৪২-এ ৪২ কথার কথা৷ ৬ মাস আগেও তৃণমূল নেতারা অম্তত ৩৪ ভেবেছেন৷ সেই ‘অম্তত’ আর নেই৷ দলের হিসেব এখন ৩০-৩১৷ কেউ কেউ আরও সতর্ক, ৩০ হবে তো? সংগঠন বেড়েছে৷ যেখানে কিছু ছিল না, সেখানেও৷ সভার পর সভায় মমতা তুমুল ভিড় টানছেন৷ আত্মরক্ষাও করছেন আক্রমণের ভঙ্গিতে৷ কেউ বলছেন, আত্মবিশ্বাস৷ কেউ বলছেন, উদ্বেগ৷ গড়ে রোজ তিনটে জনসভা, ঠা ঠা রোদ, মমতা ক্লাম্তিহীন৷ প্রচারের দায়িত্ব অল্প একটু ছেড়ে দিয়েছেন মিঠুন-দেবদের হাতে৷ অল্প একটুই৷ অনেক তৃণমূল প্রার্থী যে বলছেন, আমি নই, প্রার্থী দিদিই, সেটা কথার কথা নয়৷
সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ কেন? টেট, সারদা নিয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ কি খানিকটা প্রভাব ফেলবে? বি জে পি বেড়েছে, মোদি-হাওয়ায় এই বাড়তি ভোটটা বামফ্রন্টের সমর্থকদের দিক থেকেও কিছুটা আসবে, নাকি বড় থাবাটা বসবে তৃণমূল ভোটেই? যদি বি জে পি-র ১০০-র ৭০ আসে তৃণমূল থেকে, বড় ক্ষতি৷ যদি ৫০-৫০ হয়, সামলানো কঠিন নয়৷ বি জে পি কত ভোট পাবে, কোথায় কত পাবে, কার কতটা কাটবে, সে হিসেব কষছেন সবাই, কিন্তু জোর দিয়ে বলতে পারছেন না৷ এর উত্তর ১৬ মে-র আগে পাওয়া যাবে না৷ কিন্তু, হিসেব তো চলতেই থাকে, দলগুলোর দপ্তরে দপ্তরে, ট্রেনে-বাসে-ট্রামে, ঘরে-ঘরে, আড্ডায়-আড্ডায়৷
নির্বাচনী হিসেব একটা স্তরে থাকে নিজের বা নিজেদের আশার মোড়কে৷ ভেতরে ভেতরে কাজ করে উদ্বেগ৷ হবে কি? হবে না কি? পাব কি? আটকে যাব কি? আমরা, সাংবাদিকরা যতই ঘুরি, যতই বোঝার চেষ্টা করি, তা সাধারণ হিসেবের তুলনায় যতই নির্ভুল হোক, ঠিকঠাক সংখ্যা বলা যাচ্ছে না৷ এত থেকে এত৷ কীরকম? দার্জিলিং থেকে মুর্শিদাবাদ৷ তৃণমূল কত? ন্যূনতম ১, সর্বোচ্চ ৪! ১ আর ৪৷ নিরাপদ অবস্হান, ২৷ এভাবেই কিছুটা এগোনো যায়৷ চেষ্টা করা যায়৷ আগে মনে হয়েছিল, জোট না হলে কংগ্রেস ২-এর বেশি যাবে না৷ ১০ কেন্দ্রের ভোট হয়ে গেছে৷ বহরমপুর, জানা কথা৷ কংগ্রেস নেতারা বলছেন, আগের ৬ থেকে যাবে৷ যদি কমেও, ৪-৫ সত্যিই আটকানো যাচ্ছে না, এখন মানছেন কংগ্রেস বিরোধীরাও৷ যদি ন্যূনতম ৪-৫ হয়, নিজেদের গড় রক্ষার লড়াইয়ে সফলই বলতে হবে৷ সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য, মানস ভুঁইয়া, অধীর চৌধুরিরা রাহুলকেই কথা দিয়েছেন, ৬ ধরে রাখবই৷ ৪-৫ পেলেও অখুশি হবেন না সোনিয়া-রাহুল৷ এবং কংগ্রেস শক্তিশালী হওয়ার একটা জায়গায় থাকবে৷
বাম নেতারা পড়েছেন মুশকিলে৷ রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে নানা ইস্যুতে তীক্ষ্ন আক্রমণ, নিজেদের সংগঠন বেশ কিছু জায়গায় ফিরে পাওয়া, প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোটের একাংশ বাম-পথে ফিরে আসা৷ অনেক আশা৷ সতর্কতা, শাসক দলের বিরুদ্ধে আক্রমণ ভোটে কতটা দাগ কাটছে? সংগঠন কিছু ক্ষেত্রে কিছুটা ভাল জায়গায় এলেও, ৯-১০ কেন্দ্রে গুটিয়েই আছে৷ প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোট বি জে পি কতটা টেনে নেবে?
ঘটনা, বি জে পি-র সাফল্য-ব্যর্থতার ওপর আসল হিসেব দাঁড়িয়ে আছে৷ বি জে পি সম্ভবত দার্জিলিং পাবে, আরও দু-তিনটিতে আশাবাদী৷ শুধু প্রার্থী-তালিকায় চমক নয়৷ আছে এই হাওয়া যে, মোদি আসছেন৷ ভোটদাতাদের একাংশের মুখে শোনা যাচ্ছে, ‘একবার দিয়ে দেখি না...!’ বি জে পি যে আশায় আছে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ, নরেন্দ্র মোদির পশ্চিমবঙ্গে বারবার আসা৷ তিনবার হয়ে গেল৷ সম্ভবত আরও একবার আসবেন৷ আসনের কথা বাদ দিলেও, থাকে শতাংশের হিসেব৷ বি জে পি যদি ১৫-১৭ শতাংশ ভোট পায়, ২০১৬ বিধানসভা ভোটের সময়, যদি ধরে নেওয়া যায় মোদিমশাই প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেলেন, রাজ্যে শক্ত জমিতে পা রাখার কথা ভাবছেন রাহুল সিনহারা৷
হ্যাঁ, ২০১৬৷ এই লোকসভা ভোটের ফল দু’বছর পরের বিধানসভা ভোটের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ৷ যদি তৃণমূল ২৮-৩০ পেয়ে যায়, বদলের সম্ভাবনা ক্ষীণ৷ যদি গতবারের ১৫-ও ধরে রাখতে পারে বামফ্রন্ট, ফিরে আসার চেষ্টা জোরদার হবে৷ যদি ৪-৫-৬ পেয়ে যায় কংগ্রেস, প্রাসঙ্গিক থাকা যাবেই৷ যদি ১৭ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পেয়ে যায় বি জে পি, অঙ্ক জটিল হবে৷ এলোমেলো হাওয়ায় নড়ছে ‘কত৷’ এবং এই লোকসভা ভোটের ফলের মধ্যেই থাকবে বিধানসভা ভোটের ইঙ্গিত৷
|
No comments:
Post a Comment