৪ বছরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সাত শ’ কোটি টাকা ব্যয়ের ফিরিস্তি
কোথায় ঢালা হলো চসিকের এত অর্থ চট্টগ্রামবাসীর প্রশ্ন
মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে গত ৪ বছরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ৭শ’ কোটি টাকার কাজ করেছে বলে দাবি করার ঘটনা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। সরকার থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ীপ্রাপ্তি থাকার পরও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ নগরীর রাস্তাঘাটের দুরবস্থা, সামান্য বৃষ্টিতেই উঁচু-নিচু সব ধরনের এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া, শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়াসহ দৃশ্যমান কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে ৪ বছরে এত বিপুল অঙ্কের অর্থ কোথায় ঢালা হলো। বরাদ্দের বিশাল পরিমাণ অর্থ লুটেরাদের পকেট ভর্তি করেছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সোমবার অনুষ্ঠিত ৪৯তম সাধারণ সভায় চার বছরে ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি দিয়ে মেয়র মনজুর আলম নগরবাসীকে বোকা বানাতে চেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনও বলা হচ্ছে কোন মানুষকে একবার বোকা বানানো যায়। কিন্তু বার বার বোকা বানানো সম্ভব নয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রতিবছর উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে ফিরিস্তি দিয়ে নগরবাসীর সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার তিনি চার বছরের উন্নয়ন কাজের ব্যয় ৭শ’ কোটি টাকা দেখাতে গিয়ে উল্টো সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ব্যয় খাতে টাকার অঙ্ক বেশি পরিমাণে দেখিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে খোদ ওয়ার্ড কাউন্সিলারদের একটি অংশ এর সমালোচনায় মুখর।
উল্লেখ্য, গত সোমবার চসিকের ৪৯তম সাধারণ সভায় মেয়র আলহাজ এম মনজুর আলম তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন, ওয়াসার পানি প্রকল্পের লাইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট কেটে ফেলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বর্ষা মৌসুম চলে আসায় এসব রাস্তাঘাটের অবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ফ্লাইওভার প্রকল্প বাস্তবায়নেও বিভিন্ন সড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, জাইকার মাধ্যমে ২২১ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে চলতি ২০১৪ সাল অর্থবছর পর্যন্ত ১৪০ কোটি টাকার অপেক্ষমাণ বিলসহ ৪ বছরে ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। ক্ষমতাগ্রহণের পর তাঁর নেতত্বে উন্নয়ন কর্মকা-সহ ব্যয়ের ফিরিস্তি দিয়ে তিনি সাধারণ সভাকে অবহিত করেছেন ২০১০ সালে ১৫০ কোটি টাকার দায় ছিল। ওই সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ছিল সাড়ে ৫ কোটি টাকা। বর্তমানে তা ৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। প্রতি মাসে বিদ্যুত বিল পরিশোধ করতে হয় প্রায় কোটি টাকা। জ্বালানি বাবদ দেড় কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া প্রতিবছর রাস্তার প্যাচওয়ার্কে ব্যয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। তা ছাড়া শিক্ষা খাত চলে ভর্তুকি দিয়ে। তিনি জানিয়েছেন, জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার মাধ্যমে শহরের জাকির হোসেন রোড, এয়ারপোর্ট রোড, গুপ্ত খালের পাশে প্রতিরোধ দেয়াল, ব্রিকসলিং, মেরিনার্স রোড পেভমেন্ট, ফুটপাথ ও ড্রেন, চাক্তাই খালের ওপর পিসি গার্ডার ব্রিজ, ফিশারি ঘাটের ব্রিজ, জলিলগঞ্জ ব্রিজ, টেকপাড়া ব্রিজ, মহেশখালের উভয় পাশে প্রতিরোধ দেয়াল, ডাইভারশন খালের উভয় পাশে প্রতিরোধ দেয়াল, মির্জাখালের উভয় পাশের প্রতিরোধ দেয়াল, সুরভী আবাসিক এলাকা সংলগ্ন খালে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ, সৈয়দশাহ রোডের উন্নয়ন ডাইভারশন খালের পাশে রাস্তা নির্মাণ, রুবি সিমেন্ট কারখানার পাশে ব্রিজ নির্মাণসহ কয়েকটি প্রস্তাবিত প্রকল্পে ২২১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। চাক্তাই খালের পাশে ২০ ফুট প্রস্থ একটি রাস্তা নির্মাণ প্রক্রিয়া ভূমিঅধিগ্রহণ জটিলতায় স্থবির হয়ে আছে।
