Thursday, July 24, 2014

ভোগান্তি উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম ছাড়ছে লাখো মানুষ ট্রেনের টিকেটের জন্য হাহাকার

ভোগান্তি উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম ছাড়ছে লাখো মানুষ

ট্রেনের টিকেটের জন্য হাহাকার

শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস
মহাসড়কে নানা রকম ভোগান্তি। যানজটের জন্য ৬ ঘণ্টার পথ অতিক্রম করতে লেগে যাচ্ছে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। ট্রেনে টিকিট নেই। টিকিটের জন্য হাহাকার। টিকিট কিনতে গিয়ে ফেরত আসছেন হাজারো মানুষ। কালোবাজারে কিছু টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তবে চড়া দামের কারণে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাসের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। তবে দাম খুবই চড়া। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গসহ নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, চাঁদপুরগামী সব রুটেই টিকিটের বাড়তি দাম নেয়া হচ্ছে। প্রতি টিকিটে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে বাড়তি নেয়া হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। নানা ঝক্কি সত্ত্বেও মানুষ টিকেট কিনেছেন। কারণ আর মাত্র কয়েকদিন পর ঈদ। আনন্দময় এই দিনটি প্রিয়জনের সাথে একত্রে কাটাতে হবে। তাই চড়া দামের টিকেট এবং রাস্তার নানা ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই বন্দরনগরী ছাড়তে শুরু করেছেন মানুষ। নগরীর রাস্তাঘাট ইতিমধ্যে ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ভিড় বাড়ছে বাস কাউন্টার ও ট্রেন স্টেশনে। জানা গেছে, প্রতিবছর পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম ছেড়ে যান কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ঈদের ছুটি শুরু হবে আগামী সোমবার থেকে। তবে অনেকে আগেভাগেই বাড়িতে পরিবার পাঠিয়ে দিয়েছেন। নিজে যাবেন আরো দুয়েকদিন পর। 

গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে কথা হয় চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা লোপার সঙ্গে। লোপার বাড়ি ময়মনসিংহ। পরিবারের সাথে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। প্রথমে ট্রেনে করে ঢাকায় যাবেন। তারপর বাসে যাবেন ময়মনসিংহ। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, রাস্তায় অনেক কষ্ট; কিন্তু বাড়িতে গিয়ে যখন আম্মুর গলা জড়িয়ে ধরবো, তখন সব কষ্ট ভুলে যাবো। 

মহাসড়কে যানজটের ঝামেলার জন্য বেশিরভাগ মানুষ ট্রেনের টিকিটের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন; কিন্তু চাহিদার তুলনায় ট্রেনের টিকিটের পরিমাণ খুবই অপ্রতুল। তাই বাধ্য হয়ে বাস টার্মিনালের দিকে যেতে হচ্ছে। জানা গেছে, নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে কয়েকটি পরিবার শেয়ারে বাস অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করছেন। নগরীর বহদ্দারহাট, লালদীঘিপাড়, কদমতলী, মাদারবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে বাস ভাড়ায় পাওয়া যাচ্ছে। ভাড়া অনেক চড়া হলেও পরিবার পরিজন নিয়ে একটু আরাম আয়েশ করে যাওয়ার জন্য অনেকে নিজস্ব উদ্যোগে বাস ভাড়া করছেন। বন্দরনগরী থেকে অনেকে নৌ-পথেও বাড়িতে যাচ্ছেন। নগরীর সদরঘাট থেকে প্রতিদিন স্টিমারে করে বন্দরনগরী ছাড়ছেন বরিশাল, পটুয়াখালী, সন্দ্বীপ, হাতিয়ার অসংখ্য মানুষ।
The Daily Ittefaq

No comments:

Post a Comment