সাঈদী-নিজামীর সম্ভাব্য রায় নিয়ে শিবিরের সাজ সাজ ॥ সাইবার যুদ্ধ
০ অপপ্রচারে নেমেছে জামায়াতী ফেসবুক, ব্লগ ০ ডিজিটাল বাংলাদেশ নামে একটি ব্লগে চলছে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অপপ্রচার
০ মতিউর রহমান নিজামীকে মুক্তিযোদ্ধা বলা হচ্ছে- প্রশ্ন তোলা হচ্ছে শহীদের সংখ্যা নিয়ে
০ মতিউর রহমান নিজামীকে মুক্তিযোদ্ধা বলা হচ্ছে- প্রশ্ন তোলা হচ্ছে শহীদের সংখ্যা নিয়ে
বিভাষ বাড়ৈ
মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের চূড়ান্ত রায়কে কেন্দ্র করে এবার অনলাইনে পরিকল্পিত অপপ্রচারে নেমেছে জামায়াত-শিবির। ‘যেকোন সময় সাঈদীর মামলার রায় ‘এমন ঘোষণা দিয়ে শিবিরের বাঁশের কেল্লা থেকে শুরু করে জামায়াতীদের অর্থপুষ্ট ব্লগ, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব ও টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়ানো হচ্ছে নানা কল্পকাহিনী। শিবির এ অপপ্রচারকে ঘোষণা করেছে ‘সাইবার যুদ্ধ’ হিসেবে। সাঈদীসহ যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে চলছে মিথ্যা, বিকৃত ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার। যেখান থেকে মতিউর রহমান নিজামীকে মুক্তিযোদ্ধা বলেই স্বাধীনতা বিরোধীচক্র খ্যান্ত হচ্ছেন না, একই সঙ্গে বলা হচ্ছে ‘যুদ্ধাপরাধ নয় জামায়াত করাই অপরাধ সাঈদী সাহেবের’ ‘সাঈদী মুক্তিযুদ্ধের সময় নাবালক ছিলেন, বয়স মাত্র বারো কি তেরো বছর। সেই বয়সে লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্ষণ কাকে বলে, কিছুই তিনি বুঝতেন না।’ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে মিথ্যা তথ্য সংবলিত অসংখ্য বই ও বুকলেটও ইংরেজীতে অনুবাদ করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে অনলাইনে।
জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচারের এ কথিত সাইবার যুদ্ধে রবিবার সকাল থেকেই যুক্ত করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে পাকিস্তানী এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বিকৃত তথ্যপূর্ণ বক্তব্য। ওই পাকি সেনা কর্মকর্তার বক্তব্যকে জামায়াত-শিবির প্রচার করে দাবি করছে, ১৯৭১ সালে যেসব হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে, তার জন্য ভারতের সৃষ্টি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল আওয়ামী লীগই দায়ী। পাকিস্তান ভাগের বিরোধিতাকারী বাঙালীদের আওয়ামী লীগের কর্মীরা মেরেছেন, নির্যাতন করেছেন।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে এখন উদ্ভট, বিকৃত এমনকি ঔদ্ধত্যপূর্ণ তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেশ বিদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দলগতভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াত-শিবির। বিশ্বব্যাপী অনলাইনে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং তাদের সংগঠনের পক্ষে সাফাই গেয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সাধারণ ধর্মপ্রচার মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল নিয়েছে জামায়াত-শিবির ও তার আর্থিক সহায়তাপুষ্ট দেশী বিদেশী চক্র। অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে, মূলত জামায়াাত-শিবিরের অঙ্গ ও আর্থিক সহায়তাপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠন এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেসবুক, ইউটিউব, ব্লগ, টুইটারসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিরামহীন মিথ্যা তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই শিবিরের বাঁশের কেল্লায় এ কর্মকান্ডকে বলা হয়েছে, ‘সাইবার যুদ্ধ।’ তুলে ধরা হচ্ছে রায় নিয়ে নানা কল্পকাহিনী। সাঈদীর বিরুদ্ধে যে কয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং যে দুটি অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধেও বিকৃত তথ্য জুড়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, এ কাজের জন্য শিবিরের প্রতিটি থানা, উপজেলা ও জোন পর্যায়ে আইটি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘বিশেষ আইটি টিম।’ তারাই এসব অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত। দেশজুড়ে যুদ্ধ লাগানোর হুমকিও দিচ্ছে এরা। একই ইস্যুতে দেশব্যাপী নাশকতার মহাপরিকল্পনাও করেছে শিবির। রায়কে কেন্দ্র করে প্রতিবাদস্বরূপ শিবির কর্মীদের ফেসবুকের প্রোফাইলে সাঈদীর ছবি ব্যবহার করা ‘ফরজ’ করে দিয়েছে শিবিরের হাই কমান্ড। সে অনুপাতেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শিবির কর্মীরা। অনলাইনে যেসব এ্যাকাউন্ট ও সাইটে সাঈদীর পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এগুলোর মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে শিবিরের ‘বাঁশের কেল্লা।’ এ ছাড়া জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত ‘সোনার বাংলা’, ‘শিবিরের দখলে ফেসবুক’, ‘আমরা সাঈদী ভক্ত’, ‘স্টোরি অব বাংলাদেশ’, ‘মাইক’, ‘এসো আলোর পথে’, ‘সংগ্রামী জনতা’, ‘মুক্তি দিশারী’, ‘মতিঝিল স্কয়ার’, ‘আসলে আমরা সবাই পারি’, ‘ধরা পড়লে মনে থাকে না’, ‘ধরে ধরে ধরে না, ধরলে শিবির ছাড়ে না’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’, ‘ইসলামিকনিউজ২৪.কম’, ‘মুক্তির মিছিল’, ‘সাঈদী মুক্তি পরিষদসহ অসংখ্য পেজে রায় নিয়ে চলছে অপপ্রচার। এসব পেজ এবং ব্যক্তিগত আইডি থেকে দেশে যুদ্ধ লাগানোর হুমকিও দেয়া হচ্ছে। ‘আমি কাদের মোল্লা’ নামে এক ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হয়েছে, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। আমি কিন্তু কারও নির্দেশের অপেক্ষায় নয় নিজেই সর্বক্ষণ প্রস্তুত আছি। এবার হবে টার্গেটভিত্তিক আন্দোলন।’ শিবিরের নেতারা বলছেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনলাইন বা সাইবার যুদ্ধ অন্যতম ভূমিকা পালন করে। তাই মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের জোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও জোন পর্যায়ে আইটি টিম গঠন করা হয়েছে। এরা যেকোন বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশনাসহ যেকোন তথ্য দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। জানা গেছে, শিবির সমর্থক হলেও যাদের ফেসবুক আইডি নেই তাদের সাইবার যুদ্ধের কর্মী হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে না।
সূত্রগুলো বলছে, জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের কমপক্ষে মোবাইলে হলেও যেকোন কার্যক্রমের বিষয়ে অনলাইনে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একযোগে যেকোন তথ্য ছড়ানোর পর মাঠপর্যায়েও ব্যাপক সাড়া জাগাতেই এ কৌশল। এজন্যই সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে রাজপথ দখলের আগেই অনলাইনে প্রভাব বিস্তারের কাজ করছেন তাঁরা। সাঈদী মুক্তি পরিষদ, ‘ইসলামিকনিউজ২৪.কম’ নামের ফেসবুক পেজের ওয়ালে ‘যুদ্ধাপরাধ নয়, জনপ্রিয়তাই যার অপরাধ’ লেখা একটি পোস্টার রয়েছে। এতে সাঈদীর নিঃশর্ত মুক্তি চাওয়া হয়েছে। বাঁশের কেল্লায় জুড়ে আছে ‘ফ্রি ফ্রি, সাঈদী ফ্রি’ লেখা পোস্টার। সাধারণ মুসল্লিদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে সাঈদীর পুরনো একটি ছবি জেলের ছবির সঙ্গে লাগিয়ে বলা হচ্ছে, ‘সাঈদী জেলের মধ্যে নামাজ পড়ছেন। এর ওপরে লেখা আছে- ‘কে বলেছে রাজাকার, সাঈদী মোদের অহঙ্কার।’ সূত্রগুলো আরও বলছে, সাঈদীর আপিলের রায় নিয়ে জামায়াত ও ছাত্রশিবির বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম রয়েছে ‘সাইবার যুদ্ধ।’ তাদের ধারণা এ যুদ্ধে ঝুঁকির কোন সম্ভাবনা নেই। এর পাশাপাশি রয়েছে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে সঙ্গে নিয়ে দেশজুড়ে একযোগে নাশকতা চালানো।
অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে, প্রকাশ্যে তৎপরতা না চালিয়ে এরা সংগঠিত হতে ব্যবহার করছে প্রযুক্তিকে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে স্বাক্ষর সংগ্রহ, মেইল আদান-প্রদান ও মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে বিদেশে চলছে তৎপরতা। যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির জন্য দেশে বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে নানা কৌশলে। কিন্তু একে মোকাবেলার ক্ষেত্রে নেই সরকারী কোন উদ্যোগ। এ সুযোগে ইন্টারনেটকে আশ্রয় করে সাইবার জগত রীতিমতো নিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধী গোষ্ঠী। মূলত, জামায়াত-শিবিরের আজ্ঞাবহ বিভিন্ন সংগঠন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেসবুক, ইউটিউব, ব্লগ, টুইটারসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিরামহীন মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অসংখ্য বই ও বুকলেট ইংরেজীতে অনুবাদ করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে অনলাইনে। এসব মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে সরকার বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোন মহলেরই কোন ব্যবস্থা নেই কিংবা পাল্টা হিসেবে অনলাইনে সত্য তথ্য প্রচারের কোন উদ্যোগও কারও নেই। কিছু ব্যক্তি ও ছোট সংগঠন এর বিরুদ্ধে কাজ করে গেলেও জামায়াত-শিবির চক্রের তুলনায় তা খুবই নগণ্য। কারণ এ অপপ্রচারের কাজে ওরা বিপুল অঙ্কের টাকা ঢালছে।
