উদয় বসু: শিক্ষকদের স্যর বলার সম্মান ছিল, এখন তুই-তোকারি করা হচ্ছে৷ যে সমস্ত শিক্ষক পরিবর্তন চেয়েছিলেন, তাঁরা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন৷ তৃণমূলের দৌরাত্ম্যে অনেক উপাচার্যকে পদ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে৷ শনিবার দুপুরে শ্যামনগর রবীন্দ্রভবনে ব্যারাকপুর লোকসভা কেন্দ্রের সি পি এম প্রার্থী সুভাষিণী আলির সমর্থনে শিক্ষকদের এক আলোচনাসভায় বক্তব্য পেশ করতে এসে এ কথা বললেন অধ্যাপক শ্রুতিনাথ প্রহরাজ৷ তিনি আরও বলেন, রাজ্যে হিটলারের মতো কৌশল নেওয়া হয়েছে৷ কিছু সংস্কৃতি জগতের মানুষ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলছেন, আমি রাজনীতি করি না, তৃণমূল প্রার্থীদের ভোট দেবেন৷ বর্তমান শাসকদল ক্ষমতায় এসেই শিক্ষকদের ওপর নিপীড়ন শুরু করে৷ পরিবর্তনের আশায় কিছু শিক্ষক চলে যান তৃণমূলে, তাঁরাও এখন ভাবছেন ভুল করেছেন৷ তিনি বলেন, অন্যদিকে আরও ভয়ঙ্কর অবস্হা দেশে৷ বিবেকানন্দকে ব্যবহার করছেন নরেন্দ্র মোদি৷ গুজরাটে দাঙ্গা নয়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চলছে৷ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, যাঁরা একদিন মনমোহনকে তুলে ধরেছিলেন, তাঁরাই এখন মোদিকে নিয়ে মাতামাতি করছেন৷ এর পেছনে সাম্রাজ্যবাদীদের বিশাল চক্রাম্ত রয়েছে৷ বিকাশবাবুর বক্তব্য, যে নিজেকে সৎ বলে তার মতো অসৎ আর কেউ নেই৷ আজ তা প্রমাণিত, নির্বাচনের নির্দেশ মানছে না মাওবাদীরা আর মমতাবাদীরা৷ এ রাজ্যে শুধু নারী নির্যাতনই নয়, নারী নির্যাতনের পর তাঁদের এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাতে তাঁরা অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন৷ বাদশা মৈত্র বলেন, শিলাদিত্য চৌধুরি তৃণমূল করা সত্ত্বেও তাঁর ওপর হামলা ও শারীরিক নির্যাতন হয়েছে, তার জন্য তিনি পরিবর্তনের রাস্তা খুঁজে নিয়েছেন৷ শিলাদিত্য যদি পারেন, তা হলে আমাদেরও অন্য রাস্তা খুঁজতে হবে৷ নাট্যকার চন্দন সেন বলেন, শুধু বামপম্হীদের জেতানো নয়, আমাদের হারিয়ে-যাওয়া সম্মানকে জেতাতে হবে৷ অধিকারকে পুনরুদ্ধার করতে হবে৷ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন সমাজসেবী আইনজীবী ভারতী মুৎসুদ্দি, এ বি টি এ-র জেলা সম্পাদক সুরঞ্জিত দেব, অধ্যাপক দীপক বাগচী প্রমুখ৷
|
No comments:
Post a Comment