উঠে গেল সরকারি চিকিত্সকদের ভিআরএস
এই সময়: রাজ্য জুড়ে প্রবল অভাব চিকিত্সকের৷ এমনই কারণ দর্শিয়ে সরকারি ডাক্তারবাবুদের থেকে স্বেচ্ছাবসরের অধিকারই কেড়ে নিল রাজ্য সরকার৷ বুধবার জারি হওয়া এই নির্দেশনামা ঘিরে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে সরকারি চিকিত্সক মহলে৷ তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যেখানে হাজার দশেক চিকিত্সকের মধ্যে শূন্যপদ বাড়তে বাড়তে এখন প্রায় আড়াই হাজার, সেখানে ডাক্তারের অভাব মেটাতে নিয়োগের রাস্তায় কেন হাঁটছে না সরকার? উল্টে, চাকুরিরত চিকিত্সকদের ভিআরএস (ভলান্টারি রিটায়ারমেন্ট স্কিম) বা স্বেচ্ছাবসরের অধিকার কেন খর্ব করা হচ্ছে এমন অগণতান্ত্রিক উপায়ে?
এত দিন পর্যন্ত তিনটি মাপকাঠির যে কোনও একটি পার করলেই স্বেচ্ছাবসরের আবেদন করা যেত৷ ৩৫ বছরের কম বয়সে সরকারি পদে যোগ দিয়েছেন এমন পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি, ৫৫ বছরের বেশি বয়সি কর্মী এবং টানা ২০ বছর সরকারি চাকরি করলেই স্বেচ্ছাবসর নেওয়া যেত৷ কিন্ত্ত ১৯৭১-এর ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিস রুলের ৭৫ (ডাবল এ এবং ট্রিপল এ) ধারায় সংশোধনী আনার পর গত ফেব্রুয়ারিতেই ভিআরএসের সংস্থান খারিজ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন অর্থসচিব৷ সেই বিজ্ঞপ্তি উদ্ধৃত করে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশনামা প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যায়, স্বেচ্ছাবসর রদ হওয়ার এমন একটি সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র স্বাস্থ্য দপ্তরের ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে চলেছে৷
স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব মলয় দে অবশ্য সাফ জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি জন-পরিষেবা টিকিয়ে রাখতে এ ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না রাজ্যের কাছে৷ বিভিন্ন চিকিত্সক সংগঠনের প্রশ্ন, এটা কি রাজ্য সরকারি চিকিত্সকদের মৌলিক অধিকার হনন নয়? মলয়বাবুর জবাব, 'সব আইনি দিক খতিয়ে দেখে, অনেক ভেবেচিন্তে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷' নয়া নিয়মের আওতায় আসছেন হেলথ সার্ভিস, মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস, পাবলিক হেলথ-কাম-অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস, ডেন্টাল সার্ভিস এবং ডেন্টাল এডুকেশন সার্ভিসে কর্মরত প্রায় ১০,২০০ চিকিত্সক৷
কেন এমন একটি সর্বজন-অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল সরকার? রাজ্যের স্বাস্থ্য-অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী বলেন, 'এমনিতেই চিকিত্সকের অভাব প্রবল৷ এ দিকে প্রতি বছরেই স্বেচ্ছাবসেরর ভূরি ভূরি আবেদন জমা পড়তে শুরু করেছিল বেশ কয়েক বছর ধরে৷ সরকারি চিকিত্সকদের ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত৷' সূত্র অনুযায়ী, ২০০৭ থেকেই ফি বছর গড়ে ১০০ জন করে সরকারি ডাক্তারবাবু ভিআরএস নিতে আগ্রহ দেখিয়ে আবেদন করেন সরকারের কাছে৷ ডাক্তারের অভাব থাকায় সে আবেদনে সাড়া না-মেলায়, ভিআরএস অ্যাপ্লিকেশন ফাইল ইদানীং এতই মোটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, আইন সংশোধন ছাড়া উপায় ছিল না৷ স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, 'মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে৷ এমন অবস্থায় আরও বেশি করে প্রয়োজন শিক্ষক-চিকিত্সকের৷ স্বেচ্ছাবসরের আবেদনে সাড়া দিলে, ফ্যাকাল্টির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ এ বার সেই সমস্যা মিটবে অনেকটা৷'
এমন একটি সিদ্ধান্তের অবশ্য প্রবল বিরোধিতায় সরব সরকারি চিকিত্সক সংগঠনগুলি৷ অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সভাপতি গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, 'আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না-করেই সরকারের এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়াকে সমর্থন করা যায় না৷ আমরা আইনি পরামর্শ নিচ্ছি৷ প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হব৷' সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের কথায়, 'অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ৷ শূন্যপদ পূরণ না-করে আমাদের মৌলিক অধিকার এ ভাবে হরণ করাটা নিন্দনীয়৷' হেলথ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক হীরালাল কোনারের বক্তব্য, 'চিকিত্সকের অভাব রয়েছে বলে যে কারণ সরকার দর্শাচ্ছে, তা আদতে কৃত্রিম অভাব৷'
