Thursday, July 24, 2014

‘আমার সহজাত প্রবৃত্তি কেবল সুরের মধ্যেই আবর্তিত হয়’ -রামকানাই দাশ

‘আমার সহজাত প্রবৃত্তি কেবল সুরের মধ্যেই আবর্তিত হয়’ -রামকানাই দাশ
ওস্তাদ রামকানাই দাশ বাংলাদেশের প্রখ্যাত লোকসঙ্গীতশিল্পী ও সংগ্রাহক। ১৯৩৫ সালে সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। নেশা হিসেবে জীবনের সূচনালগ্নে গানকে গলায় ধারণ করলেও এক সময় তা পেশা হিসেবেই গ্রহণ করেন। লোকগান এবং উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি বহুল আলোচিত। প্রকৃতির সুনিবিড় তত্ত্বাবধানে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সুরসঙ্গীতের উজ্জ্বল এক দৃষ্টান্ত হিসেবে। সৃষ্টিশীলতার উৎকর্ষে আলো ছড়িয়েছেন দেশীয় সংস্কৃতির উর্বর ভূমিতে। সাধনালব্ধ কীর্তির স্বীকৃতি স্বরূপ প-িত রামকানাই দাশ পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। ইতোপূর্বে বাংলা একাডেমিসহ সর্বশেষ ২০১৪ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য এ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে- বন্ধের বাঁশি, সুরধ্বনির কিনারায়, পাগলা মাঝি, রাগাঞ্জলী ইত্যাদি।
নমস্য প-িত এই মানুষটির মুখোমুখি হয়ে আলাপচারিতার চুম্বক অংশ পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন Ñ সাবিত সারওয়ার
প্রশ্ন : সমগ্র বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী সঙ্গীতপ্রেমী মানুষ পণ্ডিত রামকানাই দাশকে এক নামেই চেনে। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে এই অসাধারণ পাণ্ডিত্যের প্রকাশ কিভাবে সম্ভব হলো-
উত্তর : আমি খুব ছোট থাকতেই গান পাগল মানুষ ছিলাম। আমার চিন্তা-চৈতন্যে কিংবা অবচেতনেও গান আমার ভেতর জগতকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। আমার সমস্ত সত্তাজুড়ে গানের উর্ব্বর একটি ক্ষেত্র আমি সহজেই উপলদ্ধি করতে পারতাম। একটু সহজ করে বলা যায়- আমার সহজাত প্রবৃত্তি কেবল সুরের মধ্যেই আবর্তিত হতো। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল আমার পরিবেশ ও উপযুক্ত পারিপার্শ্বিকতা। অত্যন্ত অজপাড়া গাঁয়ে আমি জন্মেছিলাম। যেখানে প্রতিদিন কোথাও না কোথায় আউল-বাউল, সারি-মুর্শিদী কিংবা কবি-কীর্ত্তন গানের আয়োজন চলতেই থাকত। আর আমি ছিলাম এগুলোর একনিষ্ঠ ভক্ত-শ্রোতা। সুতরাং একাডেমিক লেখাপড়ার সুযোগ তেমন না জুটলেও গান-বাজনার যেখানে যা পেয়েছি তা গোগ্রাসে গ্রহণ করেছি। এ ছাড়া আমাদের পারিবারিক একটি সঙ্গীতের বলয় ছিল। এমনকি আমার বাবাও গান করতেন। আমার মা ছিলেন খেয়ালি গানের একজন অন্তর্মুখী মানুষ। মনের খেয়ালে তিনি গান বাধতেন, সুর করে গাইতেন আর আমি মুগ্ধ হয়ে তা শুনতাম। এভাবেই আমার গানের জগতে বড় হয়ে ওঠা। অনেকটা কবি সুনির্মল বসুর ভাষায় বলা যায়- ‘বিশ্বজুড়ে পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র
নানানভাবে নতুন কিছু শিখছি দিবারাত্র।’
প্রশ্ন : আপনি গান নিয়ে দীর্ঘ একটি জীবন কাটিয়েছেন। নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়ত সহ্য করতে হয়েছে। সুর-সঙ্গীতের বন্ধুর এই পথ পরিক্রমায় সমালোচনার বিড়ম্বনা কিংবা খ্যাতির আত্মতৃপ্তি সম্পর্কে কিছু বলুনÑ
