Thursday, April 10, 2014

দিল্লিতে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর ৩ দলের

দিল্লিতে সেয়ানে সেয়ানে টক্কর ৩ দলের

heavy-weight
গৌতম হোড়

নয়াদিল্লি: 
এই প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনে প্রকৃত ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে রাজধানীতে৷ নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তার সুযোগ নিতে বদ্ধপরিকর বিজেপি, দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে মাস কয়েক আগে রাজধানী কাঁপিয়ে দেওয়া অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি এবং গতবার দিল্লির সাতটি আসনেই জেতা কংগ্রেসের মধ্যে চলবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই৷ বৃহস্পতিবারই নির্ধারিত হয়ে যাবে, কপিল সিবাল, হর্ষ বর্ধন, অজয় মাকেন, সন্দীপ দীক্ষিত, রাজমোহন গান্ধীদের ভবিষ্যত্‍৷

তবে ফলাফল যাই হোক না কেন,পরিস্থিতি যা, তাতে একটা ভবিষ্যত্‍বাণী নির্দ্বিধায় করা যায়৷ কংগ্রেসের পক্ষে গতবারের ফলের পুনরাবৃত্তি সম্ভব নয়৷ বরং মোদী-হাওয়ায় ভর করে দিল্লিতে সতে সাত পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি৷ দিল্লির মুসলিম ভোটের উপর এ বার আর নিরঙ্কুশ দাবি রাখতে পারছে না কংগ্রেস৷ কংগ্রেসের এই চিরন্তন ভোট ব্যাঙ্কে এবার বড়সড় থাবা বসাতে পারে আপ৷ শেষ মুহূর্তে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে জামা মসজিদের ইমাম বুখারির বৈঠক এবং তার পর মুসলিমদের কংগ্রেসকেই ভোট দিতে ইমামের আবেদনেও যে বিশেষ চিঁড়ে ভিজছে না তার ইঙ্গিতও মিলছে৷ ভোটের এই বিভাজনে আখেরে লাভ হবে অবশ্য রাজনাথ সিং-এর দলের৷ আর সেই কারণেই মীণাক্ষি লেখি, মহেশ গিরি, মনোজ তিওয়ারির মতো রাজনীতির জগতে আনকোরা ও তুলনামূলক ভাবে কমজোরি বিজেপি প্রার্থীরাও জেতার আশা করছেন৷

মাস কয়েক আগে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচনে কংগ্রেসের শোচনীয় ভরাডুবি হয়েছিল৷ মাত্র আটটি আসনে জিতে কংগ্রেস দিল্লির ইতিহাসে সবথেকে খারাপ ফল করে৷ আর সেই ফলের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন ছিল বলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত অভিযোগ করেছিলেন৷ এর পর যমুনা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে৷ কেজরিওয়ালের সরকার গঠন, তা মাত্র ৪৯ দিন টিকে থাকা, তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক, কংগ্রেসের ভাবমূর্তি ফেরানোর আপ্রাণ চেষ্টা, মোদীর হাওয়া সবই হয়েছে৷ তাতে কংগ্রেসের চিন্তা বেড়েছে বই কমেনি৷ কারণ, রাজধানীতে কংগ্রেসের মূল ভোটব্যাঙ্ক হচ্ছে গরিব, মুসলিম ও কিছুটা সরকারি কর্মী ও মধ্যবিত্তরা৷ সেখানে বিধানসভায় বিপুল ধস নামিয়েছিল আম আদমি পার্টি৷ গরিব মহল্লা ও মুসলিমদের ভোট বিপুলভাবে আপ পেয়েছিল৷ সেই সঙ্গে মধ্যবিত্ত ও যুবকদের একটা অংশের সমর্থন তাদের সঙ্গে ছিল৷ এত অল্প সময়ে সেই ভোটব্যাঙ্ক ফেরত পাওয়া নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নয় কংগ্রেস৷

কয়েকমাস পরে ছবিটা এখন অনেকটাই আলাদা৷ বিজেপির দাবি, এখন বিষয়টি রাজ্য সরকার গঠন করা নিয়ে নয়, প্রশ্ন হল, কেন্দ্রে কে শাসন করবে৷ দেশের মানুষ নিঃসন্দেহে নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান৷ তাই তাঁরা বিজেপিকে বেছে নেবেন৷ আর সে জন্যই লোকসভায় অ্যাডভান্টেজ বিজেপি৷ আর কয়েক মাস আগে মধ্যবিত্ত ও যুবসমাজে আপের যে সমর্থনটা ছিল সেটা পুরোপুরি ঝুঁকে পড়েছে বিজেপির দিকে৷ তাই দলের আনকোরা প্রার্থীরা জিতে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই৷

একদিকে মোদী-হাওয়া, অন্যদিকে কেজরিওয়ালের প্রতি মানুষের সমর্থন ও কেন্দ্রে দশ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার ফলে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার প্রবণতা, এই তিন ফ্যাক্টরের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে কংগ্রেসকে৷ অবস্থা এতটাই খারাপ যে, নয়াদিল্লি কেন্দ্রে লড়াইয়ে থাকা প্রার্থী অজয় মাকেনকে বলতে হচ্ছে, কংগ্রেসের ওপর রাগ থাকলেও সত্‍ ও কাজ করার পুরস্কার হিসাবে মানুষ যেন তাঁকে ভোটটা দেন৷ দিল্লির ভোটচিত্রে অজয় মাকেন ছাড়া লড়াইয়ের জায়গায় রয়েছেন, কপিল সিবাল, জে পি আগরওয়াল ও সন্দীপ দীক্ষিত৷ কিন্ত্ত প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই জয় নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা রয়েছে দলীয় নেতাদের মনে৷

আপের কাছেও এই লোকসভা নির্বাচন বড় পরীক্ষা৷ কেজরিওয়ালের আবেদন এখনও কতটা সজীব আছে তার প্রমাণ হয়ে যাবে লোকসভা নির্বাচনে৷ কেজরিওয়ালের রোড শো-তে অবশ্য ভালই ভিড় হয়েছে৷ রাখি বিড়লা, আশুতোষ, আশিস খৈতানরা লড়াইয়েও আছেন৷ কিন্ত্ত দলের নেতারাই স্বীকার করছেন, বিধানসভার মতো প্রচার তাঁরা করতে পারেননি৷ একে তো নেতারা সারা দেশে ব্যস্ত হয়ে গিয়েছেন৷ তার ওপর চারশোর বেশি আসনে লড়ার ফলে দিল্লির ওপর নজর কম পড়েছে৷ স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যেও আগের উত্‍সাহ ছিল না এ বার৷

এ সবই ঠিক৷ কিন্ত্ত আসল কথা হল, ভোটাররা কী ভাবছেন৷ চাঁদনি চকে সংখ্যালঘু ভোট কি আপ ও কংগ্রেসের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে? নয়াদিল্লিতে দলীয় কর্মীরাই মীনাক্ষি লেখির হয়ে সে ভাবে সক্রিয় না হওয়ার ফল কি তাঁকে ভুগতে হবে, না কি যাবতীয় খামতি ভাসিয়ে নিয়ে যাবে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদীর নাম? অনেকদিন পরে দিল্লি-সহ সারা দেশে এমন একটা নির্বাচন হতে চলেছে, যেখানে দলের থেকে ব্যক্তি এতটা বড় হয়ে উঠেছেন৷ ইন্দিরা গান্ধীর পর এ রকম উদাহরণ সম্ভবত নেই৷
http://eisamay.indiatimes.com/election-news/election-fight-in-delhi/articleshow/33543849.cms?

No comments:

Post a Comment