Thursday, July 17, 2014

উপকূলে জোয়ার- বন্যা ০ ভোলা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, কক্সবাজার জেলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আক্রান্ত ০ পানিবন্দী লাখ লাখ মানুষ ০ এখনও সাহায্য পৌঁছেনি

উপকূলে জোয়ার- বন্যা
০ ভোলা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, কক্সবাজার জেলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আক্রান্ত
০ পানিবন্দী লাখ লাখ মানুষ
০ এখনও সাহায্য পৌঁছেনি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ টানা সাতদিনের অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের অধিকাংশ জেলার বেশিরভাগ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। ভোলা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট, কক্সবাজার জেলাসহ উপকূলীয় এলাকার লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে সাধারণ মানুষ দুর্বিপাকে পড়েছে। অপরদিকে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে আশ্রয় নেয়ার জায়গা পর্যন্ত অবশিষ্ট নেই। স্বাভাবিক চলাফেলা বন্ধ হয়ে অন্নের সংস্থানও বন্ধ হয়ে গেছে। এক কথায় উপকূলীয় এলাকার মানুষ চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। সরকারী ত্রাণ সাহায্য সেখানে পৌঁছায়নি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট। মারা যাচ্ছে গৃহপালিত হাস, মুরগি ও গবাদিপশু। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে এসব এলাকায় লাখ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ করা আউশ ধান ও আমনের বীজতলা পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ কারণে আউশ উৎপাদনের লক্ষমাত্রা অর্জনে সংশয় দেখা দিয়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবিত হওয়ায় রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, কাঁচাঘর ভেঙ্গে লেপ্টে গেছে মাটির সঙ্গে। অসংখ্য মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে নানা দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। ভেসে গেছে চিংড়িঘেরসহ হাজার হাজার পুকুষের চাষকৃত মাছ।
বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় উপকূলে আছড়ে পড়ছে বিশাল বিশাল ঢেউ। সাগরে টিকতে না পেরে ইলিশ আহরণের জেলেরা সাগরে জাল ফেলতে পারছে না। শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনসহ উপকূলীয় বিভিন্ন নদী ও খালে আশ্রয় নিয়েছে। উপকূলীয় জেলায় পানিবন্দী আশ্রয়হীন মানুষের খাবার নেই। পানি ভেজানো চিড়ে খেয়েই অনেকে রোজা রাখছে। অনাহারে-অর্ধহারে তারা দিনাতিপাত করছে।
এদিকে উজানে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের কারণেও উত্তরাঞ্চলে যমুনা ও তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমারও উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণে উত্তরাঞ্চলের কোন কোন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নদী উপকূলীয় গ্রামগুলোতে পানি ঢুকে ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। যমুনা নদীর ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় বহু ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। ভাঙ্গনের আশঙ্কায় মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। উজানে ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।
জানা গেছে, গত ১২ জুলাই পূর্ণিমা শুরুর পর সমুদ্রের পানি স্ফিত হয়ে নদীর পানি বাড়তে থাকে। ১৯ জুলাই পানি কমতে শুরু করবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে ভরা কাটালের জোয়ারে প্রতিবছরই দু’বার বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়। কিন্তু এবার জোয়ারের পর ভাটার সময় যতটুকু পানি নেমে যাওয়া প্রয়োজন ছিল ততটুকু পানি নামছে না। ফলে উপকূলীয় সব এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
ভোলা॥ ৪ উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামের প্রায় আড়াই লাখ মানুষ গত ৬ দিন ধরে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। একদিকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা অপরদিকে রয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সঙ্কট। ফলে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগব্যাধি। বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অধিকাংশ কাঁচা ঘরবাড়ি। দিনমজুর বা স্বল্প আয়ের মানুষ অবর্ণনীয় দুরবস্থায় রয়েছে। খেতে-খামারে কাজকাম সব বন্ধ। ফলে কোন কোন পরিবারের দিনে একবেলা খাবারও জুটছে না। এদিকে ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ।
অর্ধশতাধিক গ্রামের বাগানবাড়ি, পুকুর-জলাশয় আর ফসলের মাঠ এখনও পানির নিচে। জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, আউশ-আমন মিলিয়ে জেলায় মোট প্রায় সাত হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন ঢালচর, কুকরী এবং মুজিবনগর গ্রামের মানুষ একটানা ৬ দিন ধরে দিনে দুই বার জোয়ার-ভাটার পানিতে ডুবছে আর ভাসছে। ওসব বিচ্ছিন্ন গ্রামে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছেনি। প্লাবিত বসতভিটার মাটি সরে যাওয়ায় শত শত কাঁচাঘর ধসে পড়তে শুরু করেছে। এ ছাড়া ওই সব ঘর এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সব গভীর নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মরতে শুরু করেছে গবাদিপশু। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগব্যাধি। মনপুরা উপজেলায় প্রায় ২০ কি.মি. বেড়িবাঁধ, ১০ কি.মি. পাকা রাস্তার আংশিক অংশ, প্রায় কোটি টাকার আউশ এবং ২ কোটি টাকার পুকুর ও ঘেরের মাছের ক্ষতি হয়েছে।
বরগুনা॥ জলাবদ্ধতার কারণে তলিয়ে রয়েছে জেলার অনেক গ্রাম। অস্বাভাবিক জোয়ারের স্রোতে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বরগুনা পৌরশহরসহ, তালতলী, বেতাগী, পাথরঘাটা উপজেলার প্রায় ৮০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ নতুন করে ভেঙ্গে যাওয়ায় প্রায় ৮০ গ্রামের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ভাঙ্গা বেড়িবাঁধ দিয়ে এখন প্রবলস্রোতে জোয়ারের পানিতে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম। জোয়ারের পানি নেমে যেতে শুরু করলেও পানিতে তলিয়ে রয়েছে বরগুনার অনেক গ্রাম। পানিতে তলিয়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। বাড়িঘরে রান্নার কোন ব্যবস্থা নেই।
বাগেরহাট॥ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে নদ-নদীর পানি উপচে পড়ায় গত ৩দিনে জেলার মংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা সদর ও ৩ পৌরসভাসহ ৮০টি গ্রামের কমপক্ষে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কয়েক শ’ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ দুর্বিপাকে পড়েছেন। অর্ধশত চিংড়িঘেরসহ দুই শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। অনেকে রান্না করতে পারছেন না। বেড়িবাঁধের বাইরের নিম্নাঞ্চল প্রতিদিন দুইবার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
ইলিশ আহরণে নিয়োজিত জেলেরা সাগরে জাল ফেলতে পারছে না। শত শত ফিশিং ট্রলার সুন্দরবনসহ উপকূলীয় বিভিন্ন নদী ও খালে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। পূর্ণিমার কারণে উপকূলীয় নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধ উপচে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে তাদের বাড়িঘরে হাঁটু পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধের বাইরে ইরি ও আমনের বীজতলা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। কেওড়া নদীর দু’পারে প্রায় ১০ কিলোমিটার ধরে বেড়িবাঁধ না থাকায় এসব এলাকার গ্রামগুলো জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
পটুয়াখালী॥ অস্বাভাবিক জোয়ারে জেলাশহরসহ সদর উপজেলা, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলার ২০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। নদীর জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে শহরে প্রবেশ করে। জোয়ারের পানিতে প্রতিদিন শহরবাসীর জনজীবন পানিবন্দী থাকে প্রায় ৬ ঘণ্টা। বিঘিœত হয় স্বাভাবিক চলাফেরা ও যানচলাচল। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় বিপদে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সদর উপজেলার সেহাকাঠীর বলাই কাঠী, মির্জাগঞ্জ ও দুমকির কম করে হলে ২০ টি গ্রাম প্রতিদিন দুইবার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে এসব ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। তবে পানিবন্দী অবস্থায় এক সপ্তাহ অতিক্রম করলেও সরকারী-বেসরকারীভাবে কোন সহায়তা পায়নি।
কলাপাড়া॥ পানিতে তলিয়ে যাওয়া উপজেলার ১২ হাজার মানুষের জীবন যাপন বিপন্ন হয়ে পড়ছে। মারা গেছে সাত হাজার হাঁস-মুরগি। ২২শ’ বাড়িঘর ও ৫৮ কিলোমিটার সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। সবকিছু হারিয়ে মানুষজন এখন নিঃস্ব। এখন মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ আমন বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে আমন আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ১০ কিলোমিটার পাকা এবং ৩৬ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। ২ হাজার পুকুর, অর্ধশত মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকার ১৩ গ্রাম চেনার উপায় নেই।
বাউফল॥ পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদী ফুঁসে উঠে উপজেলার চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চল ৫ ফুট পানিতে তলিয়ে আছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ২০ হাজার মানুষ। বিপন্ন হয়ে পড়ছে এলাকার জীবনযাত্রা। কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা আউশ ধান ও আমনের বীজতলা পচে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।
