন সময় নানা কথাবার্তা উচ্চারিত হয়েছে। শুভ-অশুভ রাজনীতির কল্যাণে র‌্যাবের পক্ষে-বিপক্ষে নানা সমালোচনা হয়েছে। কখনও কখনও কেউ কেউ এই বাহিনীর প্রশংসাও করেছেন। বিএনপি আমলে সৃষ্ট এ বাহিনীর যৌক্তিকতা নিয়ে এখন বিএনপি নেত্রী এই বাহিনীর আর প্রয়োজন নেই বলে এর বিলুপ্তি চেয়েছেন। কিন্তু সত্যি কথা হলো তারা কী আসলেই তা চান? র‌্যাব-এর থাকা না থাকা, এই বাহিনীর জবাবদিহিতা, চেন অব কমান্ড মেনে চলাÑ সব মিলিয়ে একটি পর্যালোচনামূলক লেখা লিখেছেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। আজ পড়ুন শেষ কিস্তি।

॥ চার ॥
অবস্থা যখন এ রকম তখন রাজনীতিবিদদের দায়িত্বহীন কথাবার্তা মানুষকে শুধু আরও বিভ্রান্ত নয়, ক্ষুব্ধও করে তুলছে এসব বাহিনীর প্রতি। দু’একটি উদাহরণ দিই।
কিছুদিন আগে, বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ এ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তুলতেই পারেন। কিন্তু তার ভিত্তি থাকতে হবে তো। যেমন, মির্জা ফখরুল ও বিএনপির অনেকে বলেছেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করা হোক। কিন্তু, র‌্যাব তো তাদেরই সৃষ্টি। সেনাবাহিনী কর্তৃক যখন জাতির পিতা সপরিবারে নিহত হন ও রাষ্ট্রপতি জিয়া নিহত হন বা তত্ত্বাবধায়ক সামরিক আমলে সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য কি তারা দাবি তুলেছেন সেনাবাহিনী বিলুপ্ত করা হোক। সেই বুকের পাটা আছে মির্জা ফখরুলের? এসব বাহিনীকে তো ইনডেমনিটি দিয়েছে বিএনপি-জামায়াত যে কারণে এই ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের লজিক ধরলে তো পুলিশ বাহিনীকেও বিলুপ্ত করতে হয়।
কেউ অপহৃত হলেই বিএনপি নেতারা বলছেন, র‌্যাব এর সঙ্গে জড়িত। এবং বলা হচ্ছে, সরকারকে দায়দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু, এও দেখা যাচ্ছে, অনেক অপহৃত ফিরে আসছেন, অনেককে সন্ত্রাসীরা অপহরণ করেছে, পুলিশ বা র‌্যাব নয়, র‌্যাব ও পুলিশও অনেককে উদ্ধার করেছে। বরং দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে অনেকে অপহৃত হয়ে খুন হচ্ছেন, ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের কারণে অপহৃত, খুন হচ্ছেন কিন্তু সব দোষ র‌্যাব বা পুলিশের ওপর দেয়া হচ্ছে যা ঠিক নয়। এর কারণ, কিছু কিছু কা- ঘটিয়েছিল পুলিশ ও র‌্যাব। ফলে, তারা এখন সে বিষয়ে কিছু বলতেও পারছে না। এ অবস্থা থেকে যদি আমরা বেরিয়ে আসতে না পারি তাহলে আমাদের সবাইকে একদিন কাফফারা দিতে হবে।
এবার নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় আসি।
নারায়ণগঞ্জের ঘটনা সমগ্র বিষয়টিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। নারায়ণগঞ্জে ১১ জন খুন হয়েছেন এবং সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী পুরো ঘটনা পরিকল্পিত ও তাতে আছে পেশাদারিত্বের ছাপ। আমাদের পুরো রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর ভূমিকা আজ নারায়ণগঞ্জের ১১ খুন প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। এ নিয়ে যে রাজনৈতিক চাপান উতোর চলছে আমি তার বিবরণ দেব না বা বিশ্লেষণে যাব না। বিষয়টিকে অন্যভাবে বিচার করলে বরং আমাদের দায়িত্ব নির্ধারণে সহায়ক হবে।
