পাড়ুই-কাণ্ডে চার্জশিটে নাম নেই অনুব্রতর

অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়: সিউড়ি, ১৬ জুলাই– বছর ঘোরার (বর্ষপূর্তি) ঠিক ৫ দিন আগে পাড়ুইয়ের সাগর ঘোষ হত্যা-মামলার চার্জশিট জমা পড়ল আদালতে৷ বিশেষ তদম্তকারী দল বা সিটের পক্ষ থেকে তদম্তকারী অফিসার (আই ও) তীর্থঙ্কর সান্যাল এই মামলায় তাঁর আগের আই ও সি আই ডি ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জিকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার বিকেল ৫টা নাগাদ সিউড়ি জেলা আদালতে সাধারণ রেকর্ড বিভাগে (জি আর সেকশন) সিল-করা অবস্হায় মুখ বন্ধ বড় খামে ওই চার্জশিট জমা দিয়ে শিটের তদম্তের কার্যত ইতি টানলেন৷ বৃহস্পতিবার সিউড়ি জেলা আদালতের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সি জে এম)-এর কাছে মুখ বন্ধ খামে থাকা ওই চার্জশিট পেশ করা হবে৷ তার পরই আদালত সূত্রে জানা যাবে চার্জশিটের বিষয়বস্তু (কনটেন্ট)৷ তবে সূত্রের খবর, চার্জশিটে নাম নেই জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরির৷ প্রসঙ্গত, নিহত সাগর ঘোষের স্ত্রী সরস্বতীদেবী ও পুত্রবধূ শিবানীর অভিযোগ, পাড়ুই থানার পুলিস রীতিমতো হুমকি দিয়ে জোর করে সাদা কাগজে তাঁদের সই করিয়ে নিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো এফ আই আর তৈরি করে প্রথম থেকেই মূল দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে৷ তাই নিহতের পুত্রবধূ শিবানী ঘটনার পরের দিন জেলা পুলিস সুপারের কাছে নতুন করে ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন৷ ওই ৪১ জনের তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় নাম যথাক্রমে অনুব্রত মণ্ডল ও বিকাশ রায়চৌধুরি৷ সাগর ঘোষ হত্যাকাণ্ডে পুলিস এখনও পর্যম্ত গ্রেপ্তার করেছে ৭ জনকে৷ আসগর শেখ নামে আরও এক পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সিট হুলিয়া জারি করেছে৷ ধৃত ৭ জনের মধ্যে বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের কসবা ও সাপ্তোর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার দুই শীর্ষ তৃণমূল নেতা শেখ মোস্তাফা ও শেখ ইউনুস-সহ ৫ জন জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছে৷ সিউড়ি আদালতে আত্মসমর্পণকারী অন্যতম দুই মূল অভিযুক্ত ভগীরথ ঘোষ ও সুব্রত রায় এখনও জেল হেফাজতে৷ এদিন সিটের পেশ করা চার্জশিটে ওই ৮ জনের (ধৃত ৭ এবং পলাতক ১) নামই আছে৷ হাইকোর্টের নির্দেশমতো বুধবার সিউড়ির সি জে এম আদালতে ভগীরথ ও সুব্রতর গোপন জবানবন্দী নেওয়া হয়৷ এদিন শুনানির শুরুতেই বিচারক ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি ২০০১ সালে মহাবীর সিং বনাম হরিয়ানা রাজ্য সরকারের মামলার রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, অভিযুক্তদের গোপন জবানবন্দীর অর্থ অপরাধের স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি (কনফেশনাল স্টেটমেন্ট)৷ বিচারক ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি দুই অভিযুক্ত ভগীরথ ও সুব্রতর আইনজীবী নুরুল আলমকে জিজ্ঞাসা করেন, ওই দুই অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি দিতে রাজি কিনা৷ আইনজীবী নুরুল আলম জানান, তাঁর মক্কেলরা স্বীকারোক্তি দিতে রাজি৷ এর পরই বিচারক তাঁর চেম্বারে গিয়ে ওই দুই অভিযুক্তর গোপন জবানবন্দী নেন৷ আদালতের বাইরে বেরিয়ে এসে ভগীরথ ও সুব্রত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলে, ‘আমরা দোষই করিনি, তাই দোষ স্বীকারের প্রশ্নই ওঠে না৷’ সিটের তদম্তকারী অফিসার তীর্থঙ্কর সান্যাল এদিন ভগীরথ ও সুব্রত আদালতে গোপনবন্দীতে কী বলে, তার আভাস পাওয়া জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যম্ত আদালতে অপেক্ষা করছিলেন৷ সরকারি আইনজীবী কুম্তল চ্যাটার্জির কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ভগীরথ ও সুব্রত অপরাধের স্বীকারোক্তিমূলক কোনও কথা বলেনি৷ এরপরই বিকেল ৫টা নাগাদ তীর্থঙ্করবাবু সোজা আদালতের জি আর সেকশনে গিয়ে মুখ বন্ধ করা খামে চার্জশিট জমা দেন৷ নিহত সাগর ঘোষের ছেলে হৃদয় ঘোষের অভিযোগ, ‘মুখ্যমন্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে চার্জশিট থেকে মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের নাম বাদ দেওয়া করিয়েছেন৷’ অনুব্রতর বক্তব্য, আইন আইনের পথেই চলবে৷’

