বিভক্ত বিশ্ব সম্প্রদায়
ধ্বংসস্থল পরিদর্শনের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পাস
০ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা চায় ব্রিটেন
০ রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা চায় ব্রিটেন
একটি মালয়েশীয় বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার ঘটনার ৫দিন পরও ঐ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিতে হবে, তা নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় অনিশ্চিত ও বিভক্ত রয়ে গেছে। বিমান ধ্বংস করার ঘটনার জন্য পূর্ব ইউক্রেনে তৎপর বিচ্চিন্নতাবাদীরা এবং তাদের রুশ মদদদাতারাই দায়ী এমন অভিযোগের পক্ষে চূড়ান্ত প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করছে আন্তর্জাতিক মহল। ইউক্রেনে বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের এমএইচ ১৭ বিমানটি ভূপাতিত হওয়ায় এর ২৯৮ আরোহীর সবাই নিহত হন। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সোমবার সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এক প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদেরকে বিমানের ধ্বংসস্থলে অবিলম্বে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেয়ার দাবি জানিয়েছে। পরিষদ বলেছে, এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিতে বাধ্য করতে হবে। এদিকে, ব্রিটিশ মন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে ইউরোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট ও টেলিগ্রাফ অনলাইনের।
হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মালয়েশীয় বিমানের ধ্বংসস্থল থেকে আলামত লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করার দায়ে রুশ সমর্থিত বিচ্চিন্নতাবাদীদের অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, বিমান ধ্বংস করার বিষয়ে তদন্ত কাজে বাধাদানকারী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লাগাম টেনে ধরা এখন রাশিয়ারই দায়িত্ব। তিনি বলেন, যদি রাশিয়া সশস্ত্র দলগুলোকে মদদ যুগিয়ে যায়, তা হলে মস্কোকে সে জন্য ক্রমশ চড়া মূল্য দিতে হবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ঐ ঘটনায় এক আন্তর্জাতিক তদন্ত অনুষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন। কিন্তু রুশ সামরিক নেতারা মস্কোর মদদদান সম্পর্কিত মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। বিমানটি গুলি, করে নামানোর কাজে যে ধরনের অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, রুশ বাহিনী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সেই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল এবং তা ব্যবহার করতে শিখিয়েছিল বলে ঐ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। রুশ টেলিভিশনে কথা বলতে গিয়ে রাশিয়ান আর্মড সোর্সেস জেনারেল স্টাফের মেইন অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের প্রধান লে. জে. আন্দ্রে কার্তোপোলভ তার দেশের ঐ অস্ত্র সরবরাহের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বৃহস্পতিবার তোলা বলে ব্যথিত এক ছবিসহ কয়েকটি ছবি দেখান। ছবিটিতে বিমান ধ্বংস হওয়ার স্থানটির কাছাকাছি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর একটি বাক বিমান বিধ্বংসী ব্যাটারি দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি প্রঙ্গত বলেন যে, ঐ এলাকা সম্পর্কে ইউক্রেনের প্রকাশ করা ছবিগুলো ভুয়া।
কার্তোপোলভ বিমানটি ধ্বংস হওয়ার সময় ঐ এলাকা সম্পর্কে মার্কিন স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিগুলো প্রকাশ করার দাবি জানান। তিনি একথাও দাবি করেন যে, দুর্ভাগ্যকবলিত বিমানটির দু’তিন মাইলের মধ্যে আকাশে ইউক্রেনীয় সরকারের এক জঙ্গী বিমান উড়ছিল। এটি মালয়েশীয় বিমান ভূপাতিত করার কাজে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের প্রতি মস্কোর সমর্থ পাওয়ার জন্য এর ভাষার ক্ষেত্রে আপোসরফা করা হয়। প্রস্তাবটিতে ইউক্রেনের ‘সশস্ত্র দলগুলো’র কথাই কেবল উল্লেখ করা হয় এবং এতে রাশিয়া বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কথা বলা হয়নি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করার দায়ে ফ্রান্স ও জার্মানিসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গত সপ্তাহের ঘটনা ছাড়াও ইউক্রেনের সামগ্রিক সংঘাতে রাশিয়ার যে দায়দায়িত্ব ছিল, সে জন্য দেশটির ওপর আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। রাশিয়ার কাছে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিযে ক্যামেরন ফ্রান্সের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। তিনি বলেন, পুতিনের সামরিক কমান্ডারদের কাছ থেকে পাওয়া মিস্ট্যাল যুদ্ধ জাহাজের ফরমায়েস তামিল করা ফ্রান্সের জন্য ‘অচিন্তনীয়’ হওয়া উচিত।
ক্যামরন রাশিয়ার ব্যাংক ও বিমান সংস্থার ওপর বাধা নিষেধসহ কয়েকটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। তিনি পুতিন সমর্থক ব্যবসায়ীদের সম্পদ আটক করারও আহ্বান জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা রাশিয়ার অর্থ সার্ভিস, বাণিজ্য ও জ্বালানি রফতানির মতো ক্ষেত্রগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার ব্রাসেলসে এক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে কথা রয়েছে। কিন্তু, ফ্রান্সের অস্ত্র বিরতির চুক্তি এবং রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর জার্মানির নির্ভরশীলতার কারণে ইইউর কিছু দেশ রাশিয়ার ওপর সম্ভব কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে বাধা দিতে পারে বলে মনে হয়।
এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, অর্থনৈতিক অসুবিধার কথা বাদ দিলেও, বিমান ধ্বংসস্থল এবং নিহত ২৯৮ জনের সবার মৃতদেহ নিরাপদ না করার আগেই এখন রাশিয়ার ওপর চাপ দেয়া হলে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের কঠিন পরিস্থিতি কঠিনতর হয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মালয়েশীয় বিমানের ধ্বংসস্থল থেকে আলামত লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করার দায়ে রুশ সমর্থিত বিচ্চিন্নতাবাদীদের অভিযুক্ত করেন। তিনি বলেন, বিমান ধ্বংস করার বিষয়ে তদন্ত কাজে বাধাদানকারী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লাগাম টেনে ধরা এখন রাশিয়ারই দায়িত্ব। তিনি বলেন, যদি রাশিয়া সশস্ত্র দলগুলোকে মদদ যুগিয়ে যায়, তা হলে মস্কোকে সে জন্য ক্রমশ চড়া মূল্য দিতে হবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ঐ ঘটনায় এক আন্তর্জাতিক তদন্ত অনুষ্ঠানের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন। কিন্তু রুশ সামরিক নেতারা মস্কোর মদদদান সম্পর্কিত মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। বিমানটি গুলি, করে নামানোর কাজে যে ধরনের অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল, রুশ বাহিনী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সেই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছিল এবং তা ব্যবহার করতে শিখিয়েছিল বলে ঐ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। রুশ টেলিভিশনে কথা বলতে গিয়ে রাশিয়ান আর্মড সোর্সেস জেনারেল স্টাফের মেইন অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের প্রধান লে. জে. আন্দ্রে কার্তোপোলভ তার দেশের ঐ অস্ত্র সরবরাহের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বৃহস্পতিবার তোলা বলে ব্যথিত এক ছবিসহ কয়েকটি ছবি দেখান। ছবিটিতে বিমান ধ্বংস হওয়ার স্থানটির কাছাকাছি ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর একটি বাক বিমান বিধ্বংসী ব্যাটারি দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি প্রঙ্গত বলেন যে, ঐ এলাকা সম্পর্কে ইউক্রেনের প্রকাশ করা ছবিগুলো ভুয়া।
কার্তোপোলভ বিমানটি ধ্বংস হওয়ার সময় ঐ এলাকা সম্পর্কে মার্কিন স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিগুলো প্রকাশ করার দাবি জানান। তিনি একথাও দাবি করেন যে, দুর্ভাগ্যকবলিত বিমানটির দু’তিন মাইলের মধ্যে আকাশে ইউক্রেনীয় সরকারের এক জঙ্গী বিমান উড়ছিল। এটি মালয়েশীয় বিমান ভূপাতিত করার কাজে জড়িত থাকতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের প্রতি মস্কোর সমর্থ পাওয়ার জন্য এর ভাষার ক্ষেত্রে আপোসরফা করা হয়। প্রস্তাবটিতে ইউক্রেনের ‘সশস্ত্র দলগুলো’র কথাই কেবল উল্লেখ করা হয় এবং এতে রাশিয়া বা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কথা বলা হয়নি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোরতর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করার দায়ে ফ্রান্স ও জার্মানিসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গত সপ্তাহের ঘটনা ছাড়াও ইউক্রেনের সামগ্রিক সংঘাতে রাশিয়ার যে দায়দায়িত্ব ছিল, সে জন্য দেশটির ওপর আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা উচিত। রাশিয়ার কাছে সব ধরনের অস্ত্র বিক্রি বন্ধ করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিযে ক্যামেরন ফ্রান্সের প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করেন। তিনি বলেন, পুতিনের সামরিক কমান্ডারদের কাছ থেকে পাওয়া মিস্ট্যাল যুদ্ধ জাহাজের ফরমায়েস তামিল করা ফ্রান্সের জন্য ‘অচিন্তনীয়’ হওয়া উচিত।
ক্যামরন রাশিয়ার ব্যাংক ও বিমান সংস্থার ওপর বাধা নিষেধসহ কয়েকটি কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান। তিনি পুতিন সমর্থক ব্যবসায়ীদের সম্পদ আটক করারও আহ্বান জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা রাশিয়ার অর্থ সার্ভিস, বাণিজ্য ও জ্বালানি রফতানির মতো ক্ষেত্রগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার ব্রাসেলসে এক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে কথা রয়েছে। কিন্তু, ফ্রান্সের অস্ত্র বিরতির চুক্তি এবং রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর জার্মানির নির্ভরশীলতার কারণে ইইউর কিছু দেশ রাশিয়ার ওপর সম্ভব কঠোরতম নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে বাধা দিতে পারে বলে মনে হয়।
এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেন, অর্থনৈতিক অসুবিধার কথা বাদ দিলেও, বিমান ধ্বংসস্থল এবং নিহত ২৯৮ জনের সবার মৃতদেহ নিরাপদ না করার আগেই এখন রাশিয়ার ওপর চাপ দেয়া হলে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের কঠিন পরিস্থিতি কঠিনতর হয়ে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
No comments:
Post a Comment