উত্তর : ছোটবেলা থেকেই আমি প্রচণ্ড রকম অনুসন্ধিৎসু মানুষ ছিলাম। কিন্তু কখনও আত্মতৃপ্তির বাসনা আমাকে গ্রাস করতে পারেনি। তাই আত্মতৃপ্ততা আমার অভিধানে নেই; ভাল লাগা আছে। আর সেই ভাল লাগাটুকু আমার অতৃপ্তির বাসনাকে আরও বেশি উস্কে দিয়েছিল। যে কারণে আত্মতৃপ্তির মতো সর্বনাশা মানসিকতা আমাকে এখনও স্পর্শ করতে পারে না। আর সমালোচনার কথা যেটা বললেন, তাও আমার ক্ষেত্রে পূর্ণমাত্রায় বিরাজমান ছিল। বিশেষ করে রেডিওতে যখন আমি গান করা শুরু করি তখন সমালোচনার তীব্র তীর আমাকে জর্জরিত করেছে কিন্তু ব্যথিত হইনি। আমার ধারণা, একাডেমিকভাবে আমি শিক্ষাগ্রহণের স্বাভাবিক সুযোগটুকু থেকে বঞ্চিত বলে অনেকেই আমার ভুল ধরতে তৎপর ছিল। আমার মনে আছেÑ সেই সব সমালোচনাকে বর্জন না করে আমি সবসময় যুক্তিযুক্ত অংশটুকু গ্রহণেই বেশি মনোযোগী ছিলাম। সে কারণে এখন বুঝিÑ রেডিওর সেই এক যুগেরও বেশি সময়ে আমার সগোত্রীয় বন্ধুরা ভুল ধরতে গিয়ে আমাকে আরও বেশি মহৎ করে তুলেছে। ওরা শত্রুতা করতে গিয়ে বড় বন্ধুর মতো কাজটি করে দিয়েছে। আর সে কারণেই বোধকরি আমি যত বেশি নিজেকে ছাত্রজ্ঞান করি, লোকে তত বেশি আমাকে পণ্ডিত ভাবতে পছন্দ করে।
প্রশ্ন : সাধারণত গুরু-শিষ্য কিংবা তালিমের একটি যোগসূত্রিতা সঙ্গীতের ক্ষেত্রে বড় একটি ফ্যাক্টর বলে ধারণা করা হয়। যদিও আপনার জীবন সংগ্রামের গল্পটিও অনেকখানি আলাদা। তবুও জানতে চাইÑ গুরুসৌভাগ্যের কোন দৃষ্টান্ত আপনার সঙ্গীত জীবনে ঘটেছে কি?
উত্তর : আপনি ঠিকই বলেছেনÑ তালিম কিংবা গুরু-শিষ্যের যোগসূত্রিতা সঙ্গীতের ক্ষেত্রে বড় একটি বিষয়। তবে আমার জীবনের ঊষালগ্নে তালিমের তেমন সৌভাগ্য হয়নি। তাছাড়া মনে রাখা দরকার এটি একটি স্বাভাবিত প্রক্রিয়াগত ধারা। আর আমার জীবনে স্বাভাবিক অনেক সুযোগই অনুপস্থিত ছিল। সে কারণে বহু বার বলেছি, প্রকৃতিই আমার বড় শিক্ষক। আমার লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে পথিকের মতো অভিজ্ঞতার ঝোলা বয়ে পথে প্রান্তরে ঘুরেছি। যেখানে যতটুকু পেয়েছি আমি তা সংরক্ষণ করেছি। অবিরাম এই চলার পথে মাত্র ১০ বছর বয়সে আমি সঙ্গীতের মোটামুটি সব আয়ত্ত করে ফেলি। জীবনের কোন এক বাকে এক দিন গ্রামোফোনে ক্লাসিক্যাল গানের একটি রেকর্ড শুনে আমি অস্থির হয়ে পড়ি। আমি হন্যে হয়ে খুঁজতে শুরু করি এ গান কোথায় পাওয়া যায়। একপর্যায়ে হবিগঞ্জ জেলার সল্লা থানার আজমিরীগঞ্জে উস্তাদ কালী প্রসন্ন মোহন চক্রবর্তীর সন্ধান পাই। উনার কাছে আমি তিন মাস শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছি। তারপর তিনি আমাকে ডেকে বললেন, ‘বাবারে আমার কাছে যতটুকু ছিল তা আমি তোমাকে দিয়ে দিয়েছিÑ আর আমার কাছে শিখতে চেও না।’ এ রকম আকর্ষিকভাবে তাঁর কাছেই আমার প্রথম শাস্ত্র সঙ্গীত এবং তবলার পদ্ধতিগত হাতেখড়ি। এরপর রেডিও আমার গুরু। ১৯৬৭ সালে তবলা বাদক এবং খেয়ালি গায়ক হিসেবে নজরুল সঙ্গীতে আমি রেডিওতে যোগ দিই। রেডিওতে যোগ দেয়ার পর তৎকালীন শাস্ত্র সঙ্গীতের যত কনফারেন্স হতো তার কোনটিও আমি মিস করতাম না। এভাবেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি স্পষ্ট ধারণা আমার দখলে চলে আসে। আর একজন পণ্ডিতের কথা না বললেই নয়। বাহ্মণবাড়িয়ার উদাস চন্দ্র রায় নামে এক পণ্ডিতÑ তাঁর কাছে দীর্ঘ ১২ বছর আমি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিয়েছি।
প্রশ্ন : আপনার সঙ্গীত সাধনায় ঘরছাড়ার চমৎকার একটি উপলদ্ধির কথা সকলের জানা। কোন প্রেক্ষিতে আপনি পল্লীস্থান ছেড়ে সুরের সন্ধানে শহুরে পথের অজানা উপত্যকায় বেরিয়ে পড়েছিলেন। আপনার পরিবার কি সহজেই বিষয়টি গ্রহণ করেছিল?
