মঞ্চে অনুব্রত-মণিরুলের পাশে মমতা
এই সময়: আজ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর এজলাসে পাড়ুই হত্যা-মামলার শুনানি হওয়ার কথা৷ বিচারপতি দত্ত আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তিনি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে দিতে পারেন৷ ওই হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টকে পাশে নিয়ে বুধবার মঙ্গলকোটে সভা সারলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
শুধু কেষ্টই নয়, বীরভূম জেলার আর এক তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন৷ তাঁর বিরুদ্ধেও খুনের অভিযোগ রয়েছে৷ পাশাপাশি, সেই খুন করার জন্য প্রকাশ্য মঞ্চে সদর্প কৃতিত্বও জাহির করার জন্যও তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন৷ জেলার এই দুই বিতর্কিত নেতাকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সভা করা নিয়ে বিরোধীরা সমালোচনায় সরব হয়েছে৷ এ ব্যাপারে তারা নির্বাচন কমিশনেরও দ্বারস্থ হতে চলেছে৷
গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই বিরোধীদের উদ্দেশে নানা কটূক্তি করে কেষ্ট মণ্ডল বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন৷ তাঁর হুমকি-ধমকির কোপে পড়েছেন নিজের দলের অনুগামীরাও৷ পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগেই শাসকদলের সমর্থকরাই নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কেষ্টবাবু তাঁদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন৷ এমনকি, ওই প্রার্থীদের সাহায্য করলে পুলিশকেও বোমা মারার পরামর্শ দেন তিনি৷ ভোটের দু'দিন আগেই পাড়ুইয়ের কসবা গ্রামে নির্দল প্রার্থী হূদয় ঘোষের বাবা সাগর ঘোষ খুন হন৷ বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুনও লাগানো হয়৷ ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কেষ্ট৷ তারও আগে লাভপুরে তিন গ্রামবাসীকে পিটিয়ে খুন করার দায়ে অভিযুক্ত হন তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম৷ পাড়ুই হত্যা-মামলায় কেষ্টর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত রাজ্য পুলিশের ডিজি জি এম পি রেড্ডিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন৷
পাড়ুই-কাণ্ডের পরও মুখ্যমন্ত্রী বীরভূমে সভা করতে গিয়ে কেষ্টকে দক্ষ এবং ভালো সংগঠক বলে সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন৷ তাঁর যুক্তি ছিল, 'ও অসুস্থ, ওর অক্সিজেন কম যায়৷' বুধবার আরও একধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেষ্টর প্রতি যাবতীয় ভালোবাসা এবং অনুরাগ ঢেলে দেন৷ এবং এই সুযোগে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি৷ কর্ডলেস মাইক হাতে নিয়ে কেষ্টর দিকে তাকিয়ে মমতা বলেন, 'কেষ্ট তোর কাছে কেউ কিছু চেয়েছিল নাকি বল তো? পায়নি বলেই তোর পিছনে পড়ে রয়েছে৷ নিশ্চয়ই কিছু চেয়েছিল৷ চাইলে মুড়ি-টুড়ি তো খাইয়ে দিলে পারতিস৷ বাড়িতে মুড়ি-নারকেল তো ছিল৷' জনতা মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনে ব্যাপক হাততালি দেয়৷
তবে মঞ্চে তাঁর এই কেষ্ট-প্রীতি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ ভালো ভাবে নিতে পারেনি৷ কিন্ত্ত তা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি৷ মঞ্চের নীচে দাঁড়িয়ে এক নেতাকে বলতে শোনা গেল, 'কালকেই হাইকোর্টের পাড়ুই-মামলার শুনানি আছে৷ সেখানে যদি অনুব্রতর বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার কিংবা সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত, তা হলে নেত্রীর এই 'ভালো সংগঠক'-এর কী হাল হবে, কে জানে!' তবে মঙ্গলকোটের মঞ্চে অনুব্রতর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে একবারও মনে হয়নি, তিনি বৃহস্পতিবারের শুনানি উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তায় আছেন৷
বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অনুপম হাজরার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই সভা করেন মঙ্গলকোটের নতুন হাটে স্কুল মোড়ের মাঠে৷ মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামার পরই অর্ধেক ভরা মাঠ ফাঁকা হতে শুরু করে৷ যেটুকু ভিড় হয়েছিল, তা মূলত ছিল দলের রাজ্য সভার সদস্য তথা চিত্রতারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখার জন্য৷ কিন্ত্ত মমতার পাশে হেলিকপ্টার থেকে মিঠুনকে নামতে না দেখে জনতা আরও হতাশ হয়ে ঘরমুখো হয়৷ তবু মমতা দমে যাননি৷ মঙ্গলকোট এবং সাতগেছিয়ায় দুই জনসভাতেই তিনি ছিলেন বিরোধী দল এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যথেষ্টই আক্রমণাত্মক৷