ইন্টারনেটে কনটেন্ট তৈরিসহ আপলোডের ক্ষেত্রে দেশের নামীদামী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, এমনকি বুয়েটের শিক্ষার্থীদেরও শিবিরের সদস্যদের কাজে লাগানো হচ্ছে। জড়িত কিছু শিক্ষকও। বাংলদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রগুলো বলছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মেধাবী ছাত্রদেরও কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত-শিবির। যুদ্ধপরাধীদের বিচার ঠেকাতে বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইটের মাধ্যমে জনমত গঠন চলছে। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা গেছে, ওই সাইটগুলোর বেশিরভাগই ‘মোটিভেশনাল।’ সেগুলোতে নিজের মতামত দেয়ারও সুযোগ আছে। এতে অংশ নেয় ‘পেইড ব্লগাররা।’ যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের জবাব অনলাইনে দিয়ে থাকে তারা। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ‘স্টোরি অব বাংলাদেশ’ নামের একটি ব্লগ সাইটে মুক্তিযুদ্ধকালের ও মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। ই-বুক সেকশনের বইগুলোর প্রতিটিতেই ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। এর মধ্যে একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস, আমি আলবদর বলছি (লেখক : কেএম আমিনুল হক), দুই পলাশী দুই মীরজাফর, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের ইতিহাস, ফেলে আসা দিনগুলো (লেখক : ইব্রাহিম হোসেন) উল্লেখযোগ্য।
আর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামক একটি ব্লগ সাইটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দ লেখা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ‘সোনার বাংলা’ ব্লগে যুদ্ধাপরাধীদের সাফাই গেয়েছেন পুষ্পিতা ছদ্মনামের এক ব্লগার। সেখানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক তোলা হয়েছে। ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবেও স্বাধীনতাবিরোধীরা তৎপর। এখানে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কিছু ভিডিও রয়েছে। একইভাবে ‘ফাইট এগেইনস্ট হাসিনা এ্যান্ড অল ইন্ডিয়ান এজেন্ট টু সেভ বাংলাদেশ’ নামের ফেসবুকে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। তাতেও মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে বিকৃত তথ্য দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যাঁরা সোচ্চার ব্লগার তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, অনলাইনে বাংলাদেশ ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল লিখে সার্চ দিলে প্রথম যে ১০০টি লেখা সামনে আসবে, তা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই বেশি। যদি কেউ উইকিপিডিয়া সার্চ দেন দেখবেন, আলবদর নামের যে সংগঠনটির নেতা হিসেবে নিজামীর বিচার হচ্ছে, সেই আলবদর সম্পর্কে লেখা আছে- এরা সেনাবাহিনীর কাছে স্বল্প সময়ের জন্য ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয় এবং দেশের স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
