Thursday, July 17, 2014

গাজা ইস্যুতে চাপে যুক্তরাষ্ট্র গাজায় অভিযান বন্ধে ইসরাইলকে বাধ্য করুন ॥ ইউরোপীয় ও আরব মিত্রদের আহ্বান

গাজা ইস্যুতে চাপে যুক্তরাষ্ট্র
গাজায় অভিযান বন্ধে ইসরাইলকে বাধ্য করুন ॥ ইউরোপীয় ও আরব মিত্রদের আহ্বান
গাজা এলাকায় হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করতে ইসরাইলের সঙ্কল্প যুক্তরাষ্ট্রকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। এ সঙ্কল্পের ফলে ওবামা প্রশাসনকে এর মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এর প্রভাব খাটাবে কিনা সেই প্রশ্নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে পারে।
ইসরাইলী কর্মকর্তারা মঙ্গলবার বলেন, হামাস অস্ত্র বিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় আটদিনের সংঘাতে এর শক্তি প্রয়োগ এবং আরও ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে এর যুক্তিই বৈধতা পেয়েছে। তাঁরা টেলিভিশন সাক্ষাতকার, বিবৃতি ও সামাজিক মিডিয়াতে একথা প্রচার করেন।
ওবামা প্রশাসন ঐ যুক্তি মেনে নিয়েছে বলে মনে হয়। প্রশাসন আটদিন ধরে চলমান ইসরাইলী বিমান হামলার অবসান ঘটানো এবং একটি স্থল আক্রমণ এড়ানোর সুযোগ বিনষ্ট করার দায়ে গাজাভিত্তিক সশস্ত্র ইসলামী দল হামাসকে দোষারোপ করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, প্রশাসন সামরিক অভিযান বন্ধ করার জন্য ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানাতে ইউরোপীয় ও আরব মিত্রদের কাছ থেকে শীঘ্রই চাপের মুখে পড়বে।
বর্তমানে তা করা প্রশাসনের জন্য কূটনৈতিক দিক দিয়ে কঠিনই হবে। হামাস মিসরের মধ্যস্থতায় দেয়া অস্ত্র বিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। হামাসের অব্যাহত রকেট হামলায় মঙ্গলবার এক ইসরাইলী নিহত হয়। সবচেয়ে সাম্প্রতিক এ হামলায় এই প্রথম কোন ইসরাইলীর মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেল।
কিন্তু ব্যাপকতর ইসরাইলী অভিযান এবং এর ফলে হতাহত ফিলিস্তিনীদের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ফলে গাজায় হামলা বন্ধ করার দাবি জানাতে ওবামা প্রশাসনের ওপর চাপ দ্রুত বাড়তে পারে। ইসরাইলী সরকার তাতে কর্ণপাত করুক বা না-ই করুক প্রশাসনকে সেই অবস্থার মুখে পড়তেই হবে। অবশ্য প্রেসিডেন্ট ওবামার সঙ্গে ইসরাইলী সরকারের সম্পর্ক সব সময়ই অস্বস্তিদায়ক হয়ে এসেছে।
ইসরাইল হামাসের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যেতে থাকায় গাজার উত্তরাঞ্চলের ভীতসন্ত্রস্ত লোকজন তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। ১৫ জুলাই অবধি ঐ হামলায় গাজার অন্তত ১৮৫ ফিলিস্তিনী নিহত এবং প্রায় ১৪০০ আহত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একথা বলা হয়।
এরই মধ্যে ফিলিস্তিনী স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইসরাইলী হামলায় গাজায় ১৯৪ ব্যক্তি নিহত এবং ১৪০০ আহত হয়েছে। ইসরাইলের শহরগুলোকে লক্ষ্য করে হামাসের রকেট ছোঁড়া বন্ধ করতে ইসরাইল বিমান হামলা চালাচ্ছে। গাজায় নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা ২০১২ সালের সংঘর্ষে নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। সেই সময় ইসরাইল ও হামাস তীব্র মাত্রায় গোলাগুলি বিনিময় করেছিল। ওই সংঘর্ষ ওয়াশিংটনের প্রত্যক্ষ কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের ফলে আটদিন পর বন্ধ হয়েছিল।
ফিলিস্তিনী কর্মকর্তারা ইসরাইলকে এর হামলা বন্ধ করা এবং গাজার অর্থনৈতিক অবরোধের অবসান ঘটানোর জন্য ইসরাইলের ওপর চাপ দিতে অন্যান্য দেশের প্রতি আহ্বান জানান।
ফিলিস্তিনী মুক্তি সংস্থার (পিএলও) নির্বাহী কমিটির সদস্য হানান আশরাবি বলেন, আপনারা জনসমষ্টির ওপর অবরোধ আরোপ করতে এবং এরপর তাদের ওপর বোমাবর্ষণ ও হামলা শুরু করতে পারেন না।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জোশ আর্নেস্ট মিসরের অস্ত্র বিরতির প্রস্তাব গ্রহণ করা এবং সীমান্তের অন্যদিক থেকে হামলা চালানো বন্ধ করার দায়িত্ব হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র দলের ওপর চাপান। কিন্তু আর্নেস্ট একথাও বলেন, আমরা ইসরাইলীদের সংঘর্ষের মধ্যে আটকা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এমন নিরপরাধ বেসামরিক লোকজনের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য কিছুটা উদ্বেগ দেখাতে বলব। এ দিকে ইসরায়েল ও গাজা নতুন করে সমন্বিত একটি অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে বিবিসি’কে জানিয়েছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৬ টা থেকে শুরু“ হবে এ যুদ্ধবিরতি। তবে হামাস এ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ও এখনো নতুন অস্ত্রবিরতি চুক্তির ব্যাপারে কোনো বিবৃতি দেয়নি। হামাস এবং ইসরায়েল এর আগে বৃহস্পতিবার ৫ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয়। -ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইন।

No comments:

Post a Comment