Thursday, July 17, 2014

লেভি উঠল, রাজ্যে সস্তা হবে আলু-পিঁয়াজ

লেভি উঠল, রাজ্যে সস্তা হবে আলু-পিঁয়াজ

স্টাফ রিপোর্টার ,

কলকাতা,, ১৭ জুলাই ,২০১৪

আলু-পিঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে এবার লেভি বা নিয়ন্ত্রিত বাজার কর না নেওয়ার সিান্ত নিল রাজ্য সরকার৷ এর ফলে আলু-পিঁয়াজের দাম কিছুটা কমবে বলে মনে করছে রাজ্য৷ বৃহস্পতিবার মহাকরণের রোটান্ডায় মন্ত্রী-সচিবদের বৈঠকে লেভি প্রত্যাহারের গুরুত্বপূর্ণ সিান্ত নেওয়া হয়৷ এর ফলে রাজ্য সরকারের বছরে সাত-আট কোটি টাকা ক্ষতি হবে৷ গুরুত্ব দেওয়া হবে নির্ধারিত দামে বিক্রির প্রচারেও৷ পাশাপাশি ইন্সপেক্টর রাজেরও অনেকটা অবসান হবে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এমনিতে ৪২‌টি জায়গা থেকে প্রতি একশো কেজিতে রাজ্য এক টাকা করে লেভি নেয়৷ এদিনের সিান্তের ফলে মজুতদার বা দালালদের কাছেও স্পষ্ট বার্তা যাবে বলে মনে করা হচেছ৷ 
এবার নাসিকের পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে৷ তার ফলে রাজ্যের বাজারেও প্রভাব পড়েছে৷ রাজ্যে প্রায় আট লক্ষ মেট্রিক টন পিঁয়াজ দরকার হলেও রাজ্যে উত্পাদন হয় মাত্র তিন লক্ষ মেট্রিক টন৷ মূলত নাসিকের বাজারের উপরেই নির্ভর করতে হয়৷ কেন্দ্রীয় সরকার কয়েকদিন আগেই নাসিকের পরিস্হিতি ব্যাখ্যা করে রাজ্যকে বিশেষ ব্যবস্হা নিতে বলে৷ রাজ্য জানিয়ে দেয়, মজুত রাখা সম্ভব নয়৷ 
এদিন আলু ও পিঁয়াজের পরিস্হিতি নিয়ে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু ও কৃষি বিপণনমন্ত্রী অরূপ রায় দফতরের সচিব ও আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন৷ তিন মন্ত্রীই জানিয়েছেন, রাজ্য যে লেভি বা রেগুলেটিং মার্কেটিং ট্যাক্স নেয়, তা আর নেওয়া হবে না৷ দু'একদিনেই এ ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি জারি হবে৷ ফলে আগামী মাস থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে৷ তার আগে ২৮ জুলাই নবান্নে্ টাস্ক ফোর্সের বৈঠক হবে৷ কলকাতার ৩১৮টি বাজারে যাতে আলু, পিঁয়াজ-সহ সবজি ন্যায্য দামে বিক্রি করা যায়, সে ব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা পড়বে৷ প্রয়োজনে কলকাতা পুলিশ থেকে এনফোর্সমেণ্ট ব্রাঞ্চে আরও দক্ষ লোক নিয়োগ করা যায়, তা নিয়েও চূড়ান্ত সিান্ত নেওয়া হবে৷  
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রায় ২০-২২ কোটি টাকা লেভি খাতে উঠলেও মূলত ইন্সপেক্টর রাজের কারণেই মূলত রাজ্যের হাতে আসে সাত কোটি টাকার কিছু বেশি৷ এর মধ্যে আলুর ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষতি হবে ৬ কোটি টাকা ও পিঁয়াজের ক্ষেত্রে ক্ষতি এক কোটি টাকার বেশি৷ ২০ সাল থেকেই লেভি তুলে নিতে বাম সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷ এদিনের বৈঠকে পিঁয়াজের বীজ উত্পাদনেও জোর দেওয়া হয়েছে৷
 রাজ্যে ২০ হাজার মেট্রিক টন বীজ দরকার হলেও রাজ্য পায় মাত্র পাঁচ হাজার৷ পিঁয়াজের উত্পাদন থেকে বীজের জন্য বাঁচিয়ে রাখারও সিান্ত হয়েছে৷ পাশাপাশি নির্ধারিত দামে যাতে আলু-পিঁয়াজ বিক্রি হয়, সে ব্যাপারেও প্রচার চালাবে রাজ্য৷  
logo

No comments:

Post a Comment