বৈদিকের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের মামলা, শাস্তি চায় শিবসেনাও
মুম্বই, ১৬ জুলাই, (সংবাদসংস্হা)– পাকিস্তানে গিয়ে লস্কর ই তৈবার প্রতিষ্ঠাতা, ২৬৷১১-র মুম্বই সন্ত্রাসের চক্রী হাফিজ সঈদের সঙ্গে বৈঠক করায় সাংবাদিক বেদপ্রতাপ বৈদিকের শাস্তির দাবি চারদিক থেকে উঠতে শুরু করেছে৷ এন ডি এ শরিক শিবসেনাও আজ এই দাবি করল৷ বৈদিকের বিরুদ্ধে আজই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে, উত্তরপ্রদেশে বারাণসীতে রুজু করা হল দুটি দেশদ্রোহের মামলা৷ ১২৪(ক) ও ১৩২ ধারায়৷ গত তিন দিন ধরে বেদপ্রতাপ বৈদিক ও হাফিজ সঈদের সাক্ষাৎকার নিয়ে সরগরম ছিল সংসদের দুই সভা৷ খোদ ২৬৷১১-র চাঁই, জামাদ-উদ-দাওয়া প্রধানের লাহোরের আস্তানায় গিয়ে বৈঠক করায় তীব্র ধিক্কারের মুখে পড়েছেন সাংবাদিক বৈদিক৷ নরেন্দ্র মোদির বি জে পি ঘনিষ্ঠ বলে তিনি নিজেই বড়াই করে বলে বেড়িয়েছেন পাকিস্তানে৷ বেদপ্রতাপ বৈদিক যোগগুরু রামদেবের একনিষ্ঠ অনুগামী৷ বিষয়টি কাজে লাগিয়ে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করতে উঠেপড়ে লেগেছে বিরোধীরা৷ সরকারের অস্বস্তি এবার আরও বাড়িয়ে দিল দীর্ঘ দিনের শরিক শিবসেনা৷ দলীয় মুখপাত্র ‘সামনা’-য় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে৷ রাখঢাক না করে ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে তিনি সরাসরি লিখেছেন, ‘ওই বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের কিছু করার নেই– স্রেফ এই বিবৃতি দিয়ে দায় এড়ানো যায় না৷ আজ যদি কংগ্রেস সরকারে থাকত, এবং পাকিস্তানে গিয়ে কোনও সাংবাদিক হাফিজ বা দাউদের সঙ্গে দেখা করে আসতেন, তা হলে সব থেকে আগে প্রতিবাদ করত বি জে পি-ই৷ আজ সরকারে এসে দায়সারা জবাব দেওয়া যায় না৷ বিষয়টি আগাগোড়া খতিয়ে দেখতে হবে৷’ উদ্ধব যোগ করেছেন, ‘এখানে হিন্দু-মুসলিমের বৈষম্য থাকা উচিত নয়৷ বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার৷ আজ যদি ওই সাংবাদিককে (বেদপ্রতাপ বৈদিক) ছেড়ে কথা বলা হয়, তবে কাল যে কেউ দাউদ, টাইগার মেমন, হাফিজ সঈদদের সঙ্গে বিরিয়ানি খেয়ে আসবেন!’ ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে আরও লেখা হয়েছে, এ পর্যম্ত বেশ ভাল কাজ করেছে মোদি সরকার৷ একজনের দুর্মতিতে এবার সমস্যায় না পড়তে হয়! সংসদে ওই ঘটনার নিন্দা করায় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে সাধুবাদও জানানো হয়েছে সম্পাদকীয়তে৷ গোল বেধেছে অন্য জায়গায়৷ গতকাল রাহুল গান্ধী বলেছিলেন বৈদিক সঙেঘর সদস্য৷ অস্বীকার করেছিলেন সদ্য সঙঘ থেকে বি জে পি-তে যোগ দেওয়া রাম মাধব৷ কিন্তু আজ জল আরও ঘোলা করে দিলেন সঙেঘর নেতা ইন্দ্রেশ কুমার৷ তিনি বৈদিকের ‘জাতীয়তাবাদী চেতনার’ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, এমনকী হাফিজ সঈদের সঙ্গে