Sunday, April 27, 2014

সি বি আই ভগবান নাকি! ঠেস মমতার

সি বি আই ভগবান নাকি! ঠেস মমতার
Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
Google plus shareFacebook shareTwitter shareLinkedIn share
সব্যসাচী সরকার, গৌতম চক্রবর্তী


বালি, সোনারপুর ও টালিগঞ্জ, ২৬ এপ্রিল– সি বি আই ভগবান নাকি! নাকি ভগবানের বাবা! ওটা কংগ্রেস ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন৷‌ এভাবেই সি বি আই-কে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷‌ তাঁর মম্তব্য, সারদায় সি বি আই করলে তো আমি বেঁচেই যাই, আমাকে আর টাকা দিতে হবে না৷‌ শনিবার দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে তিনি হাওড়ার বালি , দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এবং টালিগঞ্জে তিনটি জনসভা করেন৷‌ সভাগুলিতে তিনি সি বি আই, কংগ্রেস, সি পি এম, বি জে পি-র সমালোচনায় সরব হন৷‌ বলেন, বহু তদম্তই সি বি আই করতে পারেনি৷‌ তাপসী মালিক কেন বিচার পায়নি৷‌ নন্দীগ্রামের ঘটনা, জ্ঞানেশ্বরী-কাণ্ডে সি বি আই কী করল? রাজনৈতিক সি বি আই-এর প্রতি আস্হা নেই৷‌ নোবেল প্রাইজ চুরি হয়েছে, আজ পর্যম্ত উদ্ধার করতে পারেনি৷‌ সারদা প্রসঙ্গে বলেন, একই জিনিস নিয়ে প্রতিদিন লেবুর মতো কচলানো হচ্ছে৷‌ তেতো হয়ে যাচ্ছে৷‌ কেউ আঘাত না করলে আমি প্রত্যাঘাত কবি না৷‌ ১৯৮০ সাল থেকে চিটফান্ড চলছে৷‌ আগের বাম সরকারের আমলে তৈরি হয়েছে৷‌ কী করেছে সি পি এম? চিটফান্ড নিয়ন্ত্রণ করে কেন্দ্রীয় সরকার৷‌ সেই সরকার কেন দেখেনি চিটফান্ড কী করছে! কংগ্রেস চায় চিটফান্ড চলুক৷‌ সারদা-কাণ্ডে সি বি আইয়ের দাবি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ৩৪ বছর ধরে আর বি আই, সেবি এবং ইডি কি ঘুমোচ্ছিল? তখন কেন তারা সব কিছু দেখল না? এখন দেখতে বসেছে৷‌ সি বি আই তদম্তের কথা বলা হচ্ছে৷‌ সি বি আই কী করবে? আমরা মানুষের টাকা ফেরত দিচ্ছি৷‌ আরও আড়াই-তিন লাখ মানুষকে টাকা দেব৷‌ ওরা চায় সি বি আই করিয়ে ওটা বন্ধ করিয়ে দিতে৷‌ আমরা চাই চিটফান্ড বন্ধ হোক৷‌ নিষিদ্ধ হোক৷‌ চিটফান্ড বাতিল হবে না কেন? আমরা সরকারে আসার পর তো আইন করে এই চিটফান্ড বন্ধ করতে কেন্দ্রে পাঠিয়েছি৷‌ সরকার মঞ্জুর করেনি৷‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে সংবাদমাধ্যম, সবাই বিরোধিতা করছে৷‌ কাউকে চাই না৷‌ হাজার চেষ্টা করেও তৃণমূলকে রোখা যাবে না৷‌ কারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে আছে৷‌ মানুষকে নিয়ে একাই লড়াই করব৷‌ দেশে বিকল্প দিতে হবে৷‌ মানুষের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে৷‌ যার নেতৃত্বে থাকব আমরাই৷‌ কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ওদের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হয়নি বলে তৃণমূলকে চাপে রাখতে চাইছে৷‌ কত চাপ দেবে৷‌ চাপ বাড়াতে বাড়াতে বা‘ই খালি হয়ে যাবে৷‌ মুখ্যমন্ত্রী