মেয়র তাঁর বক্তব্যে কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের সংবলিত প্রয়াসে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান। তিনি ১৯৯৫ সালে প্রণীত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সাধারণ সভায় কর্পোরেশনের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস মাসিক বেতনের ২০ ভাগ এবং তা সর্বনিম্ন ১৫শ’ টাকা অনুমোদিত হয়। সভায় ওয়ার্ডভিত্তিক ঈদ জামাতের জন্য ৬ হাজার টাকা হারে অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ছাড়া জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ও বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। চসিকের এ সাধারণ সভায় ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলী সেনাবাহিনী হামলার নিন্দা জানানো হলেও বর্তমান সরকারের সমুদ্র বিজয় নিয়ে কোন অভিনন্দন জানানো নিয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি, যা নগরবাসীর অনেকের কাছে বিস্ময়কর ঠেকেছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বর্তমান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর গত জুন মাসে ক্ষমতার চার বছর মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। এ চার বছরে চসিকের সফলতার ভাণ্ডারে অর্জনের যে ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে এবং এর বিপরীতে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে তার সুফল চট্টগ্রামের মানুষ পেয়েছে কিনা তা প্রশ্নবোধক হয়ে আছে। যদি সুফল পাওয়া যেত তাহলে নগরীর রাস্তাঘাটের করুণ দশা হতো না। চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু থেকে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যেত না। সবচেয়ে প্রধানতম প্রশ্নটি উঠেছে জলাবদ্ধতা নিয়ে। মহানগরীতে ছোট বড় যে ৪৫০টি খাল রয়েছে এগুলোর সংস্কার কি আদৌ হয়েছে। নাকি সংস্কারের নামে অর্থ লোপাট হয়েছে। ইতোমধ্যে সচেতন নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে গত ৪ বছর ধরে নগরবাসী উন্নয়ন ও সেবা বঞ্চিত। জনগণের কাছে প্রদত্ত বর্তমান মেয়রের ওয়াদা সম্পূর্ণ অবাস্তবায়িত। তার নির্বাচনী ইশতেহার বলতে গেলে হিমাগারে চলে গেছে। বিএনপির সমর্থনে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান মেয়র মনজুর আলম তার আগের আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রকল্পগুলোও ধরে রাখতে পারেননি। নগরীর বৃহত্তম সিএনজি ফিলিং স্টেশনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানটি ভাড়ায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। মিনারেল ওয়াটার প্রকল্পটি বন্ধ করা হয়েছে। ৪৬ আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থা বড়ই নাজুক। স্কুল-কলেজের পরীক্ষার ফলাফলে অবনতি ঘটেছে। পাসের হার হ্রাস পেয়েছে। এদিকে একজন ওয়ার্ড কমিশনার তাঁর নাম প্রকাশ না করা শর্তে মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে জানান, এ পর্যন্ত সরকারী বরাদ্দ পাওয়া গেছে ২৮০ কোটি টাকারও বেশি। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির সমন্বয় হলেও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন নগরবাসী কেন পাচ্ছে না এর কোন উত্তর মেলেনি। চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে রাস্তা কাটা নিয়ে জাইকা ১০ কোটি টাকারও বেশি জমা দিয়েছে চসিকের ফান্ডে। কিন্তু সে রাস্তা কর্তিত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। আহত-নিহত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ৪১ ওয়ার্ডে প্রতিটির জন্য ৫০ লাখ করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলররা বরাদ্দ পেয়েছেন এর অর্ধেক। এসব বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরিভাবে কাজে লাগেনি বলে ব্যাপক অভিযোগ থাকার পরও এ নিয়ে কোন তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণের রেকর্ড নেই। তার পরও চট্টগ্রামবাসী কাক্সিক্ষত উন্নয়নে কোন সফলতা পাচ্ছে না।
