Sunday, April 27, 2014

নিউজ রুমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে এনামুল হক

নিউজ রুমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে
এনামুল হক
(গতকালে পর)
উদার অর্থনীতির আগের যুগে কর্পোরেটগুলো সরাসরি মিডিয়া গ্রুপগুলোর মালিক ছিল। তখনও নিউজ রুমকে অলঙ্ঘনীয় জ্ঞান করা হতো। আজ প্রত্যক্ষ মালিকানার জায়গায় এসেছে পরোক্ষ মালিকানা। যেমনটি আরআইএল মিডিয়া গ্রুপগুলোর শেয়ার সংগ্রহের মাধ্যমে করায়ত্ত করেছে। প্রত্যক্ষ মালিকানার চেয়ে পরোক্ষ মালিকানায় নিউজরুমের স্বাধীনতা বেশি থাকার কথা। কিন্তু তা না হয়ে উল্টোটি হয়েছে। নিউজরুমের স্বাধীনতা আজ সর্বক্ষণ হুমকির মুখে।
অজয় মহাপ্রশস্ত আরও লিখেছেন, আরআইএল আর্থিক সঙ্কট থেকে থেকে নেটওয়ার্ক ১৮ কে উদ্ধার করার পর এর সম্পাদকীয় নীতিতে দক্ষিণমুখী পরিবর্তন কিভাবে ঘটেছে সাংবাদিক রাহুল ভাটিয়া ‘ক্যারভান’ নামে একটি মাসিক পত্রিকার প্রচ্ছদ কাহিনীতে তা সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন। সেখানে এক জায়গায় ভাটিয়া লিখেছেন, তিনি (নেটওয়ার্ক ১৮র ওয়েব ও প্রিন্ট সংস্কারের প্রধান সম্পাদক আর. জগন্নাথন) এক শিট পত্রিকা নিয়ে নিউজরুমে প্রবেশ করলেন। পত্রিকার দিকে এক নজর বুলিয়ে গর্জে উঠলেন, ‘তোমরা ভুল করছ। ফরবিস পত্রিকা বিত্তশালীদের নিয়ে লিখে। দক্ষিণপন্থী রাজনীতির পক্ষে লিখে। তোমরা লিখছ উন্নয়ন ও দারিদ্র্য নিয়ে। তোমরা যদি ব্যাপারটা না বুঝে থাক তাহলে আমাকে নিশ্চিত করতে হবে যে তোমরা তা বুঝেছো।’ আরআইএলকে নেতিবাচকভাবে দেখা যেতে পারত এবং এর রাজনৈতিক মতলব দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করা যেতে পারত এমনসব গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন কিভাবে বাদ দেয়া হয়েছিল ভাটিয়া সে কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন।
অজয় মহাপ্রশস্তের নিবন্ধে সাম্প্রতিক আরও একটি ঘটনার কথা বলা হয়েছে। একটি ইংরেজী সংবাদ চ্যানেলের ডেপুটি এডিটর বেশ কয়েকটি টুইট পোস্ট করেন যেগুলোর মাধ্যমে তিনি আভাসে ইঙ্গিতে বলতে চেয়েছেন যে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কিছু বলা বা লিখা যাবে না এমন আদেশ আছে। টিভি-১৮র মারাঠি সংবাদ চ্যানেল আইবিএন লোকমাত এর সম্পাদক নিখিল ওয়াগলও একটা টুইট পোস্ট করেছেন। লিখেছেন : “এদেশে দুর্নীতিবাজ সাম্প্রদায়িক রাজনীতিক ও ক্রনি পুঁজিপতিদের বিপজ্জনক জোট গড়ে উঠেছে। মিডিয়ায় নাক গলাতে চান। তবে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব।” টিভি ১৮ গ্রুপের এই দক্ষিণমুখী পরিবর্তন সিএনএন-আইবিএন সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
২০১৩ সালের প্রথমদিকে নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে অনীল ও মুকেশ আম্বানি এক চুক্তি স্বাক্ষর করেন যার প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রবাসী। চুক্তি বলে আরআইএল এর টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিও তার ফোর জি সার্ভিসের প্রসার ঘটাতে অনিলের আর কম কোম্পানিকে দেশব্যাপী ১ লাখ ২০ হাজার কিলোমিটারের অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য ১২শ’ কোটি রুপী দেবে। চুক্তিটি পরে বাতিল হয়ে যায়। আরআইএল অভিযোগ করে যে অনীল ধীরুভাই আম্বানি গ্রুপ চুক্তিটি রক্ষা করেনি। তাই আরআইএল তার ইনফোটেল কোম্পানির মাধ্যমে নিজস্ব অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক বিস্তারে পরিকল্পনা নিয়েছে।
