মেট্রো নিয়ে মমতার ঘোষণা ব্যুমেরাং তৃণমূলের কাছে
অতনু দাস
বারাসত: শুধু নারী সুরক্ষাই নয়, বারাসতে লোকসভা ভোটে জমি আন্দোলনও গলার কাঁটা শাসকদলের৷ ঘটনা হল, 'উন্নয়নের জন্য উচ্ছেদ নয়', তৃণমূলের পুরোনো এই স্লোগানকে হাতিয়ার করেই তাদের একযোগে বিঁধছে বাম-বিজেপি-কংগ্রেস৷
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন এ রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্তিত্বকে পুর্নজীবন দিয়েছিল৷ আর এ বারের ভোটে সেই জমি আন্দোলনই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে তাঁর দলের কাছে৷ বারাসতে তো বটেই৷ সৌজন্যে, রেলমন্ত্রী হিসেবে মমতার ঘোষণা করা মেট্রো রেল সম্প্রসারণ প্রকল্প৷ প্রকল্পের জেরে উচ্ছেদ হওয়া এবং হতে চলা মানুষরা একজোট হয়েছিলেন আগেই৷ ভোটের মুখে তাঁদের একাধিক মঞ্চ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্ত্ততি নিতে শুরু করেছে৷ বাম-বিজেপি তো বটেই, সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারে এসে সেই আগুনে ঘি ঢেলে রেল প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরী জানিয়ে গিয়েছেন, 'আপনারা আমাদের ভোট দিন বা না-দিন, বারাসতে মেট্রো রেল হবে না৷' আর তার কারণ হিসেবে একদিকে তিনি জমি অধিগ্রহণে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা আর অন্য দিকে পুনর্বাসন প্যাকেজ ধার্য না-করে প্রকল্প সম্প্রসারণের তড়িঘড়ি ঘোষণার জন্য মমতাকেই দায়ী করে যান৷ আর তার পর থেকেই দুশ্চিন্তার মেঘ শাসক শিবিরে৷
বিধানসভা ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে বারাসতের সুভাষ ময়দানে বিশাল জনসভায় দমদম থেকে বারাসত পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন তত্কালীন রেলমন্ত্রী মমতা৷ স্বভাবতই ভোটের মুখে এমন ঘোষণায় মন গলেছিল বারাসতের৷ রেলমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিমতো কাজও শুরু হয়েছিল একটা সময়৷ সরকারে এসে তৃণমূল সরকারের ঘোষণা ছিল, সরকারি কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণেও যথাযথ পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়৷ অথচ, মেট্রো রেল সম্প্রসারণের জন্য বারাসতের রেললাইনের ধার বরাবর উচ্ছেদ হয়ে যায় শ'দুয়েক দোকানপাট-ঘরবাড়ি৷ তৈরি হয় জীবিকা-বাসস্থান রক্ষা কমিটি৷ উচ্ছেদের খাঁড়া ঝুলতে থাকায় বাস্ত্তজমি রক্ষা কমিটি তৈরি করে বারাসত কারশেড এলাকার শ'তিনেক দোকান-ঘরবাড়ির বাসিন্দারাও৷ কমিটির আহ্বায়ক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রকল্পের রুট বদলানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে৷ কিন্ত্ত সেটা রেল না-মেনে তাঁদের জমি দখল করতে এলে তা যে কোনও মূল্যে রুখবেন৷
