তুফান মণ্ডল: আরামবাগ, ২৬ এপ্রিল– মুখে সব দলই একশো শতাংশ জয়ের কথা ঘোষণা করলেও আরামবাগ কেন্দ্রে জয়ী হওয়া সব দলের কাছেই যে কঠিন লড়াই আড়ালে-আবডালে তা স্বীকার করছেন ডান বাম সব নেতৃত্বই৷ জয়ের শিরোপা যে প্রার্থীর মাথাতেই উঠুক তা যে মার্জিনে লাখের ঘর ছোঁবে না, হাজারের ঘরেই সীমাবদ্ধ থাকবে সে নিয়েও সব দলই নিশ্চিত৷ আরামবাগ কেন্দ্রে এবার পঞ্চমুখী লড়াই৷ প্রধান চার দল সি পি এম, তৃণমূল, বি জে পি ও কংগ্রেস ছাড়াও প্রার্থী দিয়েছে ঝাড়খণ্ড দিশম পার্টি৷ তবে এখানে মূল লড়াই তৃণমূলের সঙ্গে সি পি এমের৷ তবে ভোট কাটাকাটির অঙ্কে বি জে পি প্রার্থী মধুসূদন বাগ জিতে গেলে সেটা হবে বড় অঘটন৷ অন্য দিকে কংগ্রেস প্রার্থী শম্ভুনাথ মালিক যেন হারার আগেই হার স্বীকার করে নিয়েছেন৷ তিনি না আছেন দেওয়ালে-ফেস্টুনে, না আছেন প্রচারে৷ তাঁর এই হাল ছাড়া মনোভাবে দলেরই কর্মী-সমর্থকরা তাঁর ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ৷ ক্ষোভে তাঁরা অন্য দলের প্রার্থীকে ভোট দিলেও আশ্চর্যের কিছু থাকবে না৷ নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী অপরূপা পোদ্দার ওরফে আফরিন আলি এবার শাসক দলের সুবিধা ভালই পাবেন৷ তৃণমূলের হাওয়া, হেভিওয়েট, মন্ত্রী-নেতাদের একাধিক সভা, কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহ উদ্দীপনাই অন্যদের থেকে তাঁকে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে৷ এমনকী মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং দু-দুবার তাঁর জন্য সভা করে গেছেন, এসেছেন মিঠুন চক্রবর্তীর মতো তারকাও৷ এ ছাড়া হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ককে সম্প্রীতির দৃষ্টাম্ত হিসেবে তুলে ধরতে অনেকটাই সক্ষম তাঁর দল৷ তবে দলের মধ্যে গোষ্ঠী রাজনীতি কিছুটা হলেও চিম্তায় রাখবে অপরূপাকে৷ উপেক্ষিত গোষ্ঠীর নেতারা যদি এই নির্বাচনকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার কাজে লাগায় তা হলে অপরূপার জয় অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে৷ সে ক্ষেত্রে বাম দুর্গ আরামবাগ তৃণমূলের কাছে অধরাই থেকে যেতে পারে৷ অন্য দিকে সি পি এম প্রার্থী শক্তিমোহন মালিক এবারও তাঁর এই জেতা আসন ধরে রাখতে মরিয়া৷ সূর্যকাম্ত মিশ্র, বিমান বসুরা তাঁর সমর্থনে সভা করে গেলেও ছোট ছোট মিছিল, বাড়ি বাড়ি প্রচারেই এবার তিনি জোর দিয়েছেন৷ তবে দলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে এবার তিনি পাচ্ছেন না৷ একজন প্রাক্তন সাংসদ অনিল বসু৷ অন্যজন আরামবাগের প্রাক্তন পুরপিতা গোপাল কচ৷ দুজনেই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত৷ দুজনেরই নিজস্ব সংগঠন ছিল৷ ফলে কিছুটা হলেও ভোট ব্যাঙ্কে প্রভাব পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা৷ যদিও শক্তিমোহনবাবু নিজে তা মানতে নারাজ৷ তবে অনিল বসুর অনুপস্হিতিতে শক্তিমোহনবাবুর থেকেও বেশি হতাশ আরামবাগের তৃণমূল নেতৃত্ব৷ কারণ তিনি না থাকায় প্রচারে তৃণমূল আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়াতে পারছে না৷ গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনিল বসুর আপত্তিকর মম্তব্য নিয়ে এখনও এলাকায় ক্ষোভ আছে৷ অনিল বসু নিজেই না থাকায় তৃণমূল সেই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে পারছে না৷ এবং তৃণমূল নেতার কথায়, অনিল বসুর বিরুদ্ধে যে জঙ্গি প্রচার করা যেত শাম্ত স্বভাবের শিক্ষক শক্তিমোহনের বিরুদ্ধে তা হয় না৷ আর এই স্বচ্ছ ইমেজ নিয়েই আরও একবার সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিশ্চিত শক্তিমোহনবাবু৷ তবে এর পরেও একটা বড় ফ্যা’র মোদি হাওয়া৷ আরামবাগের তরুণ ভোটাররা বি জে পি প্রার্থীর হয়ে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ঝড় তুলেছে৷ তবে সেই ঝড় ভোটের মেশিনে কতটা প্রতিফলিত হয় তার ওপরেই নির্ভর করবে আরামবাগ কেন্দ্রের ভাগ্য৷ বি জে পি প্রার্থী কতদূর ভোট কাটবে এবং সেই ভোট কোন দলের কতটা তাতেই এবার নির্ধারণ হবে আরামবাগের কর্তৃত্ব কোন প্রার্থীর হাতে যাবে– প্রতিভাময়ী আইনজীবী অপরূপার নাকি অভি: শিক্ষক শক্তিমোহনের?
|
No comments:
Post a Comment