জানা গেছে, অনলাইনে প্রচারণার জন্য জামায়েতের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয়েছে অসংখ্য বই, লিফলেট ও পোস্টার। প্রচারের জন্য যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়েতের নেতারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে লিখেছেন নানা পুস্তিকা। এসব পুস্তিকা আটক হওয়ার আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। যেখানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নিজেকে একজন সাচ্চা মুসলমান ও দেশপ্রেমিক দাবি করে লিখেছেন ‘কুরআন প্রেমিক দেশবাসীর প্রতি আমার খোলা চিঠি’ আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ অন্য অপরাধীর লেখা কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতের এসব প্রকাশনায় বতর্মান সরকারকে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কেবল অনলাইনেই নয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে শিবিরের ক্যাডাররা। ইতোমধ্যে নাশকতার জন্য সংগঠিত হতে শুরু করেছে জামিনে মুক্ত হওয়া সহস্রাধিক শিবির সদস্য। এবার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা এবং সরকারে স্থাপনায় আঘাত হানতে তারা সংগঠনের ‘সুইসাইড স্কোয়াড’কে ব্যবহার করবে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান হুমকি দিয়েছেন, বাংলার জনগণ থেকে গণধিকৃত হয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে অবৈধ আওয়ামী সরকার। আর তার বিনিময়ে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে চলেছে।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশ ও ইসলামপ্রিয় নেতৃবৃন্দ যখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, তখন নেতৃবৃন্দকে বিচারের নামে নাটক সাজিয়ে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু দেশ ও ইসলাম প্রিয় ছাত্রজনতা এ ষড়যন্ত্র বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়নি এবং দেবে না। তবে ইতোমধ্যেই পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার জানিয়ে দিয়েছেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর জামায়াত-শিবির সহিংসতা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতীতের মতো কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সাঈদীর রায়ের পর নাশকতা, সহিংসতাসহ সব ধরনের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। অতীতেও এ ধরনের কর্মকা- মোকাবেলায় আমরা সফল হয়েছিলাম। শুধু সাঈদীর রায়ের পর নয়, যেকোন ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় পুলিশের যা করণীয় তা করা হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ অতীতের মতো কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবে।
মহান মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের চূড়ান্ত রায়কে কেন্দ্র করে এবার অনলাইনে পরিকল্পিত অপপ্রচারে নেমেছে জামায়াত-শিবির। ‘যেকোন সময় সাঈদীর মামলার রায় ‘এমন ঘোষণা দিয়ে শিবিরের বাঁশের কেল্লা থেকে শুরু করে জামায়াতীদের অর্থপুষ্ট ব্লগ, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব ও টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে ছড়ানো হচ্ছে নানা কল্পকাহিনী। শিবির এ অপপ্রচারকে ঘোষণা করেছে ‘সাইবার যুদ্ধ’ হিসেবে। সাঈদীসহ যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে চলছে মিথ্যা, বিকৃত ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার। যেখান থেকে মতিউর রহমান নিজামীকে মুক্তিযোদ্ধা বলেই স্বাধীনতা বিরোধীচক্র খ্যান্ত হচ্ছেন না, একই সঙ্গে বলা হচ্ছে ‘যুদ্ধাপরাধ নয় জামায়াত করাই অপরাধ সাঈদী সাহেবের’ ‘সাঈদী মুক্তিযুদ্ধের সময় নাবালক ছিলেন, বয়স মাত্র বারো কি তেরো বছর। সেই বয়সে লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্ষণ কাকে বলে, কিছুই তিনি বুঝতেন না।’ যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে মিথ্যা তথ্য সংবলিত অসংখ্য বই ও বুকলেটও ইংরেজীতে অনুবাদ করে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে অনলাইনে।
জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচারের এ কথিত সাইবার যুদ্ধে রবিবার সকাল থেকেই যুক্ত করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধ, একাত্তরের গণহত্যা নিয়ে পাকিস্তানী এক সাবেক সেনা কর্মকর্তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও বিকৃত তথ্যপূর্ণ বক্তব্য। ওই পাকি সেনা কর্মকর্তার বক্তব্যকে জামায়াত-শিবির প্রচার করে দাবি করছে, ১৯৭১ সালে যেসব হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটেছে, তার জন্য ভারতের সৃষ্টি বিচ্ছিন্নতাবাদী দল আওয়ামী লীগই দায়ী। পাকিস্তান ভাগের বিরোধিতাকারী বাঙালীদের আওয়ামী লীগের কর্মীরা মেরেছেন, নির্যাতন করেছেন।’ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে এখন উদ্ভট, বিকৃত এমনকি ঔদ্ধত্যপূর্ণ তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেশ বিদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দলগতভাবে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াত-শিবির। বিশ্বব্যাপী অনলাইনে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং তাদের সংগঠনের পক্ষে সাফাই গেয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সাধারণ ধর্মপ্রচার মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপকৌশল নিয়েছে জামায়াত-শিবির ও তার আর্থিক সহায়তাপুষ্ট দেশী বিদেশী চক্র। অনুসন্ধানে বের হয়ে এসেছে, মূলত জামায়াাত-শিবিরের অঙ্গ ও আর্থিক সহায়তাপুষ্ট বিভিন্ন সংগঠন এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেসবুক, ইউটিউব, ব্লগ, টুইটারসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিরামহীন মিথ্যা তথ্য প্রচার করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই শিবিরের বাঁশের কেল্লায় এ কর্মকান্ডকে বলা হয়েছে, ‘সাইবার যুদ্ধ।’ তুলে ধরা হচ্ছে রায় নিয়ে নানা কল্পকাহিনী। সাঈদীর বিরুদ্ধে যে কয়টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং যে দুটি অভিযোগে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়েছে সেগুলোর বিরুদ্ধেও বিকৃত তথ্য জুড়ে দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, এ কাজের জন্য শিবিরের প্রতিটি থানা, উপজেলা ও জোন পর্যায়ে আইটি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গঠন করা হয়েছে ‘বিশেষ আইটি টিম।’ তারাই এসব অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত। দেশজুড়ে যুদ্ধ লাগানোর হুমকিও দিচ্ছে এরা। একই ইস্যুতে দেশব্যাপী নাশকতার মহাপরিকল্পনাও করেছে শিবির। রায়কে কেন্দ্র করে প্রতিবাদস্বরূপ শিবির কর্মীদের ফেসবুকের প্রোফাইলে সাঈদীর ছবি ব্যবহার করা ‘ফরজ’ করে দিয়েছে শিবিরের হাই কমান্ড। সে অনুপাতেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শিবির কর্মীরা। অনলাইনে যেসব এ্যাকাউন্ট ও সাইটে সাঈদীর পক্ষে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এগুলোর মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে শিবিরের ‘বাঁশের কেল্লা।’ এ ছাড়া জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত ‘সোনার বাংলা’, ‘শিবিরের দখলে ফেসবুক’, ‘আমরা সাঈদী ভক্ত’, ‘স্টোরি অব বাংলাদেশ’, ‘মাইক’, ‘এসো আলোর পথে’, ‘সংগ্রামী জনতা’, ‘মুক্তি দিশারী’, ‘মতিঝিল স্কয়ার’, ‘আসলে আমরা সবাই পারি’, ‘ধরা পড়লে মনে থাকে না’, ‘ধরে ধরে ধরে না, ধরলে শিবির ছাড়ে না’, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’, ‘ইসলামিকনিউজ২৪.কম’, ‘মুক্তির মিছিল’, ‘সাঈদী মুক্তি পরিষদসহ অসংখ্য পেজে রায় নিয়ে চলছে অপপ্রচার। এসব পেজ এবং ব্যক্তিগত আইডি থেকে দেশে যুদ্ধ লাগানোর হুমকিও দেয়া হচ্ছে। ‘আমি কাদের মোল্লা’ নামে এক ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা হয়েছে, ‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। আমি কিন্তু কারও নির্দেশের অপেক্ষায় নয় নিজেই সর্বক্ষণ প্রস্তুত আছি। এবার হবে টার্গেটভিত্তিক আন্দোলন।’ শিবিরের নেতারা বলছেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অনলাইন বা সাইবার যুদ্ধ অন্যতম ভূমিকা পালন করে। তাই মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের জোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও জোন পর্যায়ে আইটি টিম গঠন করা হয়েছে। এরা যেকোন বিষয়ে কেন্দ্রের নির্দেশনাসহ যেকোন তথ্য দ্রুত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে। জানা গেছে, শিবির সমর্থক হলেও যাদের ফেসবুক আইডি নেই তাদের সাইবার যুদ্ধের কর্মী হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে না।
