Monday, April 28, 2014

কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথেই মুখ্যসচিব

কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের পথেই মুখ্যসচিব
mitra

এই সময়: ডিএম-এসপিদের বদলি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাতে গেলেন মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র৷

পাঁচ জেলার পুলিশ সুপার, এক জেলাশাসক এবং দুই অতিরিক্ত জেলাশাসককে কমিশনের নির্দেশ মতো গত ৯ এপ্রিল সরিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র৷ সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ভোটপর্ব শেষ হওয়া পর্যন্তই এই বদলি কার্যকর থাকবে৷ কমিশনের সঙ্গে আলোচনা না-করে কেন তিনি 'ভোটপর্ব শেষ হওয়া পর্যন্তই এই বদলি কার্যকর থাকবে' বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন, তা জানতে চেয়ে শুক্রবার মুখ্যসচিবের কৈফিয়ত তলব করে নির্বাচন সদন৷ নবান্ন সূত্রের খবর, রবিবার সকালে সঞ্জয়বাবু তাঁর জবাব দিল্লিতে কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন৷ জবাবে মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে কর্নাটক হাইকোর্টের যে রায় রয়েছে, তা মেনেই তিনি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন৷ কোনও বিধি লঙ্ঘন করেননি৷

এ ব্যাপারে সঞ্জয়বাবুর বক্তব্য জানতে চেয়ে তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি৷ কমিশনের কোনও কর্তাও এ ব্যাপারে সরকারি ভাবে মুখ খোলেননি৷ রাজ্য নির্বাচন দপ্তরের কর্তা অমিত রায়চৌধুরী বলেন, 'কমিশন যেহেতু মুখ্যসচিবের কাছে সরাসরি চিঠি পাঠিয়েছেন, তাই এ ব্যাপারে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই৷'

কমিশনকে কী জানিয়েছেন মুখ্যসচিব? নবান্ন সূত্রের খবর, তাঁর পাঠানো জবাবে গত বছরের এপ্রিলে কর্নার্‌টক হাইকোর্টের একটি রায়কেই হাতিয়ার করেছেন সঞ্জয়বাবু৷ ওই রায়ে হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ভোটের সময় নির্বাচন সংক্রান্ত অফিসারদের পোস্টিং সম্পূর্ণ ভাবে কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত৷ কোন পদে কোন অফিসার থাকবেন, সেটা কমিশন ঠিক করবে৷ কমিশন মনে করলে কোনও অফিসারকে সরাতেই পারেন৷ তবে সেটা যেহেতু ডেপুটেশনভিত্তিক, তাই ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অফিসার স্বাভাবিক নিয়মেই পুরনো পদে পুনর্বহাল হবেন৷ নবান্ন সূত্রের খবর, এই রায় উদ্ধৃত করে মুখ্যসচিব দাবি করেছেন, আদালতের রায় মেনেই তিনি ভোটপর্ব শেষ হওয়া পর্যন্তই এই বদলি কার্যকর থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন৷ যেহেতু এ ব্যাপারে আদালতের সুস্পষ্ট রায় রয়েছে, তাই কমিশনের সঙ্গে আগাম আলোচনারও কোনও প্রয়োজন নেই৷

যদিও রাজ্য প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ না-করে এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি বিধি লঙ্ঘনেরই সামিল৷ রাজ্য প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, 'অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোটের স্বার্থেই সাত অফিসারকে সরানোর নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন৷ সেখানে মুখ্যসচিবের বিজ্ঞপ্তির অর্থ, ভোট মিটলেই ওই সাত অফিসার পুরোনো পদে ফিরবেন৷ এই বিজ্ঞপ্তি যেহেতু ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন জারি হয়েছে, তাই এ ব্যাপারে কমিশনের আগাম অনুমোদন বাধ্যতামূলক৷'

কমিশনের এক কর্তা অবশ্য দিল্লি থেকে জানিয়েছেন, কর্নাটক হাইকোর্টের রায়ের ব্যাপারে কমিশন সম্পূর্ণ ভাবে ওয়াকিবহাল৷ তিনি বলেন, 'রায়ে কোথাও বলা নেই যে, কমিশনের নির্দেশে কোনও অফিসারকে সরানো হলে বিজ্ঞপ্তিতে লিখতে হবে ভোটপর্ব শেষ হওয়া পর্যন্তই বদলি কার্যকর থাকবে৷ ওই সাত অফিসারের বিরুদ্ধে প্রামাণ্য অভিযোগ থাকায় অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের লক্ষে কমিশন তাঁদের সরানোর নির্দেশ দেয়৷ সেখানে ভোটপর্ব মেটার আগেই এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার সামিল৷'

গত ৭ তারিখ কমিশন সাতজন অফিসারকে সরানোর জন্য রাজ্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়৷ এ জন্য কড়া ভাষায় কমিশনকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ জানিয়ে দেন, কোনও অফিসারকে তিনি সরাবেন না৷ ৮ তারিখ সাত অফিসারকে সরানোর নির্দেশ দিয়ে কমিশন কড়া চিঠি পাঠায় মুখ্যসচিবকে৷ পরের দিন সকালেই কমিশনের নির্দেশ মেনে নিয়ে সাত অফিসারকে সরানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করে রাজ্য প্রশাসন৷ সেখানে বলা হয়, ভোটপর্ব শেষ হওয়া পর্যন্তই এই বদলি কার্যকর থাকবে৷ কিন্ত্ত, সেদিন রাতেই আরও একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে মুখ্যসচিব জানিয়ে দেন, ভোটপর্ব মিটে যাওয়ার পরেই ওই সাত অফিসার পুরোনো পদে ফিরে যাবেন এবং সে জন্য আর কোনও বিজ্ঞপ্তির প্রয়োজন হবে না৷

No comments:

Post a Comment