বন্ধ বান্দাপানিতে ভোট বয়কট অভুক্ত শ্রমিকদের
জয়া চক্রবর্তী
আলিপুরদুয়ার : দু'টোই বন্ধ চা বাগান৷ দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার৷ অথচ ঢেকলাপাড়ার পাশে যে ভাবে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার, বান্দাপানির ভাগ্যে সেই শিকে ছেঁড়েনি৷ তার সিকি ভাগ সহায়তাও পৌঁছয়নি৷ ফলে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা৷ গত ন'মাসে আট জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বাগানে৷ আর তাই ভোটের মুখে তিতিবিরক্ত, হতাশ বাসিন্দারা৷ ভোট না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা৷ জলপাইগুড়ির জেলাশাসককে তাঁদের বক্তব্য লিখিত ভাবে জানিয়েও দিয়েছেন বান্দাপানির শ্রমিকরা৷ জেলাশাসক পৃথা সরকারের দাবি 'আমরা ওঁদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি৷ সরকারি আইনের বেড়াজালে বাগানটা বন্ধ হওয়ার একবছর না-হওয়া পর্যন্ত কোনও রকম সহায়তা দেওয়া যাচ্ছে না৷ তবে আমরা নিয়মিত ভাবে রেশন চালু রেখেছি৷'
স্থানীয় সূত্রের খবর, শ্রমিক অসন্তোষের কারণ দেখিয়ে ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই বান্দাপানি বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মালিকপক্ষ৷ জেলা প্রশাসনের তরফে বেশ কয়েকবার সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হলেও বারবার মালিক পক্ষের অনুপস্থিতিতে ভেস্তে যায় সেই উদ্যোগ৷ তারপর থেকেই কর্মহীন হয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে প্রায় তেরোশো শ্রমিককে৷ পড়ে থাকতে থাকতে চুরি হতে শুরু করেছে কারখানার দামি যন্ত্রাংশ৷ পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হতে শুরু করেছে চা গাছ৷ বাগানে বিদ্যুত্ নেই৷ পানীয় জলের তীব্র হাহাকার৷ ভুটান পাহাড় থেকে আসা ঝরনার জলেই পিপাসা মেটে এখানকার বাসিন্দাদের৷ বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রেতি নদীর পাথর খাদানে কাজ করেই কোনওক্রমে পেট চালাতে হয় শ্রমিকদের৷ কোনও রাজনৈতিক দলের শুকনো প্রতিশ্রুতিটুকুও এসে পৌঁছয়নি তাঁদের কাছে৷ ফলে হতাশ শ্রমিকরা লোকসভা ভোটে মতদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তাঁদের অভিযোগ, এতদিন ধরে বাগান বন্ধ থাকলেও কোন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পা পড়েনি বান্দাপানিতে৷ সরকারের তরফে শুধু রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ শ্রমিক পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে পেটের দায়ে যোগ দিয়েছে পাথর খাদানে৷ সরকারি নথি অনুসারেই বন্ধ চা-বাগান থেকে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ হয়েছেন আশি জন যুবতী৷ বীরপাড়া থানাতে ঐ যুবতীদের পরিবারের পক্ষ থেকেও নিখোঁজ হওয়ার লিখিত অভিযোগ জমা করা হয়েছে৷ বাগানের শ্রমিক মলিনা ছেত্রী জানালেন 'সব থেকে খারাপ দশা নিচু লাইনের৷ ওখান থেকেই বেশির ভাগ যুবতী হারিয়ে গেছে৷ কারণ ঐ এলাকাটি বাগান থেকে বেশ খানিকটা দূরে৷ তাই ওখানে নারী পাচারকারীদের রমরমা অনেক বেশি৷ দু'মাস আগে হারিয়ে যাওয়া একটি মেয়ে মুম্বই থেকে আমার মোবাইলে ফোন করেছিল৷ জানিয়েছিল ঐ অন্ধকার গলিতে আর থাকতে চায়না সে, উদ্ধার করবার জন্যে আকুতিও করেছিল৷ কিন্ত্ত আমরা তো অসহায়৷ ওকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি৷' রাজু থাপা, বাগানের কারখানা দেখভালের একমাত্র রক্ষী৷ জানালেন 'একাই রক্ষা করার চেষ্টা করছিলাম এতদিন৷ কিন্ত্ত আর পারছি না৷ আমাদের দিকে কেউ তাকায় না৷ পেট বড় বালাই৷ তাই কারখানার চাবি বীরপাড়া থানায় জমা করে এসেছি৷ এবার পাথর ভাঙতে হবে৷'
আরেক শ্রমিক সবিতা গোপ জানান 'ভুটান পাহাড়ের ঐ জল শুকিয়ে গেলে আমাদের কি অবস্থা হবে বলুন তো? সকাল থেকে জল জোগাড় করতেই বেলা গড়িয়ে যায়৷ এত অভাবের সাথে আর লড়াই করতে পারছি না৷ তাই ভোটে আমাদের কোন আগ্রহ নেই৷' ইতিমধ্যেই অনেকেই কাজের খোঁজে পাড়ি দিয়েছে ভিনরাজ্যে৷ বৃদ্ধ ফিলিপ ওঁরাও জানালেন 'আমার ছেলে পাতরাশ সাত মাস আগে কেরালায় চলে গিয়েছে৷ তারপর থেকে আজ পর্যন্ত তার কোনও খবর নেই৷ ছেলেটা বেঁচে আছে কিনা তাও বুঝতে পারছি না৷ শোকে আমার স্ত্রী ফুলমনি বিছানা নিয়েছে৷' এই পরিস্থিতিতে একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ তৈরী করে ভোট বয়কটের রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বন্ধ বাগানের শ্রমিকরা৷ তাঁদের দাবি এখন একটাই - যে ভাবেই হোক বাগান ফের খোলার চেষ্টা করুক রাজ্য সরকার৷
আলিপুরদুয়ার : দু'টোই বন্ধ চা বাগান৷ দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার৷ অথচ ঢেকলাপাড়ার পাশে যে ভাবে দাঁড়িয়েছে রাজ্য সরকার, বান্দাপানির ভাগ্যে সেই শিকে ছেঁড়েনি৷ তার সিকি ভাগ সহায়তাও পৌঁছয়নি৷ ফলে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন এখানকার বাসিন্দারা৷ গত ন'মাসে আট জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বাগানে৷ আর তাই ভোটের মুখে তিতিবিরক্ত, হতাশ বাসিন্দারা৷ ভোট না-দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা৷ জলপাইগুড়ির জেলাশাসককে তাঁদের বক্তব্য লিখিত ভাবে জানিয়েও দিয়েছেন বান্দাপানির শ্রমিকরা৷ জেলাশাসক পৃথা সরকারের দাবি 'আমরা ওঁদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেছি৷ সরকারি আইনের বেড়াজালে বাগানটা বন্ধ হওয়ার একবছর না-হওয়া পর্যন্ত কোনও রকম সহায়তা দেওয়া যাচ্ছে না৷ তবে আমরা নিয়মিত ভাবে রেশন চালু রেখেছি৷'
স্থানীয় সূত্রের খবর, শ্রমিক অসন্তোষের কারণ দেখিয়ে ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই বান্দাপানি বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন মালিকপক্ষ৷ জেলা প্রশাসনের তরফে বেশ কয়েকবার সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করা হলেও বারবার মালিক পক্ষের অনুপস্থিতিতে ভেস্তে যায় সেই উদ্যোগ৷ তারপর থেকেই কর্মহীন