চা-মজুরির ত্রিপাক্ষিক নিষ্ফলা, পঞ্চম বৈঠক ২৫শে
|
সরকারকে অবমাননা করলে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের, ১৯শে জমায়েত দার্জিলিঙে
![]()
অলক সরকার: শিলিগুড়ি, ১৬ জুলাই– চা-মজুরি চুক্তি নির্ধারণ ঘিরে এবারে উত্তপ্ত হতে শুরু করল উত্তরবঙ্গের চা-বলয়৷ বুধবার উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত চা-মজুরি চুক্তি নিয়ে চতুর্থ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও ভেস্তে যাওয়ায় চা-শ্রমিকদের কো-অর্ডিনেশন কমিটি রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছে এদিন৷ কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষে জিয়াউল আলম জানান, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবিকে অবমাননা করছে৷ যদি শ্রমিক, রাজ্য সরকার সকলকেই অবমাননা করতে শুরু করে তবে বাগানে বাগানে বৃহত্তর আন্দোলন হবে৷ ইতিমধ্যে তাঁরা সমস্ত চা-শ্রমিক সংগঠনকে নিয়ে ১৯ জুলাই দার্জিলিঙে জমায়েত করার কর্মসূচি নিয়েছেন৷ সেখানেই আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে৷ তৃতীয় ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচনা অনেকটা দূর এগোলেও চতুর্থ বৈঠকে তেমন কিছুই এগোল না৷ মালিকপক্ষ থেকেও কোনও রকম নতুন প্রস্তাব এল না৷ উল্টে ভি ডি এ (ভেরিয়েবল ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স) নিয়ে চাপ দেওয়ায় মালিকপক্ষ আরও নিজেদের গুটিয়ে রাখল৷ মালিক সংগঠনের তরফে টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ভট্টাচার্য জানান, আগের বৈঠকে একটি শ্রমিক সংগঠন ৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৪ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল৷ তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তাবও ছিল৷ কিন্তু সমস্ত সংগঠন সম্মিলিতভাবে প্রস্তাব না দিলে আমরা কীভাবে এগোব? আশা করি পরবর্তী বৈঠকে সেরকম প্রস্তাব আসবে৷ উল্লেখ্য, ৩ বছর অম্তর চা-বাগান শ্রমিকদের মজুরি চুক্তি হয়৷ শেষ চুক্তি হয়েছিল ২০১১ সালে৷ তখন ৬৭ টাকা মজুরি বাড়িয়ে ৩ বছরে ৯৫ টাকা করা হয়েছে৷ এ বছর যথারীতি ৪টি বৈঠক হয়ে গেল৷ যেভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয়েছে, সেই পরিস্হিতিতে দাঁড়িয়ে ইউনাইটেড টি ওয়ার্কার্স ফ্রন্ট ৩২২ টাকা মজুরি করার প্রস্তাব দিয়েছে৷ কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে রেশন বাদে ২৮৫ টাকা এবং রেশন ধরলে ৩০০-৩২২ টাকা প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবং অবশ্যই ভি ডি এ লাগু করার দাবি থাকছে৷ আই এন টি টি ইউ সি-র রাজ্যের কার্যকরী সভাপতি দোলা সেনের পরিষ্কার বক্তব্য, আমরা মজুরি বৃদ্ধি চাই৷ তাই বলে ৪০০-৫০০ টাকা দাবি করব না, যাতে বাগান বন্ধ হয়ে যায়৷ এখন সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি আছে ২০৬ টাকা৷ সেটাকে মাথায় রেখেই চা-মজুরি ঠিক করার চেষ্টা করছি৷ আমাদের প্রথম লক্ষ্য ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা৷ সেটা হয়ে গেলে পরবর্তী ডি এ, পি এফ, গ্র্যাচুইটি, বোনাস, সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কথা হবে৷ অন্য দিকে রাজ্য সরকারের তরফে শ্রম দপ্তরের প্রধান সচিব অমল রায়চৌধুরি প্রস্তাব দিয়েছেন, রেশন বা অন্যান্য সুবিধা যা দেওয়া হয় সব নগদে দিতে৷ এতে শ্রমিকেরা কম বঞ্চিত হবেন৷ সেদিক থেকে এদিনের আলোচনা ভাল হয়েছে বলে মনে করেন দোলা সেন৷ যদিও একই দলের নেতা তথা তরাই ডুয়ার্স ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বৈঠকটিকে আশাপ্রদ মনে করেননি৷ এবং দোলা সেন আগের বৈঠকে যে মজুরির প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতেও তাঁর আপত্তি৷ অঙ্কটা আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন৷ এবং বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি করতে ভি ডি এ-র ব্যাপারে তিনিই সওয়াল করেন৷ যাতে সায় দিয়েছে অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনও৷ এদিনের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে শ্রম কমিশনার জাভেদ আখতার, শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেবও ছিলেন৷ বৈঠক শুরু হয় সওয়া ১টায়৷ কিন্তু আড়াইটার পর গৌতম দেব বেরিয়ে যান৷ ৩টে ২০ মিনিটে শ্রমমন্ত্রীও বেরিয়ে যান৷ তার পর আর বেশিক্ষণ বৈঠক স্হায়ী হয়নি৷ এদিকে এদিন উত্তরকন্যার বাইরে দোলা সেনের অনুগামীরা টানা স্লোগান দিতে থাকেন৷ পাশে পাল্লা দিয়ে বিক্ষোভ দেখান পি টি ডব্লু টি-র সদস্যরাও৷ মনে করা হচ্ছে, আগের দিনের মতো কোনও সংগঠন যাতে বিক্ষোভ দেখাতে না পারে তার জন্য শাসক দলের শ্রমিকরাই গোটা চত্বর নিজেদের কবজায় করে নেন৷
|
বাঙালির সম্পূর্ণ ভূগোল,ইতিহাস,সংস্কৃতি,সাহিত্য, শিল্প,অর্থ,বাণিজ্য,বিশ্বায়ণ,রুখে দাঁড়াবার জেদ, বৌদ্ধময় ঐতিহ্য, অন্ত্যজ ব্রাত্য বহিস্কৃত শরণার্থী জীবন যাপনকে আত্মপরিচয়,চেতনা,মাতৃভাষাকে রাজনৈতিক সীমানা ডিঙিয়ে আবিস্কার করার প্রচেষ্টা এই ব্লগ,আপনার লেখাও চাই কিন্তু,যে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযাগ নেই,তাঁদের খোঁজে এই বাস্তুহারা তত্পরতা,যেখবর মীডিয়া ছাপে না, যারা ক্ষমতার, আধিপাত্যের বলি প্রতিনিয়তই,সেই খবর,লেখা পাঠান,খবর দিন এখনই এই ঠিকানায়ঃpalashbiswaskl@gmail.com
Thursday, July 17, 2014
চা-মজুরির ত্রিপাক্ষিক নিষ্ফলা, পঞ্চম বৈঠক ২৫শে সরকারকে অবমাননা করলে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের, ১৯শে জমায়েত দার্জিলিঙে
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment