Thursday, July 24, 2014

অপহরণ ও হত্যার আগে দফায় দফায় বৈঠক হয় নূর হোসেনের সহযোগী আলীর জবানবন্দি

অপহরণ ও হত্যার আগে দফায় দফায় বৈঠক হয়

নূর হোসেনের সহযোগী আলীর জবানবন্দি

বিশেষ প্রতিনিধি/ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামকে অপহরণ ও হত্যার পরিকল্পনা বৈঠক হয় কয়েক দফায়। বৈঠকগুলোর অধিকাংশই হয় নূর হোসেনের আস্তানায়। এসব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন র্যাবের সাবেক মেজর (অব.) আরিফ হোসেনসহ একাধিক কর্মকর্তা। সর্বশেষ বৈঠক হয় ঘটনার একদিন আগে। নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় আদালতে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন সহযোগী ও চাঁদা আদায়ের ক্যাশিয়ার আলী মোহাম্মদ এসব কথা বলেছেন। আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব কথা জানা গেছে। কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান শেষে আলী মোহাম্মদকে পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে। নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় পালের দায়ের করা পৃথক দুইটি মামলাতেই তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ নিয়ে সাত খুনের ঘটনায় র্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তা ও নূর হোসেনের দুই সহযোগী আলী মোহাম্মদ ও চার্চিলসহ ৫ জন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন। অপর দিকে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন র্যাব-১১ সাবেক কর্মকর্তা নৌবাহিনীর সদস্য আব্দুস সালাম ও পুলিশ ইন্সপেক্টর আব্দুস সামাদ, নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। সাত খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে তিন সাবেক র্যাব কর্মকর্তাসহ ১৫ জন। অপর দিকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হয়েছে ১৪ জন। 

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আলী মোহাম্মদ জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, বেশ কয়েকমাস আগেই কাউন্সিলর নজরুল ইসলামকে হত্যার পরিকল্পনা করে নূর হোসেন। সে হিসেবে নূর হোসেন র্যাবের সঙ্গে সমঝোতা করে। গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে অপহরণের পর রাতে আলী মোহাম্মদকে নূর হোসেন ফোন করে জানান কাঁচপুর সেতুর নিচে বালুর এলাকাটি খালি করতে। সে অনুযায়ী ওই রাত ৯টার দিকেই কাঁচপুরে গিয়ে বালু ফেলার স্থানটি খালি করে লোকজনদের সরিয়ে দেয় আলী মোহাম্মদ। ১০টার মধ্যেই এলাকাটি অনেকটাই জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। রাত ১০টার দিকে যখন র্যাবের গাড়িটি ওইস্থানে পৌঁছায় তখনো প্রহরাতে ছিলেন আলী মোহাম্মদ। ডাক পেয়ে নজরুলের লাশ দেখে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেন আলী। লাশ ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে উঠানো পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই সময়ে অনেকবার আলী মোহাম্মদের মোবাইলে ফোন করে আপডেট খবর নিতে থাকেন নূর হোসেন। লাশ ইঞ্জিন চালিত ট্রলারে উঠানোর পর স্থান ত্যাগ করেন আলী মোহাম্মদ।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, দুইটি মামলাতেই আলী মোহাম্মদ গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য দিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, জবানবন্দি শেষে আলী মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই আলী মোহাম্মদকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া এলাকার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

র্যাবের এএসপিকে জিজ্ঞাসাবাদ

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় র্যাব-১১-এর এএসপি মেহেদী শাহরিয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটি। গতকাল দুপুর আড়াইটা হতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সার্কিট হাউজে মেহেদীদে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাজাহান আলী মোল্লা কমিটির নেতৃত্বাধীন অন্য সদস্যরা। পরে সাংবাদিকদের শাজাহান আলী মোল্লা জানান, তদন্তে অনেক দূর এগিয়েছে। অচিরেই এর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেয়া হবে। তদন্ত কমিটি র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান, নারায়ণগঞ্জের সাবেক ডিসি মনোজ কান্তি বড়াল, এসপি সৈয়দ নূরুল ইসলামসহ ৪শ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন।
The Daily Ittefaq

No comments:

Post a Comment