Sunday, April 27, 2014

রাতভর হোটেলে জেগে কাটালেন মমতা

রাতভর হোটেলে জেগে কাটালেন মমতা
Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
Google plus shareFacebook shareTwitter shareLinkedIn share
অভিজিৎ চৌধুরি: মালদা, ১৮ এপ্রিল– বৃহস্পতিবার মালদার হোটেলে নিজের ঘরে দুর্ঘটনার পর রাতভর আতঙ্কে হোটেলে জেগেই কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷‌ মালদার হোটেলের ঘরে এসি মেশিনে আগুন লেগে যাওয়ায় বিষাক্ত ধোঁয়ায় অসুস্হ হয়ে পড়েছিলেন মমতা৷‌ রাতেই তাঁকে অন্য ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়৷‌ শ্বাসকষ্ট হওয়ায় তাঁকে অক্সিজেন দিতে হয়৷‌ রাতভর তিনি চেয়ারে বসে জেগে কাটিয়ে দেন৷‌ ভোরবেলায় কিছুটা ঘুমিয়ে নেন৷‌ বেলার দিকে উঠে তৈরি হয়ে তিনি নলহাটির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যান৷‌ ঘটনার দিন রাতেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেন৷‌ শুক্রবার কলকাতায় নির্বাচন আধিকারিক অমিতজ্যোতি ভট্টাচার্য বলেন, মুকুলবাবুর চিঠি আমরা পেয়েছি৷‌ চিঠির কপি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন দপ্তরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে৷‌ নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যাপারে কমিশনের কোনও দায়িত্ব নেই৷‌ তার কারণ, কমিশন ওই হোটেল বুক করেনি৷‌ কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালদা জেলাশাসকের কাছ থেকে একটি রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন৷‌ এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর পাঁচতারা হোটেলের ঘরে এসি মেশিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরাতন মালদা থানায় অভিযোগ দায়ের করল দমকল বিভাগ৷‌ তদম্ত শুরু করেছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও৷‌ বৃহস্পতিবার রাতেই এই ঘটনার পর দমকলের ওসি সাইদুল ইসলাম লিখিত অভিযোগে বলেছেন, হোটেলের বিদ্যুতিন রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো হয়নি৷‌ এর অভাবেই এই ঘটনাটি ঘটেছে৷‌ ফায়ার অ্যা’ ধারায় মামলা শুরু করকেছে পুরাতন মালদা থানার পুলিস৷‌ পূর্ত দপ্তর এবং বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি আলাদাভাবে তদম্ত করেছে৷‌ একনাগাড়ে মেশিন চালু ছিল৷‌ দীর্ঘদিন ধরে এ সি লাইন রক্ষণাবেক্ষণ না করার ফলে দুর্বল হয়ে যায়৷‌ সেই কারণে শর্টসার্কিট হয়ে তার জ্বলে যায়৷‌ এ সি মেশিনে বিপর্যয় ঘটে৷‌ তারের ধোঁয়া ঘরে ছড়িয়ে পড়ে৷‌ তবে গোটা বিষয়টি আরও খুঁটিনাটি জানার জন্য ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা দেখছেন৷‌ এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে সি বি আই তদম্তের দাবি তুলেছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ও রেল দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী অধীর চৌধুরি৷‌ শুক্রবার মালদায় তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী নিজেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷‌ এই ঘটনার পর তাঁর নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা পুলিস অফিসারদের কয়েকজনকে সাসপেন্ড করা উচিত ছিল৷‌ কিন্তু সেটা হয়নি৷‌ আমরা এই ঘটনার সি বি আই তদম্ত চাইছি৷‌ বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷‌ বীরভূমে নলহাটিতে প্রচারে যাওয়ার আগে মালদা এয়ারপোর্টে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, আমার শরীর ভাল নেই৷‌ বৃহস্পতিবার রাতে যে গ্যাস নাকে ঢুকেছিল তাতে সারা রাত কষ্ট পেয়েছি৷‌ ঘুমোতে পারিনি৷‌ আমি বাথরুমে ছিলাম৷‌ হঠাৎ জোর শব্দ৷‌ জয়দীপ চিৎকার করল, আমি বাথরুম থেকে বেরিয়ে পড়লাম৷‌ হোটেলের ঘরে এত গন্ধ, কালো ধোঁয়ায় ভরে গেছে গোটা ঘর৷‌ জয়দীপ একটা লেপ গায়ে দিয়ে আমাকে বের করে আনে৷‌ কালকে সারারাত অক্সিজেন নিয়েছি৷‌ স্যালাইন নিতে হয়েছে৷‌ ডাক্তার বলেছেন বিশ্রাম নিতে৷‌ বললেই কী হয়৷‌ এই সময় নির্বাচন৷‌ ঘরে থাকা যায় না৷‌ এ কথা বলে হেলিকপ্টারে উঠে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী৷‌