এই সময়: আজ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তর এজলাসে পাড়ুই হত্যা-মামলার শুনানি হওয়ার কথা৷ বিচারপতি দত্ত আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে তিনি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে দিতে পারেন৷ ওই হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেসের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টকে পাশে নিয়ে বুধবার মঙ্গলকোটে সভা সারলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
শুধু কেষ্টই নয়, বীরভূম জেলার আর এক তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলামও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন৷ তাঁর বিরুদ্ধেও খুনের অভিযোগ রয়েছে৷ পাশাপাশি, সেই খুন করার জন্য প্রকাশ্য মঞ্চে সদর্প কৃতিত্বও জাহির করার জন্যও তিনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন৷ জেলার এই দুই বিতর্কিত নেতাকে পাশে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সভা করা নিয়ে বিরোধীরা সমালোচনায় সরব হয়েছে৷ এ ব্যাপারে তারা নির্বাচন কমিশনেরও দ্বারস্থ হতে চলেছে৷
গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকেই বিরোধীদের উদ্দেশে নানা কটূক্তি করে কেষ্ট মণ্ডল বারবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন৷ তাঁর হুমকি-ধমকির কোপে পড়েছেন নিজের দলের অনুগামীরাও৷ পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগেই শাসকদলের সমর্থকরাই নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কেষ্টবাবু তাঁদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন৷ এমনকি, ওই প্রার্থীদের সাহায্য করলে পুলিশকেও বোমা মারার পরামর্শ দেন তিনি৷ ভোটের দু'দিন আগেই পাড়ুইয়ের কসবা গ্রামে নির্দল প্রার্থী হূদয় ঘোষের বাবা সাগর ঘোষ খুন হন৷ বেশ কয়েকজন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে ভাঙচুর করে আগুনও লাগানো হয়৷ ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কেষ্ট৷ তারও আগে লাভপুরে তিন গ্রামবাসীকে পিটিয়ে খুন করার দায়ে অভিযুক্ত হন তৃণমূল বিধায়ক মণিরুল ইসলাম৷ পাড়ুই হত্যা-মামলায় কেষ্টর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত রাজ্য পুলিশের ডিজি জি এম পি রেড্ডিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন৷
পাড়ুই-কাণ্ডের পরও মুখ্যমন্ত্রী বীরভূমে সভা করতে গিয়ে কেষ্টকে দক্ষ এবং ভালো সংগঠক বলে সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন৷ তাঁর যুক্তি ছিল, 'ও অসুস্থ, ওর অক্সিজেন কম যায়৷' বুধবার আরও একধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেষ্টর প্রতি যাবতীয় ভালোবাসা এবং অনুরাগ ঢেলে দেন৷ এবং এই সুযোগে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন তিনি৷ কর্ডলেস মাইক হাতে নিয়ে কেষ্টর দিকে তাকিয়ে মমতা বলেন, 'কেষ্ট তোর কাছে কেউ কিছু চেয়েছিল নাকি বল তো? পায়নি বলেই তোর পিছনে পড়ে রয়েছে৷ নিশ্চয়ই কিছু চেয়েছিল৷ চাইলে মুড়ি-টুড়ি তো খাইয়ে দিলে পারতিস৷ বাড়িতে মুড়ি-নারকেল তো ছিল৷' জনতা মুখ্যমন্ত্রীর কথা শুনে ব্যাপক হাততালি দেয়৷
তবে মঞ্চে তাঁর এই কেষ্ট-প্রীতি জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ ভালো ভাবে নিতে পারেনি৷ কিন্ত্ত তা নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি৷ মঞ্চের নীচে দাঁড়িয়ে এক নেতাকে বলতে শোনা গেল, 'কালকেই হাইকোর্টের পাড়ুই-মামলার শুনানি আছে৷ সেখানে যদি অনুব্রতর বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার কিংবা সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় আদালত, তা হলে নেত্রীর এই 'ভালো সংগঠক'-এর কী হাল হবে, কে জানে!' তবে মঙ্গলকোটের মঞ্চে অনুব্রতর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে একবারও মনে হয়নি, তিনি বৃহস্পতিবারের শুনানি উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তায় আছেন৷
বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী অনুপম হাজরার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই সভা করেন মঙ্গলকোটের নতুন হাটে স্কুল মোড়ের মাঠে৷ মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামার পরই অর্ধেক ভরা মাঠ ফাঁকা হতে শুরু করে৷ যেটুকু ভিড় হয়েছিল, তা মূলত ছিল দলের রাজ্য সভার সদস্য তথা চিত্রতারকা মিঠুন চক্রবর্তীকে দেখার জন্য৷ কিন্ত্ত মমতার পাশে হেলিকপ্টার থেকে মিঠুনকে নামতে না দেখে জনতা আরও হতাশ হয়ে ঘরমুখো হয়৷ তবু মমতা দমে যাননি৷ মঙ্গলকোট এবং সাতগেছিয়ায় দুই জনসভাতেই তিনি ছিলেন বিরোধী দল এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যথেষ্টই আক্রমণাত্মক৷
No comments:
Post a Comment