নিরুপম সাহা: অশোকনগর, ২৬ এপ্রিল– সারদা-কাণ্ড নিয়ে সি বি আই তদম্ত হলে তৃণমূলের প্রথম সারির ৫০ শতাংশ নেতার জায়গা হবে জেলে৷ এই মম্তব্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরির৷ শুক্রবার বিকেলে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের কচুয়া মোড়ে বারাসত কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী ঋজু ঘোষালের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অধীর আরও বলেন, এখন আর তৃণমূল নেতাদের মুখে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের কথা শোনা যায় না৷ সেখানকার কৃষকদের আত্মত্যাগই রাজ্যে পরিবর্তনে বড় ভূমিকা নিয়েছিল৷ কেন্দ্রের দেওয়া অর্থ বর্তমান রাজ্য সরকার খরচ করতে পারে না৷ এটা রাজ্য সরকারের বড় ব্যর্থতা৷ সেই টাকা খরচ করতে পারলে এই রাজ্যের চেহারাটা বদলে যেত৷ কেন্দ্র সরকার দেশের মধ্যে যে ১০০টি জেলাকে পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে চিহ্নিত করেছে, তার মধ্যে এই রাজ্যের ১১টি রয়েছে৷ সেই জেলাগুলির উন্নয়নে কেন্দ্র অর্থ সাহায্য করলেও রাজ্য তা খরচ করতে পারেনি৷ তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল এই রাজ্য থেকে কংগ্রেসকে উচ্ছেদ করতে চাইছে৷ কিন্তু তা বাস্তবে সম্ভব নয়৷ রাজ্যে দু’দফার ভোটের মধ্যে ৫টি আসন কংগ্রেসের থাকছে৷ আরও একটি কংগ্রেস পাবে বলে তাঁর আশা৷ তাই মমতা ব্যানার্জির পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে বলে মম্তব্য করেন প্রদেশ সভাপতি৷ এদিনের সভায় প্রার্থী ঋজু ঘোষালও উপস্হিত ছিলেন৷
কালনা থেকে চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়: বাংলায় সরকারের বদল হয়েছে৷ দেখা যাচ্ছে রঙটারই বদল হয়েছে৷ চরিত্রের বদল হয়নি৷ মম্তব্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরির৷ ভর দুপুরে কালনা অঘোরনাথ পার্ক স্টেডিয়ামে সংশ্লিষ্ট বর্ধমান পূর্ব থেকে লোকসভা আসনের কংগ্রেস প্রার্থী চন্দনা মাঝির সমর্থনে সভা করেন অধীর৷ চন্দনা ছাড়াও ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি, জেলা নেতা লক্ষ্মণ রায় প্রমুখ৷ অধীরের সাফ কথা, কংগ্রেসের হারাবার কিছু নেই৷ কংগ্রেস তো রাজ্যে ক্ষমতাতেই নেই৷ তৃণমূলের সঙ্গে জোট হয়, তখন তৃণমূলের লক্ষ্য ছিল সরকার গঠন৷ কংগ্রেসের নয়৷ মমতার প্রস্তাবিত ফেডারেল ফ্রন্ট সম্পর্কে অধীরের মম্তব্য, ওই ফ্রন্টের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন জানিয়ে দিন আগে৷ ২৭২ আসন কীভাবে পাবেন, তার হিসেবটা দিন৷ সারদা-কাণ্ডে ফের সি বি আইয়ের দাবিতে সরব অধীরের দাবি, অবিলম্বে সি বি আই চাই৷ চিটফান্ড-কাণ্ডে সরকার অভিযুক্ত৷ সি বি আই হলে দেখবেন দিদির পাশে কেউ থাকবে না৷ সব পালাবে৷ আমি সবাইকে সীমাম্ত এলাকাগুলিতে ভাল মতো নজরদারির পরামর্শ দিই, যাতে কেউ পালাতে না পারে৷ অধীরের মতে, মমতার জনপ্রিয়তা কমছে৷ তার প্রতি মানুষের আস্হাও কমছে৷ অধীরের মম্তব্য, মোদি হাওয়া বলে কিছু নেই৷ ওসব প্রচার মাত্র৷ তার আমলে গুজরাটের দাঙ্গা গোটা দেশের মানুষ দেখেছেন৷ সভা চলাকালীন তীব্র গরমে অসুস্হ বোধ করতে থাকেন কংগ্রেস প্রার্থী চন্দনা মাঝি৷ সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার ডাকা হয়৷ কিছুক্ষণ পর অবশ্য সুস্হ হন চন্দনা৷
|
No comments:
Post a Comment