Wednesday, April 23, 2014

রাষ্ট্রের পুলিশ যখন দলীয় স্বার্থে

রাষ্ট্রের পুলিশ যখন দলীয় স্বার্থে

রাষ্ট্রের পুলিশ যখন দলীয় স্বার্থে

dis 1

বর্তমানে প্রতিটি মুহূর্ত সাধারণ মানুষ অতিবাহিত করছে গুমবিচার-বহির্ভূত হত্যা বা মিথ্যা মামলায় নির্যাতনে অজানা ভবিষ্যতের আশংকায়। তাও বলতে হবে আমরা ভাল আছিসরকার এবং এর আইনী বাহিনী সঠিক পথেই আছে এবং রাষ্ট্রে শান্তি বিরাজ করছে। রক্ষা পাওয়ার সুযোগ নেই। বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করার নামে সমাজের সচেতন নাগরিকদের একাংশের আশ্চর্যজনক নীরবতায় দেশি-বিদেশি শক্তির সহায়তায় চলমান গুমের মিছিলে যুক্ত হলো বাংলাদেশের পরিবেশ এবং প্রতিবেশ রক্ষার অন্যতম সৈনিক সৈয়দ রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক। ‘রিজওয়ানা’র অপরাধ হলোকেন রাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিক এবং তাদের জীবন রক্ষার জন্য ন্যূনতম পরিবেশ ওপর প্রতিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলেকেন লুটপাট তন্ত্রের সাথে গলা মেলায় না। আমাদের বুধবারের গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সংখ্যায় ‘‘গুমখুনহত্যানিখোঁজদু:শাসন চরমে” শীর্ষক লেখায় ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিচার-বহির্ভূত হত্যা এবং গুমের ব্যাপারে নীরব থেকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হতে দিলে ফ্রাংকেস্টাইনের হাতে যে কেউ নিরাপদ থাকবে না সে ব্যাপারে বলা হয়েছিল।
অথচ বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭৩১৩৩ এবং ৩৫ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন করে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃংখলা বাহিনী বিশেষকরে পুলিশ বাহিনী কর্তৃক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঠান্ডা মাথায় বিচার-বহির্ভূত হত্যাবিরোধী মতাবলম্বীদের পাইকারি হারে গুমরিমান্ডের নামে অমানুষিক নির্যাতনসুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই নাগরিকদের রাজনৈতিক সমাবেশ বা মিছিলে পুলিশের সরাসরি গুলিপাইকারি হারে গ্রেফতার এবং ঘুষ বাণিজ্যবাড়িঘর গুড়িয়ে দেয়া নিত্য নৈমিত্যিক ব্যাপার। বৈশ্বিক রুল অব ল (আইনের শাসনসূচক ২০১৪ মতেসার্বিকভাবে আইনের শাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন এবং বিশ্বব্যাপী ৯৯টি দেশের মধ্যে ৯২তম। সুনির্দিষ্টভাবে পুলিশ ও বিভিন্ন বাহিনীতে দুর্নীতি না থাকার ক্ষেত্রে (০ থেকে ১ এর মধ্যে)বাংলাদেশের স্কোর মাত্র ০.১৯ এবং নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তার অধিকারের ক্ষেত্রে স্কোর প্রায় একই (.২২),যা জাতি হিসাবে আমরা শংকিত না হওয়ার কোন উপায় নেই।
অধিকারের মানবাধিকার বিষয়ক ২০১৩ এর প্রতিবেদন মতে২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্তআইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে ১১১ জন গুমের শিকার হয় এবং ৪৪টি গুমের সাথে পুলিশ সরাসরি বা যৌথ বাহিনীর সাথে যুক্ত ছিল। বিএনপি’র দাবি মতেগত ৩ মাসে বিরোধী দলের ৬১জন এবং শুধুমাত্র রাজধানী থেকে ২২ জন দলীয় নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন। অধিকার এর তথ্য মতেসরকারের পুলিশ বাহিনীর হাতেই শুধু জানুয়ারি ২০১৪ এ গড়ে প্রতিদিন একজন বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়। সবচেয়ে আশংকাজনক হলো২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আইন-শৃংখলা বাহিনীর হাতে ৭৬৪ জন (গড়ে প্রতি বছর ১৫২ জনবিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়। জনগণের জীবন এবং সম্পদের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব যাদের ওপরসেই পুলিশ বাহিনীর হাতেই ৪৮১ জন (সরাসরি ৩২৯ জন এবং অন্যান্য বাহিনীর সাথে যৌথভাবে ১৫২ জনবিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে২০১৩ সনের ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ এবং অন্যান্য বাহিনী কর্তৃক কমপক্ষে ১৫০ জন রাজনৈতিক প্রতিবাদকারীকে গুলি করে হত্যা ও কমপক্ষে ২,০০০ জনকে আহত করে।
