Wednesday, April 30, 2014

সব ভেন্টিলেটরই খারাপ, রোগীদের ভোগান্তি এনআরএসে

সব ভেন্টিলেটরই খারাপ, রোগীদের ভোগান্তি এনআরএসে

nrs
এই সময়: ১৯ এপ্রিলের সেই সন্ধের অভিজ্ঞতা কোনও দিন ভুলতে পারবে না পৃথ্বীরাজ দাসের পরিজন৷

একটি ইনটেনসিভ থেরাপিউটিক ইউনিট (আইটিইউ) কেবিনের অভাবে সেদিন প্রাণ হারিয়েছিলেন মধ্যবয়স্ক পৃথ্বীরাজ৷ মাথায় চোট ছিল তাঁর৷ পরিজন তাঁকে বারাসত থেকে কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন৷ প্রথমেই হোঁচট খেতে হয় আরজি করে৷ সেখানকার ডাক্তারের পরামর্শে অ্যাম্বুল্যান্সে এনআরএসে নিয়ে গিয়েও শেষরক্ষা হয়নি৷ সেখানে প্রাণ বাঁচানোর জন্য জরুরি আইটিইউ থাকা সত্ত্বেও তা অকেজো ছিল৷ এর পর সরকারি হাসপাতালে খালি আইটিইউ বেড খুঁজে পাওয়ার আগেই মারা যান হতভাগ্য পৃথ্বীরাজ৷

এনআরএস হাসপাতালে এসে একই অভিজ্ঞতা হয় শ্রীরামপুর থেকে সেরিব্রাল হেমারেজে আক্রান্ত রফিকুল ইসলামেরও৷ তবে প্রাণ যায়নি তাঁর৷ পরিস্থিতি বুঝে পরিজন তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয়৷ বিল মেটাতে অবশ্য পরিবারকে জমি বিক্রি করতে হয়৷ একই হাল হয় নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি জয়তী রাহার নামে এক নাবালিকারও৷ অপারেশনের পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে যাওয়াতে নাবালিকাকে নিউরো আইটিইউতে দেওয়া হলেও, ভেন্টিলেটরের অভাবে বাঁচানো যায়নি৷

শুধু গরিব রোগীই কেন? একই অভিজ্ঞতা হয়েছে হাসপাতালেরই এক প্রশাসনিক কর্তারও৷ তাঁর মা ভর্তি হয়েছিলেন৷ পরবর্তী সময় পরিস্থিতি জটিল হয়৷ ভেন্টিলেটর না-থাকায় তাঁর মাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় মিন্টো পার্কের এক বেসরকারি হাসপাতালে৷ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা অসংখ্য রোগীকেই এই ভাবে প্রাণের বিনিময়ে, পরিকাঠামো অকেজো থাকার মাসুল গুণতে হচ্ছে৷

কেন এই রকমের সঙ্কটের মুখে পড়ছেন গরিব রোগীরা? এনআরএস হাসপাতালের নিউরো আইটিইউয়ের পাঁচটি বেডের পাঁচটি ভেন্টিলেটরই দেড় মাস ধরে অকেজো৷ প্রত্যেকটি মেশিনের কিছু না কিছু যন্ত্রাংশ খারাপ হওয়ায় পুরো মেশিন কাজ করছে না৷ আইটিইউ আপাতত ব্যবহার করা হচ্ছে সাধারণ বেডের মতো৷ প্রত্যেকটি বেডের সঙ্গে যুক্ত করা ভেন্টিলেটর না-থাকায় সঙ্কটে থাকা রোগীদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না৷ প্রচণ্ড হতাশ নিউরো বিভাগের চিকিত্‍সকরা৷ সূত্রের খবর, হাসপাতালের প্রশাসনিক গাফিলতিতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে বিগত এক মাসে বার বার মেডিক্যাল সুপার তথা উপাধ্যক্ষ দেবাশিস গুহকে জানানো সত্ত্বেও কোন ফল হয়নি৷ লিখিত এবং মৌখিক দৃষ্টি আকর্ষণ সত্ত্বেও মেশিন সারানোর কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি৷ যদিও কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি, বিশাল হাসপাতাল এবং বহু যন্ত্র খারাপ৷ একে একে সব মেরামত করা হচ্ছে৷

২০১২ সালে মে মাসে এটি উদ্বোধন করেছিলেন হাসপাতালের পরিচালন সমিতির সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু৷ এসএসকেএম হাসপাতালের বাঙুর ইনস্টিটিউট অফ নিউরোলজির পর রাজ্যে দ্বিতীয় স্নায়ু বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এনআরএস হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগটি এই পরিকাঠামো তৈরি হয়৷ কিন্ত্ত প্রাথমিক এই সংস্কারও কর্তৃপক্ষের ঢিলেমিতে নষ্ট হতে বসেছে৷

No comments:

Post a Comment