আরআইএলের এই উদ্যোগের ফলে ইন্টারনেট ও টিভির অনুষ্ঠানে প্রবাহসহ সকল স্যাটেলাইট সার্ভিস একই ছাদের আওতায় আসবে এবং একটি ব্যবসায় গোষ্ঠীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। এর ফলে এসব সার্ভিসের ওপর রিলায়েন্স গ্রুপের একাধিপত্যই যে শুধু প্রতিষ্ঠিত হবে তা-ই নয়, উপরন্তু এই গ্রুপটি বাড়িতে ও অফিসে তথ্যের প্রবাহও নির্ধারণ করতে পারবে। তবে সেটা নির্ভর করছে বিভিন্ন মিডিয়া গ্রুপে আরআইএল নিজের অবস্থান কতটা সুসংহত করে তুলতে পারছে তার ওপর।
হয়ত সত্যিই একদিন মিডিয়ায় একাধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ফেলবে রিলায়েন্স। কিন্তু উন্নয়নের যে ইতিহাস এই কনগ্লোমারেট প্রতিষ্ঠানটি পেছনে ফেলে এসেছে তাও কম সৃষ্টি করে না। এই শিল্পগোষ্ঠীটি সত্তরের দশকে বস্ত্র শিল্প দিয়ে যাত্রা শুরু করে ধীরে ধীরে অনান্য ক্ষেত্রেও সদাপটে উপস্থিত হয়। রিলায়েন্স গ্রুপ প্রধানত তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও আহরণ পেট্রোলিয়াম পরিশোধন ও বিপণন, পেট্রো-কেমিক্যাল শিল্প বস্ত্র শিল্প ও রিটেইল ব্যবসায় নিয়োজিত। এর প্রধান প্রতিষ্ঠান আরআইএল ভারতের মোট রফতানির ১৪ শতাংশ যোগায়।
রিলায়েন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ধীরুভাই আম্বনি। একটু একটু করে তিনি যে বিশাল কর্পোরেট সামাজ্য গড়ে তুলেছিলেন ২০০২ সালে ৬৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণের সময় সেটার অর্থ মূল্য ছিল ৭৫ হাজার কোটি ভারতীয় রুপী। আজ সেই সাম্রাজ্য পরিচালিত হচ্ছে তার দুই পুত্র মুকেশ ও অনীল ধীরুভাইয়ের হাত দিয়ে যদিও তারা পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে গেছেন।
ধীরুভাই তার এই সাম্রাজ্য কিভাবে গড়ে তুলেছিলেন সে ব্যাপারে নানা কাহিনী আছে। তবে একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে পুঁজিবাদের কর্মজ হাতে তিনি ছিলেন অসাধারণ এক কুশীলব। আউটলুক পত্রিকায় “দি এম্পায়ার বিল্ডার” শিরোনামে এক নিবন্ধে লীলা বাভাদাম লিখেছেন, অভিযোগ আছে যে তিনি সিস্টেমকে চাতুর্যের সঙ্গে কাজে লাগিয়েছিলেন। তবে বাস্তব সত্য হলো সিস্টেমটাই এমন যে তা ব্যবহৃত হবার জন্য উন্মুক্ত থাকে এবং ধীরুভাইও সেটাকে কাজে লাগানোর সুযোগ হারাননি। ব্যবসায় সাম্রাজ্য গড়ে তোলার জন্য তিনি রাষ্ট্র ক্ষমতার ধারকবাহকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলে তাদের আনুকূল্য আদায় করেছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনার নিয়মকানুন বা অন্যকথায় সরকার, আমলাতন্ত্র এমনকি মানবমন কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে তার সম্যক ধারণা ছিল এবং সেই জ্ঞানকে তিনি বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগিয়েছিলেন।
কর্মজীবনের প্রথমদিকে তিনি কিভাবে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক ক্ষমতাকে ম্যানেজ করেছিলেন সে সম্পর্কিত নানান কাহিনী আছে। অস্ট্রেলীয় সাংবাদিক হামিশ ম্যাকডোনাল্ড রচিত, “পলিয়েস্টার প্রিন্স” দি রাইজ অব ধীরুভাই আম্ব^ানি গ্রন্থে ধীরুভাইয়ের একটি উদ্ধৃতি আছে - “কক্ষপথ বদলে চলে ... কেউ স্থায়ী বন্ধু নয়, কেউই স্থায়ী শত্রু নয়...” আরেক জায়গায় তিনি বলেছেন, “আমি আইন ভাঙ্গি না, আইন বানাই”। লীলা বাভাদাম লিখেছেন যে এই সূত্রগুলোকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত লোকজনকে ম্যানেজ করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার এবং এই ক্ষমতাই ছিল তার সাফল্যের চাবিকাঠি।
