Thursday, July 17, 2014

সম্পত্তির লোভে মাকে কুপিয়ে খুন করল ছেলে

সম্পত্তির লোভে মাকে কুপিয়ে খুন করল ছেলে

স্টাফ রিপোর্টার,

পুরুলিয়া,, ১৭ জুলাই, ২০১৪

সম্পত্তির লোভ মানে না রক্তের সম্পর্ক l  তাই সম্পত্তির অধিকার একাই ভোগ করার জন্য মাকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠলো বড় ছেলের বিরুদ্ধে l এতেই শেষ নয় দুষ্কৃতী হামলার নাটক করে ওই ধারালো অস্ত্রেই তার নিজের দুটো হাত জখম করে গুণধর ছেলে৷ কিন্ত্ত মানসিক ভারসাম্যহীন বোন ‘খুনি' দাদাকে চিনিয়ে দেয়৷ পরে আর এক ছেলে বোনের কাছ থেকে সমস্ত ঘটনা শুনে দাদার বিরু‌দ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে৷ পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের পাঁচুডাঙায় বৃহস্পতিবার সাতসকালের এই খুনের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়৷ পুলিশ জানিয়েছে, নিহত মায়ের নাম লক্ষ্মী ভটকর (৫৫)৷ তাঁর বাড়ি রঘুনাথপুরের পাঁচুডাঙাতেই ‘খুনি' বড় ছেলে দীপক ভটকর বর্তমানে রঘুনাথপুর মহকুমা হাসপাতালে হাতে চোট নিয়ে চিকিত্সাধীন৷ নিহত লক্ষ্মীদেবীর গলায় ও পেটে ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে৷ এদিন সকাল ন'টা নাগাদ তাঁর ঘরে দোতলা থেকে রক্তাক্ত অবস্হায় মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷ রঘুনাথপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক পিনাকী দত্ত বলেন, "এক প্রৌঢ়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ এই ঘটনায় তাঁর ছেলের বিরু‌দ্ধেই অভিযোগ রয়েছে৷ ঘটনার পিছনে সম্পত্তির লোভ আছে বলেই আমাদের প্রাথমিক অনুমান৷ তদন্ত শুরু হয়েছে৷" 
স্হানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত লক্ষ্মী ভটকরের স্বামী মুন্না ভাটকর সুদের কারবার করতেন৷ গত চার বছর ধরে তিনি নিখোঁজ৷ তারপর ওই মহিলার সঙ্গে এলাকার এক তৃণমূল কর্মী হাবিব আলমের একটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ তখন লক্ষ্মীদেবীর সঙ্গে তাঁর বড় ছেলে দীপকের বিরোধ বাধে৷ পাঁচুডাঙার বাড়িতে দীপক তার পরিবারকে নিয়ে একতলায় থাকে৷ ছোট ছেলে বাণ্টি ও মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী মেয়ে গুড়িয়াকে নিয়ে এই বাড়ির দোতলায় থাকতেন লক্ষ্মী দেবী৷ ওই মহিলার দেখভালে মাঝেমধ্যেই এই বাড়িতে আসতেন সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে আসা এই হাবিব আলম৷ এটা মেনে নিতে পারতেন না বড় ছেলে দীপক৷  এদিন ছোট ছেলে কিশোর বাণ্টি জানায়, "আমি জল নিতে নিচে আসি৷ সেইসময় দাদা মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে৷ আর নাটক করে নিজেকে এই অস্ত্রে জখম করে পাশের ঘরে রক্তাক্ত অবস্হায় পড়ে থাকে৷ বোন আমাকে সব বলে৷" পুলিশের অনুমান, ওই কিশোরী গুড়িয়া মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় চিত্কার করে ঘটনার প্রতিবাদ করতে পারেনি৷ পরে ওই কিশোর-কিশোরী তার মায়ের বন্ধু হাবিব আলমকে ফোন করে গোটা ঘটনা জানায়৷ নিচে নেমে তারা চিত্কার জুড়ে দেয়৷ হাবিব আলম বলেন, "আমি ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ওই বাড়িতে গিয়ে বাণ্টি ও গুড়িয়াকে উদ্ধার  করি" তবে দীপকের বিরু‌দ্ধে খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেন তার স্ত্রী বিজেতা ভাটকর৷ তাঁর কথায়, "সকালবেলায় আমাদের ঘরে দুষ্কৃতী হামলা হয়৷ আমার স্বামী শাশুড়ি মাকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হন৷ স্বামী নির্দোষ৷" 

logo

No comments:

Post a Comment