Thursday, July 17, 2014

'প্রতি বছর ১ শতাংশ কৃষি জমি হারাচ্ছে বাংলাদেশ'

'প্রতি বছর ১ শতাংশ কৃষি জমি হারাচ্ছে বাংলাদেশ'

ইত্তেফাক রিপোর্ট
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দিতে 'পল্লী জনপদ' নামক একটি প্রকল্প অচিরেই অনুমোদন করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পণা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। তিনি জানান, এই প্রকল্পের আওতায় বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসকারী গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে এসে তাদের জন্য সরকার ৪তলা বিশিষ্ট ফ্ল্যাট তৈরি করে দেবে। সেখানে বিদ্যুত্, গ্যাস সুবিধাসহ সামগ্রিক নাগরিক সুবিধা দেয়া হবে। এতে করে কৃষি জমি বেঁচে যাবে এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠী গ্রামে থেকেই শহরের সকল সুবিধা পাবে। সরকারের খরচ কমে যাবে। বর্তমানে দেশের ৮টি গ্রামে পাইলট প্রকল্প হিসেবে 'পল্লী জনপদ' প্রকল্পটির কার্যক্রম চলছে। গতকাল পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলন কক্ষে 'বাংলাদেশের উপজেলাগুলোতে ভূমি ব্যবহার' শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালায় প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ও পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। কর্মশালায় জানানো হয়, বাংলাদেশ প্রতিবছর ১ শতাংশ হারে কৃষি জমি হারাচ্ছে। বিগত দিনে নগর পরিকল্পনায় শহরের কলেবরই কেবল বৃদ্ধি করা হতো। এতে জমির মূল্য বৃদ্ধির কারণে কৃষি জমি তার নিজস্ব চরিত্র হারায়। বর্তমানে সুষ্ঠু নগরায়নে নিবিড় লোকালয় তৈরি করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভূমি সম্পদের ব্যবহারকে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে উপজেলাভিত্তিক নগরায়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়ার কথা কর্মশালায় উঠে আসে। সমগ্র উপজেলার মূল শহর ও গ্রোথ সেন্টারসহ সব গ্রামীণ জনপদকে নিয়ে শহর প্রবর্তক এলাকা এবং কৃষি বা সমশ্রেণীর ভূমি ব্যবহারের জন্যে শহর উন্নয়ন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব ভুঁইয়া সফিকুল ইসলাম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. গোলাম রব্বানী। সভাপতির বক্তব্যে সচিব বলেন, কৃষি জমি হারাতে থাকলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় থাকবে না। তখন আমরা খাদ্য-শস্য আমদানিনির্ভর দেশে পরিণত হবো। তা দেশের জন্যে মোটেই ভাল হবে না। আর একটি বিষয় শুধু পরিকল্পনা প্রণয়ন নয় বরং তা বাস্তবায়নে সফলতার উপরেই সুষ্ঠু নগরায়ন নির্ভর করবে।

No comments:

Post a Comment