ধীরুভাইয়ের পৈত্রিক নিবাস গুজরাটের সৌরাষ্ট্রের চরওয়াদ গ্রামে। বাবা ছিলেন সে গ্রামের স্কুলশিক্ষক। পরিবারের মেজ ছেলে ধীরুভাই স্কুলের লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে এডেনে চলে যান বড় ভাইয়ের কাছে। সেখানে তেল কোম্পানি “শেল”সহ বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেন। ৫০ বছর পর তিনি নিজেই হয়ে দাঁড়ান গুজরাটের জামগড়ে ভারতের বৃহত্তম তেল শোধানাগারের মালিক।
এডেনে ৮ বছর কাটানোর পর ধীরুভাই ভারতে ফিরে আসেন। ১৯৫৮ সালে তিনি এক চাচাত ভাইয়ের সঙ্গে পার্টনারশিপে সুতা ও মসলার ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম দেন রিলায়েন্স কমার্শিয়াল কর্পোরেশন। আস্তে আস্তে ব্যবসার প্রসার। কোম্পানি ক্রমশ “রিলায়েন্স” নামে পরিচিতি পেতে থাকে। ওদের তৈরি কাপড় “রেমল” ব্যাপক সাফল্য পায় যার পেছনে ধীরুভাইয়ের বিচক্ষণতা, বুদ্ধি ও ব্যবসায়িক কৌশলের বিশেষ অবদান ছিল। তাঁর ব্যবসায়িক বুদ্ধি কত প্রখর ছিল তার একটা ছোট দৃষ্টান্ত : তখন তিনি এডেনে। সময়টা পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিক। এ সময় একটা ঘটনা ঘটল। ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক লক্ষ্য করে যে দেশীয় মুদ্রার ক্ষেত্রে এক অদ্ভুত ব্যাপার ঘটছে। মুদ্রার প্রধান ইউনিট রিয়াল নামক রুপার কয়েন বাজার থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে। তদন্ত করতে গিয়ে এডেন বন্দরের দক্ষিণে কারণটা খুঁজে পাওয়া গেল। দেখা গেল ধীরুভাই নামে এক ভারতীয় কেরানি সবে বিশের কোটায় বয়স, খোলাবাজার থেকে যত পারা যায় রিয়াল জোগার করে নিয়েছে। ধীরুভাই লক্ষ্য করেছেন যে রিয়ালের রুপার উপাদনটুকুর মূল্য ব্রিটিশ পাউন্ড এবং অন্যান্য বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে রিয়ালের বিনিময় মূল্যের চেয়ে বেশি। তিনি রিয়াল কেনা শুরু করে দেন। সেগুলো গলিয়ে পিন্ড বা বাটে পরিণত করে লন্ডনের সোনা রুপার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। লাভ অল্প। কিন্তু এভাবেই তার ব্যবসা শুরু হয়। তিন মাস পর তিনি এ কারবার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন বটে। তবে তত দিনে তাঁর কয়েক লাখ রুপী কামাই হয়ে গেছে। এভাবেই ধীরুভাইয়ের সম্পদ গড়া শুরু।
ঐশ্বর্যের সিঁড়ি বেয়ে ধীরুভাইয়ের উত্থান উল্কার মতো। এডেনে নানা ধরনের ব্যবসায়িক কর্মকা-ের মাধ্যমে তিনি যে সম্পদ গড়েছিলেন তাঁর একটা বা অংশ স্বদেশে বিনিয়োগ করেন। এই অর্থই ছিল বীজ যা মহীরুহে পরিণত হয়। পরবর্তী দুই দশকে রিলায়েন্সের বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ৭০ কোটি রুপী। ১৯৯২ সাল নাগাদ টার্নওভার লাফ মেরে দাঁড়ায় ৩ হাজার কোটি রুপী এবং শতাব্দীর শেষ নাগাদ ৬০ হাজার কোটি রুপীতে পৌঁছায়। ২০০২ সালের ৬ জুলাই ধীরুভাই মারা যাওয়ার সময় তার সাম্রাজ্যের সম্পদের পরিমাণ ছিল ৭৫ হাজার কোটি রুপী। এই শিল্প ও ব্যবসায় গোটা ভারতে বিশ্বমানের কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। ভারত যে প্রবৃদ্ধির জন্য গর্ববোধ করছে তার পেছনে এই রিলায়েন্স গ্রুপের অবদান বিশাল।
