কুমিল্লায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা
জামায়াত-শিবির চক্রকে সহায়তা করছে ভূমি ও রেজিস্ট্রি অফিসের একটি চক্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কুমিল্লা, ২৬ এপ্রিল ॥ জেলায় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৫ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের পাঁয়তারা চালাচ্ছে জামায়াত-শিবির সিন্ডিকেট। আর এ সম্পত্তি আত্মসাতে জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজপত্র তৈরি ও প্রতিবেদনসহ নানা প্রকার কাজে ওই সিন্ডিকেটকে সহায়তা করছে কুমিল্লা জেলা রেজিস্ট্রি ও চৌদ্দগ্রাম ভূমি অফিসের এক শ্রেণীর অসাধু চক্র।
জানা গেছে, জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১নং কাশিনগর ইউনিয়নের অলিপুর মৌজায় অবস্থিত কাশিনগর বাজারে ১/১ খতিয়ানে সরকারের ৮০ শতক সম্পত্তি আত্মসাতসহ দখল করতে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের তুলাপুস্করণী মৌজায় নারায়ণ চন্দ্র দে দাতা এবং মোহাম্মদ মিয়াকে গ্রহীতা হিসেবে ১৯৬১ সালের ৫ জানুয়ারির ৭৫নং দলিলটির নাম্বার এবং তারিখ ব্যবহার করে একটি জাল দলিল সৃষ্টি করা হয়। ওই জাল দলিলে যাত্রাপুর গ্রামের তৎকালীন জমিদার হেমাপ্রবা মজুমদারকে দাতা ও পার্শ¦বর্তী হিলালনগর গ্রামের মোঃ সলিমুল্লাহকে গ্রহীতা দেখানো হয়। জমিদার হেমাপ্রবা মজুমদার ভারতে চলে যাওয়ার পর তার ওয়ারিশ দিব্যেন্দু মজুমদার এ দেশে থাকা সত্ত্বেও অলিপুর মৌজার ৬০৫ দাগে কাশিনগর বাজারের ওই ৮০ শতক সম্পত্তিসহ হেমাপ্রবা মজুমদারের আরও অন্যান্য সম্পত্তি সরকারের ১/১ খতিয়ানে চলে যায়। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির জন্য জেলা কমিটির মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হলে ওই জাল দলিলের মাধ্যমে ওই ৮০ শতক সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে অবমুক্তির জন্য কুমিল্লা জেলা কমিটির বরাবরে ১৫৬/১২ মোকদ্দমা দায়ের করেন হিলালনগর গ্রামের মোঃ সলিমুল্লাহর ছেলে জামায়াত নেতা সফিউল্লাহ।
উক্ত অবমুক্তি মামলায় দাখিলকৃত দলিলে হেমাপ্রবা মজুমদারকে দাতা ও সলিমুল্লাহকে গ্রহীতা দেখিয়ে ১৯৬১ সালের ৫ জানুয়ারি ৭৫ নাম্বারের জাল দলিলটি কুমিল্লা জেলা ভূমি অবমুক্তিকরণ কমিটির পক্ষে ভিপি শাখা থেকে দলিলের দাতা-গ্রহীতার রেকর্ডসহ সত্যতা যাচাই করার জন্য কুমিল্লা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের এক শ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ণদের যোগসাজশে তৎসময়ে রেকর্ড রুমে ডেপুটেশনে কর্মরত ও বর্তমানে জেলার হোমনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী নুরুজ্জামান উক্ত জাল দলিলটি যাচাই করে সঠিক আছে মর্মে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সদর রেকর্ড রুম-কুমিল্লার পক্ষে ১৬নং ক্রমিকে প্রতিবেদন দেন। উক্ত প্রতিবেদন এবং ওই জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারী ৮০ শতক সম্পত্তি জালিয়াতদের পক্ষে অবমুক্ত হয়। পরবর্তীতে অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা নিষ্পত্তি সংক্রান্ত মামলাগুলোর কার্যক্রম সরকার বন্ধ করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। এতে জালিয়াত চক্রের পক্ষে জামায়াত নেতা সফিউল্লাহর মা ফয়েজুন্নেছা আবারও ওই জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তিটি আত্মসাত করতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি মোকদ্দমা (নং-১৯১০/১৩-১৪) দাখিল করেন। চৌদ্দগ্রাম ভূমি অফিস থেকে কাশিনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদারকে রেকর্ড যাচাইপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়।
