Tuesday, July 22, 2014

মুসলিম শিশুকিশোরদের জঙ্গীবাদে সম্পৃক্ত করছে এফবিআই অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

মুসলিম শিশুকিশোরদের জঙ্গীবাদে সম্পৃক্ত করছে এফবিআই
অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
সুমি খান ॥ খোদ মার্কিন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের বিরুদ্ধে এবার অর্থের বিনিময়ে মুসলিম শিশু-কিশোর তরুণদের সন্ত্রাসবাদে সম্পৃক্ত করা এবং নিরীহ মুসলিম নাগরিকদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। মঙ্গলবার দুপুরে এমন তথ্য প্রকাশ করেছে গ্লোবাল নিউজ এজেন্সি এএফপি । মার্কিন নাগরিকদের জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ থেকে রক্ষা করাই রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে একজন মুসলিম নাগরিকের নিরাপত্তা ও তার সাংবিধানিক অধিকার। অথচ তারা তা না করে মার্কিন মুসলিম নাগরিকদের ‘জঙ্গীবাদী’ আখ্যা দিয়ে এবং অনেক ক্ষেত্রে অর্থের বিনিময়ে নিরীহ মুসলিম শিশু-কিশোর তরুণদের জঙ্গীবাদে সম্পৃক্ত করে এফবিআই মুসলিমদের জঙ্গী তৎপরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সর্বশেষ রিপোর্টে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অনুদানে সাম্প্রতিক এক গবেষণার ভিত্তিতে এই রিপোর্ট প্রকাশ করে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়াশিংটনের ডেপুটি ডিরেক্টর আন্দ্রে প্রাসো বলেন, ‘জঙ্গীবাদে অভিযুক্তদের মামলাগুলো গভীর পর্যবেক্ষণ করলে একটি বিষয় পরিষ্কার হবে, রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই যাদের টার্গেট করে সবাই কখনই প্রকৃত অপরাধী নয়। এদের অধিকাংশই কখনই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতো না, যদি মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী থেকে তাদের জঙ্গীবাদে উৎসাহ দেয়া, চাপে ফেলা এবং ক্ষেত্রবিশেষে যদি অর্থ বরাদ্দ না দিত। অথচ এসব করেই আমেরিকানদের বলা হয়, তাদের সরকার নাকি জঙ্গীবাদ থেকে তাদের রক্ষা করছে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭টি বিচারাধীন মামলার ভিত্তিতে জঙ্গীবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি, তাদের স্বজন, আইনজীবী এবং বিচারকদের মধ্যে থেকে ২১৫ জনের ইন্টারভিউ করা হয় এই গবেষণা কাজে।
ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন নামে ১৯০৮ সালে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৩৫ সালে এর নাম পরিবর্তিত হয়ে দ্য ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) হয়। এফবিআই হেডকোয়ার্টা ওয়াশিংটন ডিসিতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শহরগুলোতে এফবিআইয়ের ৫৬ জন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কাজ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইয়ের ৪শ’র বেশি এজেন্সি রয়েছে। এ ছাড়া সারা বিশ্বের মার্কিন দূতাবাস এবং কনস্যুলেট জেনারেলদের অফিসে লিগ্যাল এ্যাটাশে নামে ৫০টির বেশি আন্তর্জাতিক কার্যালয় রয়েছে। এসব কার্যালয়কে কেন্দ্র করে এফবিআইয়ের ১৩ হাজার ৫শ’ ৯৮ সদস্য সারা বিশ্বে কাজ করছে।
সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে এফবিআইয়ের অপরিহার্য গোপন অভিযানের কঠোর প্রতিবাদ করেছেন ইউএস এ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার। গত ৮ জুলাই নরওয়ে সফরে গিয়ে এরিক হোল্ডার এ প্রসঙ্গে তার কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেন। সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে এসব অপারেশন যতটা সতর্কতা এবং অতিরিক্ত যতেœর সঙ্গে করা হয়, যাতে সন্দেহভাজনেরা ফাঁসিয়ে দেয়া না হয় এবং তারা যেন আইনী সহায়তা পায়। আর এক্ষেত্রে এফবিআই কর্মকর্তাদের প্রতিটি পদক্ষেপের ব্যাপারে অনেক বেশি জবাবদিহিতা থাকা উচিত বলে মনে করেন ইউএস এ্যাটর্নি জেনারেল এরিক হোল্ডার ।
সাবেক এফবিআই এজেন্ট মাইক গার্মেন বলেন, এফবিআই সন্ত্রাস দমন করতে গিয়ে যতটা না সন্ত্রাস দমন সম্ভব হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি নিরীহ মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার ক্ষুণœœ করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। প্রকৃত অর্থে সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদের হুমকির বিপরীতে কার্যকর কিছু করা থেকে এফবিআই অনেক দূরে অবস্থান করছে।
এফবিআই সন্ত্রাস দমন করতে গিয়ে যেন উভয় সঙ্কটে পড়েছে বললেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেএম বার্গার। তাঁর মতে, যারা সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদে সম্পৃক্ততার আগ্রহের কথা বলেন অথবা এর আশঙ্কায় আইনী সহায়তা চান, সেটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। তাদের প্রতি কোনভাবেই অবহেলা করা উচিত হবে না। জেএম বার্গার আরও বলেন, এফবিআইকে অবশ্যই বুঝতে হবে কোন মামলার ভিত্তি আছে, আর কোন মামলা ভিত্তিহীন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পক্ষ থেকে তাদের প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়, তাদের কেস রিভিউতে তারা জানতে পেরেছেন, ‘এফবিআই সব সময় দুর্বল ব্যক্তিদের টার্গেট করে।’
দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়, পেন্টাগন এবং মার্কিন কংগ্রেসে গোলাবারুদ ভর্তি মিনিড্রোন হামলার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল রেজোয়ান ফেরদৌসকে। যার ২৭ বছরের জীবনে ১৭ বছরই কারাগারে কেটেছে। একজন এফবিআই এজেন্ট এমনও বলেছেন, ফেরদৌসের মানসিক সমস্যা আছে বলে তাঁর বাবা জানিয়েছেন। তবু তারা এভাবে হয়রানি করেছে ফেরদৌসকে।
আমেরিকান মুসলিমদের মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে ‘জঙ্গীবাদী’ অভিধায় অভিহিত করা এখনই বন্ধ করা উচিত মন্তব্য করে রিপোর্টের উপসংহার টানা হয়।

http://allbanglanewspapers.com/janakantha/

No comments:

Post a Comment