Friday, April 11, 2014

অভিষেকের দাপট হুডখোলা গাড়িতে, রিঙ্কু সওয়ার ট্রেনে

অভিষেকের দাপট হুডখোলা গাড়িতে, রিঙ্কু সওয়ার ট্রেনে

abhisek
শুভেন্দু মণ্ডল

ডায়মন্ড হারবার: দু'জনেই ভোটের নতুন মুখ৷ প্রথম জন মথুরাপুর কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী রিঙ্কু নস্কর৷ দ্বিতীয় জন ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো ভোটারদের কাছে পৌঁছতে ব্যবহার করছেন হুডখোলা গাড়ি৷ আর রিঙ্কু হাঁটছেন মাইলের পর মাইল৷ সওয়ার হচ্ছেন ট্রেনে৷

দুই প্রার্থীর প্রচার-কৌশলটা একেবারেই আলাদা৷ রিঙ্কুর কথাই ধরা যাক৷ অনেকটা পথ একেবারে পায়ে হেঁটে পাড়ি দিয়ে তিনি পৌঁছে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন৷ প্রচারে বেরিয়ে কখনও বাড়ির মেয়ের মতো ঢুকে পড়ছেন হেঁশেলে৷ কখনও আবার তিনি হানা দিচ্ছেন চায়ের ঠেকে, তাসের আড্ডায়৷ একহাত নিচ্ছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী, তৃণমূল সাংসদ চৌধুরী মোহন জাটুয়াকে৷ চৈত্রের প্রখর রোদকে উপেক্ষা করে মা শৈব্যা নস্করকে সঙ্গে নিয়ে সুন্দরবনের রায়দিঘি থেকে সাগরদ্বীপে ছুটে বেড়াচ্ছেন৷ মন দিয়ে শুনছেন মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা৷ বৃহস্পতিবারও সেই রুটিনে কোনও ছেদ পড়েনি৷ এদিন সকালে যেমন নামখানা স্টেশনে দেখা মিলল রিঙ্কুদেবীর৷ স্টেশনে অপেক্ষারত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে দিব্যি উঠে পড়লেন সকাল ৮টা ১০-এর আপ নামখানা লোকালে৷ প্রত্যেক স্টেশনে ট্রেন থামছে, আর একেবারে হকারি কায়দায় কম্পার্টমেন্ট বদল করে রিঙ্কু পৌঁছে যাচ্ছেন যাত্রীদের কাছে৷ দুই কলেজ-পড়ুয়া সাকিলা ও রিমা হঠাত্‍ প্রার্থীকে কাছে পেয়ে তাঁদের অভিমানের কথা জানালেন৷ 'দিদি, মাধবপুর স্টেশনে জাটুয়া ও তাঁর দলবল রেলের কাজকর্মের বিরোধিতা করায় নামখানা শাখায় ডাবল লাইনের কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ আপনি জিতে প্লিজ লাইনটা চালু করার ব্যবস্থা করুন৷' রিঙ্কু মৃদু হেসে আশ্বাস দিলেন, 'আমি জিতলে অবশ্যই এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব৷ তা না-হলে আপনাদের নিয়ে রেল দপ্তরের সামনে ধরনায় বসব৷ তার মধ্যেই ১০টা নাগাদ ট্রেন এসে থামল জয়নগর স্টেশনে৷ রিঙ্কুদেবী নেমে পড়লেন ট্রেন থেকে৷ আবার ১০টা ৪০ মিনিটের ডাউন শিয়ালদহ-নামখানা লোকালে চেপে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি ফিরে এলেন নামখানা স্টেশনে৷ এরই একফাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাতেও ছাড়লেন না তিনি৷ প্রেসিডেন্সির প্রাক্তনী রিঙ্কুদেবীর কথায়, 'তৃণমূল প্রার্থী গত পাঁচ বছর সাংসদ ছিলেন৷ কিন্ত্ত এলাকার জন্য তিনি কিছুই করেননি৷ নামখানা ডাবল লাইনের কাজও বন্ধ৷'

অভিষেক অবশ্য পায়ে হাঁটা বা ট্রেনে সওয়ার হওয়ার ধার ধারছেন না৷ তাঁর দাপট হুডখোলা জিপেই৷ ডায়মন্ড হারবার, বজবজ কিংবা মহেশতলা, মেঠো গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই তাঁকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে জিপে৷ গত সপ্তাহে বিষ্ণুপুর ২ নং ব্লকের রামকৃষ্ণ বোরহানপুর পঞ্চায়েতের প্রত্যন্ত গ্রামেও গিয়েছিলেন এ ভাবেই৷ বুধবার সাতসকালে মহেশতলার বাটানগর অঞ্চলে প্রধান প্রতিপক্ষ সিপিএমের আবুল হাসনাতকে তাচ্ছিল্য করার সময়েও অভিষেক জিপ-সওয়ারি৷ ঘটনা হল, সাধারণ মানুষ যে এটা খুব একটা ভালো ভাবে নিচ্ছেন না, তা ঠারেঠোরে টের পাচ্ছেন তৃণমূল নেতারাও৷ তৃণমূলের এক জেলা নেতার কথায়, 'আমরা চেয়েছিলাম, আর পাঁচজন প্রার্থীর মতো অভিষেকও পায়ে হেঁটে প্রচার করুন৷ কিন্ত্ত প্রার্থী তো গাড়ি থেকে নামতেই চাইছেন না৷ এ সব দেখে লোকেরা বলতে শুরু করেছে, ভোটের আগেই যদি প্রার্থীর পা মাটিতে না-পড়ে, তা হলে জেতার পর উনি আর এমুখো হবেন তো?'

জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি শক্তি মণ্ডল অবশ্য অভিষেকের 'জিপ-প্রিয়'তাকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনছেন না৷ তিনি বলছেন, 'এখন তো শুধু ছোট কর্মিসভা এবং রোড-শো চলছে৷ এখনও অনেক সময় আছে৷ ভবিষ্যতে প্রার্থী নিশ্চয় হেঁটে প্রচার সারবেন৷'
http://eisamay.indiatimes.com/election-news/rinku-naskar-abhishek-banerjee-campaigning-for-lok-sabha-election/articleshow/33569532.cms?

No comments:

Post a Comment