চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়: বোলপুর, ১৬ জুলাই– বীরভূমকে সামনে রেখে বীরভূম থেকেই সন্ত্রাসমুক্ত বাংলা গড়তে রাজ্যের প্রকৃত পরিবর্তনের ডাক দিল বি জে পি৷ কারণটা সরাসরি না বললেও বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে ১০ জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর জনসভার পাল্টা জনসভা করে রাজ্য বি জে পি সভাপতি জানিয়ে দিলেন আগে তৃণমূল চলত কালীঘাট লাইনে৷ এখন সেটা ব্যাক ডোরে চলে গেছে৷ এখন চলছে বীরভূম লাইনে৷ সেখানেও প্রতিযোগিতা৷ বোলপুরের নেতা (অনুব্রত) বলছে পুলিসের গাড়িতে বোমা মারতে আর লাভপুরের নেতা বলছে আমি তিনটে খুন করেছি আমার লাইন ঠিক৷ ২০১৬ সালে তৃণমূলমুক্ত বাংলা গড়ে চার্জশিটে বাদ দেওয়া নাম চার্জশিটে ঢোকাবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাহুলবাবু বলেন, কেন্দ্রে বি জে পি সরকার তাই রাজ্যের উন্নয়নের জন্য এখানেও বি জে পি সরকার গঠন করতে হবে৷ আজকেও বীরভূমের বিভিন্ন জায়গা থেকে তৃণমূল-সহ বিভিন্ন দলের নেতা ও কর্মীরা যোগ দেন৷ তবে এদিন বি জে পি-র সব থেকে বড় পাওনা পাড়ুই থানার বাঁধনব গ্রামে নিহত সাগর ঘোষের ছেলে হৃদয় ঘোষ-সহ নির্দলের কসবা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শঙ্করী দাস ও অন্য সদস্যদের দলে পাওয়া৷ ন্যায়বিচারের আশাতেই তাঁরা যোগ দিলেন বি জে পি-তে৷ এমনটাই দাবি করলেন হৃদয় ঘোষ৷ সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় গান গেয়ে বলেন, রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে৷ আপনারা একা একা বেরিয়ে আসুন দেখবেন বিন্দু বিন্দু করে আজকের মতো জনসমুদ্র হয়ে গেছে৷ জেলা বি জে পি সভাপতি দুধকুমার মণ্ডল প্রতিশোধ নেওয়ার ডাক দিয়ে ঘরে ঘরে অস্ত্র নিয়ে তৈরি হওয়ার ডাক দিয়েছেন৷ বি জে পি-র আর এক রাজ্য নেতা সুখনারায়ণ সিং চাঁচাছোলা ভাবে তাপস পালের ভাষাতেই আক্রমণ করে বলেন, ‘তাপস পাল তো মদ খেয়ে কই ও তো ওর নিজের মেয়েকে রেপ করব বলেনি, দিদির গায়েও হাত দিচ্ছে না৷’ পাশাপাশি সুখনারায়ণবাবু বলেন, রাজ্যে পুলিস কোনও ব্যবস্হা না নিলে এবার দিল্লি পুলিসও কাজ করবে না৷ ওদের মাত্র ৩৪ জন সাংসদকে আমরা সংসদে ঢুকতে দেব না৷ ওদের হাড়গোড় খুঁজে পাওয়া যাবে না৷ আর-এক নেতা রামকৃষ্ণ পাল বলেন, গৃহযুদ্ধ বাধালে মনিরুলকেও মরতে হবে৷ এর পর তিনি নিজেই বলেন, পুলিস ক্যামেরা নিয়ে আমাদের বক্তব্য রেকর্ড করছে, যত খুশি করুক৷ এদিনের জনসভাতেও বি জে পি-র ছোট বড় সব নেতারই টার্গেট ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল৷ নেতারা জানিয়েও দেন তৃণমূল যেমন নন্দীগ্রাম, কেশপুরকে ইস্যু করে ক্ষমতায় এসেছিল আমরাও তেমনি বীরভূমকে ইস্যু করে রাজ্য জুড়ে লড়াই করব৷ এদিনও তৃণমূলের বিরুদ্ধে জেলার বিভিন্ন জায়গায় বি জে পি-র জনসভায় যোগ দিতে আসার সময় কর্মীদের মারধর করার অভিযোগ তুলে জেলা সভাপতি দুধকুমারবাবু অভিযোগ করে বলেন, চারজন কর্মীকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে৷ চারটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে৷ দুধকুমারবাবু পুলিসের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে জেলার এস পি অফিসে আমরণ অনশনে বসার হুমকিও দেন৷
|
No comments:
Post a Comment