বাঁশখালী॥ উপজেলার উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গত তিনদিনে গ্রামের পর গ্রামে সমুদ্রের লোনা পানি ঢুকে জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়েছে। প্লাবিত হয়েছে ২ শতাধিক ঘরবাড়ি। প্রায় ৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতন দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া রাস্তাঘাট, ফসলি জমি, কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙ্গে মাটির সঙ্গে লেপ্টে আছে। ক্ষতিগ্রস্তরা এলাকার স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে।
কুতুবদিয়া॥ পূর্ণিমার চোরা জোয়ারে ফুঁসেওঠা পানিতে কক্সবাজারের দ্বীপ-উপজেলা কুতুবদিয়ার উত্তর ধূরুংয়ের ৬/৭শ’ বসতঘরহারা মানুষ বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রচ- বৃষ্টিপাতের দিনে উপর্যুপরি সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে ক্ষতির শিকার নারী, পুরুষ ও শিশু থাকা-খাওয়ার অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। ঘটনার ৬দিন অতিবাহিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কোন প্রকার সাহায্য পৌঁছেনি। জেয়ারের প্রকোপে তলিয়ে গেছে সহস্রাধিক হেক্টর নতুন রোপিত আউশ ফসল। ভেঙ্গে গেছে সড়কসহ রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পানিবন্দী হয়ে আছে অন্তত ১৫/২০হাজার মানুষ।
এদিকে উজানে ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ী ঢলের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত। ফলে তলিয়ে গেছে নদীপারের হাজার হাজার গ্রাম। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও ক্ষেত্রের ফসল। নদীর ভাঙ্গনের কারণে মানুষজন আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
সিরাজগঞ্জ॥ জেলার বিভিন্নস্থানে যমুনার ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। এ ভাঙ্গনের কারণ প্রমত্তা যমুনায় প্রচ- স্রোত, পানির ব্যাক ফ্লো এবং স্কাওয়ারিং (ঘূর্ণিপাক) অব্যাহত থাকায় এ বছর ভাঙ্গন প্রবণতা বেড়েছে। এনায়েতপুরে যমুনার পশ্চিম তীরে রিংবাঁধের প্রায় সাড়ে চার শ’ ফুট এলাকা ভেঙ্গে গেছে। রিংবাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাড়ে ১৮কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্পার এখন ভাঙ্গন থেকে মাত্র ১৫ মিটার দূরে অবস্থান করছে।
নীলফামারী ॥ উজানের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের কারণে জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তানদীসহ সকল নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তিস্তাপারের ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১৫টি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। পরিবারপরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এ ছাড়া ডিমলা উপজেলার খালিশা চাঁপানী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বাইশপুকুর নামক স্থানে অপরিকল্পভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করায় বাইশপুকুর, পশ্চিম বাইশবাইপুকুর গ্রাম দুটির ৪ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি গত ৩০ জুন থেকে প্লাবিত হয়ে রয়েছে। অনেকের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়েছে কেউবা ঘর অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এ পর্যন্ত কোন ত্রাণসামগ্রী পায়নি।
লালমনিরহাট॥ ভারতে টানা ভারি বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ী ঢলে লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের রংপুর, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তিস্তা নদীতে হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চর, দ্বীপচর ও নদী উপকূলীয় গ্রামের লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও তীব্র নদী ভাঙ্গনদেখা দিয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বৃহস্পতিবার দুপুরে বিপদসীমার ৫.২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে । পাহাড়ী ঢল নেমে আসায় তিস্তা নদীর ভাটিতে নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। তিস্তা ব্যারাজের উজানে নীলফামারী হওয়ায় নদীর পানি সেখানে ফুলেফেঁপে উঠে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ব্যারাজের ৪৪টি গেটই ২৪ ঘণ্টা খুলে রাখা হয়েছে।
গাইবান্ধা॥ তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার নদী তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ফলে অব্যাহত ভাঙনে সাঘাটার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর দিঘলকান্দি ও পাতিলাবাড়ি এবং ফুলছড়ির বধ্যভূমি, কাঁইয়ারহাট, সিংড়িয়া, রতনপুুর ও কাতলামারি এলাকায় ইতোমধ্যে শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment