আলোক সেন: বাঁকুড়া, ২৬ এপ্রিল– শনিবার সারেঙ্গা থানার পিরলগাড়ি থেকে চিলতোড় গ্রাম পর্যম্ত টানা ২০ কিমি রাস্তা জুড়ে রোড শো করলেন তৃণমূল প্রার্থী মুনমুন সেন৷ গ্রামগুলি বেশিরভাগই আদিবাসী অধ্যুষিত৷ অনেক গ্রামেই আদিবাসী মহিলারা তাদের সামাজিক প্রথা অনুযায়ী হুডখোলা জিপ থেকে মুনমুনকে নামিয়ে তাঁদের পিড়িতে বসিয়ে ঘটিতে করে আনা জল দিয়ে ধুইয়ে দিলেন অতিথি মুনমুনের পা৷ কালাপাথর গ্রামে মুনমুন এক আদিবাসী বৃদ্ধার পা ধুইয়ে দিলেন তাঁদের ঘটি থেকে জল নিয়ে৷ মুনমুনের মাথায় হাত রেখে ওই বৃদ্ধার আশীর্বাদ, আপনি জয়যুক্ত হবেন৷ হুডখোলা জিপে চড়ে মুনমুন এদিন তাঁর রোড শো শুরু করেন পিরলগাড়ি মোড় থেকে৷ ইতিপূর্বে তিনি জঙ্গলমহলের ব্লক শহর ও গঞ্জগুলিতে রোড শো করেছেন৷ গ্রামে গ্রামে রোড শো এদিন প্রথম৷ দলের পক্ষ থেকে আগের দিনেই এলাকায় প্রচার করে দেওয়া হয়েছিল, মুনমুন সেন রোড শো করবেন গ্রামে গ্রামে৷ স্বভাবতই তাঁকে একটিবার চোখে দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন গ্রামবাসীরা৷ ২০ কিমি রাস্তার পাশে পড়েছে ১৪টি গ্রাম৷ পিরলগাড়ির পর বীরভানপুর, কৃষ্ণপুর, গোয়ালডাঙা, নেতুরপুর, জামবনি, সারেশকুল, বামুনডিহা, মৌকুড়া, কালাপাথর, ছতরডাঙা, ডামডি, ঢেকুয়া ও বিলতোড়৷ প্রত্যেক গ্রামেই গিয়ে দেখা গেল, গ্রামবাসীরা গ্রামের মোড়ে অতিথিকে বরণ করার জন্য ভিড় জমিয়েছেন৷ অনেকেই নতুন পোশাক পরেছেন৷ অনেকের হাতে ফুলের মালা৷ মুনমুন কাছে আসতেই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়ছেন তাঁর হুডখোলা জিপে৷ তাঁদের আবেগ ও উচ্ছ্বাস দেখে বিস্মিত মুনমুন৷ বার বার তিনি সে কথা উচ্চারণ করছেন৷ হাত জোড় করে নমস্কার জানাচ্ছেন৷ গোটা এলাকাটায় জঙ্গলে ঘেরা একটি গ্রামের পর কিছুটা জঙ্গল, আবার গ্রাম৷ চিলতোড় গ্রামে এসে রোড শো শেষ করে তিনি উঠলেন তাঁর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টয়োটা গাড়িতে৷ সেখান থেকে রাইপুরের মণ্ডলকুলি গ্রাম৷ সেখানে নির্বাচনী সভায় মুনমুন বলেন, তিনি আদিবাসীদের ভালবাসেন৷ তাঁর স্বামীও আদিবাসী৷ সেই হিসেবে তিনিও আদিবাসী পরিবারের বধূ৷ বললেন, এই জঙ্গলমহলের উন্নয়নের জন্য তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি নিরম্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ তিনি মমতা ব্যানার্জির দূত হয়ে জঙ্গলমহলে কাজ করতে চান৷ তিনি এখানকার মানুষের সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের কাজ করতে চান৷ তাই তাঁকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আবেদন জানান তিনি৷ তিনি তাঁর মা সুচিত্রা সেনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘তাঁকে তো আপনারা সবাই চেনেন৷ আমি তাঁর মেয়ে৷ আমিও অভিনয় করতাম৷ এখনও কিছু কিছু করি৷ আপনারা সুযোগ করে দিলে, আপনাদের সেবা করতে চাই৷’ রোড শো-তে দলের ব্লক সভাপতি ও সারেঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ধীরেন ঘোষ-সহ ব্লকের ও জেলার কয়েক জন নেতা তাঁর সঙ্গে ছিলেন৷ রোদের গনগনে আঁচ থেকে বাঁচতে হুডখোলা জিপে ছিল ত্রিবর্ণ রঞ্জিত বিশাল ছাতা৷ তবু তীব্র গরম ও পশ্চিমি হল্কা বারবার জানান দিচ্ছিল বাঁকুড়া রান করছে ৪৩ ডিগ্রির ওপরে৷
|
No comments:
Post a Comment