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলে আগুন এবং ধোঁয়া কাণ্ড নিয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্হা৷‌ শুক্রবার বিকেলে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা মালদায় এসে তদম্ত করে গেছেন৷‌ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যে ঘরে ছিলেন সেই ঘরের খুঁটিনাটি দেখে গেছেন তাঁরা৷‌ শুক্রবার সকাল থেকেই পুলিস কুকুর, দমকল, মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা ছিলেন তৎপর৷‌ তবে এই ঘটনার পরেও মুখ্যমন্ত্রী ওই হোটেলেই রয়েছেন৷‌ এই মুহূর্তে ওই হোটেল ছাড়ার কথা ভাবছে না তাঁর দল৷‌ মালদা দমকলের ও সি সাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনা তদম্ত করে দেখা হচ্ছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে৷‌ ফায়ার অ্যাক্টে পুরাতন মালদা থানায় হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷‌ তাতে উল্লেখ করা হয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছে৷‌ এই ঘটনা নিয়ে গোল্ডেন পার্ক হোটেলের মালিক দিলীপ আগরওয়ালকে রাত থেকে দফায় দফায় জেরা করেন দমকল, জেলা পুলিসের পদস্হ কর্তারা৷‌ দিলীপ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে তাঁর হোটেলটি নারায়ণপুর এলাকার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে চালু হয়৷‌ এবার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী পাঁচবার এই হোটেলে উঠেছেন৷‌ তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে হোটেলের সামনে ৬৩ কেভি ট্রান্সফর্মার সরিয়ে ১০০ কেভি ট্রান্সফর্মার বসিয়েছিলেন বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরা৷‌ এর পরই সমস্যা দেখা দেয়৷‌ ট্রান্সফর্মার চালু করার পর থেকেই শর্টসার্কিট হয়েছে৷‌ পরে রাত সাড়ে ৭টা নাগাদ ১০০ কেভি-র ট্রান্সফর্মার থেকে লাইন স্হানাম্তরিত করে বিদ্যুতের লাইন জুড়ে দিয়ে পরিস্হিতি স্বাভাবিক করা হয়৷‌ দিলীপবাবু বলেন, ট্রান্সফর্মার বদল না করলে হয়ত এই ধরনের ঘটনা ঘটত না৷‌ তাহলে কি ট্রান্সফর্মার সরানোর কথা বিদ্যুৎ দপ্তরকে বলেছিলেন হোটেল কর্তৃপক্ষ? দিলীপ আগরওয়াল বলেন, এ ব্যাপারে কোনও কথাই হয়নি বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে৷‌ তবে তাঁর হোটেলে রক্ষণাবেক্ষণের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ঠিকও নয়৷‌ বৃহস্পতিবার রাত থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে আগুন, ধোঁয়ার ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সারারাত তাঁর ঘুম হয়নি৷‌ পুলিস অফিসারদের ঘন ঘন জেরার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে৷‌ এদিকে পুরাতন মালদা থানার নারায়ণপুর এলাকাটি শিল্পাঞ্চল এলাকা হিসেবেই গড়ে উঠেছে৷‌ ওই এলাকাতেই রয়েছে এই পাঁচতারা হোটেলটি৷‌ শিল্পতালুকের মালিকদের অভিযোগ, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ, লো-ভোল্টেজ একটি বড় সমস্যা৷‌ এই খবর জানা ছিল বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্তাদের৷‌ মুখ্যমন্ত্রী যে হোটেলে রয়েছেন, সেই হোটেলে যাতে বিদ্যুতের সমস্যা না হয় তার জন্য নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে হোটেলের বাইরে কমজোরি ট্রান্সফর্মারটি বদলে দিয়েছেন৷‌ আর এতেই হিতে বিপরীত হয়ে গেছে৷‌ এমনটাই মনে করছেন মালদা জেলা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সভাপতি তথা নারায়ণপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য জয়ম্ত কুণ্ডু৷‌ মালদা রেঞ্জের ডি আই জি সত্যজিৎ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, কলকাতা থেকে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসেছিল৷‌ কী করে মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে অগ্নি সংযোগ এবং ধোঁয়ার ঘটনা ঘটল তা তদম্ত করে দেখছেন তাঁরা৷‌ শুক্রবার দেখেছেন এবং শনিবারও দেখবেন৷‌ তবে ফরেনসিক দল এ ব্যাপারে কোনও মম্তব্য করতে চায়নি৷‌

No comments:

Post a Comment