Wednesday, April 23, 2014

***** গুরুচাঁদের প্রত্যক্ষ শিক্ষা ***** ডাঃ মনীন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

***** গুরুচাঁদের প্রত্যক্ষ শিক্ষা *****
ডাঃ মনীন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

--------'-'''--------------'----------
--- বৈষ্ণবের কথা শুনিয়া ঠাকুর গুরুচাঁদের মুখে ইষৎ হাসি ফুটিয়া উঠিল।তিনি বলিলেন "তা যা বলেছ, ভক্তি থাকাতো খুবই দরকার।যে কোন কাজ করতে গেলে সবকিছুর আগে চাই সেই কাজের প্রতি ভক্তি।তাই ভক্তির প্রয়োজন জীবনে সব চেয়ে বেশি।এটা তোমারা খুব ভালো বলেছ।কিন্তু আমার পাঁ ধুইয়ে দিলেই কি তার সেই ভক্তির অভাব পূর্ণ হয়ে যাবে? আর একটা কি যেন বললে--চরণামৃত।আচ্ছা চরণামৃত পানের মহিমাটা যদি একটু বলতে।"

ঠাকুরের কথা শুনিয়া বৈষ্ণবের দল মনে মনে খুব উৎফুল্ল হইয়া উঠিল এবং বেশ দৃঢ় কণ্ঠে বলিল, "এটা হল ভক্তি বিশ্বাসের ব্যাপার।আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি, বিশ্বাস সহকারে গুরুর চরণামৃত সেবন করলে সর্বপাপ থেকে মুক্ত হওয়া যায় এবং ইষ্টলাভে সিদ্ধ হয়।মনের বিশ্বাসই হল আসল।শাস্ত্রে আছে প্রহ্লাদের বিশ্বাসের জোরে স্ফটিক স্তম্ভ হইতে ভগবান মূর্তিমানরূপে বাহির হইয়াছিলেন।"

এইবার শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর পূর্বের চাইতে গম্ভীর হইয়া বলিলেন, "শাস্ত্রের বৈধতা নিয়ে কথা বলে আমি তোমাদের আঘাত করতে চাই না।তবে ঘটমান বিশ্বে যেটা হবার সেটাই কেবল হতে পারে।যা প্রকৃতিতে হবার নয়, শুধুমাত্র বিশ্বাসের জোরে তা কখনো হতে পারে না।বিশ্বাসের আত্মশক্তিতে মানুষ অনেক দুঃসাধ্য কাজ করতে পারে সত্যি, তবে ঘটমান দুনিয়ায় যেইটুকু ঘটা সম্ভব বা হওয়া সম্ভব, কেবল মাত্র সেইটুকুই ,তার বাইরে কেউ কিছু করতে পারে না।বিশ্বাসের সঙ্গে যত কিছুই জুড়ে দেওয়া হোক না কেন প্রকৃতির নাবোধক কে কারুর পক্ষে হ্যাবোধকে পরিনত করা সম্ভব নয়"।
ঠাকুরের নিকট হইতে এই নিগূঢ় দর্শনের কথা শুনিয়া বৈষ্ণব বৈষ্ণবী সহ উপস্থিত সকলেই তাঁহার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকাইয়া রহিল।কাহারও মুখ হইতে কোন কথা বাহির হইল না।
শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর তাহাদের অবস্থা উপলব্ধি করিয়া বলিলেন, " শোন, তোমাদের কাছে একটা গল্প বলি, সকলে মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করো।
কোন এক জঙ্গলের পাশে থাকত এক বুড়ি।ছোট্ট একটা কুঁড়ে ঘুরে সে একা একা বাস করত।তার ঘরে ভাল বেড়াও ছিল না।বর্ষার দিনে জল এবং শীতের সময় ঠান্ডা হাওয়া ঢুকতেই থাকত।প্রতিবেশীদের কাছে চেয়েচিন্তে কোনক্রমে সে বেঁচে থাকত।শীত নিবারণের জন্য তার কোন লেপ-কাথা বা পোশাকাদি কিছুই ছিল না।শীতের দিনই তাঁর কষ্ট হত সবচেয়ে বেশি।সারারাত বসে বসে কাটিয়ে সকাল হতেই প্রতিবেশীদের নিকট হতে আগুন চেয়ে এনে তার জড়ো করা শুকনো পাতায় আগুন ধরিয়ে বসে বসে সে আগুন পোহাত।সে প্রতিবেশীর উনুন হতে খড় বা নাড়ার উপরে এক টুকরো কয়লার আগুন নিয়ে এসে ফুঁদিতে থাকত।বাতাস পেয়ে কয়লা থেকে লাল কুঁচফলের মত আগুনের ফুলকি বেরোতে বেরোতে এক সময় দাউ দাউ করে জ্বলে উঠত।ওই জঙ্গলে বাস করত একপাল বানর।তারা গাছের ডালে বসে বুড়ির আগুন জ্বালানোর প্রক্রিয়া ভাল করে লক্ষ্য করত।বাননেরা এমনিতেই খুব অনুকরণ প্রিয় প্রানী।একদিন শীতে কাতর হয়ে বানরেরা আগুন জ্বালানোর উদ্দেশ্যে কয়েকটি লাল টকটকে কুঁচফল জোগাড় করে একগাদা নাড়ার উপরে রেখে ফুঁ দিতে শুরু করল।এক এক করে ফু দিতে দিতে সকলেই অবসন্ন হয়ে পড়ল তবু আগুন কিছুতেই জ্বলল না।
এখন ভাববার বিষয় হচ্ছে বানরেরা তো ইতর প্রানী, এরা তো মানুষের মত অবিশ্বাসের দোলায় দোলে না।সরল বিশ্বাসেই টকটকে লাল কুঁচফল কে আগুনের ফুলকি ভেবে আগুন জ্বালাবার চেষ্টা করেছে।কিন্তু কই, আগুন তো জ্বলে ওঠেনি।
ঐকান্তিক ভক্তি বিশ্বাসের কি কোন প্রকার সুফল ফলেছে ?"

না, প্রকৃতির নিয়মের বাইরে কাহারও কিছু করার নেই।"যাদুকর, বিজ্ঞানী,কিংবা যোগীপুরুষ যাযার কথাই বল না কেন ,তাঁরা প্রত্যেকেই প্রকৃতির সম্পদকেই মিশ্রণ অথবা বিভাজনের মাধ্যমে শক্তিকৃত করে কাজে লাগাতে শিখেছে মাত্র।সেটা অন্তর্জগতেই হোক কিংবা বর্হিজগতেই হোক।ঘটমান প্রকৃতির নিয়মের মধ্যে থেকেই তাকে তা করতে হয়।অন্ধভক্তি-বিশ্বাসের কোন স্থান নেই।অঙ্ক মিলাতে পারলেই সব ঠিক "।।

জয় হরিচাঁদ, জয় গুরুচাঁদ, জয় হরিবল।।

No comments:

Post a Comment