Sunday, April 27, 2014

ভারতের নির্বাচন ২০১৪—ভোটের হাওয়া: লক্ষৌ তিন ঘটনায় নিঝুম লক্ষৌ

ভারতের নির্বাচন ২০১৪—ভোটের হাওয়া: লক্ষৌ

তিন ঘটনায় নিঝুম লক্ষৌ

ভারতের নির্বাচন ২০১৪—ভোটের হাওয়া: লক্ষেৗ
Prothom Alo
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়, লক্ষেৗ থেকে 

চার দিন পরে যেখানে ভোট এবং যে রাজ্যটি এবারের ভোটে বিজেপির তুরুপের তাস হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই রাজ্যের রাজধানীর এই সময়ে দিন-রাত গমগম করার কথা। অথচ গোটা লক্ষৌজুড়ে এক অদ্ভুত নিস্পৃহতা! প্রলয়ের আগে চারদিক যেমন থমথম করে, যেমন নিঝুম মেরে যায়, অনেকটা তেমনই। 
নবাবি আমল আর শিল্প-সংস্কৃতির ঐতিহ্যমাখা সারা লক্ষৌ শহরে সবকিছুই আছে—ছুটির দিনের জমজমাট বাজার, কোলাহল, যানজটের দুর্ভোগ। নেই শুধু রাজনীতির ঢক্কানিনাদ, ঝমঝম করে রাজপথজুড়ে চলা ‘ভোট দিন ভোট দিন’ আরজি, পতপত করে দলীয় পতাকা ওড়া গাড়ির হুসহাস ছুটে চলা। এ যেন নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞাজনিত চিত্রপট। 
আসল ঘটনা কিন্তু তা নয়। রাজধানী লক্ষৌয়ের এমন নিস্তব্ধতার কারণ নাকি গত শুক্রবার ঘটে যাওয়া পর পর কয়েকটি ঘটনা, যা অনেককে হতবাক করে দিয়েছে। প্রথম ঘটনা, বলা নেই কওয়া নেই, কাকপক্ষীও টের পেল না, প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ভাই দলজিৎ সিংয়ের হুট করে বিজেপিতে চলে যাওয়া! দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে লক্ষৌতেই, যোগগুরু রামদেব কটূক্তি করেছেন খোদ রাহুল গান্ধীকে নিয়ে। বলেছেন, রাহুল দলিত মেয়েদের বাড়িতে সময় কাটাচ্ছেন, যেন পিকনিক করছেন। তৃতীয় খবর, লক্ষৌয়ে বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের প্রচারে নাকি নরেন্দ্র মোদি আর আসবেন না। রাজনাথের সঙ্গে তাঁর নাকি মনোমালিন্য শুরু হয়ে গেছে। কারণ, মোদিকে ঠেকাতে রাজনাথই নাকি শেষমেশ ‘ডার্ক হর্স’ (যার অর্থ, কম পরিচিত কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে বেশি শক্তিশালী) হয়ে উঠতে চলেছেন। গোটা শহর নাকি এসব নিয়েই থম মেরে গেছে।
শহর ঘুরে বোঝা গেল, পুরোটা না হলেও রটনায় কিছু সত্যতা রয়েছে। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি ও বিজেপির কার্যালয়ে এরই চর্চা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ভাই ও রামদেবকে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত ক্ষিপ্ত কংগ্রেসিদের উদ্যোগে রামদেবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলো এবং বিকেল নাগাদ জানা গেল যে রামদেব দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বিজেপির কার্যালয়ে দেশের সাবেক অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহা খুব মন দিয়ে কংগ্রেসের অর্থনীতির ‘কুফল’, এবারের সম্ভাব্য অনাবৃষ্টি ও জলবায়ু পরিস্থিতি ‘এল নিনো’র প্রভাব থেকে মুক্ত হতে নতুন সরকারের কত দিন লাগবে, তা মন দিয়ে বোঝাচ্ছিলেন। তাঁর কথা শেষ হয়েছে কি হয়নি, প্রশ্ন উড়ে এল, এবারের ভোট কি আগের মতো জাতপাতকে ভিত্তি করেই হবে? যশবন্ত বললেন, ‘মোটেই না। এবারের ভোট জাতপাতের বেড়া ভেঙে দেবে।’ তারপর তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিরোধীরাই আমাদের তিরিশটা আসন দিচ্ছে। তাহলে বুঝুন, আমরা কতগুলো পাব!’
আশ্চর্যের কথা, রাজ্যের সাবেক কংগ্রেসি মন্ত্রী সত্যদেও ত্রিপাঠি কার্যালয়ে বসে বিজেপির সম্ভাব্য সাফল্যের যে ব্যাখ্যা দিলেন, তার সঙ্গে যশবন্ত সিনহা ও বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটির সর্বেসর্বা জাফরইয়াব জিলানির বক্তব্যের বেজায় অমিল ধরা পড়ল। সত্যদেও বা জিলানি দুজনের কেউই বিশ্বাস করেন না, মোদির নামে উত্তর প্রদেশে হু হু করে হাওয়া বইছে। দুজনেই বলেন, এ রাজ্যে

No comments:

Post a Comment