এদিনও বলেন, বোতাম টিপুন এখানে, দিল্লি দখল করুন ওখানে৷‌ ভোট দেবেন এখানে বি জে পি জব্দ হবে ওখানে৷‌ কংগ্রেস স্তব্ধ হবে ওখানে৷‌ যত বেশি আসন পাব আমরা, দিল্লিকে বোঝাব বাংলাকে বাদ দিয়ে কিছু হয় না এদেশে৷‌ দেখবেন দার্জিলিং আসনও আমরা জিতব৷‌ বাক্সখুললেই বোঝা যাবে৷‌ কোথা থেকে বি জে পি চলে এল৷‌ দার্জিলিং ভাগ করতে চায়৷‌ আমরা দেব না৷‌ আপনার হৃদয় কি আপনি ভাগ করতে পারেন? কংগ্রেস, বি জে পি-র সমালোচনা করে বলেন, ওরা চায় না আর কেউ দিল্লিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক৷‌ ওরা চায় আমরা দুজনেই থাকব৷‌ আর বি জে পি-কে রুখতে এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ৷‌ সি পি এম-কে কটাক্ষ করে তাঁর মম্তব্য, একটা লক্ষ্যহীন, আদর্শচ্যুত দল৷‌ কোথায় গেল মার্কস, লেনিন প্রমুখের আদর্শ? সে সব জলাঞ্জলি দিয়েছে ওরা৷‌ একবার কংগ্রেসকে ছুঁয়ে, একবার বি জে পি-কে ছুঁয়ে চলছে, কানে কানে কথা বলছে৷‌ আগে চোখে চোখে কথা বলত৷‌ বি জে পি-কে রোখার কথা ভুলে গেছে৷‌ ৩৪ বছর ধরে বাংলাকে ডুবিয়ে গেছে৷‌ কোটি কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছে৷‌ আমরা বলেছিলাম, বদলা নয়, বদল চাই৷‌ আমরা সি পি এম-কে কিছুই করিনি৷‌ আমরা বদলা নিলে সি পি এম-কে সুড়সুড়ি দিলেই পালিয়ে যেত৷‌ ভূতের মতো কাজ করেছি বলে ৩ বছরে এত ঋণ থাকা সত্ত্বেও বাংলাকে ঘুরিয়ে দাঁড় করিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি৷‌ একটা স্কুল-কলেজ তৈরি করতে পারেনি৷‌ এখন আমাদের কাজ দেখে কুৎসার চালনা তৈরি করছে৷‌ অপপ্রচার করছে৷‌ বদলা নয়, বদল চেয়েছি৷‌ এদিন তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের মদত পেয়ে আবার সি পি এম রাজ্যে রাজনৈতিক খুন করতে শুরু করেছে৷‌ হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন ব্যানার্জির সমর্থনে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সভায় উপস্হিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, রাজীব ব্যানার্জি-সহ অন্য তৃণমূল নেতারা৷‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বালিতে ১৮০ একর জমি পেয়েছি৷‌ স্টিল ডেভেলপমেন্ট হাব তৈরি করা হবে৷‌ এদিনও রাজ্যে যে সব কলেজ, স্কুল ও হাসপাতাল হয়েছে তার কথাও বলেন৷‌ আমরা বাঙালি অবাঙালি ভাগাভাগি করি না৷‌ সকলেই আমার ভাই৷‌ বিকেলে সোনারপুরে যাদবপুরে লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শিক্ষাবিদ সুগত বসুর সমর্থনে প্রচার সভায় উপস্হিত ছিলেন প্রার্থী-সহ প্রাক্তন সাংসদ কৃষ্ণা বসু, অধ্যক্ষ বিমান ব্যানার্জি, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মণীশ গুপ্ত, বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম, জীবন মুখার্জি প্রমুখ৷‌ টালিগঞ্জের সভায় ছিলেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি, সুগত বসু, অরূপ বিশ্বাস প্রমুখ৷‌

No comments:

Post a Comment