অনুপম বন্দ্যোপাধ্যায়: সিউড়ি, ১৬ জুলাই– বছর ঘোরার (বর্ষপূর্তি) ঠিক ৫ দিন আগে পাড়ুইয়ের সাগর ঘোষ হত্যা-মামলার চার্জশিট জমা পড়ল আদালতে৷ বিশেষ তদম্তকারী দল বা সিটের পক্ষ থেকে তদম্তকারী অফিসার (আই ও) তীর্থঙ্কর সান্যাল এই মামলায় তাঁর আগের আই ও সি আই ডি ইনস্পেক্টর বিশ্বজিৎ চ্যাটার্জিকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার বিকেল ৫টা নাগাদ সিউড়ি জেলা আদালতে সাধারণ রেকর্ড বিভাগে (জি আর সেকশন) সিল-করা অবস্হায় মুখ বন্ধ বড় খামে ওই চার্জশিট জমা দিয়ে শিটের তদম্তের কার্যত ইতি টানলেন৷ বৃহস্পতিবার সিউড়ি জেলা আদালতের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (সি জে এম)-এর কাছে মুখ বন্ধ খামে থাকা ওই চার্জশিট পেশ করা হবে৷ তার পরই আদালত সূত্রে জানা যাবে চার্জশিটের বিষয়বস্তু (কনটেন্ট)৷ তবে সূত্রের খবর, চার্জশিটে নাম নেই জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ও জেলা সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরির৷ প্রসঙ্গত, নিহত সাগর ঘোষের স্ত্রী সরস্বতীদেবী ও পুত্রবধূ শিবানীর অভিযোগ, পাড়ুই থানার পুলিস রীতিমতো হুমকি দিয়ে জোর করে সাদা কাগজে তাঁদের সই করিয়ে নিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো এফ আই আর তৈরি করে প্রথম থেকেই মূল দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে৷ তাই নিহতের পুত্রবধূ শিবানী ঘটনার পরের দিন জেলা পুলিস সুপারের কাছে নতুন করে ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন৷ ওই ৪১ জনের তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় নাম যথাক্রমে অনুব্রত মণ্ডল ও বিকাশ রায়চৌধুরি৷ সাগর ঘোষ হত্যাকাণ্ডে পুলিস এখনও পর্যম্ত গ্রেপ্তার করেছে ৭ জনকে৷ আসগর শেখ নামে আরও এক পলাতক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সিট হুলিয়া জারি করেছে৷ ধৃত ৭ জনের মধ্যে বোলপুর-শ্রীনিকেতন ব্লকের কসবা ও সাপ্তোর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার দুই শীর্ষ তৃণমূল নেতা শেখ মোস্তাফা ও শেখ ইউনুস-সহ ৫ জন জামিনে ছাড়া পেয়ে গেছে৷ সিউড়ি আদালতে আত্মসমর্পণকারী অন্যতম দুই মূল অভিযুক্ত ভগীরথ ঘোষ ও সুব্রত রায় এখনও জেল হেফাজতে৷ এদিন সিটের পেশ করা চার্জশিটে ওই ৮ জনের (ধৃত ৭ এবং পলাতক ১) নামই আছে৷ হাইকোর্টের নির্দেশমতো বুধবার সিউড়ির সি জে এম আদালতে ভগীরথ ও সুব্রতর গোপন জবানবন্দী নেওয়া হয়৷ এদিন শুনানির শুরুতেই বিচারক ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি ২০০১ সালে মহাবীর সিং বনাম হরিয়ানা রাজ্য সরকারের মামলার রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, অভিযুক্তদের গোপন জবানবন্দীর অর্থ অপরাধের স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি (কনফেশনাল স্টেটমেন্ট)৷ বিচারক ইন্দ্রনীল চ্যাটার্জি দুই অভিযুক্ত ভগীরথ ও সুব্রতর আইনজীবী নুরুল আলমকে জিজ্ঞাসা করেন, ওই দুই অভিযুক্ত স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি দিতে রাজি কিনা৷ আইনজীবী নুরুল আলম জানান, তাঁর মক্কেলরা স্বীকারোক্তি দিতে রাজি৷ এর পরই বিচারক তাঁর চেম্বারে গিয়ে ওই দুই অভিযুক্তর গোপন জবানবন্দী নেন৷ আদালতের বাইরে বেরিয়ে এসে ভগীরথ ও সুব্রত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলে, ‘আমরা দোষই করিনি, তাই দোষ স্বীকারের প্রশ্নই ওঠে না৷’ সিটের তদম্তকারী অফিসার তীর্থঙ্কর সান্যাল এদিন ভগীরথ ও সুব্রত আদালতে গোপনবন্দীতে কী বলে, তার আভাস পাওয়া জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যম্ত আদালতে অপেক্ষা করছিলেন৷ সরকারি আইনজীবী কুম্তল চ্যাটার্জির কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, ভগীরথ ও সুব্রত অপরাধের স্বীকারোক্তিমূলক কোনও কথা বলেনি৷ এরপরই বিকেল ৫টা নাগাদ তীর্থঙ্করবাবু সোজা আদালতের জি আর সেকশনে গিয়ে মুখ বন্ধ করা খামে চার্জশিট জমা দেন৷ নিহত সাগর ঘোষের ছেলে হৃদয় ঘোষের অভিযোগ, ‘মুখ্যমন্ত্রী প্রভাব খাটিয়ে চার্জশিট থেকে মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের নাম বাদ দেওয়া করিয়েছেন৷’ অনুব্রতর বক্তব্য, আইন আইনের পথেই চলবে৷’
No comments:
Post a Comment