বৈঠককেও সমর্থন করেছেন! ইন্দ্রেশ বলেছেন, বৈদিক সুশিক্ষিত, সংস্কৃতিবান দেশপ্রেমী৷ সাংবাদিক হিসেবে হাফিজ সঈদের সঙ্গে বৈঠক করা দোষের নয়৷ সঙঘ-নেতা ইন্দ্রেশ কুমার এভাবে বৈদিকের পাশে দাঁড়ানোয় কংগ্রেস হাতে অস্ত্র পেয়ে গেছে৷ কংগ্রেস বলেছে, বৈদিকের টেলিফোন কলের রেকর্ড দেখা হোক৷ হাফিজ সঈদের সঙ্গে দেখা করার আগে ও পরে বৈদিক কাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তা সবই খোঁজ নেওয়া হোক৷ বি জে পি তথা সরকার এ-সব দাবি এড়িয়ে যেতে চাইলেও বি জে পি-রই নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বৈদিকের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন৷ বৈদিককে একহাত নিয়ে উদ্ধব লিখেছেন, দেশের শত্রুর সঙ্গে মোলাকাত করে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন তিনি৷ দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য নিয়ে মম্তব্য করার অধিকার বৈদিককে কে দিয়েছে? প্রশ্ন তুলেছেন উদ্ধব৷ যেভাবে তাঁকে সাদরে অভিনন্দন জানিয়েছে পাক সরকার এবং আই এস আই, তাতে বিস্মিত শিবসেনা প্রধান৷ লিখেছেন, ভারতের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি তো এতটা উদারতা দেখায় না পাকিস্তান! শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতও সাংবাদিক বেদপ্রতাপ বৈদিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্হা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন৷ সঞ্জয় বলেছেন, হাফিজ সঈদ এ দেশের শত্রু৷ সন্ত্রাসবাদী, কুচক্রী৷ আফজল গুরু, আজমল কাসবের মতোই ভয়ঙ্কর জঙ্গি৷ এমন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসাটা দেশদ্রোহ৷ আক্রমণাত্মক কংগ্রেসও৷ দলীয় নেতা কমল নাথের অভিযোগ, গোটা ঘটনাটা ধামাচাপা দিতে চাইছে বি জে পি৷ তারা যে হাফিজ-বৈদিক সাক্ষাৎকারের বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল, তা খুবই স্পষ্ট৷ তারা হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে৷ বৈদিক দাবি করেন এ মাসের শুরুতে পাকিস্তানে গেছিলেন কংগ্রেসের কয়েকজন বিশিষ্ট নেতা৷ তা স্বীকার করে নিয়েই কমল নাথ জানিয়েছেন, তিনি নিজে ওই দলে ছিলেন৷ এবং ভারতের হাই কমিশনার তাঁদের পাকিস্তানে আসার খবর জানত৷ বৈদিক প্রসঙ্গে আজ আবারও হাত ধোয়ার চেষ্টা করেছে সরকার৷ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আবারও জানিয়েছেন, বৈদিক আদৌ সরকারের প্রতিনিধি নন৷ সুতরাং এতে সরকারের কোনও ভূমিকাই নেই৷ সরকারের এ-সব বক্তব্যে জোর পেয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ ৭০ বছর বয়সী সাংবাদিক বেদপ্রতাপ বৈদিক৷ আজ বৈদিক বলেছেন, ‘বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তো যা বলার বলে দিয়েছেন৷ সুষমা খুবই বুদ্ধিমতী মহিলা৷ তিনি তো বলেছেন, সরকার বা বি জে পি নেতাদের কারও কিছু করার ছিল না আমাকে নিয়ে৷ হাফিজের সঙ্গে আমার বৈঠকের নিন্দাও করেছেন সুষমা৷ ব্যস ব্যাপারটা মিটে গেছে৷’