 dis 1-2
সূত্রমানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১৩অধিকার
২০০৯ এর ১৭ নভেম্বর হাইকোর্ট সব ধরনের বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ড বন্ধে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেয় এবং পূর্ণ পেশাদারিত্ব নিয়ে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সকল বাহিনীকে দায়িত্ব পালনের আদেশ দেয়। অথচ বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডের পক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা কখনোই বিচার-বহির্ভূত হত্যাকান্ডে বিশ্বাস করি না। কিন্তু আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী একতরফাভাবে গুলি খাবেপ্রাণ হারাবে তা তো হতে পারে না” (২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৯যুক্তরাষ্ট্র)। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০০৮দিনবদলের সনদ (প্যারা ৫.উল্লেখ করা হয় যে, “জনজীবনে নিরাপত্তা বিধানে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহকে রাজনীতির প্রভাবমুক্তআধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। তাদের বেতন-ভাতাআবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে”। এ হলো জনগণকে নিরাপত্তা প্রদানের ব্যবস্থা। ক্ষমতার স্বার্থে পুলিশের হাতে যেকোন নাগরিকের মৃত্যু পরোয়ানা জারি করছে সরকার। সরকার পুলিশকে শক্তিশালী করতে বাহ্যিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও বাস্তবে তাদের দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করেছে;কার্যকর জবাবদিহিতার অভাবে প্রত্যেকটি থানা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ অর্থ উপার্জনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
টিআইবি’র জাতীয় খানা জরিপ ২০১২ অুনসারে৭৫.সেবা গ্রহণকারী খানা পুলিশের কোন না কোন দুর্নীর্তির শিকার হয় এবং প্রায় ৬৭সেবা গ্রহণকারী খানাকে গড়ে ৭০৮০ টাকা বা জাতীয়ভাবে প্রত্যেক খানাকে গড়ে ৪,৫৬২ টাকা ঘুষ প্রদান করতে হয়। প্রায় ১৪.%খানা মিথ্যা মামলায় জড়ানো এবং ১৪.খানা চাঁদাবজির শিকার। রাস্তায় পুলিশের ব্যাপক চাঁদাবাজির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। ২০০৯ এর জানুয়ারি থেকে ২০১০ এর জানুয়ারি পর্যন্ত আওয়ামী লীগছাত্রলীগযুবলীগস্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে মোট প্রায় ৩৯১ কোটি ৬৩ লাখ টাকার টেন্ডার দখল করার অভিযোগ উত্থাপিত হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়নি। অধিকারের তথ্য মতে২০০৯-২০১৩ সময়ে তদন্তের নামে রিমান্ডে নিয়ে অবৈধ অর্থ প্রদানের চাপ দিতে নির্যাতনের ফলে ৬৪ জন পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু বরণ করে। যার কোন সঠিক তদন্ত কোনদিন হয়নি। এমনকি ২০১৩ সালে পুলিশের অপরাধ বিষয়ক বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়৭৭ শতাংশ অপরাধীর বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।
বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় এবং পুলিশকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহারের ফলে বাহিনীর সদস্যরা আরো বেপরোয়া হয়ে প্রাতিষ্ঠানিক চেইন-অব-কমান্ড ভেঙে জবাবদিহিতার বাইরেও জননিরাপত্তাকে চরমভাবে হুমকির সম্মুখীন করছে। বাংলাদেশ পুলিশের প্রদত্ত তথ্য মতে২০০২ এর তুলনায় ২০১২ সালে তালিকাভুক্ত অপরাধের সংখ্যা প্রায় ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী২০১২ সালে নথিবদ্ধ অপরাধের ঘটনা ছিল ১,৮৩,৪০৭টিযেখানে এই সংখ্যা ২০০৭ সালে ছিল ১,৫৭,২০০ এবং ২০০২ থেকে ২০১২ সালের মধ্য গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৩৪০০ জন মানুষ হত্যাকান্ডের শিকার। বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান এ আচরণ একদিনে হয়নি। জানা মতে১৯৭৯ সালে ত্রিশাল থানা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে হাসপাতাল উদ্বোধনের পর সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশী নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। অথচ সেই পুলিশই ঐ কর্মকর্তার বাসায় ডাকাতি করে ওসি’র সহায়তায় চুরির মামলা দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করলে কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের চাপে ডাকাতির মামলায় ওসিসহ ৭ জন পুলিশ সদস্য আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়। অথচ বাংলাদেশ পুলিশের ভিশন হিসাবে বলা হয়েছে,‘‘যোগ্যদক্ষ এবং প্রতিশ্রুতিশীল পেশাজীবিদের নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে উন্নত সেবা প্রদান করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত এবং নিরাপদ বাসস্থানে পরিণত করে নাগরিকদের আস্থা এবং এবং সম্মান অর্জন।”
শুধু তাই নয়বাংলাদেশ পুলিশের মিশন হিসাবে উল্লেখ করেছে, ‘‘বাংলাদেশ পুলিশ আইনের প্রয়োগসামাজিক শৃংখলা বজায় রাখাঅপরাধ প্রবণতা কমানোজন নিরাপত্তা এবং কম্যুনিটির কার্যকর সহায়তায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা”। সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে ইউএনডিপি’র সহায়তায় শত শত কোটি টাকা খরচে ২০০৫ থেকে চলমান দ্বিতীয় মেয়াদি পুলিশ সংস্কার কর্মসূচি (পিআরপি)প্রকল্পের আওতায় স্বত:প্রণোদিত সেবা প্রদানের মনোভাব সৃষ্টিতে বর্তমান পর্যন্ত ১৮টি ‘মডেল থানা’ স্থাপিত হয়েছে এবং এতে মৌখিক সাক্ষ্যের চেয়ে চাক্ষুষ সাক্ষ্যের ওপর জোর প্রদানক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটট্রাফিক ইনভেস্টিগেটিভ সেলবিচ-ট্যুরিস্ট পুলিশ,ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশমানুষ পাচারঅপরাধ বিষয়ক গোয়েন্দা তথ্য এবং অপরাধ দমনের জন্য স্পেশালাইজড পুলিশ ইউনিট গঠনভিকটিম সহায়তা সেন্টার প্রতিষ্ঠাএবং কম্যুনিটি পুলিশ ব্যবস্থা জোরদার করে প্রাথমিক তদন্তে অপরাধ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করা১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট সংশোধন করে ফোন ট্যাপিংভিডিও ফুটেজ এবং ডিএনএ প্রতিবেদনকে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করার বিধান সহ তদন্ত এবং প্রশাসন দেখার জন্য পৃথক দুজন পরিদর্শক নিয়োগ করে প্রতি থানায় জনবল বাড়ায়। এ প্রকল্পের ফলাফল যে শূণ্য তা চলমান গুমবিচার-বহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্টই নির্দেশ করে।
১৮৬১ সনের পুলিশ আইন এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স অনুযায়ীএকজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব হলোযোগ্য কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনানুগভাবে তার প্রতি নির্দেশিত সকল আদেশ এবং গ্রেফতারের বিধান বাস্তবায়ন-জনগণের শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে এমন গোপন তথ্য সংগ্রহ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করাসব ধরনের অপরাধ এবং মানুষের সমস্যা-বিরক্তি সৃষ্টি মূলক কার্যক্রম প্রতিরোধপ্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসাগ্রেফতারের যথার্থতা সাপেক্ষে গ্রেফতারের ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রকৃত সকল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা। পুলিশের ভিশন ও মিশনকে সমানে রেখে জনগণের নিরাপত্তা এবং সামাজিক শৃংখলা বিধানে প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো পুলিশ আইনের সংস্কার করে ২০০৭ সালে তা উপস্থাপন করলেও আজ অবধি তা আলোর মুখ দেখেনি। প্রশাসনে সাথে পুলিশের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতিই প্রধান বাঁধা।
জনগণের জীবন এবং সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলেও ক্ষমতার ভিত নিরাপদ করার জন্য পরিদর্শক পদে ৬৩২ জন কর্মকর্তা সহ ৩২,০০০ পুলিশ নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগে বিদ্যমান জেলা কোটা অমান্য করে অধিকাংশ জনবল দুটি জেলার অধিবাসী থেকে নিয়োগ দেয়া হয়। শুধু তাই নয়নিয়োগ নিয়েও নানা আলোচনা আছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৫(অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের ৫ অনুচ্ছেদে কোনো ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর আচরণ করা এবং তার ওপর অমানবিক অত্যাচার করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও পুলিশ বাহিনী বিরোধী আন্দোলন দমন করতে হাজার হাজার কর্মীকে বিরোধী কর্মীকে গ্রেফতার করে চরম নির্যাতনের মাধ্যমে অসংখ্য মিথ্যা মামলায় জড়ায়। আশ্চর্যজনকভাবে মানবাধিকারের চরম লংঘন করে বিরোধী নেতা-কর্মীদের নির্যাতনের ক্ষেত্রে ‘যথাযথ’ ভূমিকা রাখায় বেশ কয়েকজন বিতর্কিতএবং মানবাধিকার লংঘনের জন্য দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাকে ২০১৩ সনে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুলিশ পদক প্রদান করে বর্তমান সরকার ক্রমাগত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা ব্যবহার করে বিচারিক প্রক্রিয়া অমান্য করে ১০টি হত্যা মামলাসহ অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারদুর্নীতিকর ফাঁকি,চাঁদাবাজিডাকাতিছিনতাইরাহাজানি এবং অন্যান্য অপকর্মের দায়ে অভিযুক্ত সরকারি দলের নেতা কর্মীদের রক্ষায় ৭,২৪৯টি মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়। দু:খজনকভাবেরাষ্ট্রপতি ২টি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ২২ জনকে ক্ষমা করে। এ হলো নাগরিকদের সুবিচার থেকে বঞ্চিত করে আইনের শাসন লংঘনের বাস্তব উদাহরণ।
অথচ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৪ (এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশপ্যারা ১.উল্লেখ করে, ‘‘জনগণের নিরাপত্তা,শিল্পে শান্তিউন্নয়ন কর্মকান্ডপণ্য পরিবহন ও আমদানি-রপ্তানিকে নির্বিঘ্ন করা এবং চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস কঠোর হস্তে দমনের লক্ষ্যে আইনশৃংখলা বাহিনীর সকল শাখাকে অধিকতর শক্তিশালীদক্ষ এবং আধুনিক সাজ-সরঞ্জামে সজ্জিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আরও উন্নত করা হবে। পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নপরিবারের সদস্যদের আবাসনশিক্ষাচিকিৎসাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা হবে। পুলিশ প্রশাসনেরও প্রতিসংক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হবে”। সত্তরের দশকে সিঙ্গাপুরের পুলিশের সেবার মান বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ থাকলেও সঠিক কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণআইন-শৃংখলা বাহিনীতে কার্যকর জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা প্রকৃত দুর্নীতি মুক্ত এবং সেবা মুখী পুলিশ বাহিনী গঠনের উদাহরণ সৃষ্টির মাধ্যমে এটা প্রমাণিত যেনাগরিক বান্ধব ও সেবামুখী পুলিশ বাহিনী গঠনে সরকারের সদিচ্ছাই যথেষ্ট।।

No comments:

Post a Comment