Tuesday, July 22, 2014

বাগেরহাটের কসাই সিরাজ মাস্টারকে আজ হাজির করা হবে যুদ্ধাপরাধী বিচার

বাগেরহাটের কসাই সিরাজ মাস্টারকে আজ হাজির করা হবে
যুদ্ধাপরাধী বিচার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী কায়সার বাহিনীর প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশন পক্ষ আজ যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন শুরু করবেন। প্রসিকিউশনের ৩২তম সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমকে আসামি পক্ষের আইনজীবীর জেরা আজ সাড়ে ১২টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রসিকিউশন পক্ষকে আজ যুক্তিতর্ক শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার এ আদেশ প্রদান করেছে। ট্রাইব্যুনালে অন্য দু’সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম।
অন্যদিকে বাগেরহাটের কচুয়ায় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শাখারীকাঠি বাজারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মানবতাবিরোধী মামলার পলাতক আসামি বাগেরহাটের কসাই রাজাকার কমান্ডার সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে (৭৪) আজ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে। সোমবার তাকে বাগেরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের সর্বশেষ সাক্ষী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমের জেরা মঙ্গলবার একটার মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও তা শেষ করা যায়নি। ট্রাইব্যুনাল আসামি পক্ষের আইনজীবীকে আজ বেলা সাড়ে ১২টার মধ্যে জেরা শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রসিকিউশন পক্ষকে যুক্তিতর্ক শুরু করার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
২ ও ৭ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোয়ারা বেগমের দু’দিনের জবানবন্দী প্রদান করেন। এরপর থেকে ৫ কার্যদিবসে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা হয। আজ আবারও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করবেন আসামি পক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আবদুস সোবহান তরফদার। এ সময় প্রসিকিউশন পক্ষে প্রসিকিউটর রানাদাশ গুপ্ত ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। কায়সারের বিরুদ্ধে প্রথমে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন প্রসিকিউশন। এরপর তার পক্ষে আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ হলে আইন অনুসারে রায়ের দিন ধার্য করবে ট্রাইব্যুনাল। গত ৯ মার্চ শুরুর পর সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রসিকিউশন পক্ষের আরও ৩১ জন সাক্ষী।
২ ফেব্রুয়ারি সৈয়দ কায়সারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। কায়সারকে গণহত্যার একটি, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি এবং ধর্ষণের দুটিসহ মোট ১৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ২১ মে বিকেল পৌনে চারটায় সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনাল তাকে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়। পরদিন ২২ মে কায়সারের জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে তিনি শর্তসাপেক্ষে তার ছেলের বাসায় জামিনে রয়েছেন।
জাতীয় পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরে সৈয়দ কায়সার প্রথমে হবিগঞ্জ মহকুমা শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকার কমান্ডার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ৫০০-৭০০ স্বাধীনতাবিরোধী লোক নিয়ে নিজের নামে ‘কায়সার বাহিনী’ নামে পাকিস্তানী সেনাদের সহযোগিতা করার জন্য একটি সহযোগী বাহিনী গঠন করেন। তিনি নিজে ওই বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ‘কায়সার বাহিনী’ নামাঙ্কিত এ বাহিনীর নিজস্ব ইউনিফরমও ছিল। কায়সার এ বাহিনীর মাধ্যমে হবিগঞ্জ ও ব্রাক্ষণবাড়িয়াসহ বৃহত্তর কুমিল্লায় হত্যা, গণহত্যা, মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, ধর্ষণ, হামলা, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালান।
সিরাজুল হক ॥ বাগেরহাটের কচুয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সময় শাখারীকাঠি বাজারে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোসহ ৬টি সুনির্দিষ্ট অপরাধে ৮শ’ ১৯ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী মামলার পলাতক আসামি বাগেরহাটের কসাই রাজাকার কমান্ডার সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে (৭৪) আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জনকণ্ঠকে বলেছেন, মঙ্গলবার সিরাজুল হককে বাগেরহাট জেলা ম্যাজিস্ট্র্রেট কার্যালয়ে হাজির করা হয়। ম্যাজিস্ট্র্রেট উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আজ রাজাকার সিরাজ মাস্টারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ হাজির করা হবে।
সোমবার বাগেরহাটের কসাই রাজাকার কমান্ডার সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে (৭৪) রাত ১১ টায় পুলিশ গ্রেফতার করে বাগেরহাটের পুলিশ। বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামে তার চাচাশ্বশুর মরহুম মোসলেম পাইকের পরিত্যক্ত খুপড়ি ঘর থেকে পুলিশ তাকে আটক করে।
সিরাজ মাস্টারকে গ্রেফতার নিয়ে শাখারীকাঠী গণহত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত পলাতক ৩ আসামির সবাইকে কচুয়া, রাজশাহী ও বাগেরহাট সদর থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বাগেরহাট সদরের গোটাপাড়া গ্রামের মরহুম হারেজ উদ্দিনের ছেলে গ্রেফতারকৃত রাজাকার কমান্ডার সিরাজ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধের পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামে বসবাস করে আসছিল।
তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, কচুয়ার রঘুদত্তকাঠি গ্রামের শহীদ জীতেন্দ্রনাথ দাসের ছেলে নিমাই চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ২০০৯ সালে কচুয়া থানায় সিরাজ রাজাকার কমান্ডারসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, শাখারীকাঠি বাজারে ৪২ জনকে গণহত্যা করা হয়। তার মধ্যে তার পিতাও নিহত হন। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্ত দল দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিরাজ মাস্টার, খান আকরাম হোসেন ও আব্দুল লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ১০ জুন এই ৩ রাজাকারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করলে কচুয়া থানা পুলিশ গত ১১ জুন এই মামলার পলাতক আসামি আঃ লতিফ তালুকদারকে গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। এরপর গত ১৯ জুন অপর পলাতক আসামি আকরাম হোসেন খানকে রাজশাহী থেকে মোরেলগঞ্জ থানা পুলিশ গ্রেফতার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। অবশেষে এই মামলার প্রধান পলাতক আসামি সিরাজ মাস্টারকে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ সদর উপজেলার ডেমা গ্রাম থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/

No comments:

Post a Comment