Tuesday, July 22, 2014

অব্যাহত আক্রমণের মুখে কঠিন হয়ে পড়েছে মৃতদেহ দাফন গাজায় ইসরাইলের সামরিক হামলা

অব্যাহত আক্রমণের মুখে কঠিন হয়ে পড়েছে মৃতদেহ দাফন
গাজায় ইসরাইলের সামরিক হামলা
ফিলিস্তিনী ভূখণ্ড গাজা লক্ষ্য করে ইসরাইলের অব্যাহত আক্রমণের ১৪তম দিনে নিহতের সংখ্যা ৫৮৫তে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, মৃতদেহগুলো সমাধিস্থ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনীয় যানবাহন না থাকায় এ কাজে পেডেলচালিত ভ্যান ব্যবহার করতে হচ্ছে। খবর এএফপি ও ওয়াশিংটন পোস্ট অনলাইনের।
গাজায় ইসরাইলী আক্রমণ অব্যাহত থাকায় নিহত ব্যক্তিদের দাফন করতে সমস্যা হচ্ছে। এ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাচ্ছে না। ভ্যানগাড়িতে করে মৃতদেহ সমাধিক্ষেত্রে নিয়ে যেতে হচ্ছে। গাজার কেন্দ্রীয় মর্গটি লাশে ভরে গেছে। রেফ্রিজারেটরগুলো আর কাজ করছে না। কবরস্থানেও নতুন কাউকে দাফন করার মতো জায়গা নাই। কবর খননের জন্য কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। নিহত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজনকেই বাধ্য হয়ে কবর খুঁড়তে হচ্ছে। গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনী ইসলামপন্থী গ্রুপ হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলী আক্রমণ শুরুর দিনগুলোতে নিহতদের মসজিদে নিয়ে জানাজা পড়িয়ে দাফন করা হয়েছে। কিন্তু এখন স্থল ও বিমান হামলার তীব্রতা বাড়তে থাকায় জানাজা ছাড়াই অনেক লাশ দাফন করতে হচ্ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্ত্রবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে ইসরাইলী আক্রমণ চলছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন বিরতিহীনভাবে চলছে গাজায় ইসরাইলের গোলাবর্ষণ আর সেই সঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে আহত-নিহতের সংখ্যা। গাজার পূর্বাঞ্চলীয় শেজাইয়া আবাসিক এলাকাটি ইসরাইলী গোলার আঘাতে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। কয়েক দিনের ইসরাইলী হামলা গাজার সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, শেজাইয়া এখন এক বিরান এলাকা। ইসরাইলী হামলার পর বহু আহত নিহত মানুষের দেহ সেখানে এখনও ধ্বংস স্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।
হাজার হাজার মানুষ সেখান থেকে ইতোমধ্যে ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার কর্মকর্তা আদনান আবু হাসনা বলেছেন, গাজার পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। এ মাসের ১৭ তারিখ স্থল আক্রমণ শুরুর পর এ পর্যন্ত ২৯ ইসরাইলী নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ২৭ জনই সৈন্য। পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এবং মিসরের সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা মঙ্গলবার কায়রোতে বৈঠক করেছেন। তাঁরা ইসরাইল লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া বন্ধ করে মিসরের দেয়া অস্ত্রবিরতি প্রস্তাব মেনে নেয়ার জন্য হামাসের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু হামাস এই প্রস্তাব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার

মিসরের রাজধানী কায়রোতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির বৈঠকের মধ্য দিয়ে গাজায় অস্ত্রবিরতির জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। ইসরাইল ও গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনী রাজনৈতিক দল হামাসের মধ্যে সৃষ্ট সঙ্কটের কূটনৈতিক সমাধান বের করার উদ্যোগে সোমবার কায়রো যান কেরি।
তিনি সেখানে অন্তত বুধবার পর্যন্ত অবস্থান করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপর দিকে একই উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্য সফরে থাকা জাতিসংঘ মহাসচিব সোমবার কায়রো পৌঁছান। ওই দিন রাতে কায়রোতে এই দুই বিশ্বনেতার মধ্যে বৈঠক হয়।

No comments:

Post a Comment