১৯৮৬ সালটি ধীরুভাই ও তার কোম্পানির জন্য তেমন সুখকর ছিল না। তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল। তার থেকে তিনি ধীরে ধীরে সেরে উঠলেও সাম্রাজ্য চালানোর ভার দুই ছেলে মুকেশ ও অনীলের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মুকেশ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং অনীল হোয়ার্টন স্কুল অব বিজনেসে লেখাপড়া করা। পিতার জীবদ্দশায় দুই ভাই মিলেমিশেই কাজ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পরই আলাদা হয়ে যান। রিলায়েন্স ব্র্যান্ড নাম সম্পর্কে তীব্র রকম সচেতন থেকেই তারা এর ভাগ পাওয়ার জন্য প্রায় হাতাহাতি শুরু করে দেন। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ তাদের পরস্পরের মুখ দেখাদেখি বন্ধ হয়ে যায়। অনীলের ধারণা হয় যে বড়ভাই তাকে কোণঠাসা করে রেখেছেন। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাত্র প্রায় ১ ভাগ তার নিজের, স্ত্রী টিনা ও দুই ছেলের নামে। এই সামান্য অংশ জোর খাটানোর জন্য যথেষ্ট নয়।
ধীরুভাইয়ের মৃত্যুর পর পরই আরআইএলএর এক বোর্ড মিটিংয়ে ঠিক হয়েছিল যে কোম্পানির সর্বময় কর্তৃত্ব থাকবে মুকেশের হাতে এবং অনীল মূলত তার কাছে রিপোর্ট করেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে লড়াই বেধে যায়। ক্ষমতার এই পারিবারিক দ্বন্দ্বের ঢেউ কোম্পানির চৌহদ্দির বাইরে গিয়ে পড়ে। বাজারে ভীতি সঞ্চারিত হয়, শেয়ার হোল্ডাররা নার্ভাস হয়ে পড়ে। শেয়ারের দাম পড়ে যায়। দুই ভাইয়ের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যত সম্পর্কে টু শব্দটি না করায় এগুলোর কোনটাই এড়ানো সম্ভব হয়নি। মা কোকিলাবেহন ও অন্যরা দুই ভাইয়ের এই বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করে কোন লাভ হয়নি। লড়াই আরও এক বছর গড়ায়। ২০০৫ সালে তারা দুজনে সাম্রাজ্যকে ভাগ করতে সম্মত হন। মুকেশ রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবসা পেয়ে যান। অনীল পান রিলায়েন্স এনার্জি, রিলায়েন্স ইনফোকম ও রিলায়েন্স ক্যাপিটেল।
ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ আবার মাথাচাড়া দেয় ২০০৯ সালে এবার মুকেশের গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানির গ্যাস হ্রাসকৃত মূল্যে অনীলের বিদ্যুত কোম্পানির কাছে বিক্রি নিয়ে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মুরলি দিওরা দুই কোম্পানির মধ্যে এই সংক্রান্ত চুক্তি বাতিল করে দিয়ে বলেন, সরকারের গ্যাস নিয়ে কম দামে ব্যবসা করার অধিকার তাদের কাউকে দেয়া হয়নি। অনীলের অভিযোগ দিওরা আসলে মুকেশের পক্ষ নিয়েছেন যাতে সে বেশি মুনাফা করতে পারে। তিক্ততা এতদূর গড়ায় যে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিকে বলতে হয়েছিল যে জাতীয় স্বার্থেই তাদের এই বিরোধ মিটিয়ে ফেলা উচিত। শেষে সুপ্রীমকোর্টে এই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়। কোর্ট মুকেশের পক্ষে রায় দেয়। দুই ভাই প্রকাশ্য করমর্দন ও পরস্পরে শুভেচ্ছা কামনা কমলেও এই বিরোধের ধকল তাদের কোম্পানিগুলোর ওপর গিয়ে পড়ে। লোকে বলাবলি করতে থাকে তাদের বাবা বিনিয়োগকারীদের যে আস্থা অর্জন করেছিলেন, তা আর কোনদিন ফিরে আসবে না। কিন্তু সত্যিই কি তা হয়েছে? সম্ভবত নয়।
সূত্র : ইন্ডিয়া টু ডে

No comments:

Post a Comment