মুম্বই, ১৬ জুলাই, (সংবাদসংস্হা)– পাকিস্তানে গিয়ে লস্কর ই তৈবার প্রতিষ্ঠাতা, ২৬৷১১-র মুম্বই সন্ত্রাসের চক্রী হাফিজ সঈদের সঙ্গে বৈঠক করায় সাংবাদিক বেদপ্রতাপ বৈদিকের শাস্তির দাবি চারদিক থেকে উঠতে শুরু করেছে৷ এন ডি এ শরিক শিবসেনাও আজ এই দাবি করল৷ বৈদিকের বিরুদ্ধে আজই মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে, উত্তরপ্রদেশে বারাণসীতে রুজু করা হল দুটি দেশদ্রোহের মামলা৷ ১২৪(ক) ও ১৩২ ধারায়৷ গত তিন দিন ধরে বেদপ্রতাপ বৈদিক ও হাফিজ সঈদের সাক্ষাৎকার নিয়ে সরগরম ছিল সংসদের দুই সভা৷ খোদ ২৬৷১১-র চাঁই, জামাদ-উদ-দাওয়া প্রধানের লাহোরের আস্তানায় গিয়ে বৈঠক করায় তীব্র ধিক্কারের মুখে পড়েছেন সাংবাদিক বৈদিক৷ নরেন্দ্র মোদির বি জে পি ঘনিষ্ঠ বলে তিনি নিজেই বড়াই করে বলে বেড়িয়েছেন পাকিস্তানে৷ বেদপ্রতাপ বৈদিক যোগগুরু রামদেবের একনিষ্ঠ অনুগামী৷ বিষয়টি কাজে লাগিয়ে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করতে উঠেপড়ে লেগেছে বিরোধীরা৷ সরকারের অস্বস্তি এবার আরও বাড়িয়ে দিল দীর্ঘ দিনের শরিক শিবসেনা৷ দলীয় মুখপাত্র ‘সামনা’-য় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে৷ রাখঢাক না করে ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে তিনি সরাসরি লিখেছেন, ‘ওই বৈঠক প্রসঙ্গে সরকারের কিছু করার নেই– স্রেফ এই বিবৃতি দিয়ে দায় এড়ানো যায় না৷ আজ যদি কংগ্রেস সরকারে থাকত, এবং পাকিস্তানে গিয়ে কোনও সাংবাদিক হাফিজ বা দাউদের সঙ্গে দেখা করে আসতেন, তা হলে সব থেকে আগে প্রতিবাদ করত বি জে পি-ই৷ আজ সরকারে এসে দায়সারা জবাব দেওয়া যায় না৷ বিষয়টি আগাগোড়া খতিয়ে দেখতে হবে৷’ উদ্ধব যোগ করেছেন, ‘এখানে হিন্দু-মুসলিমের বৈষম্য থাকা উচিত নয়৷ বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার৷ আজ যদি ওই সাংবাদিককে (বেদপ্রতাপ বৈদিক) ছেড়ে কথা বলা হয়, তবে কাল যে কেউ দাউদ, টাইগার মেমন, হাফিজ সঈদদের সঙ্গে বিরিয়ানি খেয়ে আসবেন!’ ‘সামনা’-র সম্পাদকীয়তে আরও লেখা হয়েছে, এ পর্যম্ত বেশ ভাল কাজ করেছে মোদি সরকার৷ একজনের দুর্মতিতে এবার সমস্যায় না পড়তে হয়! সংসদে ওই ঘটনার নিন্দা করায় বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজকে সাধুবাদও জানানো হয়েছে সম্পাদকীয়তে৷ গোল বেধেছে অন্য জায়গায়৷ গতকাল রাহুল গান্ধী বলেছিলেন বৈদিক সঙেঘর সদস্য৷ অস্বীকার করেছিলেন সদ্য সঙঘ থেকে বি জে পি-তে যোগ দেওয়া রাম মাধব৷ কিন্তু আজ জল আরও ঘোলা করে দিলেন সঙেঘর নেতা ইন্দ্রেশ কুমার৷ তিনি বৈদিকের ‘জাতীয়তাবাদী চেতনার’ ভূয়সী প্রশংসা করেছেন, এমনকী হাফিজ সঈদের সঙ্গে বৈঠককেও সমর্থন করেছেন! ইন্দ্রেশ বলেছেন, বৈদিক সুশিক্ষিত, সংস্কৃতিবান দেশপ্রেমী৷ সাংবাদিক হিসেবে হাফিজ সঈদের