উত্তর : আমার জীবনের বেশকিছু সিদ্ধান্ত আমার ভাগ্যকে প্রসন্ন করেছে। আমার স্পষ্ট মনে আছেÑ আমি যখন বাড়িতে কৃষি কাজ করে রাতের বেলায় সুরারাধনা করতাম। তখন এক সময় পল্লী পাড়ায় আমার দারুণভাবে সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। তখন আমার মনে হলো, এবার আমার অন্যকিছু করা দরকার। একপর্যায়ে আমি বাবাকে বললাম, বাবাÑ এভাবে তো আর জীবন চলবে না, আমি গান শিখতে ঘর ছাড়তে চাই। তিনি আমাকে হাসি মুখে অনুমতি দিয়ে বললেনÑ ‘আমার কোন বাধা নেই বাবা, তোর যেখানে খুশি সেখানেই যেতে পারিস।’ তারপর প্রথম আমি গানবাজনার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে গিয়ে উঠি আজমিরীগঞ্জের বন্দরে।
প্রশ্ন : আপনার সঙ্গীত জগতের উত্থান পর্বের উল্লেখযোগ্য কিছু যদি জানতে চাইÑ
উত্তরা : ১৯৪৭ সালের পর পল্লীগানের পরিসর ছেড়ে আমি প্রথম রামপুরে একটি যাত্রাদলে যোগ দিই। যেখানে আমি অন্য এক দুনিয়ার সন্ধান পাই। সেই রামপুরকে আমি আমার জীবনের তীর্থস্থান বলে জ্ঞান করি। এরপর আজমিরীগঞ্জের বেশকিছু এলাকায় আমি অবস্থান করি। এখানেই তবলা বাদক, ড্যান্স মাস্টার এবং অভিনয়ের শিক্ষক হিসেবে অল্প দিনের মধ্যেই আমার বেশ সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ১৯৫৬ সালে টিউশনির মাধ্যমে পেশাদারি গানবাজনা শুরু করি। এটা ছিল আমার জীবনের অন্যতম একটি স্মরণীয় ঘটনা। এখান থেকেই আমার জীবনের নতুন একটি বাক শুরু হয়। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রফেশনাল একটি যাত্রাদলে যোগ দিই। এখান থেকে বহু জায়গা ভ্রমণ করার লোভ আমাকে আকৃষ্ট করে। তাই পূর্বের যাত্রাদলের ২০০ টাকার চাকরি ছেড়ে মাত্র ৭১ টাকার এই চাকরিটা গ্রহণ করি। এটা ছিল আমার জীবনের উত্থানপর্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যয়। এই যাত্রাদলের উপর নির্ভর করে আমি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সব ক’টি জেলা ভ্রমণ করি। এ সময় গ্রামগঞ্জের বহু গুণী শিল্পের সঙ্গে আমার সাক্ষাত হয়। এখানেই বিখ্যাত যাত্রাভিনেতা অমলেন্দু বিশ্বাসের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে।
প্রশ্ন : সিলেটে ‘সঙ্গীত পরিষদ’ নামে আপনার একটি সঙ্গীতশিক্ষার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার পেছনে প্রধান নিয়ামক হিসেবে কোন চিন্তাটি কাজ করেছে? এ সম্পর্কে যদি কিছু বলতেনÑ
উত্তর : আপনি ঠিকই বলেছেনÑ প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলার পেছনে বাস্তব একটি সমস্যা কাজ করেছে। আমি যখন রেডিও ছেড়ে টিউশনি শুরু করি তখন বাসায় বাসায় ক্লাস নিতাম। এক পর্যায়ে লক্ষ্য করলাম প্রায়ই ছাত্রছাত্রীর বাবা মা তাদের ছেলেমেয়েকে উদ্দেশ করে অনুরোধ করতÑ ‘মাস্টার মশাই ওকে ভাল একটি গান শিখিয়ে দেনÑ অনুষ্ঠানে গাইবে।’ আমি চিন্তা করলাম এটাত একটা বড় সমস্যা। সেই চিন্তা থেকেই ‘সঙ্গীত পরিষদ’ নামে এই স্কুলটির জন্ম। আমার প্রাণের এই প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য ছেলেমেয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে বিদেশে আলো ছড়াচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অসংখ্যবার পুরস্কার ছিনিয়ে এনেছেন। ১৯৯৫ সালে সিলেটে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই আমরা আয়োজন করেছিলাম জাতীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত সম্মেলন।