সূত্রগুলো বলছে, জামায়াত-শিবিরের কেন্দ্র থেকে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের কমপক্ষে মোবাইলে হলেও যেকোন কার্যক্রমের বিষয়ে অনলাইনে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একযোগে যেকোন তথ্য ছড়ানোর পর মাঠপর্যায়েও ব্যাপক সাড়া জাগাতেই এ কৌশল। এজন্যই সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে রাজপথ দখলের আগেই অনলাইনে প্রভাব বিস্তারের কাজ করছেন তাঁরা। সাঈদী মুক্তি পরিষদ, ‘ইসলামিকনিউজ২৪.কম’ নামের ফেসবুক পেজের ওয়ালে ‘যুদ্ধাপরাধ নয়, জনপ্রিয়তাই যার অপরাধ’ লেখা একটি পোস্টার রয়েছে। এতে সাঈদীর নিঃশর্ত মুক্তি চাওয়া হয়েছে। বাঁশের কেল্লায় জুড়ে আছে ‘ফ্রি ফ্রি, সাঈদী ফ্রি’ লেখা পোস্টার। সাধারণ মুসল্লিদের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে সাঈদীর পুরনো একটি ছবি জেলের ছবির সঙ্গে লাগিয়ে বলা হচ্ছে, ‘সাঈদী জেলের মধ্যে নামাজ পড়ছেন। এর ওপরে লেখা আছে- ‘কে বলেছে রাজাকার, সাঈদী মোদের অহঙ্কার।’ সূত্রগুলো আরও বলছে, সাঈদীর আপিলের রায় নিয়ে জামায়াত ও ছাত্রশিবির বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে প্রথম রয়েছে ‘সাইবার যুদ্ধ।’ তাদের ধারণা এ যুদ্ধে ঝুঁকির কোন সম্ভাবনা নেই। এর পাশাপাশি রয়েছে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে সঙ্গে নিয়ে দেশজুড়ে একযোগে নাশকতা চালানো।
অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে, প্রকাশ্যে তৎপরতা না চালিয়ে এরা সংগঠিত হতে ব্যবহার করছে প্রযুক্তিকে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে স্বাক্ষর সংগ্রহ, মেইল আদান-প্রদান ও মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে বিদেশে চলছে তৎপরতা। যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির জন্য দেশে বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে তাদের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে নানা কৌশলে। কিন্তু একে মোকাবেলার ক্ষেত্রে নেই সরকারী কোন উদ্যোগ। এ সুযোগে ইন্টারনেটকে আশ্রয় করে সাইবার জগত রীতিমতো নিয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধী গোষ্ঠী। মূলত, জামায়াত-শিবিরের আজ্ঞাবহ বিভিন্ন সংগঠন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেসবুক, ইউটিউব, ব্লগ, টুইটারসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিরামহীন মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অসংখ্য বই ও বুকলেট ইংরেজীতে অনুবাদ করে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে অনলাইনে। এসব মিথ্যা প্রচারণার বিরুদ্ধে সরকার বা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের কোন মহলেরই কোন ব্যবস্থা নেই কিংবা পাল্টা হিসেবে অনলাইনে সত্য তথ্য প্রচারের কোন উদ্যোগও কারও নেই। কিছু ব্যক্তি ও ছোট সংগঠন এর বিরুদ্ধে কাজ করে গেলেও জামায়াত-শিবির চক্রের তুলনায় তা খুবই নগণ্য। কারণ এ অপপ্রচারের কাজে ওরা বিপুল অঙ্কের টাকা ঢালছে।
ইন্টারনেটে কনটেন্ট তৈরিসহ আপলোডের ক্ষেত্রে দেশের নামীদামী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ, এমনকি বুয়েটের শিক্ষার্থীদেরও শিবিরের সদস্যদের কাজে লাগানো হচ্ছে। জড়িত কিছু শিক্ষকও। বাংলদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহাজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রগুলো বলছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মেধাবী ছাত্রদেরও কাজে লাগাচ্ছে জামায়াত-শিবির। যুদ্ধপরাধীদের বিচার ঠেকাতে বিভিন্ন ব্লগ ও সামাজিক নেটওয়ার্ক সাইটের মাধ্যমে জনমত গঠন চলছে। ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখা গেছে, ওই সাইটগুলোর বেশিরভাগই ‘মোটিভেশনাল।’ সেগুলোতে নিজের মতামত দেয়ারও সুযোগ আছে। এতে অংশ নেয় ‘পেইড ব্লগাররা।’ যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের জবাব অনলাইনে দিয়ে থাকে তারা। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, ‘স্টোরি অব বাংলাদেশ’ নামের একটি ব্লগ সাইটে মুক্তিযুদ্ধকালের ও মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী সময়ের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। ই-বুক সেকশনের বইগুলোর প্রতিটিতেই ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। এর মধ্যে একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস, আমি আলবদর বলছি (লেখক : কেএম আমিনুল হক), দুই পলাশী দুই মীরজাফর, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের ইতিহাস, ফেলে আসা দিনগুলো (লেখক : ইব্রাহিম হোসেন) উল্লেখযোগ্য।
আর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামক একটি ব্লগ সাইটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর শব্দ লেখা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ‘সোনার বাংলা’ ব্লগে যুদ্ধাপরাধীদের সাফাই গেয়েছেন পুষ্পিতা ছদ্মনামের এক ব্লগার। সেখানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়েও বিতর্ক তোলা হয়েছে। ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবেও স্বাধীনতাবিরোধীরা তৎপর। এখানে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কিছু ভিডিও রয়েছে। একইভাবে ‘ফাইট এগেইনস্ট হাসিনা এ্যান্ড অল ইন্ডিয়ান এজেন্ট টু সেভ বাংলাদেশ’ নামের ফেসবুকে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। তাতেও মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে বিকৃত তথ্য দেয়া হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যাঁরা সোচ্চার ব্লগার তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, অনলাইনে বাংলাদেশ ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল লিখে সার্চ দিলে প্রথম যে ১০০টি লেখা সামনে আসবে, তা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষেই বেশি। যদি কেউ উইকিপিডিয়া সার্চ দেন দেখবেন, আলবদর নামের যে সংগঠনটির নেতা হিসেবে নিজামীর বিচার হচ্ছে, সেই আলবদর সম্পর্কে লেখা আছে- এরা সেনাবাহিনীর কাছে স্বল্প সময়ের জন্য ট্রেনিং নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয় এবং দেশের স্বাধীনতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
জানা গেছে, অনলাইনে প্রচারণার জন্য জামায়েতের উদ্যোগে প্রকাশ করা হয়েছে অসংখ্য বই, লিফলেট ও পোস্টার। প্রচারের জন্য যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়েতের নেতারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে লিখেছেন নানা পুস্তিকা। এসব পুস্তিকা আটক হওয়ার আগে থেকেই তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো। যেখানে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নিজেকে একজন সাচ্চা মুসলমান ও দেশপ্রেমিক দাবি করে লিখেছেন ‘কুরআন প্রেমিক দেশবাসীর প্রতি আমার খোলা চিঠি’ আমির মতিউর রহমান নিজামীসহ অন্য অপরাধীর লেখা কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতের এসব প্রকাশনায় বতর্মান সরকারকে ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কেবল অনলাইনেই নয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে শিবিরের ক্যাডাররা। ইতোমধ্যে নাশকতার জন্য সংগঠিত হতে শুরু করেছে জামিনে মুক্ত হওয়া সহস্রাধিক শিবির সদস্য। এবার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা এবং সরকারে স্থাপনায় আঘাত হানতে তারা সংগঠনের ‘সুইসাইড স্কোয়াড’কে ব্যবহার করবে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল আতিকুর রহমান হুমকি দিয়েছেন, বাংলার জনগণ থেকে গণধিকৃত হয়ে পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার স্বপ্ন দেখছে অবৈধ আওয়ামী সরকার। আর তার বিনিময়ে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশী ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে চলেছে।
ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশ ও ইসলামপ্রিয় নেতৃবৃন্দ যখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তুমুল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, তখন নেতৃবৃন্দকে বিচারের নামে নাটক সাজিয়ে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু দেশ ও ইসলাম প্রিয় ছাত্রজনতা এ ষড়যন্ত্র বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেয়নি এবং দেবে না। তবে ইতোমধ্যেই পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) হাসান মাহমুদ খন্দকার জানিয়ে দিয়েছেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর জামায়াত-শিবির সহিংসতা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতীতের মতো কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সাঈদীর রায়ের পর নাশকতা, সহিংসতাসহ সব ধরনের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। অতীতেও এ ধরনের কর্মকা- মোকাবেলায় আমরা সফল হয়েছিলাম। শুধু সাঈদীর রায়ের পর নয়, যেকোন ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় পুলিশের যা করণীয় তা করা হবে। এক্ষেত্রে পুলিশ অতীতের মতো কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করবে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html
No comments:
Post a Comment