Thursday, July 17, 2014

চা-মজুরির ত্রিপাক্ষিক নিষ্ফলা, পঞ্চম বৈঠক ২৫শে সরকারকে অবমাননা করলে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের, ১৯শে জমায়েত দার্জিলিঙে

চা-মজুরির ত্রিপাক্ষিক নিষ্ফলা, পঞ্চম বৈঠক ২৫শে
সরকারকে অবমাননা করলে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শ্রমিক সংগঠনের, ১৯শে জমায়েত দার্জিলিঙে

Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata

অলক সরকার: শিলিগুড়ি, ১৬ জুলাই– চা-মজুরি চুক্তি নির্ধারণ ঘিরে এবারে উত্তপ্ত হতে শুরু করল উত্তরবঙ্গের চা-বলয়৷‌ বুধবার উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত চা-মজুরি চুক্তি নিয়ে চতুর্থ ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও ভেস্তে যাওয়ায় চা-শ্রমিকদের কো-অর্ডিনেশন কমিটি রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়েছে এদিন৷‌ কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষে জিয়াউল আলম জানান, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের দাবিকে অবমাননা করছে৷‌ যদি শ্রমিক, রাজ্য সরকার সকলকেই অবমাননা করতে শুরু করে তবে বাগানে বাগানে বৃহত্তর আন্দোলন হবে৷‌ ইতিমধ্যে তাঁরা সমস্ত চা-শ্রমিক সংগঠনকে নিয়ে ১৯ জুলাই দার্জিলিঙে জমায়েত করার কর্মসূচি নিয়েছেন৷‌ সেখানেই আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে৷‌ তৃতীয় ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে আলোচনা অনেকটা দূর এগোলেও চতুর্থ বৈঠকে তেমন কিছুই এগোল না৷‌ মালিকপক্ষ থেকেও কোনও রকম নতুন প্রস্তাব এল না৷‌ উল্টে ভি ডি এ (ভেরিয়েবল ডিয়ারনেস অ্যালাউন্স) নিয়ে চাপ দেওয়ায় মালিকপক্ষ আরও নিজেদের গুটিয়ে রাখল৷‌ মালিক সংগঠনের তরফে টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সাধারণ সম্পাদক প্রবীর ভট্টাচার্য জানান, আগের বৈঠকে একটি শ্রমিক সংগঠন ৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬৪ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিল৷‌ তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রস্তাবও ছিল৷‌ কিন্তু সমস্ত সংগঠন সম্মিলিতভাবে প্রস্তাব না দিলে আমরা কীভাবে এগোব? আশা করি পরবর্তী বৈঠকে সেরকম প্রস্তাব আসবে৷‌ উল্লেখ্য, ৩ বছর অম্তর চা-বাগান শ্রমিকদের মজুরি চুক্তি হয়৷‌ শেষ চুক্তি হয়েছিল ২০১১ সালে৷‌ তখন ৬৭ টাকা মজুরি বাড়িয়ে ৩ বছরে ৯৫ টাকা করা হয়েছে৷‌ এ বছর যথারীতি ৪টি বৈঠক হয়ে গেল৷‌ যেভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি হয়েছে, সেই পরিস্হিতিতে দাঁড়িয়ে ইউনাইটেড টি ওয়ার্কার্স ফ্রন্ট ৩২২ টাকা মজুরি করার প্রস্তাব দিয়েছে৷‌ কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে রেশন বাদে ২৮৫ টাকা এবং রেশন ধরলে ৩০০-৩২২ টাকা প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবং অবশ্যই ভি ডি এ লাগু করার দাবি থাকছে৷‌ আই এন টি টি ইউ সি-র রাজ্যের কার্যকরী সভাপতি দোলা সেনের পরিষ্কার বক্তব্য, আমরা মজুরি বৃদ্ধি চাই৷‌ তাই বলে ৪০০-৫০০ টাকা দাবি করব না, যাতে বাগান বন্ধ হয়ে যায়৷‌ এখন সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি আছে ২০৬ টাকা৷‌ সেটাকে মাথায় রেখেই চা-মজুরি ঠিক করার চেষ্টা করছি৷‌ আমাদের প্রথম লক্ষ্য ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা৷‌ সেটা হয়ে গেলে পরবর্তী ডি এ, পি এফ, গ্র্যাচুইটি, বোনাস, সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে কথা হবে৷‌ অন্য দিকে রাজ্য সরকারের তরফে শ্রম দপ্তরের প্রধান সচিব অমল রায়চৌধুরি প্রস্তাব দিয়েছেন, রেশন বা অন্যান্য সুবিধা যা দেওয়া হয় সব নগদে দিতে৷‌ এতে শ্রমিকেরা কম বঞ্চিত হবেন৷‌ সেদিক থেকে এদিনের আলোচনা ভাল হয়েছে বলে মনে করেন দোলা সেন৷‌ যদিও একই দলের নেতা তথা তরাই ডুয়ার্স ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বৈঠকটিকে আশাপ্রদ মনে করেননি৷‌ এবং দোলা সেন আগের বৈঠকে যে মজুরির প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতেও তাঁর আপত্তি৷‌ অঙ্কটা আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন৷‌ এবং বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি করতে ভি ডি এ-র ব্যাপারে তিনিই সওয়াল করেন৷‌ যাতে সায় দিয়েছে অন্যান্য শ্রমিক সংগঠনও৷‌ এদিনের ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে শ্রম কমিশনার জাভেদ আখতার, শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেবও ছিলেন৷‌ বৈঠক শুরু হয় সওয়া ১টায়৷‌ কিন্তু আড়াইটার পর গৌতম দেব বেরিয়ে যান৷‌ ৩টে ২০ মিনিটে শ্রমমন্ত্রীও বেরিয়ে যান৷‌ তার পর আর বেশিক্ষণ বৈঠক স্হায়ী হয়নি৷‌ এদিকে এদিন উত্তরকন্যার বাইরে দোলা সেনের অনুগামীরা টানা স্লোগান দিতে থাকেন৷‌ পাশে পাল্লা দিয়ে বিক্ষোভ দেখান পি টি ডব্লু টি-র সদস্যরাও৷‌ মনে করা হচ্ছে, আগের দিনের মতো কোনও সংগঠন যাতে বিক্ষোভ দেখাতে না পারে তার জন্য শাসক দলের শ্রমিকরাই গোটা চত্বর নিজেদের কবজায় করে নেন৷‌

No comments:

Post a Comment