গত ২২ জুন চসিকের পক্ষ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ১২শ’ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। উক্তে বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন বরাদ্দ নেই। পেশকৃত ঐ বাজেটটি বর্তমান মেয়রের শেষ বাজেট। কেননা আগামী বছরের জুন মাসে তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নির্বাচনকালে তার অন্যতম দুটি প্রতিশ্রুতি ছিল। সেগুলো হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। এগুলো কোনটিই পূরণ হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সোমবার অনুষ্ঠিত ৪৯তম সাধারণ সভায় চার বছরে ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের ফিরিস্তি দিয়ে মেয়র মনজুর আলম নগরবাসীকে বোকা বানাতে চেয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনও বলা হচ্ছে কোন মানুষকে একবার বোকা বানানো যায়। কিন্তু বার বার বোকা বানানো সম্ভব নয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রতিবছর উন্নয়নের কর্মকাণ্ডে ফিরিস্তি দিয়ে নগরবাসীর সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হওয়ার পর এবার তিনি চার বছরের উন্নয়ন কাজের ব্যয় ৭শ’ কোটি টাকা দেখাতে গিয়ে উল্টো সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ব্যয় খাতে টাকার অঙ্ক বেশি পরিমাণে দেখিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে খোদ ওয়ার্ড কাউন্সিলারদের একটি অংশ এর সমালোচনায় মুখর।
উল্লেখ্য, গত সোমবার চসিকের ৪৯তম সাধারণ সভায় মেয়র আলহাজ এম মনজুর আলম তাঁর বক্তব্যে দাবি করেছেন, ওয়াসার পানি প্রকল্পের লাইন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শহরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট কেটে ফেলা হয়েছে। ইতোমধ্যে বর্ষা মৌসুম চলে আসায় এসব রাস্তাঘাটের অবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ফ্লাইওভার প্রকল্প বাস্তবায়নেও বিভিন্ন সড়কের অবস্থা বেহাল হয়ে পড়েছে। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানিয়েছেন, জাইকার মাধ্যমে ২২১ কোটি টাকা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী ২০১০ সাল থেকে চলতি ২০১৪ সাল অর্থবছর পর্যন্ত ১৪০ কোটি টাকার অপেক্ষমাণ বিলসহ ৪ বছরে ৭শ’ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। ক্ষমতাগ্রহণের পর তাঁর নেতত্বে উন্নয়ন কর্মকা-সহ ব্যয়ের ফিরিস্তি দিয়ে তিনি সাধারণ সভাকে অবহিত করেছেন ২০১০ সালে ১৫০ কোটি টাকার দায় ছিল। ওই সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতা ছিল সাড়ে ৫ কোটি টাকা। বর্তমানে তা ৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। প্রতি মাসে বিদ্যুত বিল পরিশোধ করতে হয় প্রায় কোটি টাকা। জ্বালানি বাবদ দেড় কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া প্রতিবছর রাস্তার প্যাচওয়ার্কে ব্যয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা। তা ছাড়া শিক্ষা খাত চলে ভর্তুকি দিয়ে। তিনি জানিয়েছেন, জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার মাধ্যমে শহরের জাকির হোসেন রোড, এয়ারপোর্ট রোড, গুপ্ত খালের পাশে প্রতিরোধ দেয়াল, ব্রিকসলিং, মেরিনার্স রোড পেভমেন্ট, ফুটপাথ ও ড্রেন, চাক্তাই খালের ওপর পিসি গার্ডার ব্রিজ, ফিশারি ঘাটের ব্রিজ, জলিলগঞ্জ ব্রিজ, টেকপাড়া ব্রিজ, মহেশখালের উভয় পাশে প্রতিরোধ দেয়াল, ডাইভারশন খালের উভয় পাশে প্রতিরোধ দেয়াল, মির্জাখালের উভয় পাশের প্রতিরোধ দেয়াল, সুরভী আবাসিক এলাকা সংলগ্ন খালে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ, সৈয়দশাহ রোডের উন্নয়ন ডাইভারশন খালের পাশে রাস্তা নির্মাণ, রুবি সিমেন্ট কারখানার পাশে ব্রিজ নির্মাণসহ কয়েকটি প্রস্তাবিত প্রকল্পে ২২১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। চাক্তাই খালের পাশে ২০ ফুট প্রস্থ একটি রাস্তা নির্মাণ প্রক্রিয়া ভূমিঅধিগ্রহণ জটিলতায় স্থবির হয়ে আছে।
