ওদের ঈদ নেই, অন্যের কেনাকাটা দেখে কাটে সময়
ছিন্নমূলদের ঈদ
মোরসালিন মিজান
ঈদ উৎসব। এ উৎসবের সত্যি কোন তুলনা হয় না। কী যে আনন্দের একটি উপলক্ষ! গোটা দেশ আনন্দে ভাসছে। প্রস্তুতি হিসেবে প্রথম রোজা থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল ঈদের কেনাকাটা আর এখন রমজানের প্রায় শেষ অথচ কেনাকাটা চলছে। চলছেই। নিজের জন্য, পরিজনের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে শহরের সব মার্কেট শপিংমল চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
হ্যাঁ, এইটুকুন সুন্দর। বড় ভাললাগার। তবে এখানেই যে শেষ হচ্ছে না ঈদের গল্পটা! রাজধানী শহরের ঈদ গল্পের আরও একটি অধ্যায় সব সময় ছিল। এখনও বর্তমান। প্রতিবারের মতো এবারও অজস্র কেনাকাটার শহর ঢাকায় কিছু মানুষ দর্শক হয়ে আছে। ছিন্নমূল হতদরিদ্র এসব মানুষের, আহা, কী ব্যথা-বেদনায় ভরা জীবন! এখানে ওখানে এরা মরতে মরতে বেঁচে আছে। এদের কাছে জীবন মানে, জীবন সংগ্রাম! তাই বলে একটি দিনও কি ওরা হেসে কাটাতে পারবে না? কে দেবে এই উত্তর? আর তাই হতভাগ্যদের জীবনে ঈদের কোন অস্তিত্ব নেই। যাদের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, অর্থবিত্তের যাঁদের কোন অভাব নেই, তাঁরাও খবর নেন না হতভাগ্য মানুষগুলোর। সব মিলিয়ে বড় নিরানন্দের ঈদ। শহর ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি, বস্তি, ফুটপাথ, সড়ক দ্বীপ ঘুরে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। অবশ্য না ঘুরলেও চলে। গাড়ি বা রিক্সা করে আসা-যাওয়ার পথে একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখা যাবে দুর্দশার এই চিত্র।
পরিবাগের একটি বস্তিতে স্বামী ও তিন সন্তানসহ বসবাস করেন আমিনা খাতুন। জনকণ্ঠকে তিনি জানান, স্বামী তাঁর নির্মাণ শ্রমিক। কখনও কাজ পান। কখনও পান না। তাই বড় কষ্টে চলে তাঁদের। ঈদে তিন সন্তানের কারও জন্য পোশাক কেনা হয়নি। দুঃখ করে বলেন, ‘আমরা ঈদ করি না। কিন্তু পোলা মাইয়ার লাইগ্যা খারাপ লাগতাছে। পরে নিজেই যেন নিজেকে সান্ত¡না দেন। বলেন, ‘সবার জইন্য সব কিছু না। আমাগো জন্য নাই ঈদ।’ পাশের একটি বস্তি ঘরের সামনে বসে রান্না করছিলেন জুবেদা বেগম। তাঁরও দুই সন্তান। কিন্তু কারও জন্যই কোন পোশাক কেনা হয়নি। পোশাক কেনার বিষয়টি তাঁর মাথায় আছে বলে মনে হলো না। কেন? জানতে চাইলে বললেন, ভাই, গরিবের আবার ঈদ! দুইডা পোলা। সকাল থেইকা না খায়া আছে। এহন ভাত বসাইছি আর আপনে কন ঈদ! মতিঝিলের এজিবি কলোনির পাশের বস্তিতে গিয়ে দেখা গেল প্রায় একই চিত্র। এখানে কারও মাঝে ঈদের ছিটেফোঁটা নেই। তবে, হ্যাঁ, সকলেই জানেন- ঈদ আসছে। শহরজুড়ে এখন কেনাকাটার ধুম। সব দেখে খারাপ লাগে না? এমন প্রশ্নে আমির আলী নামের এক রিক্সাচালক বললেন, ঢাকা শহরের মানুষের টেকা থাকবোই। কিন্তু হেই টেকা তো আমারারে দিয়া দিত না কেউ। নিজে যেইডা কামাই করি সেইডা দিয়া চলতাছি। ঈদ দিয়া কি করমু?
শহরের বিভিন্ন ফুটপাথ এবং সড়ক দ্বীপেও এখন জায়গা করে নিয়েছে ছিন্নমূল মানুষ। হাইকোর্ট মাজার এলাকার একটি ফুটপাথে গিয়ে দেখা গেল, কোন কোন অনাহারী মানুষের পেট মাটির সঙ্গে যেন মিশে গেছে। এর পরও ঈদের দিনটি একটু আনন্দে কাটানোর স্বপ্ন অনেকে দেখেন। তেমন একজন আশকুর আলী। যখন যে কাজ পায়, করেন। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘ঈদ আসতাছে। একটু ভাল-মন্দ খাইতে মন চায়। কাম খুঁজতাছি। হাতে টেকা অইলে খাইমু।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ভাগ্য বিড়ম্বিতদের এমন ছোটখাটো স্বপ্ন পূরণের জন্য এগিয়ে আসেননি কেউ। এই শহর দাঁড়াতে পারেনি হতদরিদ্রদের পাশে। একদিনের সুখও কি তাহলে কপালে জুটবে না অসহায় মানুষগুলোর?
ঈদ উৎসব। এ উৎসবের সত্যি কোন তুলনা হয় না। কী যে আনন্দের একটি উপলক্ষ! গোটা দেশ আনন্দে ভাসছে। প্রস্তুতি হিসেবে প্রথম রোজা থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল ঈদের কেনাকাটা আর এখন রমজানের প্রায় শেষ অথচ কেনাকাটা চলছে। চলছেই। নিজের জন্য, পরিজনের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে শহরের সব মার্কেট শপিংমল চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
হ্যাঁ, এইটুকুন সুন্দর। বড় ভাললাগার। তবে এখানেই যে শেষ হচ্ছে না ঈদের গল্পটা! রাজধানী শহরের ঈদ গল্পের আরও একটি অধ্যায় সব সময় ছিল। এখনও বর্তমান। প্রতিবারের মতো এবারও অজস্র কেনাকাটার শহর ঢাকায় কিছু মানুষ দর্শক হয়ে আছে। ছিন্নমূল হতদরিদ্র এসব মানুষের, আহা, কী ব্যথা-বেদনায় ভরা জীবন! এখানে ওখানে এরা মরতে মরতে বেঁচে আছে। এদের কাছে জীবন মানে, জীবন সংগ্রাম! তাই বলে একটি দিনও কি ওরা হেসে কাটাতে পারবে না? কে দেবে এই উত্তর? আর তাই হতভাগ্যদের জীবনে ঈদের কোন অস্তিত্ব নেই। যাদের কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা, অর্থবিত্তের যাঁদের কোন অভাব নেই, তাঁরাও খবর নেন না হতভাগ্য মানুষগুলোর। সব মিলিয়ে বড় নিরানন্দের ঈদ। শহর ঢাকার বিভিন্ন অলিগলি, বস্তি, ফুটপাথ, সড়ক দ্বীপ ঘুরে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। অবশ্য না ঘুরলেও চলে। গাড়ি বা রিক্সা করে আসা-যাওয়ার পথে একটু চোখ মেলে তাকালেই দেখা যাবে দুর্দশার এই চিত্র।
পরিবাগের একটি বস্তিতে স্বামী ও তিন সন্তানসহ বসবাস করেন আমিনা খাতুন। জনকণ্ঠকে তিনি জানান, স্বামী তাঁর নির্মাণ শ্রমিক। কখনও কাজ পান। কখনও পান না। তাই বড় কষ্টে চলে তাঁদের। ঈদে তিন সন্তানের কারও জন্য পোশাক কেনা হয়নি। দুঃখ করে বলেন, ‘আমরা ঈদ করি না। কিন্তু পোলা মাইয়ার লাইগ্যা খারাপ লাগতাছে। পরে নিজেই যেন নিজেকে সান্ত¡না দেন। বলেন, ‘সবার জইন্য সব কিছু না। আমাগো জন্য নাই ঈদ।’ পাশের একটি বস্তি ঘরের সামনে বসে রান্না করছিলেন জুবেদা বেগম। তাঁরও দুই সন্তান। কিন্তু কারও জন্যই কোন পোশাক কেনা হয়নি। পোশাক কেনার বিষয়টি তাঁর মাথায় আছে বলে মনে হলো না। কেন? জানতে চাইলে বললেন, ভাই, গরিবের আবার ঈদ! দুইডা পোলা। সকাল থেইকা না খায়া আছে। এহন ভাত বসাইছি আর আপনে কন ঈদ! মতিঝিলের এজিবি কলোনির পাশের বস্তিতে গিয়ে দেখা গেল প্রায় একই চিত্র। এখানে কারও মাঝে ঈদের ছিটেফোঁটা নেই। তবে, হ্যাঁ, সকলেই জানেন- ঈদ আসছে। শহরজুড়ে এখন কেনাকাটার ধুম। সব দেখে খারাপ লাগে না? এমন প্রশ্নে আমির আলী নামের এক রিক্সাচালক বললেন, ঢাকা শহরের মানুষের টেকা থাকবোই। কিন্তু হেই টেকা তো আমারারে দিয়া দিত না কেউ। নিজে যেইডা কামাই করি সেইডা দিয়া চলতাছি। ঈদ দিয়া কি করমু?
শহরের বিভিন্ন ফুটপাথ এবং সড়ক দ্বীপেও এখন জায়গা করে নিয়েছে ছিন্নমূল মানুষ। হাইকোর্ট মাজার এলাকার একটি ফুটপাথে গিয়ে দেখা গেল, কোন কোন অনাহারী মানুষের পেট মাটির সঙ্গে যেন মিশে গেছে। এর পরও ঈদের দিনটি একটু আনন্দে কাটানোর স্বপ্ন অনেকে দেখেন। তেমন একজন আশকুর আলী। যখন যে কাজ পায়, করেন। জনকণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘ঈদ আসতাছে। একটু ভাল-মন্দ খাইতে মন চায়। কাম খুঁজতাছি। হাতে টেকা অইলে খাইমু।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ভাগ্য বিড়ম্বিতদের এমন ছোটখাটো স্বপ্ন পূরণের জন্য এগিয়ে আসেননি কেউ। এই শহর দাঁড়াতে পারেনি হতদরিদ্রদের পাশে। একদিনের সুখও কি তাহলে কপালে জুটবে না অসহায় মানুষগুলোর?
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/
No comments:
Post a Comment