অভিযোগে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম ভূমি অফিসের অফিস সহকারী নেছার উদ্দিন (কাশিনগরের যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা), তোফায়েল আহমেদ, কানুনগো মফিজুল ইসলাম, কাশিনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার মজিবুর রহমান পরস্পর যোগসাজশে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ওই জাল দলিলের বিষয়টি জেনেও সরকারের প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের কাশিনগর বাজারের উক্ত ৮০ শতক সম্পত্তি জালিয়াতদের পক্ষে নামজারি ও জমা খারিজের জন্য সুপারিশসহ প্রস্তাব করে প্রতিবেদন গত ১২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ভূমি অফিসে দাখিল করেন তহশীলদার মজিবুর রহমান। হেমাপ্রবা মজুমদারের ওয়ারিশ দিব্যেন্দু মজুমদার উক্ত সম্পত্তি নামজারি ও জমা খারিজের আপত্তি জানিয়ে ৩০ মার্চ চৌদ্দগ্রাম ভূমি অফিসে একটি আপত্তি দাখিল করেন।
এ ব্যাপারে তহশীলদার মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার প্রতিবেদনে সলিমুল্লাহর নামে দাখিলকৃত দলিলটি জাল কিনা তা জানা ছিল না।’ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতিবেদন দিয়ে আমার অফিসের কেউ সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতে সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ‘সলিমুল্লাহর নামে সৃজনকৃত দলিল রেকর্ড রুমের ভলিয়মে নেই। তবে দলিলটির মাধ্যমে সরকারী কোন সম্পত্তি আত্মসাত করলে তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জানা গেছে, জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ১নং কাশিনগর ইউনিয়নের অলিপুর মৌজায় অবস্থিত কাশিনগর বাজারে ১/১ খতিয়ানে সরকারের ৮০ শতক সম্পত্তি আত্মসাতসহ দখল করতে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের তুলাপুস্করণী মৌজায় নারায়ণ চন্দ্র দে দাতা এবং মোহাম্মদ মিয়াকে গ্রহীতা হিসেবে ১৯৬১ সালের ৫ জানুয়ারির ৭৫নং দলিলটির নাম্বার এবং তারিখ ব্যবহার করে একটি জাল দলিল সৃষ্টি করা হয়। ওই জাল দলিলে যাত্রাপুর গ্রামের তৎকালীন জমিদার হেমাপ্রবা মজুমদারকে দাতা ও পার্শ¦বর্তী হিলালনগর গ্রামের মোঃ সলিমুল্লাহকে গ্রহীতা দেখানো হয়। জমিদার হেমাপ্রবা মজুমদার ভারতে চলে যাওয়ার পর তার ওয়ারিশ দিব্যেন্দু মজুমদার এ দেশে থাকা সত্ত্বেও অলিপুর মৌজার ৬০৫ দাগে কাশিনগর বাজারের ওই ৮০ শতক সম্পত্তিসহ হেমাপ্রবা মজুমদারের আরও অন্যান্য সম্পত্তি সরকারের ১/১ খতিয়ানে চলে যায়। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্তির জন্য জেলা কমিটির মাধ্যমে আবেদন আহ্বান করা হলে ওই জাল দলিলের মাধ্যমে ওই ৮০ শতক সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে অবমুক্তির জন্য কুমিল্লা জেলা কমিটির বরাবরে ১৫৬/১২ মোকদ্দমা দায়ের করেন হিলালনগর গ্রামের মোঃ সলিমুল্লাহর ছেলে জামায়াত নেতা সফিউল্লাহ।