নারায়ণগঞ্জে ১১ খুনের জন্য যাকে সন্দেহ করা হচ্ছে সেই নূর হোসেন ছিল বাসের হেলপার। সেখান থেকে পরিণত হয় সে জাতীয় পার্টি, তারপর বিএনপি এবং এরপর আওয়ামী লীগ নেতায়। পত্রিকায় দেখেছি, নূর হোসেন ঘোষণা করেছিল সে হবে নারায়ণগঞ্জের ডন। অর্থাৎ অপরাধের ডন হওয়া একটি বিরাট ব্যাপার। তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতারা কি তার চরিত্র জানতেন না? তারা তাকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন কেন? তার মানে, রাজনীতিতে কি ডনদের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। নূর হোসেন খুন করেছে আওয়ামী লীগের আরেক নেতাকে। তাদের এই দ্বন্দ্ব সংঘাতের কথা কি দলীয় নেতারা জানতেন না? তারা কেন তাকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন? প্রতিবেদনে দেখেছি, প্রতিদিন তার অবৈধ বালু মহাল হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও সেই বালু মহাল থাকে কিভাবে? এসপি, ডিসি কি করছিলেন? তার কাছ থেকে নির্দিষ্ট টাকা রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে সাংবাদিক- সবার কাছে যেত। এতদিন সাংবাদিকরাও তো এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করেননি। পুলিশের ওসি বা র‌্যাব কমান্ডার কি জানতেন না নূর হোসেন প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করে? আজকে র‌্যাবের নতুন কমান্ডার আসা মাত্র কিভাবে হঠাৎ তার অনুচরদের দোকান থেকে এত মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়? এর অর্থ ডনের টাকা সবাইকে একই বাঁধনে বেঁধে ফেলেছিল। জনস্বার্থের বিষয়টি রাজনীতিবিদ, পুলিশ বা র‌্যাব সবাই উপেক্ষা করেছিল।
সরকারকে নারায়ণগঞ্জ ঘটনা নিয়ে আজ বিপাকে পড়ত হতো না যদি না নারায়ণগঞ্জের ঘটনা জানা মাত্রই ব্যবস্থা নেয়া হতো। তারা তা কেন নিলেন না তা আমরা জানব না। কিন্তু না নেয়াতে যে সরকার ও দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।
তবে, প্রধানমন্ত্রীর নজরে পড়ার পরই কিন্তু ত্বরিত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আগে এ ধরনের কোন কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত কোন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার নজির নেই। সেনা কর্মকর্তার আত্মীয় প্রবল বলশালী হওয়া সত্ত্বেও সর্বোচ্চ পর্যায়ে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। এ ব্যবস্থা মানুষের মনে আস্থা ফিরিয়েছে। অন্যদিকে, পত্রিকার প্রতিবেদন অনুসারে, যে ওসি দীর্ঘদিন সেখানে থেকে নূর হোসেনের কর্মকা- জেনে চুপ থেকেছেন তাকে শুধু বদলি করা হয়েছে যাতে নতুন এলাকায় গিয়ে একই কাজ করতে পারেন। এ ধরনের অফিসারের মূলসুদ্ধ উপড়ে ফেলতে হয়। আরও আছে, নূর হোসেনসহ দলের যে সব মানুষ এর সঙ্গে অভিযুক্ত বলে পত্রিকায় বেরিয়েছে দল তাদের বিরুদ্ধে এখনও কোন বন্দোবস্ত নেয়নি [এতদিন পর দল থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে]।
নারাণয়ণগঞ্জের ঘটনা সরকারকে নাড়া দিয়েছে। এর আগেও আমরা দেখেছি, সরকারী দলের অনেকে অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। প্রধানমন্ত্রী যদি শুধু বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কাউকে ছাড় না দিতে এবং যে ছাড় দেবে তার বিরুদ্ধেও চরম ব্যবস্থা নেয়া হবে তাহলে এ ধরনের অন্তর্দলীয় খুনখারাবি লুট হ্রাস পাবে। যে আস্থা হারাচ্ছে আওয়ামী লীগ দলগতভাবে, যা তাকে বুঝতে দিচ্ছেন না চারদিকে ঘিরে থাকা নেতারা, যারা ‘হ্যাঁ ছাড়া কোন শব্দ আর শেখেননি এবং গোয়েন্দা বা নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্ট, তার বিকল্প রিপোর্টও প্রধানমন্ত্রীর নেয়া উচিত। তাহলে আসল ঘটনা কি তা জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী ত্বরিত ব্যবস্থা নিলে আস্থার ব্যাপারটি ফিরবে। দলের যে সব সিনিয়র নেতা যাদের ওপর দলনেত্রীর আস্থা আছে তাদের দিয়ে একটি মনিটরিং সেল করলে অসুবিধা কী? যেখানেই এ ধরনের ঘটনার আভাস পাওয়া যাবে সেখানেই তারা ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন দলীয়ভাবে, বা নেত্রীকে জানাবেন।