এত দিন পর্যন্ত তিনটি মাপকাঠির যে কোনও একটি পার করলেই স্বেচ্ছাবসরের আবেদন করা যেত৷ ৩৫ বছরের কম বয়সে সরকারি পদে যোগ দিয়েছেন এমন পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তি, ৫৫ বছরের বেশি বয়সি কর্মী এবং টানা ২০ বছর সরকারি চাকরি করলেই স্বেচ্ছাবসর নেওয়া যেত৷ কিন্ত্ত ১৯৭১-এর ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিস রুলের ৭৫ (ডাবল এ এবং ট্রিপল এ) ধারায় সংশোধনী আনার পর গত ফেব্রুয়ারিতেই ভিআরএসের সংস্থান খারিজ করার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন অর্থসচিব৷ সেই বিজ্ঞপ্তি উদ্ধৃত করে স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশনামা প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যায়, স্বেচ্ছাবসর রদ হওয়ার এমন একটি সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র স্বাস্থ্য দপ্তরের ক্ষেত্রেই কার্যকর হতে চলেছে৷
স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রধান সচিব মলয় দে অবশ্য সাফ জানাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি জন-পরিষেবা টিকিয়ে রাখতে এ ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না রাজ্যের কাছে৷ বিভিন্ন চিকিত্সক সংগঠনের প্রশ্ন, এটা কি রাজ্য সরকারি চিকিত্সকদের মৌলিক অধিকার হনন নয়? মলয়বাবুর জবাব, 'সব আইনি দিক খতিয়ে দেখে, অনেক ভেবেচিন্তে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷' নয়া নিয়মের আওতায় আসছেন হেলথ সার্ভিস, মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস, পাবলিক হেলথ-কাম-অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস, ডেন্টাল সার্ভিস এবং ডেন্টাল এডুকেশন সার্ভিসে কর্মরত প্রায় ১০,২০০ চিকিত্সক৷
কেন এমন একটি সর্বজন-অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হল সরকার? রাজ্যের স্বাস্থ্য-অধিকর্তা বিশ্বরঞ্জন শতপথী বলেন, 'এমনিতেই চিকিত্সকের অভাব প্রবল৷ এ দিকে প্রতি বছরেই স্বেচ্ছাবসেরর ভূরি ভূরি আবেদন জমা পড়তে শুরু করেছিল বেশ কয়েক বছর ধরে৷ সরকারি চিকিত্সকদের ধরে রাখার উদ্দেশ্যেই এমন সিদ্ধান্ত৷' সূত্র অনুযায়ী, ২০০৭ থেকেই ফি বছর গড়ে ১০০ জন করে সরকারি ডাক্তারবাবু ভিআরএস নিতে আগ্রহ দেখিয়ে আবেদন করেন সরকারের কাছে৷ ডাক্তারের অভাব থাকায় সে আবেদনে সাড়া না-মেলায়, ভিআরএস অ্যাপ্লিকেশন ফাইল ইদানীং এতই মোটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, আইন সংশোধন ছাড়া উপায় ছিল না৷ স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা সুশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, 'মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে৷ এমন অবস্থায় আরও বেশি করে প্রয়োজন শিক্ষক-চিকিত্সকের৷ স্বেচ্ছাবসরের আবেদনে সাড়া দিলে, ফ্যাকাল্টির সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ এ বার সেই সমস্যা মিটবে অনেকটা৷'
এমন একটি সিদ্ধান্তের অবশ্য প্রবল বিরোধিতায় সরব সরকারি চিকিত্সক সংগঠনগুলি৷ অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিস ডক্টর্সের সভাপতি গৌতম মুখোপাধ্যায় বলেন, 'আমাদের সঙ্গে কোনও আলোচনা না-করেই সরকারের এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়াকে সমর্থন করা যায় না৷ আমরা আইনি পরামর্শ নিচ্ছি৷ প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হব৷' সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের কথায়, 'অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ৷ শূন্যপদ পূরণ না-করে আমাদের মৌলিক অধিকার এ ভাবে হরণ করাটা নিন্দনীয়৷' হেলথ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক হীরালাল কোনারের বক্তব্য, 'চিকিত্সকের অভাব রয়েছে বলে যে কারণ সরকার দর্শাচ্ছে, তা আদতে কৃত্রিম অভাব৷'
No comments:
Post a Comment