হয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে প্রায় তেরোশো শ্রমিককে৷ পড়ে থাকতে থাকতে চুরি হতে শুরু করেছে কারখানার দামি যন্ত্রাংশ৷ পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হতে শুরু করেছে চা গাছ৷ বাগানে বিদ্যুত্ নেই৷ পানীয় জলের তীব্র হাহাকার৷ ভুটান পাহাড় থেকে আসা ঝরনার জলেই পিপাসা মেটে এখানকার বাসিন্দাদের৷ বাগানের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রেতি নদীর পাথর খাদানে কাজ করেই কোনওক্রমে পেট চালাতে হয় শ্রমিকদের৷ কোনও রাজনৈতিক দলের শুকনো প্রতিশ্রুতিটুকুও এসে পৌঁছয়নি তাঁদের কাছে৷ ফলে হতাশ শ্রমিকরা লোকসভা ভোটে মতদান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন৷ তাঁদের অভিযোগ, এতদিন ধরে বাগান বন্ধ থাকলেও কোন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পা পড়েনি বান্দাপানিতে৷ সরকারের তরফে শুধু রেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ শ্রমিক পরিবারের ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে পেটের দায়ে যোগ দিয়েছে পাথর খাদানে৷ সরকারি নথি অনুসারেই বন্ধ চা-বাগান থেকে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ হয়েছেন আশি জন যুবতী৷ বীরপাড়া থানাতে ঐ যুবতীদের পরিবারের পক্ষ থেকেও নিখোঁজ হওয়ার লিখিত অভিযোগ জমা করা হয়েছে৷ বাগানের শ্রমিক মলিনা ছেত্রী জানালেন 'সব থেকে খারাপ দশা নিচু লাইনের৷ ওখান থেকেই বেশির ভাগ যুবতী হারিয়ে গেছে৷ কারণ ঐ এলাকাটি বাগান থেকে বেশ খানিকটা দূরে৷ তাই ওখানে নারী পাচারকারীদের রমরমা অনেক বেশি৷ দু'মাস আগে হারিয়ে যাওয়া একটি মেয়ে মুম্বই থেকে আমার মোবাইলে ফোন করেছিল৷ জানিয়েছিল ঐ অন্ধকার গলিতে আর থাকতে চায়না সে, উদ্ধার করবার জন্যে আকুতিও করেছিল৷ কিন্ত্ত আমরা তো অসহায়৷ ওকে ফিরিয়ে আনতে পারিনি৷' রাজু থাপা, বাগানের কারখানা দেখভালের একমাত্র রক্ষী৷ জানালেন 'একাই রক্ষা করার চেষ্টা করছিলাম এতদিন৷ কিন্ত্ত আর পারছি না৷ আমাদের দিকে কেউ তাকায় না৷ পেট বড় বালাই৷ তাই কারখানার চাবি বীরপাড়া থানায় জমা করে এসেছি৷ এবার পাথর ভাঙতে হবে৷'
আরেক শ্রমিক সবিতা গোপ জানান 'ভুটান পাহাড়ের ঐ জল শুকিয়ে গেলে আমাদের কি অবস্থা হবে বলুন তো? সকাল থেকে জল জোগাড় করতেই বেলা গড়িয়ে যায়৷ এত অভাবের সাথে আর লড়াই করতে পারছি না৷ তাই ভোটে আমাদের কোন আগ্রহ নেই৷' ইতিমধ্যেই অনেকেই কাজের খোঁজে পাড়ি দিয়েছে ভিনরাজ্যে৷ বৃদ্ধ ফিলিপ ওঁরাও জানালেন 'আমার ছেলে পাতরাশ সাত মাস আগে কেরালায় চলে গিয়েছে৷ তারপর থেকে আজ পর্যন্ত তার কোনও খবর নেই৷ ছেলেটা বেঁচে আছে কিনা তাও বুঝতে পারছি না৷ শোকে আমার স্ত্রী ফুলমনি বিছানা নিয়েছে৷' এই পরিস্থিতিতে একটি অরাজনৈতিক মঞ্চ তৈরী করে ভোট বয়কটের রাস্তায় হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বন্ধ বাগানের শ্রমিকরা৷ তাঁদের দাবি এখন একটাই - যে ভাবেই হোক বাগান ফের খোলার চেষ্টা করুক রাজ্য সরকার৷
No comments:
Post a Comment