উক্ত অবমুক্তি মামলায় দাখিলকৃত দলিলে হেমাপ্রবা মজুমদারকে দাতা ও সলিমুল্লাহকে গ্রহীতা দেখিয়ে ১৯৬১ সালের ৫ জানুয়ারি ৭৫ নাম্বারের জাল দলিলটি কুমিল্লা জেলা ভূমি অবমুক্তিকরণ কমিটির পক্ষে ভিপি শাখা থেকে দলিলের দাতা-গ্রহীতার রেকর্ডসহ সত্যতা যাচাই করার জন্য কুমিল্লা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের এক শ্রেণীর দুর্নীতিপরায়ণদের যোগসাজশে তৎসময়ে রেকর্ড রুমে ডেপুটেশনে কর্মরত ও বর্তমানে জেলার হোমনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অফিস সহকারী নুরুজ্জামান উক্ত জাল দলিলটি যাচাই করে সঠিক আছে মর্মে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সদর রেকর্ড রুম-কুমিল্লার পক্ষে ১৬নং ক্রমিকে প্রতিবেদন দেন। উক্ত প্রতিবেদন এবং ওই জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারী ৮০ শতক সম্পত্তি জালিয়াতদের পক্ষে অবমুক্ত হয়। পরবর্তীতে অর্পিত সম্পত্তির মালিকানা নিষ্পত্তি সংক্রান্ত মামলাগুলোর কার্যক্রম সরকার বন্ধ করে দিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসে প্রেরণের নির্দেশ দেয়। এতে জালিয়াত চক্রের পক্ষে জামায়াত নেতা সফিউল্লাহর মা ফয়েজুন্নেছা আবারও ওই জাল দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তিটি আত্মসাত করতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি মোকদ্দমা (নং-১৯১০/১৩-১৪) দাখিল করেন। চৌদ্দগ্রাম ভূমি অফিস থেকে কাশিনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদারকে রেকর্ড যাচাইপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়।
অভিযোগে জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম ভূমি অফিসের অফিস সহকারী নেছার উদ্দিন (কাশিনগরের যাত্রাপুর গ্রামের বাসিন্দা), তোফায়েল আহমেদ, কানুনগো মফিজুল ইসলাম, কাশিনগর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদার মজিবুর রহমান পরস্পর যোগসাজশে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ওই জাল দলিলের বিষয়টি জেনেও সরকারের প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের কাশিনগর বাজারের উক্ত ৮০ শতক সম্পত্তি জালিয়াতদের পক্ষে নামজারি ও জমা খারিজের জন্য সুপারিশসহ প্রস্তাব করে প্রতিবেদন গত ১২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা ভূমি অফিসে দাখিল করেন তহশীলদার মজিবুর রহমান। হেমাপ্রবা মজুমদারের ওয়ারিশ দিব্যেন্দু মজুমদার উক্ত সম্পত্তি নামজারি ও জমা খারিজের আপত্তি জানিয়ে ৩০ মার্চ চৌদ্দগ্রাম ভূমি অফিসে একটি আপত্তি দাখিল করেন।
এ ব্যাপারে তহশীলদার মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার প্রতিবেদনে সলিমুল্লাহর নামে দাখিলকৃত দলিলটি জাল কিনা তা জানা ছিল না।’ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জাল দলিলের মাধ্যমে প্রতিবেদন দিয়ে আমার অফিসের কেউ সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতে সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ এ বিষয়ে জেলা রেজিস্ট্রার জসিমউদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ‘সলিমুল্লাহর নামে সৃজনকৃত দলিল রেকর্ড রুমের ভলিয়মে নেই। তবে দলিলটির মাধ্যমে সরকারী কোন সম্পত্তি আত্মসাত করলে তদন্তপূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment