Sunday, April 27, 2014

আমেথিতে রাহুলের ‘পরীক্ষা’ নেবে বিজেপি-এএপি

ভারতের লোকসভা নির্বাচন ২০১৪

আমেথিতে রাহুলের ‘পরীক্ষা’ নেবে বিজেপি-এএপি

ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দলের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী গতকাল গুজরাট রাজ্যে একটি নির্বাচনী সমাবেশে হাত নেড়ে সমর্থকদের অভিবাদনের জবাব দেন  ছবি: রয়টার্স
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশের আমেথি আসনটি বলতে গেলে গান্ধী পরিবারের পারিবারিক আসনে পরিণত হয়েছে। এই পরিবারের চারজন সেখান থেকে আটবার নির্বাচিত হয়েছেন।
গত দুই নির্বাচনে জয়ী কংগ্রেসের সহসভাপতি রাহুল গান্ধী এবারও সেখান থেকে লড়ছেন। কিন্তু এবার দেশজুড়ে মোদি হাওয়া যেভাবে বইছে, তাতে মনে হয় গান্ধী পরিবার একটু হলেও শঙ্কায় পড়েছে।
১০ বছর পর গত সপ্তাহে প্রথম আমেথিতে জনসভায় বক্তৃতা করেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। বিজেপি বলছে, গান্ধী পরিবারের মধ্যে যে ভয় ঢুকেছে, এত দিন পর সোনিয়ার এই সমাবেশ তারই প্রমাণ।
আমেথি থেকে পাঁচবার জিতেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দুই ছেলে রাজীব গান্ধী ও সঞ্জয় গান্ধী। ইন্দিরার ছোট ছেলে সঞ্জয় প্রথমে জয়ী হন ১৯৮০ সালে। এরপর টানা চারবার জেতেন রাজীব। ১৯৯১ সালে রাজীবের মৃত্যুর পর গান্ধী পরিবারের নেতৃত্বে শূন্যতা সৃষ্টি হয়। দলের হাল ধরার পর ১৯৯৯ সালে সোনিয়া আবার আমেথি আসনে নির্বাচিত হন। এর আগের তিন নির্বাচনের দুটিতে কংগ্রেসের সতীশ শর্মা এবং বিজেপির সঞ্জয় সিং একবার নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালের পর আসনটি একবারই কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়, ১৯৯৮ সালে সঞ্জয় সিং জিতেছিলেন।
২০০৪ সালে সোনিয়া আমেথির মানুষের কাছে তুলে দেন ছেলে রাহুলকে। আমেথিবাসীও তাঁকে গ্রহণ করে। এবার মনে হচ্ছে তিনি কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি।
১০ বছর পর গত সপ্তাহে আমেথিতে এক সমাবেশে সোনিয়া বলেন, ‘আজ থেকে অনেক বছর আগে ইন্দিরা যেমন তাঁর ছেলে রাজীব গান্ধীকে আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন, আমি আমার ছেলে রাহুলকে আপনাদের হাতে দিয়েছিলাম ২০০৪ সালে। আশা করি আপনাদের ভালোবাসা থেকে সে কখনো বঞ্চিত হবে না।’
এত দিন পর সোনিয়ার সমাবেশকে দ্রুত পুঁজি করে কংগ্রেসকে খোঁচাটা দিয়েছে বিজেপি। দলটির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি বলেন, রাহুল যদি তাঁর নিজের আসন আমেথি সামলাতেই ব্যর্থ হন, তাহলে তিনি দেশকে নেতৃত্ব দেবেন কীভাবে? মোদি এখন দেশজুড়ে বলে বেড়াচ্ছেন, আবেগময় ভাষণে সোনিয়া নিজের ছেলের জন্য ভোট চেয়েছেন।...এ থেকেই সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে।
বিরোধী শিবির থেকে রাহুলের দুরবস্থার যে চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে, তা নিছক বুলি নয়। ২০১২ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আমেথিতেই জেরবার হতে হয়েছিল কংগ্রেসকে। এরপর এখন রাহুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন আম আদমি পার্টির (এএপি) কুমার বিশ্বাস আর বিজেপির প্রার্থী টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী স্মৃতি ইরানির।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বহু আগেই এএপি ঘোষণা দিয়েছিল, আমেথিতে রাহুলের বিরুদ্ধে লড়বেন তাদের নেতা কুমার বিশ্বাস। একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে তিন মাস ধরে আমেথি চষে বেড়াচ্ছেন কুমার বিশ্বাস। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, ১৬ মে ভোট গণনার দিন আমেথিতে ইতিহাস লেখা হবে।
শুধু কুমার বিশ্বাস নন, আমেথিতে রাহুলের কঠিন পরীক্ষা নেবে এবার বিজেপিও। দেশজুড়ে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জোরালো মনোভাবের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে ‘মোদি হাওয়া’। তবে শুধু এর ওপর ভর করে বসে নেই দলীয় প্রার্থী স্মৃতি ইরানি। রীতিমতো ঘাম ঝরাচ্ছেন তিনিও। একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বাস করছেন সেখানে। এর ওপর সারা দেশ থেকে আমেথিতে হাজির রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) হাজার হাজার কর্মী। বিজেপির আদর্শগত পরামর্শক এই সংগঠনটির কর্মীরা ঘুরছেন আমেথির গ্রামে গ্রামে।
আমেথিতে রাহুলের জন্য প্রচারে নেমেছেন বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। আরএসএসের শক্তি বৃদ্ধির বিষয়টি তাঁরও নজরে এসেছে। বিষয়টি তিনি মা সোনিয়াকে জানালে ছুটে আসেন তিনি।
আমেথির মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাবে আগামী ৭ মে। কুমার বিশ্বাস বা স্মৃতি ইরানির খুব বেশি কিছু হারানোর নেই। কিন্তু রাহুলের ভাগ্যের সঙ্গে জড়ানো গান্ধী পরিবারের গৌরব-ঐতিহ্য। তাই তো ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মাথায় চেপে বসছে, ‘কী জানি কী হয়’। আইএএনএস।

No comments:

Post a Comment