প্রকল্পের মানচিত্রে চলে আসায় উচ্ছেদের খাঁড়া ঝুলতে থাকে নিউ ব্যারাকপুরের বিটি কলেজ থেকে নোয়াই খাল পর্যন্ত এলাকার শ'তিনেক বাড়ি ও দোকানের উপর৷ তৈরি হয় নিউ ব্যারাকপুর ভিটেরক্ষা কমিটি৷ তত দিনে অবশ্য বারাসত স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় খোঁড়াখুড়ির কাজ শুরু করেও টাকা না-পাওয়ার অজুহাতে পাততাড়ি গুটিয়েছে বরাত পাওয়া বহুজাতিক সংস্থা৷ ভিটেরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সুভাষ হালদারের কথায়, 'আমরা মেট্রোর বিপক্ষে নই৷ রেল দপ্তরের কাছে নোয়াই খালের উপর পিলার পুঁতে লাইন পাতার আর্জি জানিয়েছিলাম৷ সেচ দপ্তর সেই অনুমোদন না-দেওয়ায় কাজ বন্ধ হয়েছে৷' মেট্রোর সম্প্রসারণ হলে শুধু বারাসত আর নিউ ব্যারাকপুরই নয়, মধ্যমগ্রামেরও প্রায় একশো ফ্ল্যাটবাড়ি চলে আসবে সেই প্রকল্পের আওতায়৷ সেখানকার আবাসিকদের দাবি অবশ্য যথাযথ পুনর্বাসন৷
জমি আন্দোলন ঘনিয়ে ওঠায় জেলাশাসকের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে পুনর্বাসনের প্যাকেজ চেয়ে সরব হয়েছিল দুই বাম শরিক সিপিএম ও ফরওয়ার্ড ব্লক৷ সিপিএম নেতা দেবব্রত বসুর দাবি, 'পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না৷' একই সুরে এখন কথা বলছে বিজেপিও৷ প্রকাশ্যে না-বললেও এই ঘটনায় স্বভাতই চাপে শাসকদল৷ যদিও, বারাসতের বর্তমান তৃণমূল প্রার্থীর পাল্টা অভিযোগ, মানুষ পুনর্বাসন মেনে নিলেও সিপিএম এবং কংগ্রেস যৌথ ভাবে তাঁদের ভুল বুঝিয়েছে৷
কিন্ত্ত, এমন 'ভুল বোঝানো' বারাসত কেন্দ্রে বড় ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে না তো তৃণমূলকে? উত্তর মিলবে ১৬ মে৷
বারাসত: শুধু নারী সুরক্ষাই নয়, বারাসতে লোকসভা ভোটে জমি আন্দোলনও গলার কাঁটা শাসকদলের৷ ঘটনা হল, 'উন্নয়নের জন্য উচ্ছেদ নয়', তৃণমূলের পুরোনো এই স্লোগানকে হাতিয়ার করেই তাদের একযোগে বিঁধছে বাম-বিজেপি-কংগ্রেস৷
সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলন এ রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্তিত্বকে পুর্নজীবন দিয়েছিল৷ আর এ বারের ভোটে সেই জমি আন্দোলনই ব্যুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে তাঁর দলের কাছে৷ বারাসতে তো বটেই৷ সৌজন্যে, রেলমন্ত্রী হিসেবে মমতার ঘোষণা করা মেট্রো রেল সম্প্রসারণ প্রকল্প৷ প্রকল্পের জেরে উচ্ছেদ হওয়া এবং হতে চলা মানুষরা একজোট হয়েছিলেন আগেই৷ ভোটের মুখে তাঁদের একাধিক মঞ্চ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্ত্ততি নিতে শুরু করেছে৷ বাম-বিজেপি তো বটেই, সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারে এসে সেই আগুনে ঘি ঢেলে রেল প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরী জানিয়ে গিয়েছেন, 'আপনারা আমাদের ভোট দিন বা না-দিন, বারাসতে মেট্রো রেল হবে না৷' আর তার কারণ হিসেবে একদিকে তিনি জমি অধিগ্রহণে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা আর অন্য দিকে পুনর্বাসন প্যাকেজ ধার্য না-করে প্রকল্প সম্প্রসারণের তড়িঘড়ি ঘোষণার জন্য মমতাকেই দায়ী করে যান৷ আর তার পর থেকেই দুশ্চিন্তার মেঘ শাসক শিবিরে৷
বিধানসভা ভোটের মাত্র কয়েক মাস আগে বারাসতের সুভাষ ময়দানে বিশাল জনসভায় দমদম থেকে বারাসত পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণের প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন তত্কালীন রেলমন্ত্রী মমতা৷ স্বভাবতই ভোটের মুখে এমন ঘোষণায় মন গলেছিল বারাসতের৷ রেলমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিমতো কাজও শুরু হয়েছিল একটা সময়৷ সরকারে এসে তৃণমূল সরকারের ঘোষণা ছিল, সরকারি কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণেও যথাযথ পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়৷ অথচ, মেট্রো রেল সম্প্রসারণের জন্য বারাসতের রেললাইনের ধার বরাবর উচ্ছেদ হয়ে যায় শ'দুয়েক দোকানপাট-ঘরবাড়ি৷ তৈরি হয় জীবিকা-বাসস্থান রক্ষা কমিটি৷ উচ্ছেদের খাঁড়া ঝুলতে থাকায় বাস্ত্তজমি রক্ষা কমিটি তৈরি করে বারাসত কারশেড এলাকার শ'তিনেক দোকান-ঘরবাড়ির বাসিন্দারাও৷ কমিটির আহ্বায়ক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রকল্পের রুট বদলানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে৷ কিন্ত্ত সেটা রেল না-মেনে তাঁদের জমি দখল করতে এলে তা যে কোনও মূল্যে রুখবেন৷
প্রকল্পের মানচিত্রে চলে আসায় উচ্ছেদের খাঁড়া ঝুলতে থাকে নিউ ব্যারাকপুরের বিটি কলেজ থেকে নোয়াই খাল পর্যন্ত এলাকার শ'তিনেক বাড়ি ও দোকানের উপর৷ তৈরি হয় নিউ ব্যারাকপুর ভিটেরক্ষা কমিটি৷ তত দিনে অবশ্য বারাসত স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় খোঁড়াখুড়ির কাজ শুরু করেও টাকা না-পাওয়ার অজুহাতে পাততাড়ি গুটিয়েছে বরাত পাওয়া বহুজাতিক সংস্থা৷ ভিটেরক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সুভাষ হালদারের কথায়, 'আমরা মেট্রোর বিপক্ষে নই৷ রেল দপ্তরের কাছে নোয়াই খালের উপর পিলার পুঁতে লাইন পাতার আর্জি জানিয়েছিলাম৷ সেচ দপ্তর সেই অনুমোদন না-দেওয়ায় কাজ বন্ধ হয়েছে৷' মেট্রোর সম্প্রসারণ হলে শুধু বারাসত আর নিউ ব্যারাকপুরই নয়, মধ্যমগ্রামেরও প্রায় একশো ফ্ল্যাটবাড়ি চলে আসবে সেই প্রকল্পের আওতায়৷ সেখানকার আবাসিকদের দাবি অবশ্য যথাযথ পুনর্বাসন৷
জমি আন্দোলন ঘনিয়ে ওঠায় জেলাশাসকের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে পুনর্বাসনের প্যাকেজ চেয়ে সরব হয়েছিল দুই বাম শরিক সিপিএম ও ফরওয়ার্ড ব্লক৷ সিপিএম নেতা দেবব্রত বসুর দাবি, 'পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ করা যাবে না৷' একই সুরে এখন কথা বলছে বিজেপিও৷ প্রকাশ্যে না-বললেও এই ঘটনায় স্বভাতই চাপে শাসকদল৷ যদিও, বারাসতের বর্তমান তৃণমূল প্রার্থীর পাল্টা অভিযোগ, মানুষ পুনর্বাসন মেনে নিলেও সিপিএম এবং কংগ্রেস যৌথ ভাবে তাঁদের ভুল বুঝিয়েছে৷
কিন্ত্ত, এমন 'ভুল বোঝানো' বারাসত কেন্দ্রে বড় ক্ষতির মুখে ঠেলে দেবে না তো তৃণমূলকে? উত্তর মিলবে ১৬ মে৷
http://eisamay.indiatimes.com/state/mamata-barasat-metro-extention/articleshow/33569605.cms
No comments:
Post a Comment