Friday, April 11, 2014

মোদী-ম্যাজিক নিষ্ক্রিয় করতে বণিকমন জয়ে উদ্যোগী অমিত

মোদী-ম্যাজিক নিষ্ক্রিয় করতে বণিকমন জয়ে উদ্যোগী অমিত

AMIT
এই সময়: ভোটের আগে জেলা শহরগুলিতে বণিককুলের মন বুঝতে মাঠে নেমেছেন রাজ্যের অর্থ তথা শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী অমিত মিত্র৷ বড় মাঝারি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিদের মনে নরেন্দ্র মোদীর প্রতি ঝোঁক কমাতে বিভিন্ন জেলার বণিকসভায় ঘুরে মত বিনিময় করছেন অমিতবাবু৷ এই ইন্ট্যারঅ্যাকটিভ সেশনের স্থান বাছাই থেকেই স্পষ্ট, যে সমস্ত এলাকায় বিজেপি শাসকদলের বাড়া ভাতে ছাই দিতে পারে, বেছে বেছে সেখানেই যাচ্ছেন তিনি৷ বাণিজ্য প্রধান শিলিগুড়িই হোক বা বর্ধমানের শিল্পনগরী রানিগঞ্জ, অমিতবাবুর জেলা সফরে সর্বত্রই ব্যবসায়ীরা সাদর অভ্যর্থনা পাচ্ছেন৷ মত বিনিময়ের সময় সরাসরি রাজনীতির প্রসঙ্গ না-এনে চেম্বারের প্রতিনিধিদের অভাব-অভিযোগ শুনছেন তিনি৷ সরকারের 'বাণিজ্য-বান্ধব' ভাবমূর্তি তুলে ধরে সম্পর্ক নিবিড় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ আলোচনার বিষয়বস্ত্ত, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্যের প্রাপ্তি এবং এ রাজ্যে বাণিজ্যের ভবিষ্যত্‍৷'

বৃহস্পতিবার রানিগঞ্জে তিনি কড়া সমালোচনা করেন বিগত বামফ্রন্ট সরকারের৷ একইসঙ্গে তুলোধোনা করেন কেন্দ্রকেও৷ রানিগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত 'রাজ্যের উন্নয়ন ও বৃদ্ধি-- বর্তমান ও ভবিষ্যত্‍' শীর্ষক আলোচনাসভায় রীতিমতো পরিসংখ্যান পেশ করে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নেতৃত্বে দেশে সার্বিক ভাবে যে বৃদ্ধি হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তার চেয়ে অনেক এগিয়ে রাজ্য৷ অমিতবাবুর বক্তব্য, কেন্দ্রের উত্‍পাদন বৃদ্ধির হার যেখানে ৪.৬ শতাংশ, সেখানে রাজ্যের ক্ষেত্রে এই হার ৬.২৮৷ একই ভাবে শিল্প, বিদ্যুত্‍, পরিষেবার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রেও রাজ্য এগিয়ে বলে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী৷

তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের থেকে সেস বাবদ প্রতি মাসে রাজ্যের পাওনা ১৮০০ কোটি টাকা৷ অথচ, কেন্দ্র দিচ্ছে ১,৩০০ কোটি টাকা৷ অর্থাত্‍, প্রতি মাসে রাজ্যের ৫০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে৷ তিনি বলেন, 'শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রাজ্য সরকার অবশ্যই দেখবে৷ প্রতিদানে শিল্পমহলও আরও বেশি করে সাহায্যের হাত বাড়াবে বলে আমরা আশা করি৷'

সরাসরি প্রচারে না-থাকলেও, লোকসভা ভোটে এ ভাবেই দলের হয়ে সমান্তরাল ভূমিকা পালন করে চলেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী৷ দলের অন্য মন্ত্রী-বিধায়করা নির্দিষ্ট এলাকায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের জন্য প্রচারে তুমুল ব্যস্ত৷ অমিতবাবুকে কিন্ত্ত এই রুটিন প্রচার থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দলের এক সাংসদের কথায়, 'অমিতদা যে কাজে স্বচ্ছন্দ্য বোধ করেন, ঠিক সে কাজটাই করছেন৷' ওই নেতার বক্তব্য, 'দার্জিলিংয়ে ভাইচুংয়ের ভালো ফল নিয়ে আমরা আশাবাদী৷ কিন্ত্ত শিলিগুড়ির মতো বিজনেস হাবে বড় ব্যবসায়ীদের কাছে টানার মরিয়া চেষ্টা করছে বিজেপি৷ বিশেষ করে ওরা টার্গেট করেছে অবাঙালি ব্যবসায়ীদের৷ আসানসোল-দুর্গাপুরেও ওরা সে চেষ্টাই করছে৷'

আপাতত একের পর এক জেলার শিল্পমহলের কথা শুনছেন অমিতবাবু৷ সেই প্রক্রিয়াতেই বৃহস্পতিবার শিল্পনগরী রানিগঞ্জকে বেছে নিয়েছিলেন৷ বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া এবং হুগলির ব্যবসায়ী-সমিতিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এদিনের আলোচনায়৷ দলের প্রতিনিধিই জানিয়েছেন, আমন্ত্রিতদের মধ্যে বড় বিনিয়োগকারী থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র-ব্যবসায়ীরাও থাকছেন৷ বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে সাউথ বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের ভূমিকাই ছিল মুখ্য৷ তবে আয়োজনের দায়িত্বে ছিল রায়গঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স৷

শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে জেলা শহরের বিজনেস চেম্বারে বৈঠক করা নতুন কিছু নয়৷ তবে এ বার রাজ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত নিয়ে দল এতটাই চিন্তিত যে, রাজ্যের বণিককূলকে হাতে রাখা একান্ত প্রয়োজন হয়ে পড়েছে৷ সরকারের পৌনে তিন বছরে এ রাজ্যে বিনিয়োগের বহু প্রতিশ্রুতি এলেও, মমতার ঘোষিত শিল্প-বিপ্লব এখনও দূর অস্ত৷ তা ছাড়া কর ব্যবস্থা, জমির মতো বিষয় নিয়েও বড় ও মাঝারি উদ্যোগপতিদের মনে নানা প্রশ্ন আছে৷ দলের আশঙ্কা, গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর বাণিজ্য-বান্ধব ইমেজ এখানকার ব্যবসায়ীদের একাংশের মন গলিয়ে দিতে পারে৷ তাই মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে জেলায় জেলায় 'লক্ষ্মী' সামলানোর কাজে নামিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

No comments:

Post a Comment