প্রশ্ন : সঙ্গীত জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আপন লক্ষ্যে আপনি পৌঁছেছেন। এক সময় যাত্রাদলে গান করেছেন তারপর রেডিওতে সুযোগ পেলেন। অথবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষক হিসেবেও আপনি যথেষ্ট প্রসারিত। সুযোগের এই নৌকগুলো ঠিক কিভাবে আপনার জীবনতীরে নোঙর ফেলল? আকর্ষিক কোন ঘটনা কি ঘটেছিল নাকি নিজস্ব উদ্যোগেই এটা সম্ভব ছিল?
উত্তর : আমি যাত্রাদলের তবলাবাদক হিসেবে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করি। সেই অনুষ্ঠানে আমি তবলা বাজাচ্ছি এবং লক্ষ্য করছিÑ দর্শকদের সামনের সারিতে শেরওয়ানি ও কলিদার পাঞ্জাবি পরা বেশ আভিজাত্যপূর্ণ রুচিশীল কয়েকজন ভদ্রলোক আমাকে খেয়াল করছেন। অনুষ্ঠান শেষে তাঁরা আমাকে বললÑ ‘অনেক ভাল বাজিয়েছ, এবার রেডিওতে চেষ্টা কর। এখানে তোমার শেখার আর তেমন কিছু নেই।’ সে সময়কার অত্যন্ত গুণী এই লোকগুলো ছিলেনÑ দীন আলী মিয়া, সঙ্গীত পরিচালক খালেদ হোসেন খান, বাহাদুর খান এবং সমর দাশ। তাঁদের সেই উৎসাহ আমাকে রেডিওতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। এরপর রেডিও থেকে মাত্র কয়েক বছর পরেই চাকরি ইস্তফা দিয়ে বেরিয়ে আসি। সে সময় অনেকেই আমাকে বলেছিলÑ ‘তুমি কি পাগল নাকি, লোকে রেডিওতে চাকরি পায় না আর তুমি চাকরি ছেড়ে দিলে!’ আমি তখন জবাবে বলেছিলাম, আগে তো বের হই তবে সময়েই কথা বলবে। এরপর আশির দশকে আমি সিলেটে একটি গানের স্কুল শুরু করি। এরপর যাদের সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা পেয়েছি তাদের নাম না বললেই নয়Ñ মুক্তার দবীর উদ্দিন চৌধুরী, জসিমউদ্দীন এ্যাডভোকেট, কন্টাক্টর সোস্তফা চৌধুরী, রামচন্দ্র ভট্টাচার্য এবং সিলেটের তৎকালীন সংস্কৃতি অঙ্গনের সেইসব ব্যক্তিত্ব যাদের অপার স্নেহ-সহযোগিতায় আজকের আমি রামকানাই দাশ। তারা আমাকে অত্যন্ত প্রিয়জনের মতো লালন করেছে। আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।
প্রশ্ন : লোকে আপনাকে পণ্ডিত বলে জানে। এর পেছনের গল্পটি জানতে চাইÑ কখন এবং কিভাবে এই উপাধি আপনার নামে সঙ্গে যুক্ত হল?
উত্তর : এটা প্রাতিষ্ঠানিক কোন উপাধি নয় এবং এ ধরনের উপাধি প্রদানের কোন প্রতিষ্ঠান আছে বলেও আমার জানা নেই। মূলত মানুষ আমাকে ভালবেসেই নামে শুরুতে পণ্ডিত যোগ করেছে। এর পেছনের কোন গল্প নেই। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। কোন এক মঞ্চ থেকে প্রবীণ রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদ বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে নাকি ‘বঙ্গবন্ধু’ সম্বোধন করেছিলেন। সেই থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিটির প্রচলন শুরু। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটি ঘটেছে।
http://www.allbanglanewspapers.com/janakantha.html

No comments:

Post a Comment