যেহেতু নারায়ণগঞ্জের ১১ খুন চরম প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং জোরেশোরে তদন্ত চলছে তাতে বিশ্বাস করি শোকসন্তপ্ত পরিবার যে ধরনের ফলাফল আশা করেন সে ধরনের ফল পাওয়া যাবে। এখানে নজরুল ইসলামের শ্বশুরের একটি মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেছেন, অভিযুক্তকে যেন ক্রসফায়ারে ফেলা না হয়। অর্থাৎ যারা টাকা খেয়ে কাজটি করেছে তারা অভিযুক্তকে মেরে ফেলতে পারে সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্টের জন্য। এ কারণেই ক্রসফায়ারের বিলুপ্তি দরকার।
এর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক আরেকটি বিষয় আছে। শেখ হাসিনাকে আমাদের সমর্থন করার প্রধান কারণ, তিনি দায়মুক্তির বিরুদ্ধে। আজকে যে নিরাপত্তা সংস্থা বিভিন্ন অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে তার প্রধান কারণ ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান কর্তৃক বিভিন্নভাবে খুনীদের দায়মুক্তি প্রদান। শেখ হাসিনা ইচ্ছে করলে কি বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার খুনী বা যুদ্ধাপরাধীদের ক্রসফায়ারে দিতে পারতেন না? তার সামান্য ইঙ্গিতই ছিল যথেষ্ট। কিন্তু তিনি তা করেননি। ক্রসফায়ার স্বল্পকালীন ব্যবস্থা বা স্বল্পকালীন সুবিধা দেয়। দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক কোন ফল দেয় না। ভায়োলেন্স সমাজে ভায়োলেন্স সৃষ্টি করে মাত্র।
নারায়ণগঞ্জ এবং আরও কয়েকটি এলাকার ঘটনা প্রমাণ করছে আওয়ামী লীগে সব ঠিকঠাক মতো চলছে না। বিএনপির অবস্থা এর থেকে খারাপ। না হলে অনেক আগেই তারা আন্দোলন গড়ে তুলতে পারত। সুতরাং, আওয়ামী লীগের এখনও সুযোগ আছে দল গোছানোর। বিভিন্ন এলাকায় দলে বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটছে। টাকা খেয়ে কট্টর বিএনপিপন্থীকে প্রশাসনে পদোন্নতি দেয়ার উদাহরণও আছে। এরা মূল দলকে পাল্টে দেবে, শেখ হাসিনাকে নিঃসঙ্গ করে দেয়ার জন্য। দলের এবং প্রশাসনের যাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন তার একটি বড় অংশ প্রথম সুযোগেই বিশ্বাসভঙ্গ করবেন। বঙ্গবন্ধুর সময়ও এমনটি ঘটেছিল। সাধারণ মানুষের ভালবাসা এবং আমরা যারা ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত নই তাদের ভালবাসাই শেখ হাসিনার ভিত্তিটা সুদৃঢ় রেখেছে। সুতরাং প্রয়োজনে, ব্যবস্থা থাকলে জরুরী অধিবেশন ডেকে দলের খোলনলচে পাল্টানো দরকার।
আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে আরও জনবান্ধব, জনস্বার্থ, পক্ষপাতমূলক করার জন্য সামগ্রিকভাবে একটি ভাবনা চিন্তা করা দরকার। এসব বাহিনীতেও যারা আছেন তাদেরও বিষয়টি ভাবা উচিত। চিরদিন তো তিনি বাহিনীতে থাকবেন না। যখন চলে যাবেন বাহিনী ছেড়ে, তখন যদি সমাজ ও নিজ বাহিনীতে নিজ সম্মানটুকু না থাকে, তাহলে এই চাকরি করার দরকার কি। টার্ফওয়ার বা নিজ ক্ষেত্রের আধিপত্য বজায়ের মনোবাসনা ত্যাগ করে অনুধাবন করা উচিত, সমস্যাটা কেন হচ্ছে। সমাধানটি কী?
আমরা মনে করি, এসব বাহিনীর দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রটা পরিষ্কার হওয়া উচিত এবং সভ্য সমাজের মতো সব বাহিনীকে সিভিল কর্তৃত্বের অধীনে আনা উচিত। না আনলে কোন দায়বদ্ধতা থাকবে না এবং অবস্থার পরিবর্তনও আসবে না। জিয়াউর রহমান এই সিভিল কর্তৃত্বটি বিনাশ করেছিলেন যা বঙ্গবন্ধু স্থাপন করেছিলেন। আজকে যে অফিসার পুলিশ বা সামরিক বাহিনীতে আছেন, তিনি হয়ত এর বিরুদ্ধে বলবেন এবং জিয়ার পক্ষেই বলবেন, কিন্তু তিনি যখন বাহিনীতে থাকবেন না, তখন তিনিও তার পরিবার যখন পদে পদে বিতাড়িত হবেন, তখন আমাদের এ মন্তব্যের সারমর্মটি বুঝবেন।
নারায়ণগঞ্জের বিষয় নিয়ে বিরোধী দল প্রতিবাদ করতে পারে কিন্তু তারা যে পথে এগুচ্ছে তা স্বল্পকালীন ফায়দা লোটার ব্যবস্থা ও উস্কানিমূলক যা কোন দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক ফলাফল আনবে না। বরং র‌্যাবকে কিভাবে পুলিশি কর্তৃত্বে ভারসাম্যমূলক বাহিনী করা যায় তার পরিকল্পনা দেয়া উচিত। সব বাহিনীর দায়বদ্ধতার জন্য সব বাহিনীর [জানি স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটি আছে] কর্মকা- যৌথভাবে মনিটরিং বা জবাবদিহিতার জন্য সংসদে সব দলের সদস্যদের নিয়ে একটি সংসদীয় কমিটি করা যায় কিনা সেটাও ভেবে দেখা উচিত। আর যদি করা নাও যায় নিদেনপক্ষে মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করুন। এতে আপনারা এবং সাধারণ মানুষ অন্তিমে লাভবান হবেন। পরস্পরকে দোষারোপ কোন ইতিবাচক ফল আনবে না। সরকারকেও বলি, শুধু জিডিপি বৃদ্ধি ভোট বৃদ্ধি করে না। আজ আমরা যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি, দশ বছর আগেও যদি তা নিয়ে আলোচনা করে থাকি, তাহলে মৌল পরিবর্তন তো কিছুই হলো না। সত্যি বলতে কী সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ড এসব ঘটনা বিনষ্ট করছে। মানুষের মনে তাই তেতো স্বাদটা রয়ে যাচ্ছে। আর এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের মিথ্যাচার, দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড, হেফাজতীদের কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিভিন্ন মহলের হেফাজতীদের তোষণের চেষ্টা সমাজে এক ধরনের ডিপ্রেসনের সৃষ্টি করছে। যাকে বলা যেতে পারে কালেক্টিভ ডিপ্রেসন বা সমষ্টিগাত বিষাদ। যাকে এতদিন ভাবা হয়েছে প্রগতির পক্ষে, দেখা যাচ্ছে তারাই প্রতিক্রিয়ার দ্বাররক্ষী এখন [পাঠ্য বইকে হেজাবি করার চেষ্টা]। মুক্তিযুদ্ধের ধারক বাহক যাদের মনে করা হতো, দেখা যাচ্ছে তারা দেশের সম্মান বিক্রি করে সামান্য দুটি পয়সা চুরির লোভ সামলাতে পারেন না। উদাহরণ- মুক্তিযুদ্ধ স্মারকে সোনা ও রুপা চুরি। জেদাজিদির কারণে ধানমণ্ডি মাঠের মতো একটা তুচ্ছ বিষয়ও আজ বড় ইসু্যু। আসলে ক্ষমতায় থাকা বা না থাকার থেকেও যে বিষয়টি বড় হয়ে উঠছে, তাহলো, স্বাধীনতা পেয়েছি কিন্তু আমরা কি মানুষ হয়েছি? পয়সা দিয়ে দলের লোকজনকে দলের লোকজন হত্যা করছে, রক্ষক ভক্ষক হয়ে দাঁড়াচ্ছে, সামান্য জনপ্রিয়তা পেয়ে মনে করে জননায়ক হয়ে গেছে [শাহবাগ ঘটনা], কারও প্রতি কারও সম্মান বোধ নেই, অর্থ ছাড়া সব অচল- কী সমাজ, কী দেশ, কী মানুষ সৃষ্টি করছি আমরা? মুক্তিযুদ্ধের সময় কবি বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একটি কবিতা লিখেছিলেন নিখোঁজ হয়ে যাওয়া প্রাবন্ধিক, তাত্ত্বিক সরোজ দত্তকে উদ্দেশ্য করে, নাম ছিল ‘বিচার’। আজ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে মনে হয় কবিতাটির প্রাসঙ্গিকতা এখনও ফুরিয়ে যায়নি-

“অন্যায় মানুষ করে,
বিচারের ভার দেবতার
নাকি দানবের?
আপনি জীবিত নাকি মৃত তার প্রশ্ন
অর্থহীন;
চোখের সামনে কত নিষ্পাপ শিশুরা গুলিবিদ্ধ হয়েছে
প্রশ্ন করিনি, প্রশ্ন কাকে করবো?
এ দেশে মানুষ কেউ আছে নাকি? আমিই কি
এখনো মানুষ!”

No comments:

Post a Comment