সঙ্গে বৈঠক করা দোষের নয়৷ সঙঘ-নেতা ইন্দ্রেশ কুমার এভাবে বৈদিকের পাশে দাঁড়ানোয় কংগ্রেস হাতে অস্ত্র পেয়ে গেছে৷ কংগ্রেস বলেছে, বৈদিকের টেলিফোন কলের রেকর্ড দেখা হোক৷ হাফিজ সঈদের সঙ্গে দেখা করার আগে ও পরে বৈদিক কাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তা সবই খোঁজ নেওয়া হোক৷ বি জে পি তথা সরকার এ-সব দাবি এড়িয়ে যেতে চাইলেও বি জে পি-রই নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী বৈদিকের পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন৷ বৈদিককে একহাত নিয়ে উদ্ধব লিখেছেন, দেশের শত্রুর সঙ্গে মোলাকাত করে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন তিনি৷ দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য নিয়ে মম্তব্য করার অধিকার বৈদিককে কে দিয়েছে? প্রশ্ন তুলেছেন উদ্ধব৷ যেভাবে তাঁকে সাদরে অভিনন্দন জানিয়েছে পাক সরকার এবং আই এস আই, তাতে বিস্মিত শিবসেনা প্রধান৷ লিখেছেন, ভারতের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি তো এতটা উদারতা দেখায় না পাকিস্তান! শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউতও সাংবাদিক বেদপ্রতাপ বৈদিকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্হা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন৷ সঞ্জয় বলেছেন, হাফিজ সঈদ এ দেশের শত্রু৷ সন্ত্রাসবাদী, কুচক্রী৷ আফজল গুরু, আজমল কাসবের মতোই ভয়ঙ্কর জঙ্গি৷ এমন ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী নেতার সঙ্গে বৈঠকে বসাটা দেশদ্রোহ৷ আক্রমণাত্মক কংগ্রেসও৷ দলীয় নেতা কমল নাথের অভিযোগ, গোটা ঘটনাটা ধামাচাপা দিতে চাইছে বি জে পি৷ তারা যে হাফিজ-বৈদিক সাক্ষাৎকারের বিষয়ে ওয়াকিবহাল ছিল, তা খুবই স্পষ্ট৷ তারা হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে৷ বৈদিক দাবি করেন এ মাসের শুরুতে পাকিস্তানে গেছিলেন কংগ্রেসের কয়েকজন বিশিষ্ট নেতা৷ তা স্বীকার করে নিয়েই কমল নাথ জানিয়েছেন, তিনি নিজে ওই দলে ছিলেন৷ এবং ভারতের হাই কমিশনার তাঁদের পাকিস্তানে আসার খবর জানত৷ বৈদিক প্রসঙ্গে আজ আবারও হাত ধোয়ার চেষ্টা করেছে সরকার৷ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আবারও জানিয়েছেন, বৈদিক আদৌ সরকারের প্রতিনিধি নন৷ সুতরাং এতে সরকারের কোনও ভূমিকাই নেই৷ সরকারের এ-সব বক্তব্যে জোর পেয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন৷ ৭০ বছর বয়সী সাংবাদিক বেদপ্রতাপ বৈদিক৷ আজ বৈদিক বলেছেন, ‘বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তো যা বলার বলে দিয়েছেন৷ সুষমা খুবই বুদ্ধিমতী মহিলা৷ তিনি তো বলেছেন, সরকার বা বি জে পি নেতাদের কারও কিছু করার ছিল না আমাকে নিয়ে৷ হাফিজের সঙ্গে আমার বৈঠকের নিন্দাও করেছেন সুষমা৷ ব্যস ব্যাপারটা মিটে গেছে৷’
No comments:
Post a Comment