Thursday, July 17, 2014

পাহাড় সফরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী বন্ধ চা-বাগানের শ্রমিকদের দেখভালের জন্য শ্রম ভবন ১০০ দিনের কাজ দিতে ২ কোটি বরাদ্দ ঘোষণা

পাহাড় সফরে এলেন মুখ্যমন্ত্রী
বন্ধ চা-বাগানের শ্রমিকদের দেখভালের জন্য শ্রম ভবন
১০০ দিনের কাজ দিতে ২ কোটি বরাদ্দ ঘোষণা

Aajkaal: the leading bengali daily newspaper from Kolkata
সরোজ চক্রবর্তী ও অর্ঘ্য দে


দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি, ১৬ জুলাই– উত্তরবঙ্গের বন্ধ চা-বাগান দেখভালের জন্য শিলিগুড়িতে তৈরি হচ্ছে শ্রম ভবন৷‌ বুধবার তিন দিনের পাহাড় সফরে এসে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি৷‌ বন্ধ চা-বাগানের পরিস্হিতি খতিয়ে দেখতে এই শ্রম ভবন তৈরি করা হবে৷‌ এ ছাড়া বিভিন্ন বাগানে অপুষ্টিজনিত কারণে শ্রমিক-মৃত্যুর ঘটনাও এই শ্রম ভবন খতিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷‌ তিনি বলেন, ‘এই শ্রম ভবন তৈরির জন্য ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে৷‌ এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের বন্ধ ৬টি চা-বাগানের শ্রমিকেরা যাতে বসে না থাকেন তার জন্য পঞ্চায়েত দপ্তর থেকে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে৷‌ এই ২ কোটি দিয়ে ১০০ দিনের কাজ করানো হবে৷‌ পাশাপাশি বন্ধ চা-বাগানের শ্রমিকদের মাসিক ১৫০০ টাকা করে ভাতাও দেওয়া হবে৷‌ চা-বাগানে বিধবা ভাতাও যাতে কার্যকর হয় তার ব্যবস্হাও আমরা করছি৷‌’ মঙ্গলবারই রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে পুজোর আগেই বন্ধ বাগান-শ্রমিকরা তাঁদের বকেয়া এবং ফাউলাইয়ের টাকা পেয়ে যাবেন৷‌ উত্তরবঙ্গের ৬টি বন্ধ বাগান ইতিমধ্যেই পরিদর্শন করে ফেলেছেন রাজ্যের ৪ মন্ত্রী৷‌ এবার বাগানের সেই পরিস্হিতির রিপোর্ট দেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রীকে৷‌ আগামী তিন দিন মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিং এবং শিলিগুড়িতেই থাকছেন৷‌ বৃহস্পতিবার দার্জিলিঙের ম্যালে সরকারি অনুষ্ঠান৷‌ সেখানে বেশ কিছু সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ঘোষণা এবং কিছু প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন তিনি৷‌ যার মধ্যে রয়েছে তামাং-বুদ্ধিস্ট উন্নয়ন পর্ষদ গঠন, বালাসন পানীয় জল প্রকল্প, শিলিগুড়ির সুকনায় সাফারি পার্ক-সহ বন্ধ চা-বাগানের জন্য শ্রম ভবন গড়ার কথা ঘোষণা করবেন তিনি৷‌ বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় অনুষ্ঠান৷‌ তার আগেই সেজে উঠেছে গোটা পাহাড়৷‌ বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজ কাটতেই এবার মুখ্যমন্ত্রীর আমেজে মজেছে গোটা পাহাড়৷‌ কারণ, পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায় মুখ্যমন্ত্রীর ফ্লে‘, কাটআউট লাগানো হয়েছে৷‌ বুধবার সন্ধে ৭টায় মুখ্যমন্ত্রী দার্জিলিং পৌঁছন৷‌ সেখানে গোর্খা রঙ্গমঞ্চের সামনে তাঁকে স্বাগত জানান দার্জিলিঙের হকার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা৷‌ এর আগে পাহাড়ের হকারদের পুনর্বাসনের জন্য ম্যালের পাশের জায়গাকেই স্বীকৃতি দিয়েছে রাজ্য সরকার৷‌ ভিত্তিপ্রস্তরও স্হাপন হয়েছে৷‌ কিন্তু জি টি এ-র পক্ষ থেকে এই সিদ্ধাম্তের বিরোধিতা করা হয়েছে৷‌ সেই মোর্চার ফতোয়াকে টপকে এবার পাহাড়ের হকার্সরা মমতা-বন্দনায় মেতে উঠেছেন৷‌ এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর পাহাড়ে আসা প্রসঙ্গে এখনও মোর্চা নেতৃত্ব মুখ খোলেননি৷‌ দিল্লি থেকে মোর্চার প্রচার সচিব বিনয় তামাং জানিয়েছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন ভাল৷‌ দেখা যাক উনি কী বার্তা দিয়ে যান এবার৷‌ মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার পরই আমরা আমাদের কথা জানাব৷‌’ মোর্চার সঙ্গে রাজ্য সরকারের যে বিরোধ শুরু হয়েছে লোকসভা নির্বাচনের আগে, সেই বিরোধ এবার কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা জানা যাবে বৃহস্পতিবারই৷‌ তবে মুখ্যমন্ত্রীর এবারের সফর সম্পূর্ণটাই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে৷‌ সেক্ষেত্রে পাহাড়বাসীর মন জয় করাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য৷‌ লোকসভা নির্বাচনে দার্জিলিং কেন্দ্রে হেরে যাওয়ার পর এটাই মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম সফর৷‌ ফলে এবারের সফর সমস্ত রাজনৈতিক দলের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ৷‌

No comments:

Post a Comment