মেয়র তাঁর বক্তব্যে কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের সংবলিত প্রয়াসে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে বলে জানান। তিনি ১৯৯৫ সালে প্রণীত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সাধারণ সভায় কর্পোরেশনের অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস মাসিক বেতনের ২০ ভাগ এবং তা সর্বনিম্ন ১৫শ’ টাকা অনুমোদিত হয়। সভায় ওয়ার্ডভিত্তিক ঈদ জামাতের জন্য ৬ হাজার টাকা হারে অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ ছাড়া জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ও বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন স্টেডিয়ামে ঈদ জামাত অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। চসিকের এ সাধারণ সভায় ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলী সেনাবাহিনী হামলার নিন্দা জানানো হলেও বর্তমান সরকারের সমুদ্র বিজয় নিয়ে কোন অভিনন্দন জানানো নিয়ে সিদ্ধান্ত আসেনি, যা নগরবাসীর অনেকের কাছে বিস্ময়কর ঠেকেছে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বর্তমান মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর গত জুন মাসে ক্ষমতার চার বছর মেয়াদ পূর্ণ করেছেন। এ চার বছরে চসিকের সফলতার ভাণ্ডারে অর্জনের যে ফিরিস্তি দেয়া হয়েছে এবং এর বিপরীতে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে তার সুফল চট্টগ্রামের মানুষ পেয়েছে কিনা তা প্রশ্নবোধক হয়ে আছে। যদি সুফল পাওয়া যেত তাহলে নগরীর রাস্তাঘাটের করুণ দশা হতো না। চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু থেকে নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যেত না। সবচেয়ে প্রধানতম প্রশ্নটি উঠেছে জলাবদ্ধতা নিয়ে। মহানগরীতে ছোট বড় যে ৪৫০টি খাল রয়েছে এগুলোর সংস্কার কি আদৌ হয়েছে। নাকি সংস্কারের নামে অর্থ লোপাট হয়েছে। ইতোমধ্যে সচেতন নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে গত ৪ বছর ধরে নগরবাসী উন্নয়ন ও সেবা বঞ্চিত। জনগণের কাছে প্রদত্ত বর্তমান মেয়রের ওয়াদা সম্পূর্ণ অবাস্তবায়িত। তার নির্বাচনী ইশতেহার বলতে গেলে হিমাগারে চলে গেছে। বিএনপির সমর্থনে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান মেয়র মনজুর আলম তার আগের আমলে প্রতিষ্ঠিত প্রকল্পগুলোও ধরে রাখতে পারেননি। নগরীর বৃহত্তম সিএনজি ফিলিং স্টেশনটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানটি ভাড়ায় লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। মিনারেল ওয়াটার প্রকল্পটি বন্ধ করা হয়েছে। ৪৬ আরবান স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অবস্থা বড়ই নাজুক। স্কুল-কলেজের পরীক্ষার ফলাফলে অবনতি ঘটেছে। পাসের হার হ্রাস পেয়েছে। এদিকে একজন ওয়ার্ড কমিশনার তাঁর নাম প্রকাশ না করা শর্তে মঙ্গলবার জনকণ্ঠকে জানান, এ পর্যন্ত সরকারী বরাদ্দ পাওয়া গেছে ২৮০ কোটি টাকারও বেশি। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির সমন্বয় হলেও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন নগরবাসী কেন পাচ্ছে না এর কোন উত্তর মেলেনি। চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নে রাস্তা কাটা নিয়ে জাইকা ১০ কোটি টাকারও বেশি জমা দিয়েছে চসিকের ফান্ডে। কিন্তু সে রাস্তা কর্তিত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় কবলিত হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। আহত-নিহত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, ৪১ ওয়ার্ডে প্রতিটির জন্য ৫০ লাখ করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলররা বরাদ্দ পেয়েছেন এর অর্ধেক। এসব বরাদ্দের অর্থ পুরোপুরিভাবে কাজে লাগেনি বলে ব্যাপক অভিযোগ থাকার পরও এ নিয়ে কোন তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণের রেকর্ড নেই। তার পরও চট্টগ্রামবাসী কাক্সিক্ষত উন্নয়নে কোন সফলতা পাচ্ছে না।
গত ২২ জুন চসিকের পক্ষ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য ১২শ’ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। উক্তে বাজেটে জলাবদ্ধতা নিরসনে কোন বরাদ্দ নেই। পেশকৃত ঐ বাজেটটি বর্তমান মেয়রের শেষ বাজেট। কেননা আগামী বছরের জুন মাসে তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নির্বাচনকালে তার অন্যতম দুটি প্রতিশ্রুতি ছিল। সেগুলো হচ্ছে জলাবদ্ধতা নিরসন ও নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা। এগুলো কোনটিই পূরণ হয়নি।
http://allbanglanewspapers.com/janakantha/
No comments:
Post a Comment